ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বৃষ্টি ও নদীর পানি বাড়ায় নেপালে টানেলে উদ্ধারকাজ ব্যাহত


বৃষ্টি ও নদীর পানি বাড়ায় নেপালে টানেলে উদ্ধারকাজ ব্যাহত

নেপালের উদ্ধারকারীরা রোববার বানের আবর্জনায় তলিয়ে যাওয়া টানেলে আটকে পড়া জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্মীদের কাছে পৌঁছানোর প্রচেষ্টায় চরম প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছেন। ভারী বর্ষণ এবং নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে উদ্ধারকাজে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি কাঠমান্ডু থেকে এ তথ্য জানায়।

নেপাল সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একাধিক টানেলে শতাধিক শ্রমিক জীবিত অবস্থায় আটকা পড়ে থাকতে পারেন। ত্রিশূলী-৩এ ও ৩বি প্রকল্প এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটির তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকালে কাদা ও ধ্বংসাবশেষের স্রোত নেমে আসার পর থেকে ৯৩৩ জন জলবিদ্যুৎ শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন।

ত্রিশূলী-৩এ প্রকল্পের জন্য সেনাবাহিনীর উদ্ধারকারী দল শনিবার সন্ধ্যায় একটি টানেলের ওপরের অংশে পৌঁছায়, যা কাদায় তলিয়ে গিয়েছিল। এরপর তারা সেখানে বাতাস প্রবেশ করানো এবং ক্যামেরা পাঠানোর কাজ শুরু করে। কিন্তু রাতভর বৃষ্টি এবং নদীর পানি বেড়ে যাওয়ার কারণে উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

রোববার সকালে নেপাল সেনাবাহিনী জানায়, উদ্ধার তৎপরতার পঞ্চম দিনে স্থানীয় সময় রাত ২টার পর ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে খনন করা স্থানও পানিতে ভরে যায়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যালয়ের শেয়ার করা ছবিতে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মীরা বন্যায় স্থানচ্যুত বিশাল পাথর পেরিয়ে এবং কাদার মধ্যে হেঁটে যাচ্ছেন।

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম

নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, উদ্ধারকারী দলগুলো ‘অবিরাম বৃষ্টি ও কঠিন পরিস্থিতির’ মুখোমুখি হচ্ছে। তবুও তারা রাতের বেলা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। টানেলে আটকে থাকা ব্যক্তিদের সন্ধান ও উদ্ধারে তারা ‘নিরলস প্রচেষ্টা’ চালিয়ে যাচ্ছে।

কার্যালয়টি আরও জানায়, উদ্ধারকারীরা উন্নত প্রযুক্তির অনুসন্ধান ক্যামেরা ও বিশেষায়িত মনিটর ব্যবহার করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, চীন-নেপাল সীমান্তে এই দুর্যোগের কারণ একটি হিমবাহ ধসে পড়া।

উদ্ধার তৎপরতায় বিশেষায়িত ভারতীয় ও চীনা টানেল উদ্ধারকারী দলও যুক্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪

বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্টসহ অন্যান্য শৃঙ্গে পর্বতারোহীদের উদ্ধারে কাজ করা নেপালের বিশেষায়িত পর্বত উদ্ধারকারী দলও ক্ষতিগ্রস্ত আরেকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে নিখোঁজদের সন্ধানে যোগ দিচ্ছে।

নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি জানিয়েছে, ১১টি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ও একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। এসব কেন্দ্রের সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা ৪৩১ দশমিক ১ মেগাওয়াট।

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এটি নেপালের স্থাপিত মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ১০ শতাংশ।

এছাড়া নির্মাণাধীন আরও ১৫টি বিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব প্রকল্পের সম্মিলিত পরিকল্পিত উৎপাদন সক্ষমতা ৪৭০ মেগাওয়াট।

আরও পড়ুন: কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে পেলে কতদিন ক্ষমতায় থাকবেন নেতানিয়াহু?

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সংক্রমণের ভ-য়ে বেওয়ারিশ লাশ দাফন করে দিচ্ছে নেপাল সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:০৮ পি.এম


সংক্রমণের ভ-য়ে বেওয়ারিশ লাশ দাফন করে দিচ্ছে নেপাল সরকার

নেপালের কর্তৃপক্ষ পরিচয়হীন ও দাবিদারহীন মরদেহগুলো দাফন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা আকস্মিক বন্যায় উদ্ধার করা হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি তাদের প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মরদেহগুলো দ্রুত পচে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করেছে এবং এতে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

এনডিটিভি জানাচ্ছে, চিতওয়ানে হাসপাতালগুলোতে মরদেহ সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।

এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লাশের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় একটি বাড়িকে অস্থায়ীভাবে লাশ রাখার স্থান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। কিন্তু সেখানে জায়গা শেষ হয়ে যাওয়ায় দাফন ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প ছিল না। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, অস্থায়ীভাবে রাখা লাশগুলো পচে যাওয়ার ফলে দুর্গন্ধ ও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে।

তবে স্বজনদের ভবিষ্যতে লাশ শনাক্ত করার সুযোগ রাখার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দাফনের পূর্বে প্রতিটি লাশের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করছে কর্তৃপক্ষ। প্রতিটি লাশকে একটি স্বতন্ত্র শনাক্তকরণ নম্বর দেওয়া হচ্ছে এবং কোথায় দাফন করা হয়েছে, সেই তথ্যও সংরক্ষণ করা হবে। পরে ডিএনএ পরীক্ষায় পরিচয় নিশ্চিত হলে স্বজনরা লাশটি কবর থেকে তুলে নিতে পারবেন।

শনিবার বিকেল পর্যন্ত ১০০টির বেশি লাশের ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং সেগুলো দাফনের জন্য প্রস্তুত ছিল। লাশগুলো প্রায় ১.৫ মিটার গভীর কবরে দাফন করা হচ্ছে, যাতে প্রয়োজন হলে পরে সহজে তুলে আনা যায়। প্রতিটি কবরের মধ্যে প্রায় ৪০ সেন্টিমিটার দূরত্ব রাখা হচ্ছে, যাতে ডিএনএ মিললে নির্দিষ্ট মরদেহটি সহজে শনাক্ত করে উত্তোলন করা যায়।

এছাড়া প্রতিটি মরদেহ নম্বরযুক্ত ব্যাগে রাখা হচ্ছে। কবরের পাশে একটি কংক্রিটের প্ল্যাটফর্ম ও পরিচয়ফলক বসানো হচ্ছে, যেখানে মরদেহের শনাক্তকরণ নম্বর থাকবে।

এছাড়া পুরো দাফন প্রক্রিয়া ছবি ও ভিডিওতে নথিভুক্ত করার পাশাপাশি কবরের অবস্থান জিও-ট্যাগ করে রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে।

ডিএনএ মিললেই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর:

নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজছেন এমন ব্যক্তিদের দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও নির্ধারিত কেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের ডিএনএ নমুনা দিতে হবে। পরে স্বাস্থ্য বিভাগ স্বজনদের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে মরদেহের ডিএনএ মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করবে।

পরিচয় নিশ্চিত হলে সংশ্লিষ্ট লাশের নম্বর দেখে পুলিশ তার কবরের সঠিক অবস্থান শনাক্ত করবে। এরপর লাশটি কবর থেকে তুলে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

পরিচয়হীন ও দাবিদারহীন লাশগুলোর তথ্য পুলিশ একটি ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করেছে।

গত বুধবার (২৬ আগস্ট) নেপাল ও চীনের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ভয়াবহ হিমবাহ ধসের ঘটনা ঘটে। এতে পানি, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের ভয়াবহ স্রোতে নেপালের বিভিন্ন গ্রাম ও শহর ভেসে যায়। রবিবার সংবাদমাধ্যম কাঠমুন্ডু পোস্ট ও নেপাল নিউজ জানিয়েছে, নেপালে আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩৪ জনে পৌঁছেছে এবং উদ্ধার করা হয়েছে ৭৩৪টি মরদেহ।

এছাড়া ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ৩৭টি ট্রাক ও ৭টি হেলিকপ্টারের মাধ্যমে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিশেষায়িত সার্জিক্যাল মেডিকেল টিম মোতায়েন করা হয়েছে এবং স্থানীয় সরকারগুলোর মাধ্যমে নগদ সহায়তাও বিতরণ শুরু হয়েছে।

এদিকে এখনো নিখোঁজ আছেন প্রায় তিন হাজার মানুষ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন তাদের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

নিখোঁজদের তালিকায় সরকারি ও নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু সদস্যও রয়েছেন বলেও জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম।

সূত্র:

এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উত্তর কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্ত করলেন কিম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:০৯ পি.এম


উত্তর কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্ত করলেন কিম

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন দেশের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছেন। এর মধ্যে প্রতিরক্ষামন্ত্রী নো কোয়াং চোলকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

 

রবিবার (৩০ আগস্ট) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

কেসিএনএ জানায়, কাঠামোগত পুনর্গঠন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শনিবার (২৯ আগস্ট) অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে কিম জং উন এসব সিদ্ধান্তের অনুমোদন দেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে নো কোয়াং চোলকে সরিয়ে শাসক দলের অস্ত্রশিল্প বিভাগের প্রথম উপ-পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে কোরিয়ান পিপলস আর্মির জেনারেল পলিটব্যুরোর প্রধান কিম সং গি নিয়োগ পেয়েছেন।

 

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা পাক জং চোনকে কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান এবং ক্ষমতাসীন দলের পলিটব্যুরোর সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সামরিক প্রযুক্তি ও নতুন যুদ্ধাস্ত্র ব্যবস্থা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য গবেষক ও কর্মকর্তাদের প্রশংসার পরপরই এই রদবদল ঘটে। কেসিএনএ জানায়, দেশটির অস্ত্র গবেষণাকেন্দ্র সম্প্রতি এমন কিছু অনন্য প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে, যা উত্তর কোরিয়ার যুদ্ধ করার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে। দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া শেষ হওয়ার পরপরই পিয়ংইয়ংয়ের এই পদক্ষেপ সামনে এসেছে।

 

পিয়ংইয়ং দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত এসব সামরিক মহড়াকে তাদের ওপর হামলার প্রস্তুতি বলে অভিহিত করে আসছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বছর মহড়াটি নির্ধারিত সময়ের আগে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাড়তি নজর কেড়েছে। ট্রাম্প এ ধরনের সামরিক মহড়াকে উত্তর কোরিয়ার প্রতি সরাসরি ‘উসকানিমূলক’ বলে মনে করেন। পাশাপাশি, ইরানের বিরুদ্ধে তার নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপে সমর্থন না দেওয়ায় তিনি দক্ষিণ কোরিয়ারও কঠোর সমালোচনা করেছেন।

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের প্রতি ট্রাম্প তার ইতিবাচক মনোভাব বজায় রেখেছেন।

 

কিমের সঙ্গে নিজের প্রথম মেয়াদে দুইটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেওয়ার পর, ট্রাম্প চলতি বছরেই তার সঙ্গে আরেকটি বৈঠকে বসার উদ্যোগ নিচ্ছেন বলে আলোচনা চলছে।

ট্রাম্পের এমন উদ্যোগ সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়া এখন পর্যন্ত তেমন কোনো ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। বরং দেশটি নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে, আগামী ৭ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপের কাছে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান যৌথ ‘ফ্রিডম এজ’ সামরিক মহড়া পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তুরস্ক-সোমালিয়ার যৌথ অভিযানে জিম্মি থাকা কার্গো জাহাজ মুক্ত, ১৪ জলদস্যু নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:১৩ পি.এম


তুরস্ক-সোমালিয়ার যৌথ অভিযানে জিম্মি থাকা কার্গো জাহাজ মুক্ত, ১৪ জলদস্যু নিহত

তুরস্ক ও সোমালিয়ার যৌথ বাহিনী সোমালিয়ার উপকূলে জলদস্যুদের কবল থেকে একটি কার্গো জাহাজ উদ্ধার করেছে। সোমালিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১০ দিন ধরে চলা অভিযানে ১৪ জলদস্যু নিহত হয়েছে।

শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, ক্যামেরুনের পতাকাবাহী এমভি লাতুফ জাহাজটি মুক্ত করার জন্য পরিচালিত অভিযানে জলদস্যুদের চারটি নৌযান ধ্বংস করা হয়েছে।

জাহাজটি সোমালিয়ার আধা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল পুন্টল্যান্ডের উপকূলে জলদস্যুদের কবলে পড়েছিল। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাহিনীর টানা চাপের কারণে জলদস্যুরা জাহাজটি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয় এবং পরে বাহিনী জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে।

এই অভিযানটি সোমালিয়া ও তুরস্কের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির আওতায় পরিচালিত হয়। দুই দেশের মধ্যে এই সহযোগিতার লক্ষ্য হল সোমালিয়ার উপকূলের নিরাপত্তা জোরদার করা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জলদস্যুতা দমন করা।

তবে অভিযানে জাহাজটির কতজন ক্রু ছিলেন, তারা সবাই নিরাপদ আছেন কি না এবং অভিযানে বাহিনীর কোনো সদস্য হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে সোমালিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিস্তারিত তথ্য দেয়নি।

পুন্টল্যান্ডের নুগাল অঞ্চলের গোদব জিরান জেলার জিফলে সম্প্রদায়ের স্থানীয় প্রবীণ আবদুল্লাহি ওয়ারসামে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন, জাহাজটি এবং এর ক্রুদের মুক্ত করা হয়েছে।

এমভি লাতুফ জুলাইয়ের শেষ দিকে তুরস্কের তেকিরদাগ বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। পরে ১৭ আগস্ট পুন্টল্যান্ডের নুগাল অঞ্চলের উপকূলীয় জলসীমায় এটি ছিনতাই হয়। মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি বর্তমানে তানজানিয়ার দার এস সালামের উদ্দেশে যাত্রা অব্যাহত রেখেছে।

২০০০ এর দশকে সোমালিয়ার উপকূলে জলদস্যুতা ব্যাপক আকার ধারণ করেছিল এবং ২০১১ সালে এর প্রকোপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। আন্তর্জাতিক নৌবাহিনীর মোতায়েন এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

তবে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে সোমালিয়ার উপকূলে জলদস্যুদের হামলা আবার বেড়েছে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এ বছর এখন পর্যন্ত সোমালিয়ার উপকূলে অন্তত ১৫টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা ২০১৩ সালের পর সর্বোচ্চ। এর মধ্যে অন্তত পাঁচটি কার্গো জাহাজকে জিম্মি করা হয়েছে।

সূত্র:

আল জাজিরা

, এএফপি ও এপি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাঁওতাল কমিউনিটির বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে শিক্ষার্থীদের ‘লুমিনোভা’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোহেল,বেরোবি প্রতিনিধি

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:১৪ পি.এম


সাঁওতাল কমিউনিটির বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে শিক্ষার্থীদের ‘লুমিনোভা’

সমাজের একটি বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত করে স্থানীয় সম্পদ ও নবায়নযোগ্য শক্তিকে কাজে লাগিয়ে টেকসই সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছেন বেরোবির কয়েকজন শিক্ষার্থী। রংপুরের সাঁওতাল কমিউনিটির বিদ্যুৎহীন পরিবারের জন্য বাঁশ ও সৌরশক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছে সোলার ল্যাম্প।

শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগের নাম দেওয়া হয়েছে ‘লুমিনোভা’।
‘আমরা নতুন নেটওয়ার্ক’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তরুণদের একটি দল সমাজ ও কমিউনিটির বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেয়। এর অংশ হিসেবে তারা রংপুরের সাঁওতাল কমিউনিটিতে সার্ভে পরিচালনা করেন এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। তাঁদের দৈনন্দিন জীবনের সমস্যা ও প্রয়োজনগুলো জানার চেষ্টা করেন শিক্ষার্থীরা।

সার্ভে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথোপকথনে উঠে আসে, কমিউনিটির অনেক পরিবারের এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে এসব পরিবার বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে পারছে না। ফলে সন্ধ্যার পর শিশুদের পড়াশোনা, ঘরের কাজসহ বিভিন্ন দৈনন্দিন কার্যক্রমে সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।

এই সমস্যার সহজ, সাশ্রয়ী ও টেকসই সমাধান খুঁজতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা স্থানীয় পরিবেশ ও সম্পদ পর্যবেক্ষণ করেন। সেখানে প্রচুর বাঁশের উপস্থিতি এবং সৌরশক্তির সহজলভ্যতা তাঁদের নতুন ধারণার দিকে নিয়ে যায়। স্থানীয়ভাবে পাওয়া বাঁশ ও সৌরশক্তিকে একত্র করে ল্যাম্প তৈরির পরিকল্পনা থেকেই শুরু হয় ‘লুমিনোভা’ প্রকল্প।

উদ্যোক্তাদের মতে, লুমিনোভার লক্ষ্য শুধু বিদ্যুৎবিহীন পরিবারে একটি ল্যাম্প পৌঁছে দেওয়া নয়। বরং কমিউনিটির মানুষকে সৌর প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করা এবং তাদের নিজেরাই ল্যাম্প তৈরির দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করা।
প্রাথমিক পর্যায়ে ছোট সোলার প্যানেল ব্যবহার করে ল্যাম্প তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে বড় সোলার প্যানেল ও আরও কার্যকর সৌরব্যবস্থা ব্যবহারের বিষয়ে প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আলোর পাশাপাশি কমিউনিটির মানুষের প্রযুক্তিগত দক্ষতা তৈরি হবে। ভবিষ্যতে এই দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে তাঁরা আয় ও স্বাবলম্বিতার সুযোগও তৈরি করতে পারবেন বলে মনে করছেন উদ্যোগটির সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা বলেন, “লুমিনোভা আমাদের কাছে শুধু একটি সোলার ল্যাম্প নয়। এটি একটি সমস্যা থেকে সমাধানে, অন্ধকার থেকে আলোর পথে এবং নির্ভরশীলতা থেকে স্বাবলম্বিতার দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি প্রচেষ্টা।”
তাঁদের ভাষ্য, স্থানীয় সম্পদ বাঁশ এবং পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য শক্তি সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে এমন একটি সমাধান তৈরি করাই তাঁদের লক্ষ্য, যা সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব এবং দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হবে।
তারা আরও জানান, একটি ল্যাম্প দিয়ে শুধু একটি ঘর আলোকিত করা নয়, বরং আলো, জ্ঞান ও প্রযুক্তির মাধ্যমে একটি কমিউনিটির সম্ভাবনাকে এগিয়ে নেওয়াই ‘লুমিনোভা’র মূল উদ্দেশ্য।

‘লুমিনোভা’ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীরা হলেন— মাসুম রেজা ও বিশাখা সাহা (গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা), সাইয়্যেদা তাসমিম (পরিসংখ্যান), আহানা রয় (সমাজবিজ্ঞান), সাদিয়া সুলতানা (রাষ্ট্রবিজ্ঞান), মিতানুর মুক্তা (জিডিএস), আনসারী জিহাদ (অর্থনীতি) এবং মাহির ফয়সাল (প্রাণিবিদ্যা, কারমাইকেল কলেজ)।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%