ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

যুদ্ধক্ষেত্রে এআইয়ের দাপট, সামরিক প্রযুক্তির দৌড়ে শীর্ষে যেসব কোম্পানি


যুদ্ধক্ষেত্রে এআইয়ের দাপট, সামরিক প্রযুক্তির দৌড়ে শীর্ষে যেসব কোম্পানি

একসময় যুদ্ধ মানেই ট্যাংক, যুদ্ধবিমান, কামান, ক্ষেপণাস্ত্র এবং ভারী অস্ত্রের লড়াই। এসব অস্ত্রটি তৈরির কাজ করত খুব পরিচিত কিছু প্রতিরক্ষা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এবং যুদ্ধক্ষেত্রে সরাসরি লড়াই করতেন সৈন্যরা।

কিন্তু সেই দৃশ্য দ্রুত পরিবর্তিত হয়েছে। এখন যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে ক্রমেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কেন্দ্রীয় ভূমিকা নিচ্ছে, আর যুদ্ধ পরিচালনাকারী অনেক সৈন্য যুদ্ধের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন কম্পিউটার স্ক্রিনের সামনে বসে।

ক্লাউড কম্পিউটিং, স্বয়ংক্রিয় ড্রোন, নজরদারি ব্যবস্থা, যুদ্ধক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ সহ সব ক্ষেত্রেই এআইভিত্তিক প্রযুক্তির ব্যবহার বিস্তৃত হয়েছে। এর ফলে ঐতিহ্যবাহী সামরিক-শিল্প জোট এখন নতুন ‘সামরিক-প্রযুক্তি জোট’ আকার ধারণ করেছে।

আরও পড়ুন: নাগরিক সমাজের আহ্বান, সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনে পরামর্শ ও সংস্কার প্রয়োজন

বিশ্বব্যাপী প্রতিরক্ষা বাজেট বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ খাতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হচ্ছে, যার বৃহত্তর অংশ চলছে কিছুকাল প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাতে।

এআই-ভিত্তিক সামরিক ব্যবস্থার দ্রুত বিস্তার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ন্যাটোসহ পশ্চিমা সামরিক জোটগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে এআই প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার ও বিনিয়োগ করছেন।

২০২৩ সালের ১০ জুলাই যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ওমনিয়া ট্রেনিং কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে ১৫ বছরের জন্য ২০০ কোটি পাউন্ড (প্রায় ২৭০ কোটি মার্কিন ডলার) মূল্যের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। রে-থিয়ন ইউকের নেতৃত্বাধীন এই প্রকল্পের আওতায় প্রতি বছর প্রায় ৬০ হাজার ব্রিটিশ সেনাকে এআই ব্যবহারের মাধ্যমে যুদ্ধ পরিচালনার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাতে বাহিনীকে আরও ‘যুদ্ধ-প্রস্তুত’ করা হয়।

এটি ছাড়াও, ন্যাটো তাদের ‘উন্নত বিমান কমান্ড এবং নিয়ন্ত্রণ ডেটা প্ল্যাটফর্ম’ পরিচালনার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিল ইন্ডাস্ট্রিজ, প্যালান্টির এবং ফ্রান্সের যৌথ সামরিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আথিয়া এসএএস-কে প্রদান করেছে। অ্যান্ডুরিলের ‘ল্যাটিস এআই’ সফটওয়্যার বিভিন্ন সেন্সর, ড্রোন ও নজরদারি ব্যবস্থার তথ্য একত্রিত করে যুদ্ধক্ষেত্রের তাৎক্ষণিক এবং সমন্বিত চিত্র তৈরি করার সক্ষমতা রাখে।

আরও পড়ুন: নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে দুই রাষ্ট্রদূতের বৈঠকে শান্তিরক্ষা ও মানবাধিকার আলোচনা

বিশ্লেষকদের মতামত মতে, বর্তমান এআই-নির্ভর যুদ্ধব্যবস্থার ভিত্তি গঠন হয়েছিল ২০০০ ও ২০১০ সালের দশকে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন কর্মসূচির মাধ্যমে। তখন থেকেই দূরবর্তী নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে স্ক্রিনের সামনে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো আধুনিক যুদ্ধের অন্যতম বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে।

২০১৪ সালে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর (পেন্টাগন) ‘থার্ড অফসেট স্ট্র্যাটেজি’ গ্রহণ করে, যেখানে ভবিষ্যতের যুদ্ধের কেন্দ্রীয় প্রযুক্তি হিসেবে এআইকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়।

এরপর থেকে এআই ব্যবহারের বৃদ্ধি ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। ২০২৫ সালের মধ্যে বৈশ্বিক সামরিক ব্যয় দাঁড়ায় ২ দশমিক ৮৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ।

সম্প্রতি, পেন্টাগন বিশ্বের শীর্ষ আটটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে একটি 'এআই-ফার্স্ট ফাইটিং ফোর্স'- এ রূপান্তর করা হবে। এই চুক্তির আওতায় রয়েছে স্পেসএক্স, ওপেনএআই, গুগল, এনভিডিয়া, রিফ্লেকশন, মাইক্রোসফট, ওরাকল এবং অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস। তাদের দেওয়া অনুমোদনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের গোপনীয় কম্পিউটিং নেটওয়ার্ক আইএল৬ ও আইএল৭-এ কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: ইরানে হামলার প্রস্তুতির মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটি থেকে সেনা সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট সামরিক এআই শিল্পকে চারটি প্রধান শ্রেণিতে বিভক্ত করেছে। ১. প্রতিরক্ষা ঠিকাদার: যারা বহু দশক ধরে বিভিন্ন দেশের সেনাবাহিনীর জন্য যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র, জাহাজ এবং অস্ত্র তৈরি করে আসছে। এই শ্রেণির শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে লকহিড মার্টিন, আরটিএক্স, নর্থরপ গ্রুম্যান, বিএই সিস্টেমস এবং জেনারেল ডায়নামিকস। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধের শুরুতে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। কারণ তারা প্রচলিত অস্ত্রের পাশাপাশি এআই প্রযুক্তি যুক্ত করছে। উদাহরণস্বরূপ, ‘লকহিড মার্টিন’ তাদের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানে এমন একটি এআই ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে চালাচ্ছে, যা পাইলটদের শত্রু বিমান দ্রুত সনাক্তকরণে সহায়তা করে।

অন্যদিকে, ‘এল৩হ্যারিস’ তাদের লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ ব্যবস্থা সরাসরি এআই যুক্ত করেছে। প্রতিষ্ঠানটি শিল্ড এআই-এর প্রযুক্তিও ব্যবহার করছে, যা শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত করতে সক্ষম। ২. প্রতিরক্ষা স্টার্টআপ: এই নতুন প্রজন্মের প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত সফটওয়্যারনির্ভর এবং সামরিক বাহিনী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য এআইভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রযুক্তি তৈরি করে। সবচেয়ে আলোচিত প্রতিষ্ঠান প্যালান্টিরের মাধ্যমে এআই প্রযুক্তির ব্যবহৃত হয়ে চলেছে। পেন্টাগনের প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি উপগ্রহচিত্র, ড্রোন ভিডিও এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক্ষ্যমাত্রা সনাক্ত করতে সক্ষম। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতে এই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট তথ্যানুযায়ী, সর্বশেষ সংঘাতের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ব্যূহ-নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় এক হাজার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করা হয়েছে।

প্যালান্টিরের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডুরিল। তাদের ল্যাটিস প্ল্যাটফর্ম ড্রোন, সেন্সর, নজরদারি টাওয়ার ও স্বয়ংক্রিয় যানবাহনের তথ্য একত্রিত করে একটি সমন্বিত কমান্ড ব্যবস্থা তৈরি করে, যা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ৩. বিগ টেক: বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকাও এখন প্রতিরক্ষা খাতে দ্রুত বাড়ছে, যেমন গুগল, মেটা এবং অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৬৭ শতাংশ ক্লাউড অবকাঠামো নিয়ন্ত্রণ করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের ক্লাউড এবং কম্পিউটিং সক্ষমতা এখন সামরিক তথ্য সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ ও যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে। পেন্টাগনের সাম্প্রতিক চুক্তিতে স্পেসএক্স, ওপেনএআই, গুগল, এনভিডিয়া, মাইক্রোসফট, ওরাকল ও অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস-এর মতো প্রযুক্তি জায়ান্টদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ৪. ফাউন্ডেশনাল মডেল নির্মাতা: এই শ্রেণির প্রতিষ্ঠানগুলো এমন এআই মডেল তৈরি করে, যার ওপর ভিত্তি করে অন্যান্য কোম্পানি সামরিক সফটওয়্যার তৈরি করে। যেমন রয়েছে ওপেন এআই, অ্যানথ্রপিক এবং মিস্ট্রাল এআই। চীনের গবেষকরাও সামরিক ব্যবহারের জন্য নিজস্ব এআই মডেল তৈরি করছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্যানুযায়ী, মেটার ‘লামা’ মডেলকে ভিত্তি করে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি ‘চ্যাটবিট’ নামে একটি এআই ব্যবস্থা তৈরি করেছে, যা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং যুদ্ধক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক। পেন্টাগনের হিসাব অনুযায়ী, সামরিক এআই গবেষণায় চীনের বার্ষিক ব্যয় প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ কোটি মার্কিন ডলার। চলতি বছর পেন্টাগন আলিবাবা, বাইডু, বিওয়াইডি, এনআইও, রোবোসেন্স এবং ইউনিট্রি-কে চীনা সামরিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির তালিকায় যোগ করেছে।

প্রযুক্তির যুদ্ধের ক্ষেত্রে প্রবেশ একসময় ওপেনএআইসহ বিভিন্ন উচ্চমানের এআই গবেষণা প্রতিষ্ঠান সামরিক কাজে প্রযুক্তির ব্যবহার বিরোধিতা করেছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের দিকে ওপেনএআই তাদের নীতিমালা পরিবর্তন করে সামরিক ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। একই বছরে প্যালান্টির ও অ্যানথ্রপিক যৌথভাবে সামরিক এআই উন্নয়নে পার্টনারশীপ গড়ে তোলে, তবে পরে তাদের মধ্যে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আইনি বিরোধ সৃষ্টি হয়। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের ভবিষ্যৎ এখন আর শুধুমাত্র ট্যাংক, যুদ্ধবিমান অথবা ক্ষেপণাস্ত্রের উপর নির্ভরশীল নয়। বরং সফটওয়্যার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং তথ্য বিশ্লেষণ ধীরে ধীরে আধুনিক যুদ্ধের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রে পরিণত হচ্ছে। এজন্য প্রতিরক্ষা শিল্পের কেন্দ্রবিন্দু দ্রুত অস্ত্র নির্মাতাদের দিক থেকে এআই এবং প্রযুক্তি কোম্পানির দিকে সরে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: প্রথমবারের মতো শুরু হচ্ছে এক্সপ্যাট ওয়ার্ল্ড কাপ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আশুলিয়ায় চলন্ত বাসে ধর্ষণচেষ্টা, গ্রেপ্তার ৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৩০ পি.এম


আশুলিয়ায় চলন্ত বাসে ধর্ষণচেষ্টা, গ্রেপ্তার ৩

সাভারের আশুলিয়ায় চলন্ত একটি বাসের মধ্যে এক নারী যাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এদের মধ্যে বাসচালক মো. ইমরান (৩৫), তার সহকারী মো. মুসফেকুর রহমান জনি (২০) এবং চালকের পরিচিত মো. সুমন প্রামাণিক (৩০) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

পুলিশ জানায়, শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঢাকা গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে সাভারের নবীনগর যাওয়ার উদ্দেশ্যে ওই নারী একটি বাসে ওঠেন। নবীনগর বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছানোর আগেই চালক ইমরান তার সহকারী মুসফেকুরকে বাস চালানোর দায়িত্ব দেন। পরে ইমরান ওই নারীর সঙ্গে থাকা রুবেলকে মারধর করে এবং হত্যার হুমকি দিয়ে বাস থেকে শ্রীপুর এলাকায় নামিয়ে দেয়।এক পর্যায়ে ইমরানও বাস থেকে নেমে যায়।

এসময় মুসফেকুর ও রুবেলের পরিচিত সুমন প্রামাণিক বাসে ছিলেন। এর পরে সুমনের সহায়তায় মুসফেকুর চলন্ত বাসে ওই নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। অন্যদিকে রুবেল দেশের জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে বিষয়টি পুলিশকে জানায়।

এ খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে আশুলিয়ার রাড়ইপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আরেকটি বাস দিয়ে ব্যারিকেড দিয়ে সাভার পরিবহনের বাসটি থামায়। পরে এই বাস থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করা হয় এবং জনি ও সুমনকে বাসসহ আটক করা হয়।

এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। পরদিন রবিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে আশুলিয়ার বাড়ইপাড়া এলাকা থেকে ইমরানকে গ্রেপ্তার করে।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ কয়েকটি দল অভিযান চালিয়ে ওই নারীকে উদ্ধারসহ জনি ও সুমনকে আটক করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

এরপর রবিবার রাতে আশুলিয়ার রাড়ইপাড়া এলাকা থেকে বাসচালক ইমরান গ্রেপ্তার হয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মহিপুরে বৃদ্ধ হারিচ হত্যা মামলায় ইউপি সদস্য জসিমকে আসামি করার প্রতিবাদে মানববন্ধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৩২ পি.এম


মহিপুরে বৃদ্ধ হারিচ হত্যা মামলায় ইউপি সদস্য জসিমকে আসামি করার প্রতিবাদে মানববন্ধন

মহিপুরের আলোচিত বৃদ্ধ হারিশ আহমেদ ওরফে মজিবুর হত্যা মামলায় মহিপুর থানার ৯নং ধুলাসার ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. জসিম উদ্দিন খন্দকারকে আসামী করা নিয়ে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। এই মানববন্ধনে তারা জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

সোমবার ২৭ জুলাই, দুপুরের দিকে, ধুলাসার ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের সর্বস্তরের সাধারণ জনগণের ব্যানারে তাড়িকাটা দাখিল মাদরাসার সামনের সড়কে অনুষ্ঠিত হয় এই মানববন্ধন। এতে পাঁচশতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা তাদের দাবি জানান, ঘটনার সময় ইউপি সদস্য মো. জসিম উদ্দিন খন্দকার নিজ বাড়িতে ছিলেন। পরে তিনি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর আহত বৃদ্ধ হারিচ আহমেদকে উদ্ধার করেন এবং হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। অথচ তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে হত্যার মামলার আসামি করা হয়েছে।

বক্তারা আরো জানান, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি আহত ব্যক্তির জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন। সেই ব্যক্তিকেই মামলায় জড়ানো অত্যন্ত দুঃখজনক ও অন্যায়। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনার সত্যতা উদঘাটন করে দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি এবং জসিম উদ্দিন খন্দকারের নাম মামলা থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানান।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন খন্দকারের স্ত্রী নাসিমা বেগম, ছেলে সোহেল খন্দকার, স্থানীয় জামাল শিকদার, শহিদুল ইসলামসহ আরো অনেকেই।

উল্লেখ্য, গত ১৯ জুলাই জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নয়াকাটা গ্রামের হারিচ আহমেদ ওরফে মজিবুরের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হলে নিহতের ছেলে সাইফুল ইসলাম বাবুল বাদী হয়ে ১৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২০ জনকে আসামী করে মহিপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটিতে ইতোমধ্যে দুইজন এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজে আয়নার ভূমিকা পালন করে : তথ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৩৩ পি.এম


গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজে আয়নার ভূমিকা পালন করে : তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজে আয়নার দায়িত্ব পালন করে। এই পেশায় নিজের বিবেক ও মেধা চর্চার একটি অতিব বড় সুযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকতা পেশার অস্তিত্ব ছাড়া একটি সভ্য সমাজ চলতে পারে না। আজ (সোমবার) বরিশাল বিভাগের সাংবাদিকদের কল্যাণে করণীয় শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

বরিশাল সার্কিট হাউস মিলনায়তনে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের আয়োজন এবং বরিশাল জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সহযোগিতায় এ সভার আয়োজন করা হয়। মন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকতা পেশাকে পৃষ্ঠপোষকতা দান করবে এমন কোনো কাঠামো এখন পর্যন্ত গড়ে ওঠেনি।

মন্ত্রী মন্তব্য করেন, সমাজের প্রতিটি চিত্র প্রতি মুহূর্তে ও নিয়মিতভাবে গণমাধ্যমে এবং সাংবাদিকতার মাধ্যমে আয়নার মতো প্রতিফলিত না হলে পৃথিবীর কোনো সভ্য দেশ কিংবা সমাজ এগোতে পারে না।

তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্র এবং সমাজকে প্রতি মুহূর্তেই আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে রাখতে হয়। তা না হলে সে ভুল পথে এবং ভুল গন্তব্যে যেতে পারে, যা জনগণের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। এই কাজটি করাই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মূল লক্ষ্য।

মতবিনিময়ে তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, তথ্যের প্রবাহ থেকে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য আলাদা করা এবং বস্তুনিষ্ঠতাবিহীন তথ্যকে ফিল্টারিং করতে পারা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, গণমাধ্যমে বর্তমানে দুই ধরনের ব্যক্তিরা সাংবাদিকতার কার্ড নিয়ে কাজ করছেন। একজন এই চ্যালেঞ্জটাকে গ্রহণ করছেন, আরেকজন এটাকে দূষিত করার জন্য সাংবাদিকতা করছেন। ফলে সাংবাদিকতা পেশার একটা সংজ্ঞা নির্ধারণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

মন্ত্রী বলেন, কোন সাংবাদিকতা ব্ল্যাকমেলিং এবং কোন সাংবাদিকতা আমাদের জন্য অনিবার্য সেটি আলাদা করতে না পারলে রাষ্ট্র ও সমাজ সঠিকভাবে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতায় পৃষ্ঠপোষকতা করতে পারবে না। এই কাজ রাষ্ট্রের একার নয়, এজন্য সাংবাদিকদেরও অংশীদারিত্ব প্রয়োজন।

মন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকতায় বিত্তবান হওয়ার সম্ভাবনা নেই জেনেও যারা এই মহৎ পেশায় যুক্ত রয়েছেন বা হচ্ছে, তাদের সবার প্রতি শ্রদ্ধা রইল।

তিনি বলেন, সাংবাদিকতা পেশাকে যদি টিকিয়ে রাখতে না পারি তবে সমাজ ও রাষ্ট্রকে প্রতি মুহূর্তে আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে রাখতে ব্যর্থ হব। তাই রাষ্ট্র, সমাজ, দেশ এবং মানুষের প্রয়োজনেই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাকে সবসময় সহযোগিতা করতে হবে।

বর্তমান সাংবাদিকতায় প্রযুক্তির ব্যবহারের নানা দিক তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এখন সাংবাদিকতা হয়ে গেছে ডেটা জার্নালিজম, ভিডিও জার্নালিজম এবং অডিও জার্নালিজমের। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাংবাদিকতা পেশাকে পরিবর্তিত হতে হবে। এই রূপান্তরের সঙ্গে তাল মিলাতে না পারলে সঙ্গত কারণে সাংবাদিকতাও পিছিয়ে পড়বে।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট বোর্ডের সদস্য কাওছার হোসেন খন্দকার, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শাহজাহান সাজু এবং বরিশাল জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আজাদ আলাউদ্দিন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল বারী। মতবিনিময় শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করেন। এর আগে সকালে তথ্যমন্ত্রী বরিশালের চরকাউয়া এলাকায় গাছের চারা রোপণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য নীতিমালা প্রণয়নে সম্পাদকদের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৩৯ পি.এম


স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য নীতিমালা প্রণয়নে সম্পাদকদের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাধীন গণমাধ্যম এবং সাংবাদিকদের জন্য নীতিমালা প্রণয়নের চলমান কাজে সম্পাদকদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

এছাড়া, তিনি সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সরকারের গঠনমূলক সমালোচনার পাশাপাশি সরকারের ইতিবাচক কর্মকাণ্ড যথাযথভাবে তুলে ধরার জন্য আহ্বান জানান।

আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠককালে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ তথ্যটি জানান।

ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের আহ্বায়ক ও যায়যায়দিন পত্রিকার সম্পাদক শফিক রেহমান এবং যুগ্ম আহ্বায়ক ও আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের নেতৃত্বে বৈঠকে আট সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিল।

ছবিতে: পিএমও।

অন্য অতিথির মধ্যে ছিলেন দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান সোহেল, দৈনিক নয়া দিগন্ত সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম এবং মানবকণ্ঠ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%