১১:২৩ এম
দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের বলকান অঞ্চলের দেশ আলবেনিয়া এখন ধীরে ধীরে ইউরোপের অন্যতম জনপ্রিয় এবং সাশ্রয়ী গন্তব্যে পরিণত হচ্ছে। এটি কম খরচে উন্নত জীবনযাত্রা, মনোমুগ্ধকর সমুদ্রসৈকত, পাহাড়ি সৌন্দর্য, ডিজিটাল নোম্যাডদের জন্য বিশেষ সুযোগ এবং তুলনামূলক সহজ আবাসন ব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
বিশেষভাবে যারা ইউরোপে পড়াশোনা, রিমোট চাকরি, ব্যবসা বা দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য আলবেনিয়া একটি বাস্তবসম্মত বিকল্প হতে পারে।
আলবেনিয়ার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক পরিবেশ। ইওনিয়ান সাগরের তীরে অবস্থিত আলবেনিয়ান রিভিয়েরা-এর কসামিল, সারান্দা ও ধেরমির মতো সমুদ্রসৈকত স্বচ্ছ নীল পানির জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত হয়ে উঠেছে। অনেক পর্যটক একে গ্রিস বা ইতালির তুলনায় অনেক কম খরচে উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: দুই সন্তানকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যা, ওড়না পেঁচিয়ে
অন্যদিকে, উত্তরাঞ্চলের আলবেনিয়ান আল্পস ট্রেকিংপ্রেমীদের জন্য একটি স্বর্গ হিসেবে পরিচিত। থিথ ও ভালবোনা জাতীয় উদ্যানের পাহাড়, নদী এবং সবুজ বনভূমি ইউরোপের অন্যতম সুন্দর প্রাকৃতিক অঞ্চল হিসেবে ধরা হয়।
এ ছাড়া, ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের শহর বেরাত ও জিরোকাস্তার মধ্যযুগীয় স্থাপত্য ও ঐতিহাসিক নিদর্শনের জন্য পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ।
কত খরচে চলা সম্ভব? ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় আলবেনিয়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। রাজধানী তিরানার কেন্দ্রের বাইরে একটি এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া সাধারণত ২৫০ থেকে ৩৫০ ইউরোর মধ্যে পাওয়া যায়। উপকূলীয় পর্যটন এলাকায় মৌসুমভেদে ভাড়া কিছুটা বাড়তি হতে পারে।
স্থানীয় রেস্তোরাঁয় ৩ থেকে ৭ ইউরোর মধ্যে খাবার পাওয়া যায়। বাসাভাড়া, খাবার, পরিবহন, ইন্টারনেট ও ইউটিলিটি বিলসহ একজন প্রবাসীর মাসিক গড়ে ৭০০ থেকে ৯০০ ইউরো ব্যয় হতে পারে।
আরও পড়ুন: ককরোচদের মোকাবিলায় এবার ‘লাল হিট’
বাংলাদেশিরা যদি আলবেনিয়ায় যেতে চান, তারা আলবেনিয়ার ই-ভিসা ব্যবস্থার মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। শর্ট-টার্ম (টাইপ ‘সি’) ভিসার জন্য প্রয়োজন হবে বৈধ পাসপোর্ট, নির্ধারিত সাইজের ছবি, রিটার্ন এয়ার টিকিট, হোটেল বুকিং, গত ১২ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং চাকরিজীবীদের জন্য এনওসি অথবা ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স।
সাধারণত ১৪ থেকে ১৮ কার্যদিবসের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তি হয়ে থাকে। বিশেষ ক্ষেত্রে সময় আরও কিছুটা বেশি লাগতে পারে।
ডিজিটাল নোম্যাডদের জন্য আলবেনিয়া ইউনিক পারমিট সুবিধা চালু করেছে। রিমোট চাকরি বা ফ্রিল্যান্সিং করেন এমন বিদেশিদের জন্য এই সুবিধাটি রয়েছে। উপযুক্ত আবেদনকারীরা প্রাথমিকভাবে এক বছরের অনুমতি পেয়ে থাকেন, যা পরে নবায়নের মাধ্যমে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব।
এর জন্য আবেদনকারীকে আলবেনিয়ার বাইরের কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্মচুক্তি, নির্ধারিত ন্যূনতম মাসিক আয়, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও স্বাস্থ্যবিমার প্রমাণ দেখাতে হয়।
আরও পড়ুন: ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় সউদী বাহিনীর ১১০ হামলার দাবি
দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের ক্ষেত্রে প্রথমে টাইপ ‘ডি’ ভিসার মাধ্যমে প্রবেশ করে রেসিডেন্স পারমিট নিতে হয়। বর্তমান আইন অনুযায়ী, বৈধভাবে টানা সাত বছর বসবাসের পর একজন বিদেশি নাগরিক আলবেনিয়ার নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। এ জন্য আলবেনিয়ান ভাষার প্রাথমিক জ্ঞান এবং অপরাধমূলক রেকর্ড না থাকার প্রমাণ দরকার। আলবেনিয়ার কোনো নাগরিককে বিয়ে করলে নাগরিকত্ব পাওয়ার সময়সীমা আরও কমে আসে। উল্লেখ্য, দেশটি দ্বৈত নাগরিকত্বেরও অনুমতি দেয়।
আলবেনিয়া বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ পাওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা একটি প্রার্থী দেশ। কম জীবনযাত্রার ব্যয়, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ডিজিটাল নোম্যাডবান্ধব নীতি এবং সহজ আবাসন ব্যবস্থার কারণে দেশটি দিন দিন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
যারা সীমিত বাজেটে ইউরোপে নতুন জীবন, ব্যবসা বা রিমোট ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখছেন, তাদের জন্য ২০২৬ সালে আলবেনিয়া একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য হতে পারে। ভিসা নীতি, আয়ের শর্ত এবং অভিবাসনসংক্রান্ত নিয়ম সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। আবেদন করার আগে আলবেনিয়ার সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করা উচিত।
আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের অকুণ্ঠ সমর্থন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন