০৫:২৬ পি.এম
নির্মাণের প্রায় ৪ বছর পেরিয়ে গেলেও বান্দরবানের মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস) এখনও চালু হয়নি। এর ফলে ভবনের অনেক কক্ষ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং ছাত্র-ছাত্রীরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এই ক্যাম্পাসটি তিন একর জায়গাজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে এবং এখানে ৮টি ভবন রয়েছে। পার্বত্য অঞ্চলে শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে এখানে স্টাফ কোয়ার্টার, শিক্ষক ডরমেটরি, ছাত্র-ছাত্রীদের আবাসন ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সুবিধা রয়েছে। তবে প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কর্তৃপক্ষ এখনও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করতে পারেনি এবং ম্যাটসের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি। অভ্যন্তরীণ সড়ক ও এলাকা জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরে ময়লা আবর্জনায় ভরে গেছে। বিদ্যুতের বাতি বসানোর জায়গায় পাখির বাসা বাঁধা। যদিও এসব ভবনে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পদচারণার কথা ছিল, বর্তমানে ক্যাম্পাসের সবকটি ভবনই পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে এবং সেখানে গরু-ছাগল ও লাকড়ি সংগ্রহকারীদের দেখা যাচ্ছে। ফলে জনমানবশূন্য ক্যাম্পাসটিতে ভুতুড়ে পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে সরকারের এই বিশাল সম্পদ নষ্ট হচ্ছে।
২০২১ সালে বান্দরবানের রেইচা এলাকায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ৩০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০২৩ সালে নির্মাণকাজ শেষ হলেও প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম এখনও শুরু হয়নি। সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্জন ক্যাম্পাসের সবকটি ভবন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ক্যাম্পাসে নাইটগার্ড হিসেবে একজন বৃদ্ধ রয়েছেন। পাশাপাশি গরু-ছাগল ও কিছু লাকড়ি সংগ্রহকারী মানুষের পদচারণা দেখা গেছে। এর বাইরে অন্য কোনো মানুষের উপস্থিতি চোখে পড়েনি। জনমানবশূন্য ক্যাম্পাসটিতে বিদ্যুতের আলো না থাকায় ভুতুড়ে পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কোনো ভবনেই আসবাব দেখা যায়নি।
আরও পড়ুন: হোসেনপুরের ‘হেরার আলো ইসলামী ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে বিনামূল্যে ডায়াবেটিস, প্রেশার ও ব্লাড গ্রুপ নির্ণয় কর্মসূচি
বৃদ্ধ নাইটগার্ড জানিয়েছেন, তিনি তিন বছর ধরে ভবনটিতে কর্মরত আছেন। কার্যক্রম না চলার কারণে ভবনের অনেকগুলো কক্ষ এবং সরকারি সম্পদ এভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের মতে, ম্যাটসটি নির্মিত হলেও এখনো কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। তবে ট্রেনিং স্কুলটি চালু হলে পাহাড়ের শিক্ষার্থীরা নিজ এলাকায় ৪ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা কোর্সের সুযোগ পাবে। তাদের মতে, এই এলাকার অনেক ছেলে-মেয়ে এখানে পড়ালেখার সুযোগ পেলে দেশের স্বাস্থ্য সেবায় বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি চালুর জন্য দাবি জানান ছাত্র-ছাত্রীরা।
অভিভাবকদের মতে, ম্যাটসটি নির্মিত হলেও কার্যক্রম শুরু হয়নি। পাহাড়ের ছেলে-মেয়েরা অনেক আশা নিয়ে রয়েছে যে তারা নিজ জেলায় কর্মমুখী শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে। তবে যারা মেডিকেলে পড়াশোনা করবেন, তারা সেই সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দীর্ঘ ৪ বছরের প্রতিষ্ঠানটি চালু না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা চরম হতাশায় ভুগছেন। তবে ম্যাটসের বর্তমানে কোনো গুরুত্ব নেই। স্থানীয় অভিভাবকরা মনে করেন, যদি এটি মেডিকেল কলেজ হিসেবে চালু করা হয়, তাহলে তা অধিক কার্যকর হবে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান অংসাহ্লা মারমা বলেছেন, তিন বছর আগেই কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু এখনো প্রতিষ্ঠানটি চালু করা হয়নি। ফলে পাহাড়ি এলাকার ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষা ক্ষেত্রে পিছিয়ে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত চালু হলে পাহাড়ের ছাত্র-ছাত্রীদের বাহিরে গিয়ে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন হবে না। তাই দ্রুত প্রতিষ্ঠানটি চালুর দাবি জানান স্থানীয় এই জনপ্রতিনিধি।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন/ধানের শীষ নাকি দাঁড়িপাল্লা, কার ওপর আস্থা রাখছেন ভোটাররা
অপরদিকে কক্সবাজার স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের উপসহকারী জাকিয়া নাসরিন মুঠোফোনে জানান, ২০২১ সালে ম্যাটসের অবকাঠামো নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। ২০২৩ সালে নির্মাণকাজ শেষ হলেও জনবল নিয়োগ ও আসবাবপত্র না থাকায় হস্তান্তর হয়নি।
বান্দরবানে কর্মরত স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. আব্দুল রউফ জানিয়েছেন, ম্যাটস নির্মাণের বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন