জাকির হোসেন পাটোয়ারী, রাজবাড়ী প্রতিনিধি
১২:৪৫ এম
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়াডের চামটা ১৫ পল্লী মহাশ্মশান কালী মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগে এক মানসিক প্রতিবন্ধী যুবককে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) সকালে মন্দির এলাকায় প্রতিমার কিছু অংশ ভাঙা দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দার কাছ থেকে জানতে পারা যায়, আঃ হাই এর ছেলে ও তার পরিবারের আরেক সহ শফিউদ্দিন (৩৮)- মানসিক ভারসাম্যহীন রোগী, বালিয়াকান্দি বাজার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শফিউদ্দিন নামে এ পাগল অনেকদিন যাবত বালিয়াকান্দির বাজার এলাকায় চলাফেরা করতেন বলে জানা যায়। তবে সন্দেহভাজন হিসেবে বালিয়াকান্দি সদর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়াডের চামটা ১৫ পল্লী মহাশ্মশান এলাকা থেকে তাকে দিয়ে আটক করা হয়। এ বিষয়ে বালিয়াকান্দি বাজারের এসো এলাকার লোকজনের অভিযোগ রয়েছে, তাকে মন্দিরের একটি সিমেন্টের পিলারের সঙ্গে বেঁধে লাকড়ি ও কলাগাছের ডাটা দিয়ে মারধর করা হয়।
এঘটনায় মন্দির কমিটির সাবেক সভাপতি ও শিক্ষক পলাশ কুমার বিশ্বাস জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি মারধরের বিষয়টি দেখতে পান এবং পুলিশকে অবহিত করেন। পরে পুলিশ আহত যুবককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
ঘটনার খবর পেয়ে বালিয়াকান্দি থানার ওসি আব্দুর রহমান তালুকদার ও রাজবাড়ী সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার শাহিদুল ইসলাম ও বালিয়াকান্দি সহকারী কমিশনার (ভূমি) এহসানুল হক শিপন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
তবে বর্তমানে শফিক উদ্দিন পাগলের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তবে স্থানীয় সূত্রে জানা যায় বিগত ৮-১০ মাস ধরে এ পাগল বাজার কেন্দ্রিক চলাফেরা করতেন ও তার পারিবারিক ও এলাকাবাসীর জানান সে ও তার পরিবারের কয়েকজনই মানসিক ভারসাম্যহীন রোগী।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার সুশীল সমাজের জনগণের জানিয়েছেন, একটা অরক্ষিত মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর বিষয়কে কেন্দ্র করে এ ধরনের মানসিক ভারসাম্মহীন একজন মানুষকে এ ধরনের মারধর বিষয়টি তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন, ও এই ঘটনার সাথে জড়িতদের প্রতি তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।
বালিয়াকান্দি থানা অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রব তালুকদার জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলিতেছে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আন্তর্জাতিক সমুদ্র দিবস-২০২৬ উপলক্ষে কক্সবাজারে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে কক্সবাজারের লাবনী এবং ইনানি সৈকত থেকে ৭ টন বর্জ্য সরানো হয়েছে।
শুক্রবার ও শনিবার (১৯ জুন ও ২০ জুন) দুই দিনব্যাপী এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেন আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘কেওক্রাডং বাংলাদেশ’। এই অভিযানে সংগঠনটির সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং সামাজিক সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা অংশগ্রহণ করেন।
এসময়ে তারা সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে সংগৃহীত ৭ টন অপচনশীল ময়লা-আবর্জনা, যার মধ্যে প্লাস্টিক বোতল, চিপসের প্যাকেট ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, সংগ্রহ করেন। পরে এই ময়লাগুলো কক্সবাজার পৌরসভা ডাম্পিং স্টেশনে ফেলা হয়।
আয়োজকরা জানান, প্লাস্টিক এবং অপচনশীল জাতীয় বর্জ্যের কারণে সৈকতের সৌন্দর্য ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে। সৈকতকে তার আগের রূপে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য এবং পর্যটকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ‘কেওক্রাডং বাংলাদেশ’ দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্র দিবসের সাথে সম্পৃক্ত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। দুই দিনের এই পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সমুদ্রসৈকত এলাকা থেকে প্রায় ৭ টন প্লাস্টিক ও অপাচনশীল বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে।
পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশগ্রহণকারী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং বিআরএফ ইয়ুথ ক্লাব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ মাখদুম মন্তব্য করেন, ‘সমুদ্র দিবসের প্রেক্ষাপটে আমরা পরিচ্ছন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছি। সৈকত এলাকায় অভিযান পরিচালনার সময় বর্জ্যের বিশাল পরিমাণ দেখে আমরা খুবই অবাক হয়েছি। সচেতন হলে টুরিস্টরা আমাদের সাগরকে সুন্দর রাখতে সাহায্য করতে পারেন।’
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিতে আসা সৃজিতা রায় জানান, ‘সমুদ্র দিবস উদযাপনের জন্য কক্সবাজারে আয়োজিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিবার জন্য আমি ভারত থেকে এসেছি। আমরা যখন সমুদ্রে ঘুরতে আসি তখন প্লাস্টিক জাতীয় অনেক বর্জ্য সেখানে ফেলে দেই। যদি আমরা নিজেদের তৈরি আবর্জনাগুলো নির্দিষ্ট স্থানে রাখি, তা হলে সেগুলো পুনর্ব্যবহার করা সহজ হবে। বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষ প্লাস্টিক ব্যবহার করে বেশি। সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে প্লাস্টিক আবর্জনা কমে আসবে।’
কেওক্রাডং বাংলাদেশের পরিচালক মুনতাসির মামুন জানান, ‘প্রায় ২০ বছর ধরে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে আসছি। আন্তর্জাতিক সমুদ্র দিবস উদযাপনের উদ্দেশ্যে এবার আমরা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের ইনানি ও লাবনী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছি। বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে এত পরিমাণ ময়লা আবর্জনা থাকা উচিত নয়। যে দেশগুলোতে জনসংখ্যা কম, সেখানে ময়লা আবর্জনা তোলার জন্য মানুষের অভাব নেই।’
তিনি আরো বলেন, ‘যদি সবাই ব্যক্তিগতভাবে এই কাজটিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে তাহলে ময়লা আবর্জনার স্তূপ পড়ে থাকার সম্ভাবনা কমে যাবে। আমাদের আবর্জনা সমস্যার সমাধান রাষ্ট্রের দায়িত্ব, কিন্তু এর জন্য আমাদেরও দায়িত্ব নিয়ে ভাবা উচিৎ। জনবহুল দেশে আবর্জনা সমস্যার সমাধান আমাদের ব্যক্তিগত দায়িত্বের ওপর নির্ভরশীল।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও কসবা-আখাউড়া আসনের সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান বলেছেন, মাদকের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন সংশোধন করে আরও কঠোর আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
শনিবার (২০ জুন) দুপুরে কসবা উপজেলার বায়েক শিক্ষা সদন উচ্চবিদ্যালয়ে রহমান ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে নির্মিত সায়েন্স ল্যাব উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
মুশফিকুর রহমান বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা গ্রেপ্তার হলে অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত জামিনে মুক্ত হয়ে যায়। এ বিষয়ে জাতীয় সংসদেও আলোচনা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মাদকবিরোধী আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে মাদক ব্যবসায়ীরা কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হয় এবং তারা মাদক ব্যবসা থেকে সরে আসে।
তিনি আরও জানান, নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে যেভাবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ডের মতো কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে, ঠিক একইভাবে মাদকের বিরুদ্ধেও কঠোর আইন প্রণয়ন করা হবে।
এ সময় তিনি এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে বলেন, বর্তমানে মাদক ব্যবসা বন্ধ করতে হবে। মাদক একটি বড় সমস্যা এবং এর কারণে সমাজের তরুণ প্রজন্ম ধ্বংস হচ্ছে। যদি শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগী না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে তারা প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে না। একজন মাদক ব্যবসায়ীর পরিবারও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
সায়েন্স ল্যাব উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ছামিউল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রহমান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মেহভীন রহমান মুনিয়া, আশফাক জামিল রহমান, কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজনীন সুলতানা, জেলা বিএনপির সহসভাপতি মুহম্মদ ইলিয়াস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী নাজমুল হুদা খন্দকার, জেলা কৃষক দলের সাবেক সহসভাপতি নাছির উদ্দিন হাজারী এবং উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ইকলিল আযম।
অনুষ্ঠানে উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপি এবং তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির মধ্যে সাম্প্রতিক এক বাগযুদ্ধ আন্তর্জাতিক রাজনীতির অঙ্গনে যথেষ্ট আলোচনার সৃষ্টি করেছে। সম্প্রতি গত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের একটি ছবি তোলার বিষয়কে কেন্দ্র করে এই বিবাদের শুরু হয়।
ট্রাম্প অভিযোগ করেন যে, সম্মেলনের সময় মেলোনি বারবার তার সাথে ছবি তোলার জন্য অনুরোধ করেছেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের প্রতি কড়া জবাব দিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী। তিনি এই অভিযোগকে সরাসরি ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বা ইতালির পক্ষ থেকে কখনো কারো কাছে কিছু ভিক্ষা চাওয়ার প্রয়োজন নেই।
এই বিতর্ক শুধুমাত্র ছবি তোলার অনুরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ট্রাম্প তার নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে আরও আক্রমণাত্মক মন্তব্য করে মেলোনির জনপ্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ইতালির প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে ট্রাম্প বলেন যে, মেলোনি তার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করতে তার সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছেন। ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে ইতালির অবস্থানের সমালোচনা করে আরো দাবি করেন যে, যুদ্ধের সময়ে ইতালির আকাশপথ বা রানওয়ে ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার কারণে ইতালি এক ধরনের লজিস্টিক অসুবিধায় ফেলেছিল।
মেলোনি তার প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্পের এই ক্রমাগত ও অশোভন আক্রমণকে অর্থহীন বলে মন্তব্য করেছেন। ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে তিনি দৃঢ়তার সাথে জানান যে, তার জনপ্রিয়তা ট্রাম্পের সাথে সুসম্পর্কের ওপর নির্ভর করে না। বরং, দেশীয় জাতীয় স্বার্থ রক্ষাই তার রাজনীতির মূল ভিত্তি এবং তিনি সবসময় সেটাই করার চেষ্টা করেছেন।
শেষে ট্রাম্পের উদ্দেশ্যে পাল্টা বার্তা পাঠিয়ে মেলোনি বলেন, ট্রাম্পের তার জনপ্রিয়তা নিয়ে মাথা ঘামানোর প্রয়োজন নেই, বরং নিজস্ব জনপ্রিয়তার দিকে নজর দেওয়ার কথা বলবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শুক্রবার সকালে কলকাতা বিমানবন্দরে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো। আচমকা বজ্রপাতের কবলে পড়ে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের আগরতলাগামী একটি বিমান। প্রবল বৃষ্টি আর ঝোড়ো হাওয়ার মধ্যে এই ঘটনা ঘটানোর ফলে বিমানবন্দরের কর্মী ও যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে কলকাতা বিমানবন্দরের ৫৬এল অ্যারোব্রিজে দাঁড়িয়ে ছিল ইন্ডিগোর ফ্লাইট ৬ই ৬০৬৪ (ভিটি-আইপিডব্লিউ)। ঠিক সেই মুহূর্তে প্রচণ্ড বজ্রপাতে বিমানটি কেঁপে ওঠে। মূলত বজ্রপাতের কারণে বিমানের মূল বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বড়সড় বিভ্রাট দেখা দেয় এবং বিমানের ভেতরে হঠাৎ করেই সব আলো ও যান্ত্রিক সরঞ্জাম নিভে গিয়ে অন্ধকার নেমে আসে।
ঘটনার সময় বিমানে মোট ১৪১ জন যাত্রী ও ছয়জন ক্রু সদস্য ছিলেন। সৌভাগ্যবশত, এই ঘটনায় কোনো যাত্রী আহত হননি। তবে বজ্রপাতের তীব্রতায় বিমানের ভেতরের ইলেকট্রনিক সিস্টেম পুরোপুরি অচল হয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে সাময়িক চাঞ্চল্য তৈরি হয়।
নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তাড়াহুড়ো করে বিমানে থাকা সমস্ত যাত্রীকে নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনা হয়। জানা গেছে, বজ্রপাতের প্রভাব সরাসরি বিমানের বৈদ্যুতিক পরিকাঠামোর ওপর পড়ায় পাইলট এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীরা তৎক্ষণাৎ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
এদিকে, এই ঘটনায় বিমানের ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি দুই গ্রাউন্ড স্টাফও সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তাদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে দ্রুত মেডিকেল পরীক্ষার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ইন্ডিগো কর্তৃপক্ষের তরফে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়। দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকার পর শেষ পর্যন্ত অন্য একটি এয়ারবাস এ৩২১ (ভিটি-আইসিডি) বিমানে করে যাত্রীদের আগরতলার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়। যাত্রীরা দুপুর ১২টা ৫০ মিনিট নাগাদ কলকাতার আকাশ ছাড়েন।
উল্লেখ্য, শুক্রবার সকাল থেকে কলকাতা এবং সংলগ্ন এলাকায় নাগাড়ে বৃষ্টি আর বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝোড়ো হাওয়া বইছিল। বিমানবন্দরের আবহওয়া নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (এওসিসি) থেকেও আগেভাগেই দুর্যোগের সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। এই খারাপ আবহাওয়ার জেরেই কলকাতা বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কাজকর্মও বেশ কিছুটা ব্যাহত হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ