০২:১৯ পি.এম
চাঁদপুরের কচুয়ায় গভীর রাতের কোনো এক সময় ঘরের সিঁদ কেটে ভেতরে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা ফাতেমা বেগম (৭৫) নামে এক বৃদ্ধাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে। হত্যার পরে পরিবেশের অস্থিরতা সৃষ্টি করে নিহতের কান ও গলা কেটে স্বর্ণালঙ্কার এবং নগদ টাকা লুট করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। আজ সোমবার (২৯ জুন) ভোররাতের কোনো এক সময়ে ঘটনার স্থল উপজেলার পাথৈর ইউনিয়নের বেরকোটা গ্রামের মিয়াজী বাড়িতে এই নৃশংস ঘটনা ঘটেছে।
নিহত ফাতেমা বেগম সরকারের পাট অধিদপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তার স্ত্রী, যিনি মৃত সাদেক হোসেনের সহধর্মিণী। তাঁর তিন ছেলে ও দুই মেয়ে আছেন, তবে তারা সবাই আলাদাভাবে বসবাস করায় তিনি ওই টিনশেড ঘরে একাই থাকতেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো ফাতেমা বেগম তাঁর ঘরে একাই ঘুমাচ্ছিলেন। ভোররাতে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা ঘরের কাঁচা ভিটার মাটি খুঁড়ে সিঁদ কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। সকালে নিহতের ছেলের স্ত্রী ডালিয়া আক্তার পাশের ঘর থেকে শাশুড়িকে ফজরের নামাজ পড়ার জন্য ডাকাডাকি করেন। কিন্তু ভেতর থেকে কোনো সাড়া শব্দ না পাওয়ায় তিনি ঘরের পেছনে গিয়ে দেখেন যে মাটি খুঁড়ে সিঁদ কাটা রয়েছে।
আরও পড়ুন: পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা ওসি( তদন্ত) আলমগীর, তদন্ত কর্মকর্তা মোজাম্মেল ও রাফির (২৬) ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
পরে তার চিৎকারের শব্দ শুনে বাড়ির অন্য লোকজন ছুটে এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং ঘরের মেঝেতে ফাতেমা বেগমের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
নিহতের মেয়ের জামাতা মিজানুর রহমান জানান, 'দুর্বৃত্তরা আমার শাশুড়ির কান ও গলায় থাকা মূল্যবান স্বর্ণের অলংকার ছিঁড়ে নিয়েছে এবং ঘরে থাকা নগদ কিছু টাকাও লুটে নিয়ে গেছে। আমাদের ধারণা, চুরি করার সময় শাশুড়ি হয়তো দুর্বৃত্তদের চিনে ফেলেছিলেন বা বাধা দিয়েছিলেন। আর সেই কারণেই তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় ও শরীরে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।'
ঘটনার খবর পেয়ে কচুয়া থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাজ্জাদ হোসেনের নেতৃত্বে একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করে। এরপর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. লুৎফর রহমান বলেন, 'এটি নিছক চুরির ঘটনা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো পূর্বশত্রুতা বা উদ্দেশ্য রয়েছে, তা নিশ্চিত হতে পুলিশ, সিআইডি ও পিবিআই-এর একাধিক ইউনিট ইতিমধ্যে ছায়া তদন্ত শুরু করেছে। আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। দ্রুতই এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে।'
আরও পড়ুন: হোসেনপুরে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত, দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতার আহ্বান
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল ইসলাম আকাশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন