০২:৩৪ পি.এম
চলতি অর্থবছরের মধ্যে স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি জানান, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ—এই পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন এই অর্থের আওতায় অনুষ্ঠিত হবে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। এর আগে, তিনি দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন।
আরও পড়ুন: সাবেক মেয়র লিটনসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ১৬ নভেম্বর
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বগুড়া-২ আসনের শিবগঞ্জ উপজেলাকে বিভক্ত করে মোকামতলা উপজেলা হিসেবে গঠন করা হয়েছে। সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করার প্রত্যাশা থেকেই তারা এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, নির্বাচন কমিশন পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করবে। তিনি জানান, "আমরা ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনকে প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য অনুরোধ করেছি।" তফসিল ঘোষণা, ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ, প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগ, পোলিং এজেন্ট নিয়োগসহ নির্বাচনের সব কার্যক্রম নির্বাচন কমিশনই সম্পন্ন করবে।
নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও অর্থ বিভাগ আলোচনা করে কোন নির্বাচন আগে এবং কোনটি পরে অনুষ্ঠিত হবে, তা নির্ধারণ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সরকারের ‘গ্রিন সিগন্যাল’ প্রয়োজন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "সরকারের কোনো ‘গ্রিন সিগন্যালের’ প্রয়োজন নেই।" নির্বাচন কমিশন যদি প্রস্তুত হয়ে তফসিল ঘোষণা করতে চায়, তারা তা করতে সক্ষম হবে। কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে জানালে সরকার প্রয়োজনীয় অর্থ ও প্রশাসনিক সহযোগিতা প্রদান করবে।
আরও পড়ুন: আখতার দায়িত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য বার্তা দিলেন
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা পাঁচটি স্থানীয় সরকারসংক্রান্ত অধ্যাদেশ নতুন সরকার আইন হিসেবে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ—এই পাঁচ আইনে দলীয় মনোনয়ন ও জাতীয় প্রতীকে নির্বাচনের বিধান বিলুপ্ত করা হয়েছে।
ফলে এসব নির্বাচন সাধারণ প্রতীকে ও নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে। তবে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে প্রার্থীদের সমর্থন দিতে পারবে বলে জানান তিনি।
মীর শাহে আলম বলেন, বিএনপির জেলা পর্যায়ের নেতাদের পর্যায়ক্রমে প্রতি শুক্র ও শনিবার গুলশান কার্যালয়ে ডেকে বৈঠক করছেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয়ে সেখানে দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
দলীয় সমর্থনের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, নির্যাতন-হয়রানির শিকার হওয়া, সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা এবং নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণের প্রস্তাব রাশিয়াকে খাদ্যমন্ত্রীর
তিনি বলেন, ১৭ বছর লড়াই-সংগ্রামে যারা নির্যাতিত-নিপীড়িত এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে যাদের সততা ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, ভোটের মাঠে জিতে আসার সম্ভাবনা রয়েছে—এ ধরনের প্রার্থীদের দলীয়ভাবে সমর্থন দেওয়ার ব্যাপারে নির্দেশনা আছে।
তবে যাদের নির্বাচনী অভিজ্ঞতা রয়েছে, কিন্তু দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে পাওয়া যায়নি, তাদের সমর্থন না দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। আবার দীর্ঘ আন্দোলনের অভিজ্ঞতা থাকলেও নির্বাচনের মাঠে অভিজ্ঞতা কম—এমন নেতাদের অন্যভাবে ‘অ্যাকোমোডেট’ করা হতে পারে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের আশ্বাস
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকারের ভূমিকা প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী সরাসরি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার না করার নির্দেশনা দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: নাহিদ ইসলাম: সমালোচকদের গ্রেপ্তার করে সরকার স্বৈরাচারী আচরণ করছে
তিনি বলেন, একদম অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন বলতে যা বোঝায়, এই নির্বাচন করতে সরকার, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশনকে শতভাগ সহযোগিতা করবে।
বিরোধী দলের সাম্প্রতিক আন্দোলন ও লং মার্চ কর্মসূচি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক পন্থায় শান্তিপূর্ণ আন্দোলন হলে সরকার তাতে সহযোগিতা করবে। তবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে বিরোধী দলের আন্দোলনের সমালোচনা করেন তিনি।
তিনি বলেন, মঞ্চের পেছনে বিদ্যুতের ফ্যান চালিয়ে আপনি যদি বলেন যে বিদ্যুৎ নেই, দিতে হবে—এই বিষয়টি সাধারণ মানুষকে বিবেচনা করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রীর দাবি, ৫ তারিখের পর বিরোধী দলের লং মার্চে ব্যবহৃত পরিবহনে প্রায় এক লাখ লিটার জ্বালানি প্রয়োজন হবে। জ্বালানি সংকট নিয়ে আন্দোলনকারীদের এমন কর্মসূচি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
আরও পড়ুন: শাহজালাল বিমানবন্দরে ১৪৬ ফ্লাইট বাতিল, আটকা ২২,২৪১ যাত্রী
তবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহে সাময়িক অসুবিধার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানান মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। চলমান সংসদে প্রধানমন্ত্রী এসব পরিকল্পনা জাতির সামনে তুলে ধরবেন।
ই-রিকশার বিধিমালা ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যে
অটোরিকশা ও ই-রিকশার নীতিমালা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে বিধিমালা প্রণয়নের কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি বলেন, সংসদে আইন পাস হয়েছে। ৩০ কিলোমিটার গতিসীমার ব্যাটারিচালিত অটো-ইজিবাইককে ‘ই-রিকশা’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এসব ই-রিকশার নিবন্ধন দেবে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা।
আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগের নির্দোষ কর্মীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে বাধা নেই : জামায়াত আমির
বিধিমালায় নিবন্ধন ফি, নবায়ন ফি এবং ই-রিকশার কারিগরি প্রত্যয়নের বিষয় নির্ধারণ করা হবে। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট), সরকারি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এবং জেলা পর্যায়ের সরকারি পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের অটোমোবাইল শাখা ই-রিকশার কারিগরি প্রত্যয়ন দেবে। এতে ট্রাফিক বিভাগ প্রতিস্বাক্ষর করবে।
নিবন্ধনের পর কোন সড়কে ই-রিকশা চলবে এবং কোন সড়কে চলবে না, তা জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসন ও ট্রাফিক বিভাগ এবং সিটি করপোরেশন এলাকায় সিটি করপোরেশন নির্ধারণ করবে।
প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পাওয়ার পর আগামী ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই সাংবাদিকদের ডেকে বিধিমালার কপি দেওয়া হবে বলে জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় সমর্থনের বাইরে কেউ প্রার্থী হলে তার বিষয়ে কেন্দ্র থেকে মনোনয়ন বা বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় বিএনপি সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
এ সময় নতুন উপজেলা মোকামতলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন