ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইউরোপের সবচেয়ে সাশ্রয়ী দেশ কোনটি, জানুন ভিসা পাওয়ার উপায়


ইউরোপের সবচেয়ে সাশ্রয়ী দেশ কোনটি, জানুন ভিসা পাওয়ার উপায়

দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের বলকান অঞ্চলের দেশ আলবেনিয়া এখন ধীরে ধীরে ইউরোপের অন্যতম জনপ্রিয় এবং সাশ্রয়ী গন্তব্যে পরিণত হচ্ছে। এটি কম খরচে উন্নত জীবনযাত্রা, মনোমুগ্ধকর সমুদ্রসৈকত, পাহাড়ি সৌন্দর্য, ডিজিটাল নোম্যাডদের জন্য বিশেষ সুযোগ এবং তুলনামূলক সহজ আবাসন ব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

বিশেষভাবে যারা ইউরোপে পড়াশোনা, রিমোট চাকরি, ব্যবসা বা দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য আলবেনিয়া একটি বাস্তবসম্মত বিকল্প হতে পারে।

আলবেনিয়ার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক পরিবেশ। ইওনিয়ান সাগরের তীরে অবস্থিত আলবেনিয়ান রিভিয়েরা-এর কসামিল, সারান্দা ও ধেরমির মতো সমুদ্রসৈকত স্বচ্ছ নীল পানির জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত হয়ে উঠেছে। অনেক পর্যটক একে গ্রিস বা ইতালির তুলনায় অনেক কম খরচে উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন।

আরও পড়ুন: দুই সন্তানকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যা, ওড়না পেঁচিয়ে

অন্যদিকে, উত্তরাঞ্চলের আলবেনিয়ান আল্পস ট্রেকিংপ্রেমীদের জন্য একটি স্বর্গ হিসেবে পরিচিত। থিথ ও ভালবোনা জাতীয় উদ্যানের পাহাড়, নদী এবং সবুজ বনভূমি ইউরোপের অন্যতম সুন্দর প্রাকৃতিক অঞ্চল হিসেবে ধরা হয়।

এ ছাড়া, ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের শহর বেরাত ও জিরোকাস্তার মধ্যযুগীয় স্থাপত্য ও ঐতিহাসিক নিদর্শনের জন্য পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ।

কত খরচে চলা সম্ভব? ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় আলবেনিয়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। রাজধানী তিরানার কেন্দ্রের বাইরে একটি এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া সাধারণত ২৫০ থেকে ৩৫০ ইউরোর মধ্যে পাওয়া যায়। উপকূলীয় পর্যটন এলাকায় মৌসুমভেদে ভাড়া কিছুটা বাড়তি হতে পারে।

স্থানীয় রেস্তোরাঁয় ৩ থেকে ৭ ইউরোর মধ্যে খাবার পাওয়া যায়। বাসাভাড়া, খাবার, পরিবহন, ইন্টারনেট ও ইউটিলিটি বিলসহ একজন প্রবাসীর মাসিক গড়ে ৭০০ থেকে ৯০০ ইউরো ব্যয় হতে পারে।

আরও পড়ুন: ককরোচদের মোকাবিলায় এবার ‘লাল হিট’

বাংলাদেশিরা যদি আলবেনিয়ায় যেতে চান, তারা আলবেনিয়ার ই-ভিসা ব্যবস্থার মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। শর্ট-টার্ম (টাইপ ‘সি’) ভিসার জন্য প্রয়োজন হবে বৈধ পাসপোর্ট, নির্ধারিত সাইজের ছবি, রিটার্ন এয়ার টিকিট, হোটেল বুকিং, গত ১২ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং চাকরিজীবীদের জন্য এনওসি অথবা ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স।

সাধারণত ১৪ থেকে ১৮ কার্যদিবসের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তি হয়ে থাকে। বিশেষ ক্ষেত্রে সময় আরও কিছুটা বেশি লাগতে পারে।

ডিজিটাল নোম্যাডদের জন্য আলবেনিয়া ইউনিক পারমিট সুবিধা চালু করেছে। রিমোট চাকরি বা ফ্রিল্যান্সিং করেন এমন বিদেশিদের জন্য এই সুবিধাটি রয়েছে। উপযুক্ত আবেদনকারীরা প্রাথমিকভাবে এক বছরের অনুমতি পেয়ে থাকেন, যা পরে নবায়নের মাধ্যমে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব।

এর জন্য আবেদনকারীকে আলবেনিয়ার বাইরের কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্মচুক্তি, নির্ধারিত ন্যূনতম মাসিক আয়, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও স্বাস্থ্যবিমার প্রমাণ দেখাতে হয়।

আরও পড়ুন: ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় সউদী বাহিনীর ১১০ হামলার দাবি

দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের ক্ষেত্রে প্রথমে টাইপ ‘ডি’ ভিসার মাধ্যমে প্রবেশ করে রেসিডেন্স পারমিট নিতে হয়। বর্তমান আইন অনুযায়ী, বৈধভাবে টানা সাত বছর বসবাসের পর একজন বিদেশি নাগরিক আলবেনিয়ার নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। এ জন্য আলবেনিয়ান ভাষার প্রাথমিক জ্ঞান এবং অপরাধমূলক রেকর্ড না থাকার প্রমাণ দরকার। আলবেনিয়ার কোনো নাগরিককে বিয়ে করলে নাগরিকত্ব পাওয়ার সময়সীমা আরও কমে আসে। উল্লেখ্য, দেশটি দ্বৈত নাগরিকত্বেরও অনুমতি দেয়।

আলবেনিয়া বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ পাওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা একটি প্রার্থী দেশ। কম জীবনযাত্রার ব্যয়, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ডিজিটাল নোম্যাডবান্ধব নীতি এবং সহজ আবাসন ব্যবস্থার কারণে দেশটি দিন দিন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

যারা সীমিত বাজেটে ইউরোপে নতুন জীবন, ব্যবসা বা রিমোট ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখছেন, তাদের জন্য ২০২৬ সালে আলবেনিয়া একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য হতে পারে। ভিসা নীতি, আয়ের শর্ত এবং অভিবাসনসংক্রান্ত নিয়ম সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। আবেদন করার আগে আলবেনিয়ার সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করা উচিত।

আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের অকুণ্ঠ সমর্থন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দক্ষিণ এশিয়ায় ২০২৫ সালে সর্বোচ্চ এফডিআই প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের: আঙ্কটাড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:২৬ এম


দক্ষিণ এশিয়ায় ২০২৫ সালে সর্বোচ্চ এফডিআই প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের: আঙ্কটাড

২০২৫ সালে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রবৃদ্ধিতে শীর্ষ অবস্থানে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। এ সময় দেশে এফডিআই প্রবাহ আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৭৮ কোটি মার্কিন ডলারে (১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন) পৌঁছেছে।

জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা আঙ্কটাড-এর ‘ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট রিপোর্ট ২০২৬’-এ এটি প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে এফডিআই প্রবাহ ছিল ১২৩ কোটি মার্কিন ডলার (১ দশমিক ২৩ বিলিয়ন), যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৮ কোটি মার্কিন ডলারে (১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন)। বৈশ্বিক বিনিয়োগ পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জপূর্ণ হলেও, এ প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রতি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের ক্রমবর্ধমান আস্থা প্রতিফলিত করে।

এটি এমন সময় প্রকাশিত হয়েছে যখন ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বাণিজ্য অনিশ্চয়তা এবং উচ্চ অর্থ ব্যয়ের কারণে বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রবাহ বিদ্যমান সময়ে অত্যন্ত কঠিন অবস্থায় রয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের এ শক্তিশালী এফডিআই প্রবৃদ্ধি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হয়ে উঠেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

যদিও মোট স্থায়ী মূলধন গঠনে বাংলাদেশের এফডিআইয়ের অংশ তুলনামূলকভাবে কম, তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির মডেলের অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে দেশীয় বিনিয়োগ এখনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

আঙ্কটাড নিশ্চিত করেছে যে, উন্নয়নশীল অঞ্চলগুলোর মধ্যে ২০২৫ সালেও উন্নয়নশীল এশিয়া বিশ্বের প্রধান বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে তার অবস্থান ধরে রেখেছে। এ অঞ্চলে এ সময়ে মোট ৬৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এফডিআই এসেছে।

বাংলাদেশের এ সাফল্য এশিয়ার অর্থনীতিগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের ধারাবাহিক আগ্রহের বৃহত্তর আঞ্চলিক প্রবণতারই একটি প্রকাশ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, টানা দুই বছর পতনের পর ২০২৫ সালে বৈশ্বিক এফডিআই ৬ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।

এ পুনরুদ্ধারের পেছনে ডিজিটাল অবকাঠামো, উৎপাদন শিল্প, জ্বালানি রূপান্তর প্রযুক্তি এবং অন্যান্য কৌশলগত খাতে বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উৎপাদন শিল্প, সেবা, অবকাঠামো এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আরও ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বৃহৎ অভ্যন্তরীণ বাজার, প্রতিযোগিতামূলক কর্মশক্তি, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার ভবিষ্যতে এফডিআই প্রবৃদ্ধির জন্য শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে।

অর্ধ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি জিডিপি এবং শিল্পায়ন ও সংযোগ ব্যবস্থায় ধারাবাহিক অগ্রগতির মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্রমেই দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্ব পাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রেললাইন প্লাবিত হওয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:২৯ এম


রেললাইন প্লাবিত হওয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের জানআলীহাট ও ষোলোশহর স্টেশনের মধ্যবর্তী অংশে রেললাইন প্রায় দুই ফুট পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে জানিয়েছে, বিরূপ আবহাওয়ার কারণে মঙ্গলবার ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনটি চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে আর যাত্রা করতে পারেনি। পরে ট্রেনটি বুধবার পুনরায় ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে।

একইভাবে বুধবার ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনটিও ভোর থেকে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে আটকে রয়েছে। জানআলীহাট-ষোলোশহর সেকশনে রেললাইনের ওপর থেকে পানি না নামা পর্যন্ত ট্রেনটি কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে দেওয়া সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছে রেলওয়ে।

আটকে পড়া যাত্রীদের সুবিধার্থে বাংলাদেশ রেলওয়ে জানিয়েছে, যেসব যাত্রী ভ্রমণ বাতিল করতে চান তারা চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের কাউন্টার থেকে টিকিটের অর্থ ফেরত নিতে পারবেন।

এছাড়া, যারা ঢাকায় ফিরে যেতে ইচ্ছুক, তারা বুধবার বিকেল ৪টায় চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনে ঢাকায় ফিরতে পারবেন। গতক日の টিকিটধারী যাত্রীরাও একই টিকিট ব্যবহার করে এ ট্রেনে ভ্রমণ করতে পারবেন।

বাংলাদেশ রেলওয়ে আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত এ অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির কারণে যাত্রীদের ভোগান্তির জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হঠাৎ দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করল ফিফা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৩১ এম


হঠাৎ দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করল ফিফা

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচের পূর্বে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় ফুটবল দলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। বরখাস্ত হওয়া দুই কর্মকর্তা হচ্ছেন দলের ম্যানেজার স্যাম জাপাটকা এবং ইউএস সকার ফেডারেশনের নিরাপত্তাবিষয়ক সহসভাপতি ফ্র্যাঙ্ক প্যানেল।

ফিফার ডিসিপ্লিনারি প্রিভিউ (শাস্তিমূলক তথ্য) তালিকায় তাঁদের নাম প্রকাশ হওয়ার পর এই বিষয়টি সামনে আসে। তবে সংস্থাটি বরখাস্তের সুনির্দিষ্ট কারণ এখন পর্যন্ত প্রকাশ করেনি।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে আলোচনার ভিত্তিতে জানা গেছে, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে শেষ বত্রিশের ম্যাচের পর ফিফার ম্যাচ প্রোটোকল লঙ্ঘন এবং অননুমোদিত এলাকায় প্রবেশের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, অনেক বিশ্লেষকের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির সঙ্গে এই ঘটনাটির যোগসূত্র থাকতে পারে। ওই ম্যাচে লাল কার্ড দেখার পরও বালোগুন মাঠে ফিরে সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপনে অংশগ্রহণ করেছিলেন, যা ফিফার নিয়মবিরুদ্ধ। তবে ইউএস সকার ফেডারেশন স্পষ্ট জানিয়েছেন, দুই কর্মকর্তার বরখাস্তের সঙ্গে বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা বা তাকে বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলানোর কোনো সম্পর্ক নেই।

ইউএস সকার ফেডারেশন বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তাদের বক্তব্য হলো, বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে ফিফার এখতিয়ারভুক্ত। অন্যদিকে, ফিফাও এ নিয়ে বর্তমানে কোনো আনুষ্ঠানিক জনসম্মুখ বিবৃতি দেয়নি।

স্যাম জাপাটকা ২০১৫ সাল থেকে ইউএস সকারের সঙ্গে যুক্ত এবং ২০২০ সাল থেকে জাতীয় দলের ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে, ফ্র্যাঙ্ক প্যানেল দলের নিরাপত্তাবিষয়ক দায়িত্বে ছিলেন। এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস ও সিআইএসহ অন্যান্য বিভিন্ন সংস্থায় কাজ করেছেন।

এছাড়া, শেষ ষোলোতে বেলজিয়ামের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ৪-১ গোলের পরাজয়ের ম্যাচে এই দুই কর্মকর্তার অনুপস্থিতি নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ফিফার সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা ও নিয়ম প্রয়োগের ধারাবাহিকতা সম্পর্কে অনেক মার্কিন ফুটবল সমর্থক ও বিশ্লেষক প্রশ্ন তুলছেন। তবে ফিফার আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা না আসা পর্যন্ত বরখাস্তের প্রকৃত কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ন্যাটো সম্মেলনের আগে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে উত্তেজনা, মুখোমুখি ট্রাম্প-ডেনমার্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৩৩ এম


ন্যাটো সম্মেলনের আগে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে উত্তেজনা, মুখোমুখি ট্রাম্প-ডেনমার্ক

ডেনমার্কের আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আবারও বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মঙ্গলবার তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ ডেনমার্কের হাতে নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা উচিত। তুরস্কে উত্তর আটলান্টিক জোটের শীর্ষ সম্মেলনের আগে ট্রাম্পের এই মন্তব্য মিত্র দেশগুলোর মধ্যে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ডেনমার্ক ও ইউরোপের কয়েকটি দেশের সঙ্গে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও বেড়েছে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তার দাবি, এই ইস্যু উত্তর আটলান্টিক জোটের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কেও প্রভাব ফেলছে।

ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের উন্নয়ন ও সহায়তায় যথেষ্ট অর্থ ব্যয় করে না। তার ভাষায়, অঞ্চলটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ডের আশপাশে চীন ও রাশিয়ার জাহাজের উপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উদ্বেগের বিষয় এবং তা মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। এছাড়া রাশিয়ার হুমকি মোকাবিলায় ডেনমার্ককে রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে কোপেনহেগেন সহযোগিতা করছে না বলেও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

ট্রাম্পের মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আঙ্কারায় দেওয়া এক বক্তব্যে এর জবাব দেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন। তিনি বলেন, মিত্র দেশগুলোর উচিত ডেনিশ রাজ্যের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করা।

ফ্রেডেরিকসেন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, 'গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়। যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা পেতে চায়—এটি তাদের দীর্ঘদিনের অবস্থান। তবে এমনটি কখনোই ঘটবে না।'

তিনি আরও জানান, উত্তর আটলান্টিক জোটের শীর্ষ সম্মেলনে সুদূর উত্তরাঞ্চল, উত্তর মেরু অঞ্চল বা গ্রিনল্যান্ড ইস্যু নিয়ে আলোচনার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।

এদিকে গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুতে এগেদে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, 'গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে কেবল এখানকার জনগণ। সব সময় এমনই ছিল এবং ভবিষ্যতেও তাই থাকবে।' একই সঙ্গে তিনি সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ বা অধিগ্রহণের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ নতুন নয়। গত জুন মাসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছিলেন, এ বিষয়ে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে প্রতি মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা চলছে। সর্বশেষ ট্রাম্পের এই মন্তব্যে বিষয়টি আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

সূত্র : রয়টার্স।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%