রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:২০ পি.এম
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীরা রাজধানীর শাহবাগে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীরা জড়ো হন। পরে বেলা ১১টার দিকে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে অবস্থান নেন তারা। এ সময় তারা দ্রুত নিয়োগপত্র দেওয়ার দাবি জানান।
চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে তানভীর রহমান বাপ্পারাজ এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বলেন, "সরকার আমাদের বাদ দেওয়ার যেই কারণগুলো জানিয়েছেন সেই কারণ দেখিয়ে আমাদের বাদ দেওয়ার অধিকার কি সরকার রাখেন?"
তিনি আরও বলেন, "আমরা এক সরকারের আমলে পরীক্ষা দিয়েছি এবং আপনার আমলে নিয়োগ হচ্ছে বলে শুধুমাত্র রাজনৈতিক রেষারেষির কারণে আমাদের বাদ দেওয়া হয়েছে? এই প্রশ্নটাই আপনার কাছে রেখে গেলাম।"
তানভীর জানান, "আমরা যারা এখানে এসেছি, আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মারামারি করতে আসিনি, কোনো বিশৃঙ্খলা করতেও আসিনি। আমরা আমাদের অধিকার আদায়ের জন্য এসেছি। নিয়োগপত্র না নিয়ে আমরা ঢাকা ছাড়ব না।"
চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্তদের সংগঠন ‘কেন্দ্রীয় প্যানেল প্রাইমারি ২০২৫’-এর দাবি, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে এক কোটি বেকারের কর্মসংস্থান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু আজ বেকারদের নিয়ে চূড়ান্ত প্রহসন করা হচ্ছে এবং বেকারত্ব বৃদ্ধি করা হচ্ছে। তারা পুনরায় রি-ভেরিফিকেশনের নামে কোনো প্রহসন চান না।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আড়াই হাজারের বেশি প্রার্থীকে কেন বাদ দেওয়া হলো, তার কারণ অজানা। তারা জানতে চান, নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ আসলে কে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বলে, সকল দায়িত্ব মন্ত্রণালয়ের। আবার মন্ত্রণালয় বলে, জেলা শিক্ষা অফিস মূল দায়িত্বে। জেলা অফিস বলছে, দায়িত্ব অধিদপ্তরের হাতে। তাহলে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ কারা?
তাদের দাবি, সরকারি চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী ফৌজদারি অপরাধ ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমে সক্রিয় ব্যক্তি এবং সনদ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বাইরে যোগ্য সব প্রার্থীকে ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিয়োগপত্র দিতে হবে। অন্যথায় তারা কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র দেওয়া শুরু হয়। তবে বিভিন্ন জেলায় শত শত প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি। এতে তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের দাবি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫-এর ভেরিফিকেশনে বাদ পড়েছেন ২ হাজার ৩৮৪ প্রার্থী।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর লিখিত পরীক্ষা গত ৯ জানুয়ারি ৬১ জেলায় অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। পরে ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নাগোয়া (জাপান), ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : জাপানের জাতীয় ক্রিকেট দলের হয়ে ওয়াতাররু মিয়াউচি আইচি-নাগোয়া ২০২৬ এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণ করছেন। জাতীয় দলের জন্য প্রস্তুতির পাশাপাশি তিনি কৃষিকাজের কাজও করছেন।
২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ক্রিকেট আবারও অলিম্পিকের খেলায় ফিরছে, যা ১২৮ বছর পর ঘটছে। অনেক সময় ক্রিকেটকে বেসবলের পূর্বসূরি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
মিয়াউচির স্বপ্ন ভবিষ্যতে বিশ্বকাপে খেলার। তিনি এ বিষয়ে বলেন, “জাপানে যদি পেশাদার দল গড়ে উঠত, যাতে খেলোয়াড়েরা পুরোপুরি খেলাধুলায় মনোনিবেশ করতে পারত, তাহলে দারুণ হতো।”
এশিয়ান গেমসে ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি ক্রিকেটের জনপ্রিয়তায় নতুন গতি আনতে চান। ২৭ বছর বয়সী মিয়াউচি আশা করছেন, ক্রীড়াজীবনের সঙ্গে কৃষিকাজের ভারসাম্য রেখে চলার এই প্রচেষ্টা তার দেশে ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে সহায়ক হবে।
প্রিলিমিনারি রাউন্ডে শক্তিশালী আফগানিস্তানের কাছে জাপান বড় ব্যবধানে হারলেও, মাঠে দুর্দান্ত ডাইভ দিয়ে একটি ক্যাচ ধরে নিজের সামর্থ্য প্রদর্শন করেন মিয়াউচি। তিনি মন্তব্য করেন, “আমি খুশি যে নিজের শক্তির জায়গাগুলো কাজে লাগাতে পেরেছি। পরেরবার আমি অবশ্যই জিততে চাই।”
ওসাকা প্রিফেকচারের বাসিন্দা মিয়াউচি উচ্চবিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর ক্রিকেট ক্লাবে যোগ দেন। এর আগে তিনি বেসবল খেলতেন, তাই ভিন্ন একটি খেলা চেষ্টা করতে ক্রিকেট বেছে নেন। অসাধারণ গতির দৌড়, মাঠের বড় অংশজুড়ে ফিল্ডিং করার সক্ষমতা এবং মাঠের যেকোনো দিকে বল পাঠানোর ব্যাটিং দক্ষতা তাকে জাতীয় দলে জায়গা করে দেয়।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হওয়ার পরও মিয়াউচি ক্রিকেট চালিয়ে যান। একই সঙ্গে তোচিগি প্রিফেকচারের সানোতে একটি বিক্রয়কর্মীর চাকরি করতেন। তবে শেষ পর্যন্ত চাকরি ও খেলাধুলার দায়িত্ব একসঙ্গে সামলানো কঠিন হয়ে পড়ায় তিনি চাকরিটি ছেড়ে দেন।
জাতীয় দলের সাবেক সিনিয়র খেলোয়াড় ৩১ বছর বয়সী কেন ওকোশি তার পরবর্তী পদক্ষেপের পথ দেখান। ওকোশি তাকে জানান, ওই দলে যোগ দিলে কাজ ও খেলাধুলার মধ্যে ভারসাম্য রাখা সহজ হবে। এরপর ২৪ বছর বয়সে মিয়াউচি শহরটিতে চলে যান। তার সিনিয়র সতীর্থের মতো তিনিও স্থানীয় উন্নয়ন দলে যোগ দেন এবং আগে কোনো অভিজ্ঞতা না থাকলেও কৃষিকাজ শুরু করেন।
ফেব্রুয়ারিতে প্রায় তিন বছরের মেয়াদ শেষ করার পর তিনি ওকাশি ও অন্যদের প্রতিষ্ঠিত একটি রেস্তোরা ব্যবসায় কাজ শুরু করেন। তবে কৃষিকাজের প্রতি তার মনোযোগ অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিন তিনি শহরের খেতে বিভিন্ন শাকসবজি ও ফল চাষ করেন, যা ওই প্রতিষ্ঠানের সহযোগী রেস্তোরাগুলোতে ব্যবহার করা হয়। সন্ধ্যায় তিনি গাড়ি চালিয়ে প্রায় ৫০ মিনিট দূরের সানোতে নির্দিষ্ট একটি মাঠে যান এবং সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলন করেন।
ওকোশি জানান, মিয়াউচির উৎপাদিত কৃষিপণ্য একই সঙ্গে সুস্বাদু ও পুষ্টিকর হিসেবে পরিচিত। তিনি বলেন, “আমি প্রতিদিনই দেখেছি, সে কীভাবে কৃষিকাজ ও ক্রিকেট- দুই ক্ষেত্রেই নিজের পুরোটা উজাড় করে দিচ্ছে। এশিয়ান গেমসে সে যেন নিজের পূর্ণ সামর্থ্য প্রকাশ করতে পারে, সেটিই আমি সত্যিই আশা করি।”
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটকে অনেক দেশেই পেশা হিসেবে বেছে নেওয়া হচ্ছে। ভারতসহ বিভিন্ন দেশে লাভজনক পেশাদার ক্রিকেট লিগও বেশ জনপ্রিয়। বিপরীতে, জাপান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জাপানে ক্রিকেট খেলোয়াড়ের সংখ্যা ছিল মাত্র প্রায় ৭ হাজার।
এশিয়ান গেমসের জন্য জাপানের ৩০ সদস্যের পুরুষ ও নারী দলের মধ্যে শিক্ষার্থী খেলোয়াড় ছাড়া প্রায় সবাই খেলাধুলার পাশাপাশি পূর্ণকালীন চাকরি করছেন। তাদের মধ্যে ব্যাংকের কর্মী ও স্কুলশিক্ষকের মতো পেশায় থাকা খেলোয়াড়ও রয়েছেন।
জাপানে বর্তমানে তোচিগি প্রিফেকচারের সানো শহর নিজেকে ক্রিকেটের শহর হিসেবে তুলে ধরছে। ২০১০ সালে জাপান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন টোকিও থেকে তাদের সদর দপ্তর সানোতে স্থানান্তর করার পর থেকেই শহরটি ক্রিকেটের মাধ্যমে স্থানীয় সম্প্রদায়ের পুনরুজ্জীবনে কাজ করছে।
২০১৮ সালে পৌর সরকার সানো ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট গ্রাউন্ড চালু করে। প্রাকৃতিক ঘাসের মাঠসহ এটি আন্তর্জাতিক মান পূরণকারী জাপানের প্রথম ক্রিকেট ভেন্যু। বিদেশি দলগুলোও অনুশীলন ম্যাচের জন্য এই মাঠ ব্যবহার করে।
ক্রিকেটের প্রচারে শহরটি প্রাথমিক ও জুনিয়র হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের আয়োজন করে। এসব আয়োজনে ব্রিটিশ দলগুলোর খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষক হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
শহরের স্থানীয় এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা আশা করি, এশিয়ান গেমস আরও বেশি মানুষকে ক্রিকেট এবং সানো শহর সম্পর্কে জানতে উৎসাহিত করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নাশকতার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহ, পাসপোর্ট, এনআইডি ও ড্রাইভিং লাইসেন্সে জন্ম তারিখের ভিন্নতা এবং অসংলগ্ন তথ্যের কারণে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে আগত রবিউল ইসলামকে (৪৪) চার দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ডিবি পুলিশ ফের সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আবেদন করেছে।
ঢাকার মেট্রোপলিটন মাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে রিমান্ড সংক্রান্ত শুনানি আগামী রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে, গত বুধবার ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় রবিউলকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হয় এবং সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন গোয়েন্দা পুলিশের রমনা বিভাগের এসআই বিনয় কুমার রায়। ওই দিন আদালত রবিউলের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। এ সময় রবিউলের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।
দ্বিতীয় দফার রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন যে, চার দিনের রিমান্ডে আসামির কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধার করা হয়েছে। ওই তথ্য যাচাই করার জন্য তাকে পুনরায় সাত দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।
রিমান্ড আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, রবিউল ইসলাম ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার মাটিয়া থানার গৌড়ি ভোজ গ্রামের বাসিন্দা শহীদুল ইসলামের ছেলে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উত্তরা পশ্চিম থানার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৩ নম্বর রোডের ৬০ নম্বর বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।
গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, রবিউল ইসলাম ১৪ সেপ্টেম্বর ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। তার গতিবিধি ছিল সন্দেহজনক। তিনি নিজেকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে দাবি করে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাসপোর্ট প্রদর্শন করেন। এরপর তার কাছে থাকা ভারতীয় পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও এনআইডি পরীক্ষা করা হলে দেখা যায়, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও এনআইডিতে থাকা জন্ম তারিখের সঙ্গে পাসপোর্টের জন্ম তারিখের কোনো মিল নেই।
আবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, রবিউল এর আগে একাধিকবার বাংলাদেশে আসা-যাওয়া করেছেন। কেন তিনি বারবার বাংলাদেশে এসেছেন, এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ দেখাতে পারেননি। এছাড়া, বিভিন্ন সময়ে একেক ধরনের তথ্য দিয়ে তদন্তকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, রবিউল বাংলাদেশে কোনো ধর্তব্য অপরাধ বা সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রবল সন্দেহ রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল চীনের পিকিং ইউনিভার্সিটির মর্যাদাপূর্ণ ‘ডংফাং স্কলারশিপ’-এ সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে অ্যাম্বাসেডর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বিশ্বের ৫৪টি দেশের প্রতিনিধিদের ভোটের মাধ্যমে এই পদে বিজয়ী হন।
এই স্কলারশিপ প্রোগ্রামে উদীয়মান রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে আয়োজন করা হয়, যেখানে বাংলাদেশ থেকে প্রতিনিধিত্ব করেন ডা. আউয়াল। এতে ৫৪টি দেশের ৫৪ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, এই অ্যাম্বাসেডর নির্বাচন প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়।
ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে সর্বোচ্চ ১৯ ভোট পেয়ে অ্যাম্বাসেডর নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ইকুয়েডরের উপরাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা লোরেনা পন্সে, যিনি ১৭ ভোট পান। এছাড়া জিম্বাবুয়ের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এলবার্ট মাভুঙ্গা ৮ ভোট এবং মালদ্বীপের উপমন্ত্রী আহমেদ আরিম ৫ ভোট অর্জন করেন।
ডা. আউয়াল তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, "প্রথমেই কৃতজ্ঞতা জানাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে, যারা আমাকে এই স্কলারশিপে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছেন। তাদের আস্থা রক্ষার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। অ্যাম্বাসেডর নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। বাকি দেশগুলোর প্রতিনিধিরাও বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে সহযোগিতার বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।"
এছাড়া উল্লেখযোগ্য যে, কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং-২০২৭ তালিকায় পিকিং ইউনিভার্সিটি বিশ্বের ১৩তম স্থানে অবস্থান করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বৃহস্পতিবার ঢাকার মিরপুরে হামলার শিকার হওয়া বেসরকারি সংস্থা রাড্ডা এমসিএইচ কার্যালয় ও এর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পরিদর্শনে যান এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি সেখানে হামলার ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
রাড্ডা ছিল বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য প্রসিদ্ধ। প্রায় ৫০ বছর ধরে সেখানে প্রসূতি ও শিশু সেবাসহ বিভিন্ন সেবাদানের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল। বৃহস্পতিবার সেখানে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে রাড্ডা এমসিএইচ’র চারটি ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়। হামলাকারীরা সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমিতি লিমিটেড’ নামের সাইনবোর্ডও স্থাপন করে। আজ রোববার আসিফ মাহমুদ সেখানে পরিদর্শনে যান।
এনসিপির কর্মীরা সেখানে থাকা ‘সমমনা দোকানদার সমিতি লিমিটেড’ সাইনবোর্ডটি তুলে ফেলেন। তারা আরও একাধিক নিদর্শন মুছে ফেলেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘এখানে আমরা ভেতরে দেখলাম যে, মেডিসিন, ইনজেকশন, ইকুইপমেন্ট—এই জিনিসগুলো পর্যন্ত লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই যে গরিব মানুষের গরিব বাচ্চাদের এই যে টিকা, এইটা লুট করে আপনারা কী প্রমাণ করতে চান?
‘আপনারা ধনীদের থেকে চাঁদাবাজি করেন, ব্যবসায়ীদের থেকে চাঁদাবাজি করেন। ইসিবিতে আমরা দেখলাম সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে আপনারা গতকালকে ভয়ানক ধ্বংসযজ্ঞ চালাইছেন। আপনারা এখানে গরিব বাচ্চাদের টিকাটা পর্যন্ত ছাড়েন নাই।’
তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের একটি বক্তব্য স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আমাদের লজ্জা হয়। আমরা দেখেছি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়িত্ব নেয়ার পরে বলেছেন, ‘বাংলাদেশে আজ থেকে মবতন্ত্রের কবর রচনা করা হলো’। কিন্তু আমরা কী দেখলাম? মবতন্ত্র দিয়ে ঠিক তিনটা জায়গায় দুইদিনের মধ্যে একটা স্বাস্থ্য সেবা ক্লিনিক, একটা স্টুডিও আরেকটা প্রতিষ্ঠানের কবর রচনা করলেন। এই ঘটনার সাথে জড়িত কারা? আমরা দেখলাম সিসিটিভি ক্যামেরায়—পুলিশ এসে দাঁড়িয়ে ছিল।’
পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে এক্সকেভেটর, ট্রাক আনা হয়েছে। একটা এক্সকেভেটর যখন আসে, পুলিশের স্বাভাবিক কার্যক্রম কী হওয়া উচিত? যে এই এক্সকেভেটরের এখানে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করার অনুমতি আছে কি না।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘ঢাকা শহরে আমি যদি আমার বাড়িও ভাঙতে চাই এক্সকেভেটর দিয়ে; আমার পুলিশের অনুমতি নিতে হয়, সিটি করপোরেশনের অনুমতি নিতে হয়। তো পুলিশ এসে এখানে মবতন্ত্র যাতে কায়েম করতে পারে, এটা নিশ্চিত করেছে। যখন ভাঙচুর শুরু হয়েছে, তখন পুলিশ এখান থেকে হেঁটে চলে গেছে।’
পুলিশের নিষ্ক্রিয়তাকে তিনি পুরোনো দিনের বাংলা সিনেমার সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এখন এসে দেখলাম—প্রবেশপথে পুলিশ, ভেতরে পুলিশ। ওই যে বাংলা ছায়াছবিতে একটা জিনিস আছে না যে, ঘটনা ঘটার পরে পুলিশ আসছে। তো এখানেও ঘটনা ঘটার পরে পুলিশ এসেছে পরিদর্শন করতে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ