শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৬:০৫ এম
ইনকিলাব মঞ্চ শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারসহ তিন দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। এর অংশ হিসেবে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর রংপুরের পীরগঞ্জে পথসভা আয়োজন করেছে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পীরগঞ্জ উপজেলা বাসস্ট্যান্ডে এই পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা রংপুর থেকে পীরগঞ্জের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। পথে জাগীরহাট, মিঠাপুকুর, শঠিবাড়ী ও বড়দরগাহ হয়ে তারা শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন। এরপর তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও কথা বলেন। পরে পীরগঞ্জ উপজেলা বাসস্ট্যান্ডে এসে পথসভায় অংশগ্রহণ করেন তারা।
পথসভায় বক্তব্য রাখেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল জাবের। তিনি বলেন, “আমরা শহীদ আবু সাঈদের শাহাদাতের শহরে এসেছি। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন, আমরা যেন এই সফর টেকনাফে গিয়ে শেষ করতে পারি।”
এ সময় তিনি তিন দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ঘোষিত ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচিতে সকলকে অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার আহ্বান জানান।
পথসভায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, “প্রকাশ্যে হাদি হত্যার বিচার যদি এখনো না হয়, তাহলে সাধারণ দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষের সঙ্গে অন্যায় হলে তারা কি বিচার পাবে?”
তিনি আরও বলেন, শহীদ আবু সাঈদ অন্যায়, অত্যাচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে জীবন দিয়েছেন। তারা দেশে আর এসব অন্যায়-অত্যাচার দেখতে চান না।
ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারসহ তিন দফা দাবি আদায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
পথসভার মাধ্যমে পীরগঞ্জে দিনের কর্মসূচি শেষ করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান জামায়াত-শিবির ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমালোচনা করে বিরোধী রাজনৈতিক বক্তব্যে তেজস্বী কণ্ঠের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, ভিপি নুরকে খেপানোর খেসারত জামায়াত-শিবির-এনসিপিকে করুণভাবে দিতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে এসব মন্তব্য করেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, বিরোধী রাজনৈতিক চরিত্রে বক্তব্যের মধ্যে তেজস্বী ভাব থাকা আবশ্যক, জামায়াত-শিবির এবং এনসিপি মিলিত হয়ে এমন একজন নেতা তৈরি করতে পারেনি। নেতার যে বারুদ বজ্রকণ্ঠ জনতার রক্তে শিহরন ও উন্মাদনা সৃষ্টি করে, সেই ধরনের কোনো চরিত্র জামায়াত-এনসিপিতে নেই। জেল-জুলুম এবং ধারাবাহিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এমন বলিষ্ঠ কণ্ঠ তৈরি হয়।
রাশেদ খান আরও লেখেন, গুপ্ত রাজনীতি অর্থাৎ গোপনে শিবির এবং প্রকাশ্যে ছাত্রলীগ করে এই বারুদ কণ্ঠ অর্জন করা সম্ভব নয়।
নুরুল হক নুরের বক্তব্যের প্রশংসা করে তিনি বলেন, আজকে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের মিসাইলে মগবাজার এবং বাংলামোটর তছনছ হয়ে গেছে। বিরোধী রাজনীতিতে ভিপি নুরের কণ্ঠ থেকে যে বারুদ বের হতো, সরকারে যাওয়ার কারণে তা অনেকটা নমনীয় হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আজকে জামায়াত-এনসিপির ভণ্ডামির বিরুদ্ধে আবারও সেই তেজস্বী নুরকে দেখা গেল।
তিনি আরও লেখেন, শুধু এতটুকুই বলব, ভিপি নুরকে খেপানোর খেসারত জামায়াত-শিবির-এনসিপিকে করুণভাবে দিতে হবে। আমি ভিপি নুরের দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধা হিসেবে জানি, ভিপি নুর কী জিনিস, ভিপি নুর মানেই একটা বারুদ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন আসলে বিপদে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। অনেক সময় মানুষ প্রতারণার শিকার হন। এই ধরনের ভোগান্তি দূর করার লক্ষ্যে ভারত সরকার কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে।
যোগাযোগ মন্ত্রীর পক্ষ থেকে টেলিকম সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, কলার আইডি এখন থেকে বাধ্যতামূলক হবে। অর্থাৎ, যদি কোনো ব্যক্তি কল করেন, তবে রিসিভারের ফোনে তার নাম্বার সেভ করা না থাকলেও নাম প্রদর্শিত হবে।
এয়ারটেলের মতো টেলিকম কোম্পানিগুলোকে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, কলিং নেম প্রেজেন্টেশন (CNP) ব্যবস্থা এখন থেকে চালু করতে হবে। এই CNP ব্যবস্থা কলারের নাম এবং পরিচয় জানাতে সহায়তা করবে।
ভারতের নিজস্ব এই CNP ব্যবস্থা প্রত্যেক কলারের পরিচয় টেলিকম সার্ভিস প্রোভাইডারদের কাছে নথিবদ্ধ রাখবে। কলাররা যখন ফোন করবেন, তখন তাদের ফোন নাম্বারের পাশাপাশি নামও রিসিভারের মোবাইল স্ক্রিনে দেখা যাবে। আপাতত ৪জি এবং ৫জি নেটওয়ার্ক ব্যবহারকারীদের ফোনে কলারের নাম প্রদর্শিত হবে।
১ নভেম্বর থেকে এই দুই ধরনের নেটওয়ার্কে কলিং নেম প্রেজেন্টেশন কার্যকর হবে। কেন্দ্রের নির্দেশ অনুযায়ী, ফোনে কল এলে তিনটি তথ্য দেখা যাবে। কলারের নাম, ফোন নম্বর এবং সংশ্লিষ্ট ফোনে সেভ থাকা নাম। যদি কোনো নম্বর সেভ করা না থাকে, তবে সার্ভিস প্রোভাইডারের কাছে যে নাম রয়েছে, সেটাই রিসিভারকে দেখানো হবে। ভবিষ্যতে ২জি বা ৩জি ব্যবহারকারীদের জন্যও এই সুবিধা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সার্ভিস প্রোভাইডারগুলোকে।
ইতিমধ্যে বেশ কিছু সার্ভিস প্রোভাইডার নির্দিষ্ট কিছু ফোনে এই পরিষেবা প্রদান শুরু করেছে। এতদিন পর্যন্ত এই বিষয়টি বাধ্যতামূলক ছিল না, তবে এখন থেকে কেন্দ্রের নির্দেশ মানতে হবে টেলিকম সংস্থাগুলিকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বৃহস্পতিবার কনের বাড়িতে গায়ে হলুদের আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিয়ের দিন ধার্য ছিল, তাই বরকে বরণ করার জন্য বাড়িটি আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছিল। অন্যদিকে, বরের বাড়িতেও নববধূকে বরণের প্রস্তুতি চলছিল। দুই পরিবারে উৎসবের আমেজ ছিল। কিন্তু বিয়ের আগের রাতেই সব আনন্দ শোকে পরিণত হয়ে যায়। বর সাজার অপেক্ষায় থাকা মেধাবী ছাত্র আরিফ শাহরিয়ার সৌমিকের মৃত্যুতে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে দুই পরিবার এবং পুরো মহল্লা।
২১ বছর বয়সী সৌমিক গাইবান্ধা শহরের ডেভিড কম্পানিপাড়ার বাসিন্দা ছিলেন। সম্প্রতি তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে উত্তীর্ণ হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সৌমিকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার, বন্ধু, স্বজন এবং প্রতিবেশীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। বিয়ের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এমন একটি ঘটনায় কেউই তা মেনে নিতে পারছেন না।
সৌমিকের পাড়ার বাসিন্দা মাহমুদুল ইসলাম জানান, তিনি ছোটবেলা থেকেই সৌমিককে চেনেন। তিনি বলেন, "ছেলেটি ছিল বিনয়ী ও অদম্য মেধাবী। বিয়ের ঠিক আগের দিন তার মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। নতুন জীবন শুরুর মুহূর্তে তাকে হারানোর শোক পরিবার কখনোই সামলে উঠতে পারবে না।"
সৌমিকের একমাত্র বড় বোন শারমিন সুলতানা জানান, এক মাস আগে ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন সৌমিক। তিনি গত চার দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন। শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে তাকে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালের বিপরীতে অবস্থিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মাইশা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হয়।
শারমিনের অভিযোগ, সেখানে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর বেলা ১টার দিকে সেন্টারের চিকিৎসক ডা. মনির হোসেন মুরাদ ব্যবস্থাপত্র দেন। এরপর স্বজনরা ওষুধপত্র নিয়ে সৌমিককে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন।
পরে বিকেলে সৌমিকের শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হলে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাকে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। শারমিনের অভিযোগ, জরুরি বিভাগের সামনে প্রায় এক ঘণ্টা রিকশায় বসেছিলেন সৌমিক। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শুক্রবার সৌমিকের বিয়ের আয়োজন ছিল। পরদিন শনিবার নবদম্পতির বউভাত অনুষ্ঠানেরও আয়োজন ছিল। তবে বিয়ের আনন্দের পরিবর্তে এখন দুই পরিবারেই চলছে শোকের মাতম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের ১৫টি খাতের ৭৬৭টি ডোমেইনের পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রায় সবগুলোর ক্রেডেনশিয়াল ওয়েবে পাওয়া গেছে। অন্তত ১৭ হাজার ৩৬২ জন ব্যবহারকারীর লগইন তথ্য এবং ১৮ লাখের বেশি ব্যবহারকারীর রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার বিকালে ব্রেইন স্টেশন ২৩ এর উদ্যোগে রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা উপলক্ষে ‘বাংলাদেশ সাইবার রেজিলিয়েন্স ব্রিফিং ২০২৬’ শীর্ষক সেমিনারে এ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়। সেমিনারে ব্যাংকিং, টেলিযোগাযোগ, প্রযুক্তি, সরকার ও শিক্ষাঙ্গণের প্রায় ১৫০ জন জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি, নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তা এবং সাইবার নিরাপত্তা পেশাজীবী অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, “সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে সাইবারস্টেশন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছে। তাদের তৈরি প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ আমার হয়েছে। এটি সাইবার ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি কার্যকর প্রতিরোধ ও মোকাবিলার কৌশল তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”
এছাড়া, বাংলাদেশের ডার্ক ওয়েবে তথ্য উন্মুক্ত হওয়ার ঝুঁকি এবং তা মোকাবিলার উপায় নিয়ে একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এই আলোচনায় অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পরামর্শক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহরিয়ার রহমান, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) স্পেশাল রেসপন্স ইউনিটের প্রধান মোহাম্মদ শামসুল হক, বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম সচিব (আইসিটি) মো. ইমরান খান এবং টেক স্পেশালিস্ট মাহতাব উদ্দিন আহমেদ। আলোচনায় তথ্যের অপব্যবহার প্রতিরোধ এবং এ ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সাইবারস্টেশনের সাইবার নিরাপত্তা সেবাবিষয়ক প্রধান মোহিব্বুল মোক্তাদীর তানিম বলেন, “যে ঝুঁকি আমরা দেখতে পাই না, তা আমরা সামলাতে পারি না। আমাদের লক্ষ্য, প্রতিষ্ঠানগুলো যেন বুঝতে পারে কোন তথ্য উন্মুক্ত হয়েছে এবং অপরাধীরা অপব্যবহার করার আগেই ব্যবস্থা নিতে পারে।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ