সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৩০ পি.এম
গালফ অব এডেন বা এডেন উপসাগরে দায়িত্ব পালন শেষে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) নৌবাহিনীর ৪৮তম এসকর্ড টাস্ক গ্রুপ বাংলাদেশ, মিয়ানমার এবং মালয়েশিয়া সফরের পরিকল্পনা করছে। সোমবার চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জিয়াং বিন এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য প্রকাশ করেন।
মুখপাত্র জানান, টাস্ক গ্রুপটি সম্প্রতি এডেন উপসাগরে তাদের নির্ধারিত দায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করেছে এবং বর্তমানে তারা চীনে ফেরার পথে রয়েছে। জিয়াং বিন বলেন, আসন্ন সফরের সময় পেশাগত বিনিময় কর্মসূচি এবং জাহাজ পরিদর্শনের (শিপ ওপেন ডে) আয়োজন করা হবে। এর মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব এবং কৌশলগত পারস্পরিক বিশ্বাসকে আরও শক্তিশালী করা হবে, পাশাপাশি একটি অংশীদারিত্বমূলক যৌথ ভবিষ্যৎ গঠনে অবদান রাখা হবে।
গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার 'তাংশান', গাইডেড-মিসাইল ফ্রিগেট 'দাচিং' এবং পূর্ণাঙ্গ সরবরাহকারী জাহাজ 'তাইহু'-র সমন্বয়ে গঠিত এই টাস্ক গ্রুপটি ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর এডেন উপসাগর ও সোমালিয়ার উপকূলীয় এলাকায় এসকর্ড মিশনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল।
এটি উল্লেখযোগ্য যে, পিএলএ নৌবাহিনী ২০০৮ সালের ডিসেম্বর থেকে এডেন উপসাগর ও সোমালিয়ার উপকূলীয় জলসীমায় নিরাপত্তার উদ্দেশ্যে এ ধরনের এসকর্ড মিশন পরিচালনা করে আসছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সাথে বৈঠক করেছেন সউদী আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। এই বৈঠকটি আঞ্চলিক সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত হয়।
জেদ্দায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে, কুপার এবং তার প্রতিনিধিদলের সাথে আলোচনা চলাকালীন উভয় পক্ষ সউদী আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করেন। পাশাপাশি, তারা মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সউদী আরবের প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. মুসাইদ বিন মোহাম্মদ আল-আইবান উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জয়পুরহাট, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : আজ জেলায় আখচাষ বৃদ্ধি, জয়পুরহাট চিনিকলকে লাভজনক করার পাশাপাশি শ্রমিক-কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্র্যাচুইটি ফান্ড নিয়ে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে।
আজ সোমবার বিকেলে জয়পুরহাট চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের উদ্যোগে চিনিকল মিলনায়তনে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মতবিনিময় সভার সভাপতিত্ব করেন জয়পুরহাট চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ খবির উদ্দিন মোল্যা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জয়পুরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে সভায় উপস্থিত ছিলেন জয়পুরহাট জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক এম এ ওহাব, জয়পুরহাট চিনিকলের মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) ইশতিয়াক হোসেন রাজীব, শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আলী আকতার, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি বাবুল করিম এবং জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মর্তুজা শিপলু।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জয়পুরহাট চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ চিনি শিল্প শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জায়েদ হোসেন।
সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, উত্তরবঙ্গের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান জয়পুরহাট চিনিকল এই অঞ্চলের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। চিনিকলের কার্যক্রমকে সচল ও লাভজনক রাখতে পর্যাপ্ত আখের জোগান নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য আখচাষিদের উৎসাহিত করা, আখের আবাদ বৃদ্ধি করা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে উৎপাদন বাড়ানো এবং চাষিদের যেকোনো সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর বক্তারা গুরুত্বারোপ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান চত্বরে অটো-ইজিবাইক, রিকশা, মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্সের অনিয়ন্ত্রিত পার্কিংয়ের ফলে রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ সড়ক ও প্রবেশপথ সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় জরুরি রোগী পরিবহন এবং চিকিৎসকদের চলাচলে নানা সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে, এমন অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
হাসপাতালে আসা রোগী রহমান, আয়শা, আরজিনা এবং তাঁদের স্বজনদের অভিযোগ, মূল চত্বরে বিভিন্ন যানবাহন দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে হাসপাতালের পরিবেশ বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে জরুরি বিভাগের সামনে যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকার কারণে রোগী আনা-নেওয়ার সময় বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মী আরমান জানান, “অনেকেই গাড়ি নিয়ে এসে চত্বরে দাঁড়িয়ে থাকেন। গাড়ি সরাতে বললে অনেক সময় বাগ্বিতণ্ডা হয়। সীমিত জনবল দিয়ে এতগুলো যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা বড়ই কঠিন।”
মাদারীপুরের একজন স্কুলশিক্ষক আ. হক অভিযোগ করেন, হাসপাতালের সীমানা ঘেঁষে অ্যাম্বুলেন্স রাখার জন্য নির্দিষ্ট স্থান থাকলেও অনেক অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালের মূল চত্বরেই অবস্থান করছে। কেউ কারও কথা শুনছেন না, ফলে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ সড়ক ও প্রবেশপথ সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় শামীম, আরবানি ও এনামুল বলেন, একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মূল চত্বর হওয়া উচিত জরুরি রোগীর দ্রুত চলাচল, চিকিৎসকদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত এবং রোগীদের শান্তিপূর্ণ চিকিৎসার পরিবেশ নিশ্চিত করার স্থান। সেখানে অটো-ইজিবাইক, অ্যাম্বুলেন্সের জট, হর্ন ও হাঁকডাক নিয়মিত দৃশ্য হয়ে উঠছে। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি রোগীদের ভোগান্তিও বাড়ছে চরমভাবে। কিন্তু এ বিষয়ে দেখার কেউ যেন নেই।
এ বিষয়ে জানতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. হুমায়ুন কবিরের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি। সাংবাদিকদের ফোন ধরা নিয়ে তিনি বিরক্তি প্রকাশ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে প্রতিবেদকের ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে বিষয়টি জানানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। অন্যদিকে হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মানস কৃষ্ণ কুন্ডুর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, “হাসপাতালের বিষয়টি নিয়ে আমাদের পরিচালক স্যারের সঙ্গে কথা বললেই ভালো হবে।” অথচ তিনিও সব কিছু জানেন কিন্তু কোনো দায়িত্ব নিতে চান না।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের মাসিক আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে আমরা বরাবরের মতোই বিষয়গুলো তুলে ধরি। মাঝেমধ্যে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। যেহেতু আবার নতুন করে হাসপাতাল চত্বরে ইজিবাইক এবং মাইক্রোবাস পার্কিং শুরু হয়েছে, সেক্ষেত্রে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
রোগী ও স্বজনেরা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে হাসপাতাল চত্বরকে অনিয়ন্ত্রিত যানবাহনের দখলমুক্ত করে রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাঁরা নিয়মিত নজরদারি, নির্দিষ্ট পার্কিং ব্যবস্থাপনা এবং জরুরি বিভাগের সামনে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর মতিঝিলের দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে বিক্ষোভ করেছেন ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এই বিক্ষোভের অংশ হিসেবে তারা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করেন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার মইজ্জারটেক আবাসিক এলাকা থেকে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এরপর তারা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করতে শুরু করেন।
অবরোধের ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, যা দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি করে। এর ফলে সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের জন্য চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়।
বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের নেতৃত্ব দেন ইসলামী ব্যাংকের অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট তৌহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, "ঢাকায় শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে হামলায় প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পূর্ণবহাল করতে হবে।"
তিনি আরও জানান, চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ এবং চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতেই তারা এ কর্মসূচি পালন করছেন। এদিকে, ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে যান চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক এনাম। তিনি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দাবিগুলো সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলে তুলে ধরার আশ্বাস দেন।
পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) আমিনুল ইসলাম। তিনি আন্দোলনরত চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দাবিগুলো শোনেন।
এডিসি আমিনুল ইসলাম বলেন, "আমরা সবাই শিক্ষিত চাকরিজীবী। আপনারা আন্দোলন করবেন, এতে আমাদের সমস্যা নেই। তবে আন্দোলনের ধরন ভিন্ন হতে হবে। আমাদের কাজ হচ্ছে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করা। আপনারা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করলে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। তবে সড়ক দখল করে আন্দোলন করা যাবে না।"
তিনি আরও জানান, "আপনাদের দাবিগুলো আমরা শুনেছি। এসব বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সরকারের কাছে আপনাদের দাবিগুলো জানিয়ে দেওয়া হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ