ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিদেশে উচ্চশিক্ষায় গিয়ে ফেরেননি ১৮ শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা ১ কোটি ৪৯ লাখ


বিদেশে উচ্চশিক্ষায় গিয়ে ফেরেননি ১৮ শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা ১ কোটি ৪৯ লাখ

উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) আর ফিরে না আসা ১৮ শিক্ষকের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা ছিল প্রায় ৪ কোটি ৮৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। এর মধ্যে ৩ কোটি ৩৭ লাখ ৪৮ হাজার ৩০৩ টাকা ইতোমধ্যে আদায় করা হয়েছে। বর্তমানে বকেয়া রয়েছে ১ কোটি ৪৯ লাখ ৮ হাজার ১৩০ টাকা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এসব শিক্ষকের মধ্যে কেউ পুরো পাওনা পরিশোধ করেছেন, আবার কেউ কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ পেয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নতুন করে কয়েকজনের পাওনা আদায়ের জন্য চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠার পর থেকে বর্তমানে পর্যন্ত চাকরি ছেড়েছেন ৪৪ জন শিক্ষক। তাঁদের মধ্যে বিদেশে উচ্চশিক্ষায় গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেননি ১৭ জন। উল্লেখ্য, লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষক ড. মো. মশিউর রহমান ২০১৯ সালে বিদেশ থেকে ফিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিলেও ২০২৩ সালে চাকরি ছেড়ে দেন। ফলে শিক্ষাছুটি নিয়ে বিদেশে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আর ফেরেননি এমন শিক্ষকের সংখ্যা ১৮ জনে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুন: চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসনে পরামর্শক কমিটি গঠন করেছে ইউজিসি

চলতি বছরের ২৪ আগস্ট পর্যন্ত নথি অনুযায়ী, নয় শিক্ষকের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা রয়েছে। তাঁদের মধ্যে ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জাহিদুল আলমের কাছে ৪১ লাখ ৯২ হাজার ৩০৮ টাকা, রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক দেবাশীষ সেনের কাছে ২৩ লাখ ৩৫ হাজার ৬১৮ টাকা এবং আইসিটি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ওরভিলা সরকারের কাছে ২৮ লাখ ৫২ হাজার ৩৭০ টাকা পাওনা রয়েছে।

এছাড়া সিএসই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মাহফুজুর রহমানের কাছে মোট পাওনা ৩৭ লাখ ৩০ হাজার ২৬ টাকা। এর মধ্যে বর্তমান বকেয়া ১২ লাখ ৩০ হাজার ২৬ টাকা। পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক দীপা রানী দাসের কাছে পাওনা ১৫ লাখ ৪ হাজার ৬০২ টাকা।

সিএসই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জাকির হোসাইনের কাছে মোট পাওনা ৪০ লাখ ৬৯ হাজার ৭২৬ টাকা। এর মধ্যে বর্তমান বকেয়া ১৩ লাখ ৬৯ হাজার ৭২৬ টাকা। ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাদিয়া সারওয়ারের কাছে মোট পাওনা ৩৭ লাখ ৭৮ হাজার ৯৬৫ টাকা। এর মধ্যে বর্তমান বকেয়া ২২ লাখ ৬৬ হাজার ৮৯৮ টাকা।

এছাড়া লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষক ড. মো. মশিউর রহমানের কাছে ১৬ লাখ ৮৪ হাজার ৮৪ টাকা এবং ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তাসনিমা আক্তারের কাছে ২৮ লাখ ৮৬ হাজার ৮৪ টাকা পাওনা রয়েছে। তাসনিমা আক্তারের বর্তমান বকেয়া ৩ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৮ টাকা।

আরও পড়ুন: ভোলায় শিক্ষকদের অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষক সম্মেলন

বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, একপর্যায়ে ১৮ শিক্ষকের কাছে মোট পাওনা ছিল ৪ কোটি ৮৬ লাখ ৫৬ হাজার ৪৩৩ টাকা। এর মধ্যে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬১ লাখ ৯২ হাজার ১১৫ টাকা, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১ কোটি ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৮৭ টাকা, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২৮ লাখ ৬১ হাজার ৯৭২ টাকা এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১ কোটি ১৭ লাখ ১১ হাজার ১৫৯ টাকা আদায় করা হয়।

চার অর্থবছরে মোট ৩ কোটি ৮ লাখ ৯৫ হাজার ৯৩৩ টাকা আদায় হয়েছে। ফলে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত অবশিষ্ট পাওনা ছিল ১ কোটি ৭৭ লাখ ৬০ হাজার ৫০০ টাকা।

তবে ২৪ আগস্টের পর আইসিটি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ওরভিলা সরকার তাঁর পুরো পাওনা পরিশোধ করেছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাবে ২৮ লাখ ৫২ হাজার ৩৭০ টাকা জমা দিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) নুরুল করীম চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘তাঁকে চিঠি দেওয়া হলে তিনি সুদ মওকুফের আবেদন করে চিঠির জবাব দেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় সুদ ছাড়া বাকি অর্থ পরিশোধের সিদ্ধান্ত দিলে তিনি গত ৭ সেপ্টেম্বর সেই অর্থ পাঠিয়েছেন। তিনি তাঁর সম্পূর্ণ পাওনা পরিশোধ করেছেন।’

আরও পড়ুন: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে মৌলিক এআই কোর্সের সুখবর

তিনি আরও জানান, নিয়ম অনুযায়ী অর্থ পরিশোধের পর বিশ্ববিদ্যালয়কে চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি জানাতে হয়। ওরভিলা সরকার সেটি না দেওয়ায় তাঁর অর্থ পরিশোধের বিষয়টি অফিসিয়াল রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করতে কিছুটা সময় লেগেছে।

ওরভিলা সরকারের অর্থ পরিশোধের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের আদায়কৃত অর্থ দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৩৭ লাখ ৪৮ হাজার ৩০৩ টাকা এবং বর্তমান পাওনা ১ কোটি ৪৯ লাখ ৮ হাজার ১৩০ টাকা।

সাত শিক্ষক পুরো পাওনা পরিশোধ করেছেন

নথি অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অব্যাহতি নেওয়া শিক্ষকদের মধ্যে সাতজন তাঁদের পাওনা পুরোপুরি পরিশোধ করেছেন। তাঁদের মধ্যে পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ মিজানুর রহমান ৩৪ লাখ ৩৫ হাজার ৮৬৭ টাকা, অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসাইন ৫২ লাখ ৯৯ হাজার ৮৯২ টাকা, আইসিটি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক খন্দকার ফিদা হাসান ২৩ লাখ ৭৩ হাজার ৪৫২ টাকা, মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নাহিদ শাহ ১৯ লাখ ৯১ হাজার ১৬৯ টাকা, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আফরোজা হক ৪৭ লাখ ৭৬ হাজার ৩৬১ টাকা এবং সিএসই বিভাগের প্রভাষক মো. কামরুল হাসান মজুমদার ৩৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯৫৩ টাকা পরিশোধ করেছেন।

আরও পড়ুন: ১৬৯০ ইবতেদায়ি শিক্ষকের অনুদান ছাড়ের দাবি জানাল শিক্ষক কল্যাণ কমিটি

এর সঙ্গে আইসিটি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ওরভিলা সরকারের পরিশোধ করা ২৮ লাখ ৫২ হাজার ৩৭০ টাকা যোগ করলে সাত শিক্ষকের পরিশোধ করা অর্থের মোট পরিমাণ দাঁড়ায় ২ কোটি ৪৪ লাখ ৭৫ হাজার ৬৪ টাকা।

ছয় শিক্ষককে নতুন করে চিঠি

গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১১তম সিন্ডিকেট সভায় সিএসই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. কামাল হোসাইন চৌধুরীসহ আরো পাঁচ শিক্ষককে পাওনা অর্থ পরিশোধের জন্য চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

অন্য পাঁচজন হলেন মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী হাসান, একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আব্দুল্লাহ, ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তাসনিমা আক্তার, পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক দীপা রানী দাস এবং রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক দেবাশীষ সেন। তবে শেষ তিনজনের পাওনা আদায়ের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন: ঢাকা ও ময়মনসিংহ বোর্ডের এসএসসি বৃত্তিপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) নুরুল করীম চৌধুরী বলেন, ‘কামাল হোসাইন চৌধুরীসহ আরো পাঁচজন শিক্ষককে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’

শিক্ষকদের বক্তব্য

প্রতিবেদনের তথ্য যাচাই করতে পাওনা থাকা নয় শিক্ষকের সঙ্গে ই-মেইলে যোগাযোগ করা হয়। তাঁদের মধ্যে তিনজন জবাব দিয়েছেন। বাকি ছয়জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁরা কোনো জবাব দেননি।

ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জাহিদুল আলম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা অর্থ পরিশোধের জন্য তিনি ব্যাংক হিসাব নম্বর চেয়ে আসছিলেন। গত সপ্তাহে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মচারীর কাছ থেকে হিসাব নম্বর পেয়েছেন। শিগগিরই সেখানে টাকা জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।

আরও পড়ুন: শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা নিয়ে ঢাবিতে সেমিনার ২২ নভেম্বর

রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক দেবাশীষ সেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা অর্থ পরিশোধের বিষয়ে তিনি শুরু থেকেই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং অনুমোদিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি জানান, গত ১ ফেব্রুয়ারি রেজিস্ট্রার দপ্তরে পদত্যাগপত্র দিয়ে পাওনা অর্থ নির্ধারণের অনুরোধ করেন। পরে ২১ মে তাঁকে পাওনা অর্থের পরিমাণ জানানো হয়। ১৬ জুন এক বছরের মধ্যে কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন তিনি। পরে ১৯ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে চার কিস্তিতে এক বছরের মধ্যে অর্থ পরিশোধের অনুমতি দেয়। সে অনুযায়ী ১৯ জুলাই ২০২৭-এর মধ্যে পুরো অর্থ পরিশোধের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে প্রথম কিস্তি পরিশোধ করবেন বলে জানান তিনি।

দেবাশীষ সেন বলেন, ‘আমি কোনোভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক দায় এড়িয়ে যাইনি, বরং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পাওনা পরিশোধের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।’

বিধিতে যা আছে

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাছুটির নীতিমালার ৯.১ ধারায় বলা হয়েছে, পূর্ণ বেতনে শিক্ষাছুটি নেওয়া শিক্ষককে ছুটি শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে ছুটির সমপরিমাণ সময় চাকরি করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের আগে চাকরি ছেড়ে দিলে বা প্রয়োজনীয় সময় পূর্ণ না করলে শিক্ষাছুটির সময়ে পাওয়া বেতন-ভাতা ব্যাংক সুদসহ ফেরত দিতে হবে। কেউ আংশিক সময় চাকরি করলে অনুপাতে পাওনা নির্ধারণের বিধানও রয়েছে।

পাওনা অর্থ পরিশোধ না করলে জামিনদারের কাছ থেকেও তা আদায় করা যেতে পারে বলে নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে। কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের সংখ্যা ও পদ্ধতি নির্ধারণের ক্ষমতা সিন্ডিকেটের হাতে রাখা হয়েছে।

পাওনা আদায়ের বিষয়ে রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) নুরুল করীম চৌধুরী বলেন, ‘পাওনা আদায়ের বিষয়ে আমরা কাজ করছি। এবারের সিন্ডিকেট সভায় ছয়জন শিক্ষককে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠি পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা সুদ মওকুফ বা কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের আবেদন করতে পারেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অর্থ পরিশোধের সুযোগ দেয়।’

তিনি বলেন, ‘কেউ পাওনা অর্থ পরিশোধে রাজি না হলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তিনি যে দেশে অবস্থান করছেন, সে দেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। দূতাবাসের মাধ্যমে পাওনা অর্থ আদায়ে সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দীন বলেন, চাকরি থেকে অব্যাহতি নেওয়া কিংবা নির্ধারিত সময়ের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ না দেওয়া শিক্ষকদের কাছ থেকে পাওনা অর্থ আদায়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি রয়েছে।

তিনি বলেন, অনেক সময় পাওনার পরিমাণ বেশি হওয়ায় একবারে তা পরিশোধ করা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। সে ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের সুযোগ দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ হলো পাওনা অর্থ ফেরত আনা।

কোষাধ্যক্ষ আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের উদ্যোগের পরও কেউ অর্থ পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক যে দেশেই থাকুন না কেন, বিশ্ববিদ্যালয় ওই দেশে বাংলাদেশের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। দূতাবাস ওই শিক্ষক যে প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অর্থ উদ্ধারে সহযোগিতা করতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত এ পদ্ধতি অনুসরণ করার প্রয়োজন হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া হবে না’: আমান উল্লাহ আমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৪১ পি.এম


‘ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া হবে না’: আমান উল্লাহ আমান

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক ডাকসুর ভিপি আমান উল্লাহ আমান বলেছেন, "ইসলামবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া হবে না।"

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার কেরাণীগঞ্জের ঢাকা-২ আসনের শরীফ নগর আবাসিক প্রকল্পে শরীফ জামে মসজিদ ইসলামী কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, "বাংলাদেশ ইসলামের ওপর ভিত্তি করে চলবে।" একই সঙ্গে তিনি সব ধর্মের মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের কথাও উল্লেখ করেন।

আমান উল্লাহ আমান বলেন, "প্রধানমন্ত্রী সব ধর্মের প্রতি সম্মান জানিয়ে ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মগুরুদের সম্মানীর ব্যবস্থা করেছেন।"

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শরীফ জামে মসজিদ ইসলামী কমপ্লেক্সের চেয়ারম্যান ও শরীফ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রজ্জব শরীফ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের সাবেক সিনিয়র পেশ ইমাম ও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সাবেক খতিব মুফতি মুহিবুল্লাহিল বাকী নদভী। এছাড়া শরীফ গ্রুপের পরিচালক রাজিয়া শরীফ জনীও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মুফতি সাইফুল ইসলাম, কেরাণীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব নাজিম উদ্দিন, কেরাণীগঞ্জ মডেল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী হাসমত উল্লাহ নবী, বিএনপি নেতা মো. আলমগীর খানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা রুখে দিতে হবে: চসিক মেয়র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৪১ পি.এম


দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা রুখে দিতে হবে: চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন মন্তব্য করেছেন যে, শেখ হাসিনা পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে গিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের এতিম করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, "এখন তিনি ফিরে আসবেন, এমন বক্তব্য দিয়ে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে।" তিনি উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত ও ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত একজন আসামি। তার দেশে ফিরতে হলে আসামি হিসেবে ফিরতে হবে। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দেশে পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে।

বিএনপি নেতাকর্মীদের দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, "সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা রুখে দিতে হবে।"

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকালে নগরীর বাকলিয়া এক্সেস রোড়ের মৌসুমি মোড়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পরিকল্পিত সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সারাদেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির প্রতিবাদে চকবাজার ও বৃহত্তর বাকলিয়া থানা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশ শেষে বাকলিয়া এক্সেস রোড় থেকে শুরু হয়ে বিক্ষোভ মিছিলটি চন্দনপুরা, গনি বেকারী, জামাল খান মোড় হয়ে প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বলেন, "বিএনপির নেতাকর্মীরা গত ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এখন এমন কোনো কাজ করা যাবে না, যাতে দলের বদনাম হয়।" তিনি সতর্ক করেন যে, দলে নতুন করে যারা হাইব্রিড হিসেবে আসছেন, তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে তারা কোনো অপকর্ম করতে না পারেন। তিনি আরও বলেন, "যারা দেশ থেকে পালিয়ে গেছেন, তারা আবার ফিরে আসতে চাইছেন। কিসের আশায় তারা ফিরতে চাইছেন, আমরা জানি না। তবে তারা যে অপরাধ, জুলুম ও নির্যাতন চালিয়েছেন এবং মানুষের রক্ত ঝরিয়েছেন, তার হিসাব এ দেশের মানুষ নেবে।"

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আবদুল মান্নান, আহবায়ক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ মহসিন, মো. কামরুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন লিপু।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নতুন কোচ পেলেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৫১ পি.এম


নতুন কোচ পেলেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাস

নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাসরা নতুন কোচ হিসেবে মালিবাংওয়ে মাকেতাকে পেয়েছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সহকারী কোচ হিসেবে তার নাম ঘোষণা করেছে। মাকেতার সঙ্গে ২ বছরের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

মাকেতা দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় দলে কখনোই খেলার সুযোগ পাননি। ৪৫ বছর বয়সী এই কোচের ঘরোয়া ক্রিকেটে ক্যারিয়ারও খুব সমৃদ্ধ নয়। তিনি প্রথম শ্রেণি ও লিস্ট ‘এ’ মিলিয়ে মাত্র ২টি ম্যাচ খেলেছেন। তবে কোচ হিসেবে তার অভিজ্ঞতা ২ দশকেরও বেশি, যা ঘরোয়া, আন্তর্জাতিক এবং হাই-পারফরম্যান্স স্তরে রয়েছে।

বাংলাদেশের কোচ হতে পেরে মাকেতা দারুণ রোমাঞ্চিত। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সহকারী কোচ হতে পেরে আমি আনন্দিত। আমার ওপর বিশ্বাস ও আস্থা রাখার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। দলের সাফল্যে ইতিবাচক অবদান রাখতে মুখিয়ে আছি।’

মাকেতা প্রধান কোচ ফিল সিমন্সসহ অন্যান্যদের সঙ্গে মিলিত হয়ে ক্রিকেটারদের সেরাটা বের করে আনতে চান। ৪ দিন পর ৪৭তম জন্মদিন পালনের অপেক্ষায় থাকা কোচ বলেন, ‘আমাদের দলটি তরুণ এবং অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। হেড কোচ ফিল (সিমন্স) ও কোচিং স্টাফের বাকি সদস্যদের সঙ্গে কাজ করে খেলোয়াড়দের সেরাটা বের করে আনতে এবং তাদের ধারাবাহিক উন্নতিতে সহায়তা করতে আমি উন্মুখ। সুযোগ দেওয়ায় আবারও ধন্যবাদ। নতুন এই সফর শুরু করতে এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জয়ে অবদান রাখতে আমি দারুণ রোমাঞ্চিত।’

২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত মাকেতা দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় দলের সহকারী কোচ ছিলেন। তরুণ ও উদীয়মান ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক মানের গড়ে তুলতে তার বিশেষ সুনাম রয়েছে। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি দেশটির ন্যাশনাল একাডেমিতে কাজ করার সময় তরুণদের হাই-পারফরম্যান্স স্তরে উন্নীত করার সুনামও অর্জন করেছেন। তার কাছে ফ্র্যাঞ্চাইজি ও প্রাদেশিক ক্রিকেটে কোচিং করার অভিজ্ঞতা রয়েছে।

আগামী ওয়ানডে বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা, নামিবিয়া ও জিম্বাবুয়ে। বিশ্বকাপের কন্ডিশন মাথায় রেখেই মাকেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এখন দেখার বিষয় আইসিসির টুর্নামেন্টে শান্ত-লিটনরা কেমন পারফর্ম করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদক নির্মূলে পরিবার-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জাগ্রত শশির চরের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাদারীপুর প্রতিনিধি

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৫২ পি.এম


মাদক নির্মূলে পরিবার-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জাগ্রত শশির চরের

 

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের স্নানঘাটা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ‘জাগ্রত শশিরচর’-এর উদ্যোগে এবং কালকিনি ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল অ্যান্ড ফ্যাকো সেন্টারের সৌজন্যে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে বক্তারা মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে এর বিস্তার রোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তরুণদের মধ্যে অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধেও সামাজিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

সমাবেশে বিভিন্ন বয়সী সচেতন নাগরিকদের ব্যাপক অংশগ্রহণ দেখা যায়। এতে সভাপতিত্ব করেন স্নানঘাটা উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আলী আজগর তালুকদার।

বক্তব্য দেন পলাশ, সাগর, গিয়াস উদ্দিন, রফি তালুকদার, ফিরোজ এমরান, মুজিবুর রহমান, সালাউদ্দিন মাহমুদ, আবুল কালাম, মুস্তাফিজুর রহমান রুপম ও রফিকুল ইসলাম। এছাড়া মাওলানা ফেরদৌস, নেছার উদ্দিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক সালাউদ্দিন মাহমুদ বলেন, “মাদক নির্মূলে প্রথম ভূমিকা পরিবারের। এরপর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”

স্নানঘাটা উচ্চবিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সমাজসেবক মুস্তাফিজুর রহমান রুপম বলেন, “আমার এলাকায় মাদকের কোনো স্থান থাকবে না। আমরা সবাই মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার এবং সম্মিলিতভাবে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলব।”

সমাবেশে বক্তারা মাদক ও অনলাইন জুয়ার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষায় সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিয়মিতভাবে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%