ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বরগুনায় প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের অভাব


বরগুনায় প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের অভাব

শিক্ষার্থীর সংখ্যা দুইজন, আর শিক্ষক পাঁচজন। কোথাও দেখা যাচ্ছে, পাঁচ শিক্ষার্থীর জন্য একাধিক শিক্ষক নিয়োজিত আছেন, আবার কোথাও দুপুরের পর শ্রেণিকক্ষ একেবারেই ফাঁকা। কোনো বিদ্যালয়ে হাজিরা খাতায় শিক্ষকদের স্বাক্ষর থাকলেও কর্মস্থলে তাদের উপস্থিতি নেই। বরগুনার সরকারি প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে শিক্ষকের অনুপস্থিতি, একাধিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একই কক্ষে পাঠদান এবং শিক্ষার নিম্নমানের অভিযোগের কারণে। বিদ্যালয় ভবন রয়েছে, শিক্ষক পদও মঞ্জুর হয়েছে; কিন্তু শিক্ষার্থী ধরে রাখা এবং মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করতে পারছে না অনেক প্রতিষ্ঠান। ফলে অভিভাবকদের একটি বড় অংশ সরকারি বিদ্যালয় ত্যাগ করে কিন্ডারগার্টেন ও মাদ্রাসার দিকে ঝুঁকছেন।

সম্প্রতি জেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্রে এমন উদ্বেগজনক বাস্তবতা উঠে এসেছে। বরগুনা সদর উপজেলার মধ্য পাঠাকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সুনসান সুন্দর ভবন ও সাজানো শ্রেণিকক্ষ থাকলেও শিক্ষার্থী মাত্র দুজন। পাঁচজন শিক্ষকের মধ্যে তিনজন উপস্থিত ছিলেন। প্রধান শিক্ষক বা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে পাওয়া যায়নি। পাশের চরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ছিল পাঁচজন। সেখানে দুই শিক্ষিকা উপস্থিত থাকলেও প্রধান শিক্ষক অনুপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসংখ্যার এই অসামঞ্জস্য কেবল জনবল ব্যবস্থাপনার প্রশ্ন নয়, বরং বিদ্যালয়ের কার্যকারিতা, পাঠদানের পরিবেশ এবং সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা জানিয়েছেন, এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার পেছনে যোগাযোগব্যবস্থার দুর্বলতা, আশপাশে বিকল্প শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠা এবং অভিভাবকদের পছন্দ পরিবর্তনের বিষয়ও রয়েছে।

আরও পড়ুন: সাংবাদিক আলিফ হত্যা: দুর্গাপুরে অপূর্ব নামের যুবক গ্রেপ্তার

আরও উদ্বেগজনক চিত্র দেখা গেছে বেতাগীর পূর্ব হোসনাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। চারজন শিক্ষকের মধ্যে দুজন উপস্থিত ছিলেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকাকে খালি শ্রেণিকক্ষে বেঞ্চের ওপর ঘুমিয়ে থাকতে দেখা যায়। অথচ হাজিরা খাতায় চারজন শিক্ষকের স্বাক্ষর ছিল। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির পাঁচ শিক্ষার্থীকে একই কক্ষে একসঙ্গে পাঠদান করছিলেন একজন শিক্ষক। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিভিত্তিক পাঠ্যক্রম কতটা আয়ত্ত করতে পারছে, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে।

দুপুর আড়াইটার দিকে উত্তর দেশান্তরকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষার্থী ছিল না। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মাত্র একজন শিক্ষক। পাশের চানমিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও শিক্ষার্থী উপস্থিতির চিত্র ছিল প্রায় একই রকম। দিনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে শ্রেণিকক্ষ শিক্ষার্থীশূন্য থাকার ঘটনা নিয়মিত কি না, তা যাচাই করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি অভিভাবক মহলের।

বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শিক্ষকদের কেউ যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, কেউ মাদ্রাসার প্রসার, আবার কেউ কিন্ডারগার্টেনের প্রতি অভিভাবকদের আগ্রহের কথা বলেছেন। তাঁদের মতে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রাক্‌-প্রাথমিক থেকেই ইংরেজি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়ে নেতিবাচক ধারণা এবং দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের প্রতিষ্ঠান হিসেবে সরকারি স্কুলকে দেখার প্রবণতাও অভিভাবকদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ আরও সরাসরি। তাঁদের মতে, শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতি, দুর্বল পাঠদান, নির্ধারিত সময়ের আগে বিদ্যালয় ত্যাগ এবং তদারকির ঘাটতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতি আস্থা কমিয়ে দিয়েছে। সন্তানের ভালো শিক্ষার প্রত্যাশায় বাড়তি খরচ করেও কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি করছেন অনেকে। কিছু অভিভাবককে সন্তানদের পড়াতে কয়েক কিলোমিটার দূরের প্রতিষ্ঠানে ছুটতে হচ্ছে। তাঁদের মতে, সরকারি বিদ্যালয়ে মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করা গেলে এভাবে শিক্ষার্থী হারানোর প্রবণতা কমানো সম্ভব।

আরও পড়ুন: সাংবাদিক আলিফের পরিবারকে ১ লাখ টাকা সহায়তা, স্ত্রীকে চাকরির আশ্বাস ডেপুটি স্পিকারের

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, বরগুনায় সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে ১ হাজার ৪৫টি। এর মধ্যে সরকারি বিদ্যালয় ৭৯৯টি। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী প্রায় ৮১ হাজার ৯০০ জন। শিক্ষক পদ মঞ্জুর রয়েছে ৫ হাজার ৪৭টি।

মধ্য পাঠাকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কামরুন নাহার বলেন, এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসতে পারে না। নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় শিক্ষার্থীরাও ভাগ হয়ে যাচ্ছে। চরপাড়া বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোছা. পারভীন জানান, শিক্ষার্থী কম হলেও শিক্ষকদের পুরো সময় বিদ্যালয়ে থাকতে হয়, পাশাপাশি শিক্ষকসংকটের সমস্যাও রয়েছে।

সচেতন এলাকাবাসী জানান, শিক্ষার্থী ধরে রাখতে এখন শুধু ভর্তি কার্যক্রম বা অবকাঠামো উন্নয়ন যথেষ্ট নয়। প্রতিটি বিদ্যালয়ে শিক্ষক উপস্থিতি নিশ্চিত করা, নিয়মিত ও শ্রেণিভিত্তিক পাঠদান, শূন্য পদ পূরণ, শিক্ষার্থীদের শেখার অগ্রগতি মূল্যায়ন এবং কার্যকর তদারকি জোরদার করতে হবে। হাজিরা খাতা ও বাস্তব উপস্থিতির মধ্যে অসংগতি থাকলে তদন্ত করে দায় নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ভিত্তিক শিক্ষার্থী উপস্থিতি, ঝরে পড়ার হার এবং শিখনফল প্রকাশের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

তারা বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য শিক্ষার প্রধান ভরসা। সেই প্রতিষ্ঠানেই যদি শিক্ষার্থী অনুপস্থিতি, দুর্বল পাঠদান ও জবাবদিহির ঘাটতি নিয়মিত চিত্র হয়ে ওঠে, তবে একটি প্রজন্মের শিক্ষার ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বরগুনার প্রাথমিক শিক্ষায় সংকট তাই শুধু শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার নয়, এটি শিক্ষার মান, প্রশাসনিক তদারকি ও জনআস্থার সংকট। এখন প্রশ্ন, বিদ্যালয়ের এই বাস্তবতা বদলাতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসন কত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।

আরও পড়ুন: মাদারীপুরে প্রেমের টানে বাংলাদেশে এলেন চীনা যুবক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এসএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রস্তুত হবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৬ পি.এম


এসএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রস্তুত হবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহাদী আমিন জানিয়েছেন, সরকার অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের জন্য এক বছর অপেক্ষা না করে, তিন মাসের মধ্যে পুনঃপরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘চ্যালেঞ্জ শিক্ষার্থী সম্মেলনে’ তিনি এ তথ্য প্রকাশ করেন।

মাহাদী আমিন উল্লেখ করেন, "এসএসসির ফলাফলই জীবনের সফলতা বা ব্যর্থতা নয়।" প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বছর এসএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীদের আগ্রহের ভিত্তিতে কাউকে ট্রেনিং প্রদান, কাউকে ব্যবসার জন্য ঋণ সহায়তা এবং কাউকে তৃতীয় ভাষায় দক্ষ করে বিদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে, লেখাপড়া চালিয়ে যেতে ইচ্ছুকদের জন্যও সেই সুযোগ থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাবেক রাষ্ট্রদূত আব্দুল মুত্তাকিম চৌধুরী ৯৭ বছর বয়সে ইন্তেকাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৬ পি.এম


সাবেক রাষ্ট্রদূত আব্দুল মুত্তাকিম চৌধুরী ৯৭ বছর বয়সে ইন্তেকাল

রাজনীতিবিদ, সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ব্যারিস্টার আব্দুল মুত্তাকিম চৌধুরী ইন্তেকাল করেছেন।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৯৭ বছর।

আব্দুল মুত্তাকিম চৌধুরী বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম প্রবক্তা ছিলেন। ১৯৭৩ সালে তিনি জাপান এবং ১৯৭৬ সালে জার্মানিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত হন।

সিলেটের কানিহাটিতে জন্মগ্রহণ করেন আব্দুল মুত্তাকিম চৌধুরী। তার পুরো নাম আবু তাহের আব্দুল মুত্তাকিম চৌধুরী। আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চৌধুরী আইএ পাস করেন। এ ছাড়া তিনি শান্তিনিকেতন, সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এবং লন্ডনের লিংকনস ইনে পড়াশোনা করেছেন।

পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ ও গণপরিষদের সদস্য ছিলেন আব্দুল মুত্তাকিম চৌধুরী। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে সিলেটের কুলাউড়া–বড়লেখা আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজবাড়ীতে চাঞ্চল্যকর কলেজ ছাত্র হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, ৩ আসামী গ্রেপ্তার, ৩ বাড়ীতে অগ্নিসংযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৬ পি.এম


রাজবাড়ীতে চাঞ্চল্যকর কলেজ ছাত্র হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, ৩ আসামী গ্রেপ্তার, ৩ বাড়ীতে অগ্নিসংযোগ

রাজবাড়ীতে কলেজ ছাত্র চৌধুরী ফুয়াদ হাসান (রোহান) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ এবং ৩ জন আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন, রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের বক্তারপুর গ্রামের মোঃ দুলাল সরদারের ছেলে ফিরোজ সরদার বাবু (৩৪), মোঃ গনি সরদারের ছেলে মোঃ রিয়াজ সরদার (২৩), এবং সমেসপুর গ্রামের মোঃ সিদ্দিক মন্ডলের ছেলে মোঃ শরীফ (২৭)। এদিকে, উত্তেজিত জনতা রোহান হত্যার বিচার দাবীতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এবং আলাল সরদার, লাল চাঁদ সরদার ও ফিরোজ সরদারের বাড়ীতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।

শনিবার দুপুরে রাজবাড়ী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে রাজবাড়ী পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন জানান, রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের ধুলদী রঘুনাথপুর গ্রামের মৃত রোকন উদ্দিন চৌধুরীর ছেলে মোঃ ফরহাদ চৌধুরী গত ০৫ অক্টোবর বিকাল ৪টার সময় এজাহার দায়ের করেন। তিনি জানান, তার ছেলে চৌধুরী ফুয়াদ হাসান (রোহান) অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মোবাইল ফোন কল পেয়ে রাজবাড়ী জেলার দাদশী ইউনিয়নের ধুলদী রঘুনাথপুর নিজস্ব বসতবাড়ী থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। এ ঘটনার পর তার পরিবার গত ০৬ অক্টোবর রাজবাড়ী সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-২৯১) করেন।

এরপর, গত ০৮ অক্টোবর বিকাল ৫টার সময় দাদশী ইউনিয়নের পাকুড়িকান্দা গ্রামের দিলীপ সেনের পরিত্যক্ত ডোবা থেকে বস্তাবন্দী ও পেট কাটা মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মোঃ ফরহাদ চৌধুরী বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। রাজবাড়ী সদর থানায় গত ০৯ অক্টোবর মামলা রুজু হয়। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং দাদশী ইউনিয়নের অধিবাসীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

পুলিশ সুপার আরও জানান, নিখোঁজ সংবাদ পাওয়ার পর পুলিশ বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়ে রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তদন্ত শুরু করে এবং বিশ্বস্ত সোর্স নিয়োগ করে। এরই ধারাবাহিকতায় তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজবাড়ী সদর থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি বিশেষ চৌকস আভিযানিক দল রাজবাড়ী জেলার দাদশী ইউনিয়ন ও তার আশেপাশের এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোর ৪টার সময় ফিরোজ সরদার বাবু, মোঃ রিয়াজ সরদার, মোঃ শরীফ মন্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করে। পুলিশ সুপার আরও জানান, প্রাথমিকভাবে জানা যায়, জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতা ও পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ডেকে নিয়ে গামছা ও টি-শার্ট দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। লাশ যেন ভেসে না উঠে, সেজন্য ধারালো চাকু দিয়ে পেট কেটে আলামত লোপাট ও লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে বস্তাবন্দী করে বালু ভর্তি বস্তা বেঁধে পরিত্যক্ত ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের দেখানো মতে ফুয়াদ হাসান (রোহান) হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও গামছা ফিরোজ সরদার বাবুর শয়নকক্ষ থেকে, শ্বাসরোধের কাজে ব্যবহৃত কালো টি-শার্ট মোঃ রিয়াজ সরদারের শয়নকক্ষ থেকে এবং রোহানের পরিহিত স্যান্ডেল দাদশী ইউনিয়নের বক্তারপুর এলাকায় বিনয় কুমার দাসের পুকুরের কচুরিপানার মধ্যে থেকে উদ্ধার করে জব্দ করা হয়। তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ফয়জুর রহমান জানান, হত্যার ঘটনায় ৩টি বাড়ীতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। জেলা পুলিশের সদস্য, ফায়ার সার্ভিসসহ আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মা হলেন নীলম মুনির, সন্তানের জন্মের খবর প্রকাশ্যে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৭ পি.এম


মা হলেন নীলম মুনির, সন্তানের জন্মের খবর প্রকাশ্যে

পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নীলম মুনিরের ঘরে এসেছে নতুন অতিথি, যা আনন্দের খবর। বিভিন্ন পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, সম্প্রতি নীলম পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। তবে, এ বিষয়ে অভিনেত্রী এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাতে পারেননি।

সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুসারে, নীলমের স্বামী মুহাম্মদ রশিদের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর টিকটক পোস্টের মাধ্যমে মা হওয়ার খবরটি প্রকাশিত হয়। ওই পোস্টে নবদম্পতিকে পুত্রসন্তানের জন্মের জন্য অভিনন্দন জানানো হয় এবং নবজাতকের সুস্বাস্থ্য ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করা হয়।

তবে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নীলম মুনির বা তার স্বামী এ বিষয়ে এখনও কোনো ঘোষণা দেননি। ফলে, অভিনেত্রীর ভক্তরা তার মুখ থেকে সুখবরটি শোনার অপেক্ষায় রয়েছেন।

উল্লেখ্য, পাকিস্তানি ড্রামা সিরিজ ‘দিল মম কা দিয়া’-তে উলফাত চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেন নীলম। এছাড়া, ‘কয়েদ-ই-তানহায়ে’, ‘কায়ামাত’, ‘কাহি দ্বিপ জালে’ সিরিজেও তাকে দেখা গেছে। নাটকের বাইরে, নীলম ‘ছুপান ছুপাই’, ‘রঙ নাম্বার ২’ এবং ‘চক্কর’-এ অভিনয় করেছেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দুবাইয়ে মুহাম্মদ রশিদের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর থেকেই এই অভিনেত্রীর ব্যক্তিজীবন নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। মা হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ায় তাকে ঘিরে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%