১১:৩৪ পি.এম
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর রেলওয়ে স্টেশনে স্থানীয়রা পাঁচ দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। এ দাবিগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে আন্তঃনগর সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ও কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতি, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, টিকিটিং ব্যবস্থা চালু, লুপ লাইন কার্যকর এবং স্টেশনের অবকাঠামো উন্নয়ন। আন্দোলনকারীরা প্রায় দুই ঘণ্টা সময় ধরে কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেন আটকে রাখেন।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টায় জয়রামপুর ট্রেন সুবিধা সংরক্ষণ কমিটির উদ্যোগে জয়রামপুর রেলওয়ে স্টেশন চত্বরে কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী এবং রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
বক্তারা মানববন্ধনে বলেন, একসময় জয়রামপুর রেলওয়ে স্টেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্র ছিল, কিন্তু বর্তমানে এটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার শিকার। সাগরদাঁড়ি ও কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতি না থাকায় প্রতিদিন অনেক যাত্রীকে দুর্ভোগ সহ্য করতে হতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে এক দিনে এক লাখ গাছের চারা রোপণ, সবুজ ফিরিয়ে আনার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
তারা জানান, প্রয়োজনীয় জনবল, টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের অভাবে যাত্রীসেবা ব্যাহত হচ্ছে। তাই তারা অবিলম্বে জয়রামপুর স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ চালু করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও টিকিটিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান। দাবি বাস্তবায়ন না হলে কঠোর কর্মসূচি হাতে নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ হলো, জয়রামপুর রেলওয়ে স্টেশনের নামে পাঁচজন কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রতি মাসে সরকারি বেতন-ভাতা নিলেও তারা স্টেশনে দায়িত্ব পালন করছেন না।
এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা দাবি করেছেন তারা। হাউলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, 'জয়রামপুর স্টেশনের দাবিগুলো কোনো একক ব্যক্তি বা দলের নয়; এটি এই অঞ্চলের মানুষের ন্যায্য দাবি। মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত এসব দাবি বাস্তবায়ন করা উচিত।'
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু বলেন, 'জয়রামপুর রেলওয়ে স্টেশন অঞ্চলবাসীর দীর্ঘদিনের যোগাযোগের অন্যতম ভরসা। প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অভাবে স্টেশনটি গুরুত্ব হারাতে বসেছে।'
আরও পড়ুন: বুড়িচংয়ে নিখোঁজ আদিল ও জিসানের সন্ধান চায় পরিবার
খবর পেয়ে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিন ঘটনাস্থলে এসে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তিনি জানান, 'দাবিগুলো যৌক্তিক। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের ইউএনওর কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।'
ইউএনওর আশ্বাসের পর আন্দোলনকারীরা তাদের কর্মসূচি স্থগিত করেন। পরে প্রায় দুই ঘণ্টা পর কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনটি গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন