মোঃ লোকমান হোসেন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
১০:২০ এম
খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় ক্রীড়াপ্রেমীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে শুরু হয়েছে দীঘিনালা জোন কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬।
শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং প্রথম ম্যাচকে ঘিরে দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়।
টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন দীঘিনালা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আল আমিন, পিএসসি। উদ্বোধনের পরপরই মাঠে নামে ২নং বোয়ালখালী একাদশ ও ৩নং কবাখালী একাদশ।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে বোয়ালখালী একাদশ। প্রতিপক্ষকে চাপে রেখে ধারাবাহিক আক্রমণের মাধ্যমে চারটি গোল আদায় করে তারা। নির্ধারিত সময় শেষে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বোয়ালখালী।
খেলা উপলক্ষে স্টেডিয়ামের চারপাশে ছিল উৎসবের আমেজ। বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা শত শত দর্শকের উপস্থিতিতে পুরো মাঠ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। খেলোয়াড়দের নৈপুণ্য ও দর্শকদের উচ্ছ্বাস উদ্বোধনী ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দীঘিনালা জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর শিহাবুন সাকিব রুশাদ, পিএসসি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিল পারভেজ, বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আল আমিন, পিএসসি বলেন, খেলাধুলা যুবসমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করে এবং সামাজিক বন্ধনকে শক্তিশালী করে। তরুণদের সুস্থ বিনোদন ও প্রতিভা বিকাশের সুযোগ করে দিতেই এ আয়োজন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিল পারভেজ বলেন, ক্রীড়া চর্চা তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তোলে। দীঘিনালা জোনের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, টুর্নামেন্টের মাধ্যমে উপজেলার নতুন প্রজন্ম খেলাধুলার প্রতি আরও আগ্রহী হবে এবং ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের যোগ্যতা তুলে ধরার সুযোগ পাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুর জেলার নবগঠিত ডাসার উপজেলার উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মাদ আনিসুর রহমান মিয়া ঢাকা বিভাগের শ্রেষ্ঠ উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
তিনি ডাসার উপজেলার গোপালপুর, কাজীবাকাই ও বালিগ্রাম ইউনিয়নের ২৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিয়ে গঠিত মাইজপাড়া ক্লাস্টারকে একটি আদর্শ ও মডেল ক্লাস্টারে রূপান্তর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। আনিসুর রহমানের তত্ত্বাবধানে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, রুটিন অনুযায়ী পাঠদান, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, শতভাগ শিক্ষার্থী উপস্থিতি ও স্কুল ড্রেস ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, শিক্ষার্থীদের পঠন, লিখন ও গণিতের মৌলিক দক্ষতা অর্জনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সততা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে বিদ্যালয়গুলোতে “সততা স্টোর” এবং “মানবতার দেয়াল” স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিদিনের সমাবেশে নৈতিক শিক্ষার অংশ হিসেবে নীতিবাক্য পাঠ, দেয়ালিকা প্রকাশের মাধ্যমে সৃজনশীলতা বিকাশ, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন ফুলের গাছ রোপণ করে দৃষ্টিনন্দন ও সবুজ পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে।
একই সঙ্গে, ডিজিটাল শ্রেণি কার্যক্রম, মা-অভিভাবক সমাবেশ, মিড-ডে মিল কার্যক্রমের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন এবং সরকারের শিক্ষা-সংক্রান্ত নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণে তিনি বিশেষ অবদান রাখেন।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের উপ-পরিচালক আবদুল আজিজ স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে গত ৪ জুন ২০২৬ তারিখে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার সন্তান মোহাম্মাদ আনিসুর রহমান মিয়ার পিতা মো. আতিকুর রহমান মিয়া একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাঁর কর্মদক্ষতা ও শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নির্বাচিত হয়ে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ অর্জন করেছেন।
ডাসার উপজেলার শিক্ষক সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আনিসুর রহমানকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
মোহাম্মাদ আনিসুর রহমান মিয়া এ বিষয়ে বলেন, "আমি সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। শিক্ষক সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা ছাড়া এ অর্জন সম্ভব হতো না। এই সম্মান শুধু আমার নয়, পুরো শিক্ষক সমাজ এবং ডাসার উপজেলার। আমি সকলের ভালোবাসা ও দোয়া কামনা করছি।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম চীন সফরের দিকে নজর দিচ্ছে শুধুমাত্র বাংলাদেশ নয়, বরং অন্যান্য দেশও। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তিত ভূরাজনীতির প্রেক্ষাপটে এ সফরটি শুধুমাত্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য নয়, বরং ঢাকার ভবিষ্যৎ কৌশলগত অবস্থানের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়াও, সফরের সময় প্রাধান্য পাবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং চীনা বিনিয়োগের বিষয়গুলো।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে ২৩ জুন মালয়েশিয়া থেকে চারদিনের সফরে বেইজিং পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শক্তিশালী প্রতিবেশী দেশটিতে প্রধানমন্ত্রীর হিসেবে এটাই তার প্রথম সফর। নানা দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পাশাপাশি একান্ত বৈঠকও করবেন শি জিনপিংয়ের সঙ্গে। এ সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন দক্ষিণ এশিয়ায় নতুনভাবে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা বেড়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বহুমুখী কূটনৈতিক অংশীদারিত্বের নতুন পথ খুঁজছে।
এ মধ্যে, গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনের জন্য একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকার প্রকল্প একনেকের মাধ্যমে পাস করা হয়েছে। ফলে, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের মধ্য দিয়ে প্রশ্ন উঠছে—ঢাকা আসলে কী চাইছে? আর বেইজিং কী বার্তা দিতে চাইছে?
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক গত কয়েক বছরে অর্থনীতি, অবকাঠামো এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মাধ্যমে নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের সফরে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীনের অর্থায়ন ও কারিগরি সহযোগিতা নিয়ে অগ্রগতির প্রত্যাশা করছে দু'দেশ।
সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সফিউল্লাহ বলেন, সফরের মাধ্যমে আশা করা যাচ্ছে তিস্তা প্রকল্পের বিষয়টি সমাধান হবে। এ সম্পর্কে একটি চুক্তি হতে পারে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, চীনের সঙ্গে একটি বড় সম্পর্ক গড়ার দিকে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় গবেষণাও করা হয়েছে। তবে চীন সম্পর্ক গড়ার জন্য প্রস্তুত হলো।
দক্ষিণ এশিয়ায় চীন-ভারত প্রতিযোগিতা, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সক্রিয়তা এবং আঞ্চলিক শক্তির নতুন সমীকরণ নিয়ে বিশ্লেষকদের মতে, এ সফরের প্রেক্ষিতে নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং ভূরাজনৈতিক গুরুত্বের বিষয়েও নজর থাকবে অন্য দেশেরও।
মোহাম্মদ সফিউল্লাহ আরও বলেন, সম্পর্ক গড়ার প্রচেষ্টা থাকতে হবে, যাতে আমাদের পররাষ্ট্র নীতি এবং প্রতিরক্ষা নীতির মাধ্যমে আমাদের স্বার্থ রক্ষা হয়।
এ বিষয়ে অধ্যাপক ইমতিয়াজ বলেন, আমাদের অর্থনৈতিক যে জটিল কাঠামো গঠন হয়েছে, এটি সবার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য একটি নির্দেশক হিসেবে কাজ করছে। যদি কোন দেশের সঙ্গে চুক্তি হয়, তবে অন্য দেশের সঙ্গেও একই বিষয়ে স্পষ্টভাবে চুক্তি করতে হবে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, সফরের প্রকৃত সাফল্য নির্ধারণ করা হবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক এবং কৌশলগত স্বার্থ কতটা অর্জিত হয়েছে, তার ওপর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হাইতির বিপক্ষে স্বস্তির জয়ের পর সুসংবাদ দিয়েছেন ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি। অবশেষে ব্রাজিলীয় সমর্থকদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে। চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরার পথে রয়েছেন নেইমার জুনিয়র। হাইতির বিপক্ষে ম্যাচ শেষে সুখবরটি আনচেলত্তি নিজেই জানিয়েছেন।
ক্যানারিনহাদের কোচ আনচেলত্তি উল্লেখ করেছেন, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি খেলতে পারবেন নেইমার। কাফের চোটের কারণে প্রথম দুই ম্যাচে মাঠের বাইরে ছিলেন জাতীয় দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার। তবে আনচেলত্তি জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহের শুরুতে তিনি দলের সাথে অনুশীলনে ফিরবেন এবং গ্রুপ 'সি'-এর শেষ ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচে তিনি বেঞ্চে থাকলেও মাঠে নামেননি নেইমার। এরপর হাইতির বিপক্ষে ম্যাচের আগের দিন ক্যানারিনহাদের কোচ জানান, গ্রেড-টু কাফ স্ট্রেইন থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় তিনি নিউ জার্সিতেই থাকবেন। এই চোটের কারণে তাকে দুই থেকে তিন সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে।
তবে হাইতির বিপক্ষে ব্রাজিলের ৩-০ গোলের জয়ের পরে আনচেলত্তি জানিয়েছেন, স্কটল্যান্ড ম্যাচের জন্য নেইমার পুরোপুরি প্রস্তুত থাকবেন।
আনচেলত্তি বলেন, 'নেইমার আগামীকাল একা অনুশীলন করবে এবং সোমবার (২২ জুন) দলের বাকি খেলোয়াড়দের সঙ্গে অনুশীলনে যোগ দেবে। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে সে খেলতে পারবে।'
নেইমারের প্রত্যাবর্তনটি ব্রাজিলের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ঘটতে যাচ্ছে। কারণ দলের তারকা উইঙ্গার রাফিনিয়া হাইতির বিপক্ষে ম্যাচের প্রথমার্ধে চোট পেয়েছেন। সম্ভবত হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে বার্সেলোনার এই উইঙ্গার মাঠের বাইরে ছিটকে যেতে পারেন। আনচেলত্তি জানিয়ে দিয়েছেন, চোটটির গুরুত্ব এখনই বলা সম্ভব নয় এবং তার অবস্থার সম্পর্কে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। এর আগে ২০২৫-২৬ মৌসুমের শেষের দিকে রাফিনিয়া একই ধরনের হ্যামস্ট্রিং সমস্যা নিয়ে ভুগেছিলেন।
সামগ্রিকভাবে, এটা ব্রাজিল শিবিরে একটি ইতিবাচক খবর। গ্রুপ ‘সি’-এর প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করার পর নকআউট পর্বে ওঠার জন্য জয় প্রয়োজন ছিল সেলেসাওদের। সেই চ্যালেঞ্জে তারা দারুণ সাড়া দিয়ে হাইতির বিপক্ষে প্রথমার্ধেই তিন গোল করেন এবং শেষ পর্যন্ত সহজ জয় তুলে নেয়। মাতেউস কুনিয়া বিশ্বকাপে প্রথমবার শুরুর একাদশে খেলতে নেমেই জোড়া গোল করেছেন। অন্য গোলটি করেছেন ভিনিসিউস জুনিয়র।
এখন নেইমারের প্রত্যাবর্তন দলের জন্য বড় অনুপ্রেরণা বলে মনে করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শেষ পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসে সমঝোতার পথে হাঁটতে বাধ্য হয়েছেন। শুরুতে তিনি বলেছিলেন, "ইরানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া কোনো চুক্তি নয়"। কিন্তু কয়েক মাসের সংঘাতের পর তিনি রীতিমত চাপে পড়ে আলোচনার টেবিলে বসেছেন। কিন্তু, প্রশ্ন হচ্ছে কেন? কোন কোন আশঙ্কা তাঁকে এই চুক্তিতে যেতে বাধ্য করেছে?
যে দাপট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালিয়েছিল, শেষ পর্যন্ত সেই দাপট কমিয়ে ট্রাম্প চুক্তিতে আসতে বাধ্য হয়েছেন। যুদ্ধ শেষের পথে এসে এখন দেখা যাচ্ছে, যুদ্ধ বন্ধের মূল পথ হতে চলেছে আত্মসমর্পণের পরিবর্তে সমঝোতা।
ডনাল্ড ট্রাম্প সবচেয়ে বড় চাপে ছিলেন অর্থনৈতিক ঝুঁকির কারণে। হরমুজ প্রণালী ঘিরে ইরান তেল সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি করে। ফলে, বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি ছিল বড় সতর্ক সংকেত। কারণ, তেলের দাম বাড়লে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে বিশ্ব অর্থনীতি ও মার্কিন অভ্যন্তরীণ বাজারে।
দ্বিতীয় চাপটি আসে সামরিক খরচ এবং দীর্ঘ যুদ্ধের ঝুঁকি থেকে। স্থানীয় সংঘাত যত বাড়ছিল, ততই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি পেতে থাকে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের এ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি ডলার খরচ হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ যদি দীর্ঘায়িত হতো তাহলে তা আফগানিস্তান বা ইরাক যুদ্ধের মতো ব্যয়বহুল সংঘাতে পরিণত হতে পারতো, যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।
তৃতীয় চাপ আসে আন্তর্জাতিক মিত্রদের অবস্থান থেকে। ইউরোপীয় মিত্ররা দ্রুত উত্তেজনা কমানোর জন্য আহ্বান জানাচ্ছিলেন, যাতে জ্বালানি ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে কোনো ধাক্কা না লাগে। এই কূটনৈতিক চাপও যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনা করতে উৎসাহিত করেছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আশঙ্কা ছিল ইরানের পাল্টা কৌশল। যুদ্ধ চলতে থাকলে তেহরান হরমুজ প্রণালী ছাড়াও পুরো অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়িয়ে দিতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছিল। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ইরান আক্রমণ করতে পারে। এর ফলে, যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি, জ্বালানি অবকাঠামো এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে যেতে পারে।
সব মিলিয়ে, ট্রাম্প বুঝতে পেরেছেন যে, যুদ্ধ যদি দীর্ঘ হয় তাহলে ক্ষতির অঙ্ক লাভের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। তাই অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার, সামরিক ব্যয় এবং রাজনৈতিক চাপের মুখে যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্প চুক্তির সই করেছেন বলেই বিশ্লেষকদের মত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ