০৮:৫০ এম
বেলজিয়ামের একটি নালার লাইন খননের সময় নির্মাণশ্রমিকরা ব্যাপক পরিমাণ স্বর্ণের বার এবং দুর্লভ স্বর্ণমুদ্রা উদ্ধার করতে সক্ষম হন। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৯০ লাখ ইউরো, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১২৭ কোটি টাকা।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দেশটির রাজধানী ব্রাসেলস থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে সিন্ট-জিলিস-ডেন্ডারমন্ডে এলাকায় ভূগর্ভস্থ পাইপ পরিবর্তনের কাজ চলাকালীন এই গুপ্তধনের সন্ধান পাওয়া যায়।
গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) কোবে নামের ১৮ বছর বয়সী এক চুক্তিভিত্তিক তরুণ কর্মী প্রথম এই গুপ্তধন দেখতে পান। তিনি বলেছিলেন, 'আমরা হঠাৎ সেখানে কিছু একটা পড়ে থাকতে দেখি। শুরুতে ভেবেছিলাম ১ ইউরোর সাধারণ মুদ্রা।
আরও পড়ুন: আঘাত হানল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, বাতাসের গতি পৌঁছাল ১৫০ কিলোমিটারে
কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই একটি স্বর্ণের বার চোখে পড়ে। শেষে দেখা গেল, সেখানে আমাদের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি কিছু লুকিয়ে ছিল।'
উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে ‘থিওফিলাস ভ্যান আস’ নামক একজন ডিস্টিলারি বা বিয়ার কারখানা মালিকের জন্য নির্মিত একটি দৃষ্টিনন্দন ভিলার ভূগর্ভস্থ দেয়ালের ভেতর এই গুপ্তধন লুকিয়ে রাখা ছিল। পুরোনো সেলারের দেয়ালে ইটের তৈরি প্লাস্টিকের ব্যাগে সাজানো ছিল স্বর্ণমুদ্রা, স্বর্ণের টুকরো (নাগেট) এবং মূল্যবান স্বর্ণের বার, যেগুলো একটি নির্দিষ্ট নম্বর দ্বারা চিহ্নিত ছিল।
কোবে আরও জানান, 'স্বর্ণগুলো দেখে স্পষ্ট মনে হচ্ছিল, এগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই লুকানো হয়েছিল।'
১৮৯৯ সালে এই জায়গায় বিয়ার উৎপাদন শুরু হয় এবং ১৯৭০ সালে উৎপাদন বন্ধ হয়। ঐতিহ্যবাহী ভবনের মূল ফটকে এখনও প্রতিষ্ঠাতা ‘ভিএ’ (ভ্যান আস)-এর নাম খোদাইকৃত রয়েছে। বর্তমানে এই ভবনটির সংস্কারকাজ করছে সামাজিক কল্যাণ সংস্থা 'সিএডব্লিউ ওস্ট-ভ্লাদেরেন' অফিস ও আবাসন তৈরির লক্ষ্য নিয়ে।
আরও পড়ুন: ইসরাইল নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, সরকার গঠনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অধরাই
ঘটনার পরপরই উদ্ধারকৃত স্বর্ণালঙ্কার এবং বারগুলো ব্রাসেলসের একটি নিরাপদ ভল্টে স্থানান্তরিত করে কর্তৃপক্ষ।
এর আসল মালিক কে, তা নির্ধারণের জন্য ইতোমধ্যে স্থানীয় প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে।
পূর্ব ফ্ল্যান্ডার্স প্রসিকিউটর অফিসের প্রতিনিধি হান ওলেভিয়ার জানান, উদ্ধার করা স্বর্ণ কোনো চুরি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত কারো দ্বারা রেখেছিল কি না, তদন্তকারীদের তা প্রথমে নিশ্চিত হতে হবে। এরপর মালিক পরিচয় নিয়ে জটিল দেওয়ানি আইনি লড়াইও শুরু হতে পারে বলে সতর্ক করে দেন তিনি।
বেলজিয়ামের আইন অনুযায়ী, কুড়িয়ে পাওয়া যেকোনও গুপ্তধনের প্রকৃত মালিকের সন্ধানে অন্তত পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হয়।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে, লিকুদ পার্টি এগিয়ে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন