ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভোরবেলা ঘুম থেকে ওঠার দোয়া ও আমল


ভোরবেলা ঘুম থেকে ওঠার দোয়া ও আমল

ঘুম মহান আল্লাহর একটি বিশেষ নেয়ামত। সারাদিনের ক্লান্তি দূর করার জন্য এর তুলনায় শ্রেষ্ঠ কিছু নেই। ভোরবেলা ঘুম থেকে ওঠা অনেকের জন্য কষ্টকর হতে পারে। তবে যারা নিয়মিত তাহাজ্জুদ ও ফজরের নামাজ আদায় করেন, তাদের জন্য এটি সহজ হয়ে যায়।

মহান আল্লাহ ইসলামকে আমাদের জন্য সহজ করে দিয়েছেন। ভোরবেলা ঘুম থেকে ওঠার জন্য যে দোয়া ও আমল রয়েছে, তা তিনি আমাদের শিখিয়ে দিয়েছেন।

ভোরবেলা ঘুম থেকে ওঠার আমল

আরও পড়ুন: মক্কায় ওমরাহ পালন করতে গিয়ে বাংলাদেশি নারীর মৃত্যু

এক. রাতে দেরি না করে দ্রুত ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা।

দুই. ভোরে জেগে ওঠার দৃঢ় ইচ্ছা থাকা। যদি কেউ ভোর ৫টায় ঘুম থেকে ওঠার জন্য সময় নির্ধারণ করে, তবে সে অবশ্যই ৫টা বাজার এক মিনিট আগে জেগে উঠবে। (ইনশাআল্লাহ!) কারণ, বান্দার দৃঢ় ইচ্ছার কারণে সে ফজরের সময়ে জেগে উঠতে সক্ষম হবে। মহান আল্লাহ যখন বান্দার একনিষ্ঠতা দেখবেন, তখন কোনো অ্যালার্ম বা সংকেত ছাড়াই ওই বান্দা আল্লাহর ইচ্ছায় জেগে উঠবেন।

তিন. নামাজের গুরুত্ব উপলব্ধি করা এবং মহান আল্লাহর নির্দেশ মানার জন্য ব্যাকুল থাকা। তাহলে এমনিতেই ঘুম থেকে জেগে উঠবেন।

চার. ভোরবেলা ওঠার নিয়তে ঘুমাতে যাওয়ার আগে কোরআনের একটি আয়াত পড়া যেতে পারে। তাহলো-

আরও পড়ুন: প্রাণীর প্রতি দয়া আল্লাহর রহমত লাভের উপায়

لَهُمُ الْبُشْرَى فِي الْحَياةِ الدُّنْيَا وَفِي الآخِرَةِ لاَ تَبْدِيلَ لِكَلِمَاتِ اللّهِ ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
উচ্চারণ : লাহুমুল বুশরা ফিল হায়াতিদদুনইয়া ওয়া ফিল আখিরাতে লা তাবদিলা লিকালিমাতিল্লাহি জালিকা হুয়াল ফাউযুল আজিম।

অর্থ : তাদের জন্য সুসংবাদ দুনিয়ার জীবনে ও পরকালীন জীবনে। আল্লাহর কথার কখনো হের-ফের হয় না। এটাই হল মহা সফলতা। (সুরা ইউনুস, আয়াত: ৬৪)

ঘুম থেকে ওঠে পড়ার দোয়া

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা ভোরে উপনীত হয়ে (ঘুম থেকে উঠে) এই দোয়া পড়বে-

আরও পড়ুন: অন্যের গোপন তথ্য ফাঁসের শাস্তি দেবেন আল্লাহ

اللَّهُمَّ بِكَ أَصْبَحْنَا وَبِكَ أَمْسَيْنَا وَبِكَ نَحْيَى وَبِكَ نَمُوتُ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা বিকা আসবাহনা ওয়া বিকা আমসাইনা ওয়া বিকা নাহইয়া ওয়া বিকা নামুতু।

অর্থ: হে আল্লাহ! তোমার আদেশেই আমরা প্রভাতে উপনীত হই এবং তোমার আদেশেই আমরা সন্ধ্যায় উপনীত হই, তোমার আদেশেই আমরা জীবন ধারণ করি এবং তোমার আদেশেই আমরা মৃত্যুবরণ করি। (ইবনে মাজাহ: ৩৮৬৮)

অপর একটি দোয়া নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে,

الحمدلله الذي أحيانا بعدما أماتنا و إليه النّشور
উচ্চারণ : আলহামদু লিল্লাহিল্লাজি আহইয়ানা বাদা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশুর।

আরও পড়ুন: অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সুস্থতা ও সুরক্ষার জন্য দোয়া পাঠের গুরুত্ব

অর্থ : সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের মৃত বানানোর পর জীবিত করেছেন। আর তার দিকেই পুনরুত্থান। (বুখারি: ৬৩২৪)

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রোহিঙ্গা বন্দিদের আলাদা করার পরিকল্পনায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:২৮ এম


রোহিঙ্গা বন্দিদের আলাদা করার পরিকল্পনায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের শঙ্কা

বাংলাদেশের কারা কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গা বন্দিদের আলাদা রাখার পরিকল্পনা করছে, যা নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশি বন্দিদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে সহায়ক হবে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কক্সবাজারের উখিয়া অথবা টেকনাফে রোহিঙ্গাদের জন্য বিশেষায়িত কারাগার স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও বান্দরবান কারাগারে ৭০০-এর বেশি রোহিঙ্গা বন্দি রয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে হত্যা, মাদক ও চোরাচালানসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে।

কক্সবাজার জেলা কারাগার, যা ৪০০ বন্দির ধারণক্ষমতা নিয়ে গঠিত, সেখানে বর্তমানে ২ হাজার ৯৮১ জন বন্দি রয়েছেন। এর মধ্যে ৫২৪ জন রোহিঙ্গা বন্দি রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কারাগারের ধারণক্ষমতার তুলনায় রোহিঙ্গা বন্দির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।

একই ধরনের পরিস্থিতি চট্টগ্রাম ও বান্দরবান কারাগারেও বিদ্যমান। চট্টগ্রাম কারাগারে অন্তত ২০ জন এবং বান্দরবান কারাগারে ৩০ জন রোহিঙ্গা বন্দি রয়েছেন। কারা কর্তৃপক্ষ তাদের সার্বিক নিরাপত্তার ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করছে।

কারা অধিদফতরের ডিআইজি (প্রিজন্স-চট্টগ্রাম) মো. ছগির মিয়া বলেন, “রোহিঙ্গা বন্দিদের জন্য কক্সবাজারের উখিয়া অঞ্চলে আলাদা স্থাপনা তৈরি করে সেখানে রাখা হলে তারা বাংলাদেশি বন্দিদের সঙ্গে মিশতে পারবেন না। এতে তাদের মাধ্যমে অপরাধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও কমবে।”

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির আব্দুল মান্নান মন্তব্য করেন, কক্সবাজারের মোট জনসংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে নির্মিত কারাগারে বর্তমানে ধারণক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ বন্দি রয়েছেন। এর ফলে অপরাধের পরিমাণও দ্বিগুণ হয়েছে।

কারা অধিদফতরের ডিআইজি (প্রিজন্স) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, রোহিঙ্গা বন্দিদের মাধ্যমে বাংলাদেশি বন্দিরাও মাদক ও বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন। এই পরিস্থিতিতে কক্সবাজারের উখিয়া কিংবা টেকনাফে রোহিঙ্গাদের জন্য আলাদা কারাগার নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

তবে নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েও রোহিঙ্গা বন্দিদের জন্য আলাদা কারাগার স্থাপনের প্রস্তাবে দ্বিমত রয়েছে পুলিশের। চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি নিজামুল হক বলেন, “কোনো নির্দিষ্ট জাতি, বর্ণ বা শ্রেণির মানুষকে আলাদা করে কারাগারে রাখার ব্যবস্থা করা হলে তা কিছুটা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে।”

বাংলাদেশে মানবিক আশ্রয় পাওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য আলাদা কারাগার ব্যবস্থাকে মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন আইনজীবীরাও। তাদের মতে, আলাদা কারাগার নির্মাণের পরিবর্তে বন্দিদের ওপর নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।

বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান বলেন, “রোহিঙ্গাদের জন্য আলাদা কারাগার করা হলে তাদের ক্ষেত্রে আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করা যাবে কি না, সে প্রশ্ন রয়েছে। তারা অপরাধী হলে দেশি-বিদেশি পরিচয় যা-ই হোক, অপরাধী হিসেবেই বিবেচিত হবেন। তাই অপরাধীদের জন্য আলাদা কারাগার তৈরির প্রয়োজনীয়তা আমার বোধগম্য নয়।”

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট তারিক আহমেদ বলেন, “ঠিকানাহীন কোনো ব্যক্তি অন্য কারও সঙ্গে মিশে তাকে নিজের পথে আসার জন্য প্ররোচিত করতে পারেন। তাই দেশের অখণ্ডতা রক্ষার স্বার্থে তাদের আলাদা রাখা উচিত।”

চট্টগ্রাম বিভাগে একটি কেন্দ্রীয় ও ১০টি জেলা কারাগার রয়েছে। এসব কারাগারে বর্তমানে ২০ হাজারের বেশি বন্দি রয়েছেন। অথচ কারাগারগুলোর মোট বন্দি ধারণক্ষমতা মাত্র ৭ হাজার ৭০০ জন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইয়েমেনে যাত্রীবাহী বিমানের দিকে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:২৯ এম


ইয়েমেনে যাত্রীবাহী বিমানের দিকে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে, ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরীতে, কায়রোগামী একটি যাত্রীবাহী বিমানের দিকে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে বিদ্রোহী হুতিরা।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) ভোরে, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের তথ্যমন্ত্রী মোয়াম্মার আল-ইরিয়ানি এই তথ্য প্রদান করেন।

তিনি জানান, ৬১২ নম্বর ফ্লাইটটি কায়রোর উদ্দেশ্যে উড্ডয়নের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় হুতি বিদ্রোহীরা বিমানবন্দরের দিকে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।

আল-ইরিয়ানি বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি উড়োজাহাজ থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে এবং রানওয়ের মাঝামাঝি অংশ থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে আঘাত হানে। এই ঘটনার ফলে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

তিনি এ হামলাকে ‘শুধু একটি বেসামরিক বিমানবন্দরে হামলা নয়, বরং যাত্রী ও বিমানকর্মীদের জীবন, আকাশপথে চলাচলের নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি এবং আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

এদিকে, হুতি ও সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মধ্যে লড়াই অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) তাইজ শহরের দক্ষিণে আল-মিসরাখ জেলার ধি আল-বারিহ ও জাবা এলাকায় হুতি অবস্থানে দুটি বিমান হামলা চালানোর খবর পাওয়া গেছে, যা তাইজ সামরিক কমান্ডের এক ইয়েমেনি সামরিক সূত্র জানিয়েছে।

অন্যদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের দিকে ছোড়া একটি ড্রোন জোট বাহিনী প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে।

এ ছাড়া, গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী এডেনে দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ আল-মাশিক লক্ষ্য করে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং আরও ১৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইয়েমেন সরকার। তবে হতাহতদের পরিচয় জানানো হয়নি।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকার যেসব এলাকায় ১৭ অক্টোবর মার্কেট বন্ধ থাকবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৩০ এম


ঢাকার যেসব এলাকায় ১৭ অক্টোবর মার্কেট বন্ধ থাকবে

ঢাকাতে প্রতিদিন কেনাকাটার জন্য কোথাও না কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। তবে, যেকোনো মার্কেটে যাওয়ার পূর্বে ওই এলাকার সাপ্তাহিক বন্ধের দিন সম্পর্কে জানা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায়, বিড়ম্বনায় পড়তে হতে পারে আপনাকে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) তারিখে দেখে নিন কোন কোন মার্কেট, শপিংমল এবং দোকানপাট বন্ধ থাকবে।

বন্ধ থাকবে যেসব মার্কেট

নয়াবাজার, ইসলামপুর কাপড়ের দোকান, ফরাশগঞ্জ টিম্বার মার্কেট, শ্যামবাজার পাইকারি দোকান, আজিমপুর সুপার মার্কেট, কাপ্তান বাজার, রাজধানী সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ সিটি করপোরেশন মার্কেট, ছোট কাটরা, বড় কাটরা হোলসেল মার্কেট, গুলিস্তান হকার্স মার্কেট, সামাদ সুপার মার্কেট, রহমানিয়া সুপার মার্কেট, ইদ্রিস সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ বাজার, ধূপখোলা মাঠবাজার, চকবাজার, ফুলবাড়িয়া মার্কেট, সান্দ্রা সুপার মার্কেট, বাবুবাজার এবং শরিফ ম্যানশন।

বন্ধ থাকবে যেসব এলাকার দোকানপাট

শ্যামবাজার, বাংলাবাজার, চানখাঁরপুল, গুলিস্তানের দক্ষিণ অংশ, জুরাইন, করিমউল্লাহবাগ, পোস্তগোলা, শ্যামপুর, মীরহাজারীবাগ, ধোলাইপাড়, ধোলাইখাল, জয়কালী মন্দির, যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ, টিপু সুলতান রোড, ধূপখোলা, গেণ্ডারিয়া, নবাবপুর, সদরঘাট, তাঁতীবাজার, লক্ষ্মীবাজার, দয়াগঞ্জ, ওয়ারী, স্বামীবাগ, আহসান মঞ্জিল, লালবাগ, কোতোয়ালি, বংশাল, পাটুয়াটুলী, ফরাশগঞ্জ এবং শাঁখারী বাজার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দারিদ্র্যসীমার কাছাকাছি ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষের বসবাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৩০ এম


দারিদ্র্যসীমার কাছাকাছি ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষের বসবাস

বাংলাদেশের প্রায় ছয় কোটি ২০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার সামান্য ওপরে বসবাস করছে। অর্থনৈতিক সংকট, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো যেকোনো ধাক্কায় তাদের আবার দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও মন্থর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চাপের কারণে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জীবনযাত্রা অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। আয় ও ব্যয়ের হিসাব মেলাতে গিয়ে অনেক পরিবারকে খাবার, চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো মৌলিক খাতে ব্যয় কমাতে হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের অক্টোবর ২০২৬-এর দারিদ্র্য ও সমতা পরিস্থিতি বিষয়ক প্রতিবেদন অনুসারে, দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক শ্লথগতি, দুর্বল শ্রমবাজার এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি বাংলাদেশের পরিবারগুলোর ওপর চাপ বাড়িয়েছে। সংস্থাটির প্রাক্কলন অনুযায়ী, গত অর্থবছরে নতুন করে প্রায় ২১ লাখ মানুষ আন্তর্জাতিক দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে।

আজ শনিবার আন্তর্জাতিক দারিদ্র্য বিমোচন দিবস পালন করা হচ্ছে। এ বছরের বিশেষ প্রতিপাদ্য হলো ‘সবার জন্য নিরাপদ আবাসস্থল’। বিশেষজ্ঞদের মতে, দারিদ্র্য থেকে মানুষকে বের করে আনার পাশাপাশি তাদের অর্জিত জীবনমান ধরে রাখা এবং সংকট মোকাবেলার সক্ষমতা বাড়ানোও অত্যন্ত জরুরি।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে জাতীয় উচ্চতর দারিদ্র্যসীমা অনুযায়ী দেশে দারিদ্র্যের হার ৩৭.১ শতাংশ থেকে কমে ১৮.৭ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়ে চরম দারিদ্র্যের হার ১২.২ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৫.৬ শতাংশে। এই সময়ে প্রায় দুই কোটি ৫০ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে এসেছে। তবে ২০১৬ সালের পর দারিদ্র্য কমার গতি মন্থর হয়ে পড়েছে।

সংস্থাটির প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৩.৪ শতাংশ। একই সময়ে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৭ শতাংশ। জ্বালানি সংকট, ঋণের উচ্চ ব্যয়, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এবং বিনিয়োগ ও রপ্তানির মন্থরতা শিল্প-কারখানার কার্যক্রম ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বাধা সৃষ্টি করেছে।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জসীম উদ্দিন মন্তব্য করেন, আয় সীমিত অথচ নিত্যপণ্যের দাম বেশি হলে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে সংসারের ব্যয় মেটাতে প্রতিনিয়ত হিসাব করতে হয়। একপর্যায়ে খাবার, চিকিৎসা কিংবা শিক্ষার খরচ কমাতে বাধ্য হয় তারা। বিশেষ করে পুষ্টিকর খাবারের পরিবর্তে কম দামের শর্করাজাতীয় খাবারের ওপর নির্ভরতা বাড়লে শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ সদস্যদের স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তনও দারিদ্র্যের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন, খরা ও লবণাক্ততায় ঘরবাড়ি, ফসল ও জীবিকা হারিয়ে অনেক পরিবার নতুন করে সংকটে পড়ছে। নিরাপদ আবাসনের পাশাপাশি এসব এলাকায় সুপেয় পানি, স্যানিটেশন, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দারিদ্র্য কমাতে টেকসই কর্মসংস্থান, ন্যায্য মজুরি, কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানো এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি কার্যকর করা জরুরি। অসুস্থতা, কর্মহীনতা কিংবা দুর্যোগের সময় দ্রুত সহায়তা পৌঁছানো গেলে দারিদ্র্যসীমার কাছাকাছি থাকা বিপুল জনগোষ্ঠীর আবার দরিদ্র হয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%