মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:১৪ পি.এম
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পর্কে নিরপেক্ষতার বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্যজোট। ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তাদের সন্দেহ রয়েছে এবং তারা জানিয়েছে, যদি নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা না হয়, তাহলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিরুদ্ধে আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে জোটের পক্ষ থেকে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে রাজধানীতে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষনেতাদের বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক।
এ সময় তারা আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে এটি সফল হবে।
এছাড়াও, ১১ দলীয় ঐক্যজোটের নেতারা যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা দেখা দিলে তা প্রতিহত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খুলনার নিরালা আবাসিক এলাকায় জাপান টোব্যাকো কম্পানির এক কর্মীকে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। দুর্বৃত্তরা এসময় তার কাছে থাকা ব্যাগও ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে সদর থানার নিরালা আবাসিক এলাকার ১৭ নম্বর রোডে সবুজবাগের নাসিম ট্রেডার্সের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।
গুলিবিদ্ধ ব্যক্তির নাম সালমান (২৩)। তিনি নিরালা সবুজবাগ এলাকার জাহাঙ্গীরের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুটি মোটরসাইকেলে আসা চার থেকে পাঁচজন অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্ত সালমানকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে ল্যাপটপের ব্যাগ নিয়ে যায়। গুলিটি তার পেটের ডান পাশে লাগে। পরে তার সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।
খবর পেয়ে খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, গুলির ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইথিওপিয়ার ওরোমিয়া অঞ্চলে পৃথক দুটি হামলায় অন্তত ৬০ জন অর্থোডক্স খ্রিষ্টান নিহত হয়েছেন। হামলার ঘটনা ঘটে ২০ ও ২৪ অক্টোবর। ২০ জনের বেশি গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া, ২০টি বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই তথ্যগুলো জানিয়ে দিয়েছে ইথিওপিয়ান অর্থোডক্স তেওয়াহেদো চার্চের কর্মকর্তারা।
চার্চটির পবিত্র সিনড সোমবার এক বিবৃতিতে হত্যাকাণ্ডগুলোকে ‘নাগরিকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া চরম নিষ্ঠুরতা ও দুর্ভোগ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সিনড বলেছে, এসব হত্যাকাণ্ড মানুষের জীবন ও ধর্মীয় স্বাধীনতার সাংবিধানিক সুরক্ষা লঙ্ঘন করেছে। পাশাপাশি, বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
চার্চের তথ্য অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর মের্তি জেলার আঙ্গাদা কেবেলের গোরার সিলিঙ্গো এলাকায় ১৪ জনকে হত্যা করা হয়। এর চার দিন পর ২৪ অক্টোবর শিরকা জেলার তেরেতা, চোলে ও বিরবো গ্রামে আরও ৪৬ জন নিহত হন। দুটি জেলাই মধ্য ইথিওপিয়ার ওরোমিয়া অঞ্চলের আরসি জোনে অবস্থিত।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রকাশ্যে নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়েছে চার্চের পবিত্র সিনড। তারা বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা জোরদার করার এবং হামলার জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়ের নিরাপত্তায় অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া এবং নতুন করে সহিংসতা ঠেকাতে আগাম পদক্ষেপ নিতে।
ওরোমিয়া আঞ্চলিক সরকার জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ীদের খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তবে হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে কেউ স্বীকার করেনি। গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় এক কর্মকর্তা হামলার জন্য নতুন গঠিত একটি বিদ্রোহী জোটকে দায়ী করেছেন। অভিযোগ করা হয়েছে যে ওই জোটে ওরোমো লিবারেশন আর্মি (ওএলএ) রয়েছে। তবে বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ এর আগেও অস্বীকার করেছে ওএলএ।
ওরোমিয়ায় দীর্ঘদিনের নিরাপত্তাহীনতা
ইথিওপিয়ার সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক রাজ্য ওরোমিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীনতা চলছে। প্রায় চার কোটি মানুষের বসবাস এই অঞ্চলে। সেখানে বছরের পর বছর ধরে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করছে সরকারি বাহিনী।
গত জুলাইয়ে ইথিওপিয়ান হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১-২২ সাল থেকে চলতি বছরের ১ জুন পর্যন্ত পূর্ব আরসির বিভিন্ন স্থানে লক্ষ্যবস্তু করে চালানো হামলায় অন্তত ৪৩২ জন বেসামরিক নাগরিক ও স্থানীয় মিলিশিয়া বাহিনীর চার সদস্য নিহত হয়েছেন।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে চার্চের পবিত্র সিনড। নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে সোমবার বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা অর্থোডক্স চার্চ ও মঠগুলোকে মঙ্গলবার ধর্মীয় উপাসনা শেষে একই ধরনের প্রার্থনা আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে চার্চ। তারা জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে যাতে অনুসারীরা ভয় ছাড়াই বসবাস ও ধর্মীয় উপাসনা করতে পারেন।
এএম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হাইকোর্ট সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত সম্পন্ন করার জন্য টাস্কফোর্সকে আরও ছয় মাসের সময় প্রদান করেছেন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এই নির্দেশনা জারি করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে, সাগর-রুনি হত্যা মামলার সমস্ত নথি উপস্থাপন করতে টাস্কফোর্সের প্রধান এবং প্রসিকিউটর তানভীর জোহাকে ২৯ এপ্রিল আদালতে হাজির হওয়ার জন্য তলব করা হয়েছে।
এদিন হাইকোর্টে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার সাথে জড়িত বলে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম এবং প্রসিকিউটর তানভীর জোহা টাস্কফোর্সকে অবহিত করেছেন। জিয়াউল আহসানের বাসায় ৬০০ সিডি উদ্ধার করা হয়েছে, যা সাগর-রুনি হত্যার ক্লু অনুসন্ধানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, কক্সবাজারের টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি ২৯ নভেম্বরের জন্য পেছানো হয়েছে। মঙ্গলবার এই মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামালপুর সদরে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যা করার অভিযোগে স্বামী জনি মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম এই রায় ঘোষণা করেন। উল্লেখ্য, আসামি জনি মিয়া বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত জনি মিয়া (৩৫) উপজেলার দড়িমোহনপুর এলাকার ইয়াকুব আলীর ছেলে।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে সদর উপজেলার লাহিড়ীকান্দা এলাকার উম্মে কুলছুমের মেয়ে তমা খাতুনের সঙ্গে জনি মিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় কনের পরিবার পাঁচ হাজার টাকার হাঁড়িপাতিল ও কাপড়চোপড় প্রদান করে। বিয়ের কয়েক মাস পর অটোরিকশা কেনার জন্য শ্বশুরবাড়ির কাছে আড়াই লাখ টাকা দাবি করেন জনি। দরিদ্র পরিবারটি ওই টাকা দিতে না পারলে তমার ওপর নির্যাতন শুরু করেন জনি। এক পর্যায়ে ২০১৫ সালের ১৯ মার্চ দুপুরে তমাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এই ঘটনার পর নিহতের মা উম্মে কুলছুম জামালপুর সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়।
জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ফজলুল হক জানান, মামলায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত জনি মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ