০৭:৪৭ পি.এম
জাপান সফর শেষে দেশে ফিরেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম. এ. মুহিতের নেতৃত্বাধীন উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল। তারা শনিবার (৪ অক্টোবর) সাত দিনের সফর শেষে দেশে ফিরে আসেন।
২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত এই সফরের সময় বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের কর্মকর্তারা জাপানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক, কারিগরি আলোচনা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন। এই সফরের আয়োজন করা হয় সমন্বিত অসংক্রামক রোগ (এনসিডি) প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের সম্ভাবনা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে।
সফরের সময় অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, স্বাস্থ্য অর্থায়ন এবং চিকিৎসা-প্রযুক্তি নিয়ে জাপানের প্রতিষ্ঠান ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল জাপানের স্বাস্থ্যব্যবস্থার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করা।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) সদর দপ্তরে প্রতিনিধি দলকে দেশটির স্বাস্থ্যসেবা প্রদান ও স্বাস্থ্য অর্থায়ন ব্যবস্থা সম্পর্কে ব্রিফিং দেওয়া হয়। পরে তারা টেরুমো মেডিকেল প্রানেক্স, ফুজিফিল্ম, তেইকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদ, তোকুশুকাই হাসপাতাল, রিভারফিল্ড রোবোটিক সার্জারি এবং একটি বেসরকারি ক্লিনিকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে চিকিৎসা পদ্ধতি, ক্লিনিক্যাল সেবা, চিকিৎসা শিক্ষা, রোগ নির্ণয় প্রযুক্তি এবং উন্নত চিকিৎসা সমাধান নিয়ে মতবিনিময় করেন তারা। এছাড়া জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং নিপ্পন কোয়ে ও কেআরসির সঙ্গে আলোচনা হয়।
জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো) ও জাপানে বাংলাদেশ দূতাবাসের যৌথ আয়োজনে ‘বাংলাদেশ হেলথ বিজনেস সেমিনারে’ অংশগ্রহণ করেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। এই সেমিনারে বাংলাদেশ ও জাপানের অংশীজনেরা স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
জাপানে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও তৃতীয় পর্যায়ের হাসপাতাল পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী এম. এ. মুহিত বলেন, হাসপাতালগুলোর প্রতিটি স্তরের সুস্পষ্ট ভূমিকা রয়েছে এবং রেফারেলের মাধ্যমে রোগীরা এক পর্যায় থেকে অন্য পর্যায়ে গিয়ে সেবা পান।
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম
জাপানের স্বাস্থ্যকর্মীদের পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও সহমর্মিতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘এর থেকে প্রমাণ হয় যে, প্রযুক্তি কেনা যায়, কিন্তু মানসম্মত সেবার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হয়। আর এই শিক্ষাই আমরা দেশে নিয়ে এসেছি, যা আমাদের দেশের স্বাস্থ্যকর্মীদের অনুপ্রাণিত করবে বলে আমার বিশ্বাস।’
প্রতিনিধি দলে ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শাহ ইমাম আলী রেজা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী, নরসিংদী সদর হাসপাতালের সিভিল সার্জন মো. বুলবুল কবীর এবং প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব মো. সারওয়ার সালাম।
সফর থেকে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসার একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন