মোঃ লোকমান হোসেন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি,
০৯:৫০ পি.এম
বিএনপির চেয়ারপারসন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে।
রবিবার (১৬ আগস্ট) বিকেল ৫টায় দীঘিনালা সরকারি কলেজের হলরুমে সরকারি কলেজ ও কুজেন্দ্র মল্লিকা মডার্ন কলেজ ছাত্রদলের যৌথ উদ্যোগে এই আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের সময় বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া এবং মোনাজাত করা হয়। এছাড়াও উপস্থিত নেতাকর্মীরা তার রাজনৈতিক জীবন ও দেশের জন্য অবদানের কথা স্মরণ করেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দীঘিনালা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মো. মামুনুর রশিদ মামুন, সাধারণ সম্পাদক মো. ইমন আহমেদ, খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রদলের সদস্য মো. শামীম হোসেন, এবং কুজেন্দ্র মল্লিকা মডার্ন কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হোসেনসহ উপজেলা ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
দীঘিনালা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মো. মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, বেগম খালেদা জিয়া দেশের গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি আরো বলেন, তার জন্মবার্ষিকীতে আমরা তার আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া করেছি। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তার আদর্শ ও গণতান্ত্রিক চেতনা ধারণ করে মানুষের পাশে থেকে কাজ করবে।
পরে দেশ এবং জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে একটি বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুরের শিবচরে একই পরিবারের ১১ সদস্য রহস্যজনকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এ ঘটনায় অসুস্থ ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জনকে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। لیکن শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাদের মধ্যে রোববার (১৬ আগস্ট) চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, খাবারে বিষক্রিয়ার কারণে তারা অসুস্থ হয়ে থাকতে পারে। কিন্তু প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া অসুস্থতার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয় বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
সিদ্ধান্তটি শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের মগড়া গ্রামে ঘটেছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, শুক্রবার সকালে বাড়িতে রান্না শেষে পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে খাবার খেতে বসেন। খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে একে একে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে কয়েকজন জ্ঞান হারিয়ে ঘরের মধ্যে পড়ে যান। কারও শরীরে নড়াচড়ার শক্তি ছিল না, আবার কেউ ঠিকমতো কথাও বলতে পারছিলেন না।
ঘটনার সময় পরিবারের কর্তা নয়ন শেখ (৫৫) কাজের কারণে ঢাকায় ছিলেন। বাড়িতে ফোন করে বিভিন্নবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে আশপাশের লোকজনকে বিষয়টি জানিয়ে পরিবারটির সদস্যদের খোঁজ নিতে বলেন।
বিকেল ৪টার দিকে এক প্রতিবেশী বাড়িতে গিয়ে পরিবারটির অসুস্থ ও অচেতন সদস্যদের দেখতে পান। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। খবর পাওয়ার সাথে সাথেই নয়ন শেখও ঢাকা থেকে বাড়িতে ফিরে আসেন।
তবে রাতে বাড়িতে থাকা আরও কিছু সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদেরও হাসপাতালে নেওয়া হয়। এইভাবে, একই পরিবারের মোট ১১ সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
অসুস্থদের মধ্যে রয়েছেন নয়ন শেখের মেয়ে মনিকা আক্তার (২৭), তার স্বামী শহিদুল শিকদার, অন্যদিকে সাগরিকা আক্তার (২৫), ইতি আক্তার (২০), সুমাইয়া আক্তার (২২), তার স্বামী আসাদ মোড়ল, নয়ন শেখের ছোট মেয়ে নুসরাত জাহান (১৪), নয়ন শেখ (৫৫) ও আমেনা বেগম (৫০)। পরিবারের অন্যান্য দুই সদস্যের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
অসুস্থ সাগরিকা আক্তার বলেন, সকালে রান্না করে পরিবারের সবাই একসঙ্গে খাবার খেতে বসেছিলেন। খাওয়ার একপর্যায়ে কয়েকজন জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। শরীরে এমন দুর্বলতা দেখা দেয় যে নড়াচড়া করা কিংবা ঠিকমতো কথা বলাও সম্ভব ছিল না।
তিনি বলেন, খবর পেয়ে তার বাবা নয়ন শেখ ঢাকা থেকে বাড়িতে ফিরে আসেন। পরে ঘরে থাকা সব খাবার ফেলে দেওয়া হয়। রাতে তার ফুপু নতুন করে রান্না করেন। কিন্তু ওই খাবার খাওয়ার পর তার বাবা ও ফুপুও একইভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
মনিকা আক্তার সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, খাবার বা পানিতে কেউ কিছু মিশিয়ে দিতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ওয়াসিফ বলেন, অসুস্থ অবস্থায় পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য হাসপাতালে আসেন। প্রাথমিকভাবে খাবারে বিষক্রিয়ায় সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরেই অসুস্থতার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ ঘটনায় পরিবারের রান্না করা খাবার ও পানির বিষয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে এর তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন পরিবারটির সদস্যরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুর জেলার সব খেলার মাঠ পুনরুদ্ধার করে খেলাধুলার উপযোগী করে তোলা হবে, এ তথ্য জানিয়েছেন মাদারীপুর-৩ (কালকিনি-ডাসার) আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার।
রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেল বেলা কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজ মাঠে আয়োজিত ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এমপি খোকন তালুকদার উল্লেখ করেন, “প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় পুরো মাদারীপুর জেলায় যতগুলো খেলার মাঠ রয়েছে, সেগুলো পুনরুদ্ধার করা হবে। মাঠগুলোকে আবার খেলাধুলার উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই।”
তিনি আরও বলেন, নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ সৃষ্টি হলে তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্বের গুণাবলি ও পারস্পরিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি পাবে। তাই স্থানীয় পর্যায়ে খেলাধুলার পরিবেশ তৈরি ও ক্রীড়া অবকাঠামোর উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফারুক বেপারী, কালকিনি উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক বেপারী, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন মুন্সি, কালকিনি উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম হাওলাদারসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘জাতীয় মৎস্য পদক-২০২৬’ এ স্বর্ণপদক পেয়েছেন খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার মৎস্যচাষি মো. শাহাজাহান। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকার নগদ পুরস্কারের চেকও দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (১৬ আগস্ট) কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের জর্জ ইনস্টিটিউট মিনি স্টেডিয়াম মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তার হাতে স্বর্ণপদক ও পুরস্কারের চেক তুলে দেওয়া হয়।
দীঘিনালা উপজেলার কবাখালী ইউনিয়নের মুসলিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা শাহাজাহান দীর্ঘদিন ধরে মৎস্য চাষ ও পোনা উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। ১৯৯৮ সাল থেকে তিনি পোনা উৎপাদন করে আসছেন। তার উৎপাদিত পোনা দীঘিনালা ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার মৎস্যচাষিদের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ছয়টি পুকুরে মোট ৩ দশমিক ২ হেক্টর জলায়তনে ১২ মেট্রিক টন কার্পজাতীয় মাছের পোনা উৎপাদন করেন শাহাজাহান। তিনি পাশাপাশি ১ দশমিক ২১ হেক্টর জলাশয়ে তেলাপিয়া ও কার্পের মিশ্রচাষ করে ২৮ দশমিক ৮ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন করেন।
তার মৎস্য খামারে স্থায়ীভাবে ছয়জন এবং অস্থায়ীভাবে আরও ১২ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। তার সফলতায় অনুপ্রাণিত হয়ে স্থানীয় অনেকেই মাছ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। এই বিষয়ে তার পরামর্শে নতুন নতুন মৎস্য খামার গড়ে উঠছে বলে জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ।
দীঘিনালা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শরৎ কুমার ত্রিপুরা বলেন, মৎস্য উৎপাদন ও পোনা সরবরাহের ক্ষেত্রে শাহাজাহানের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও সাফল্য প্রশংসনীয়। তিনি শুধু নিজে সফল হননি, তার কার্যক্রমের মাধ্যমে স্থানীয় অনেক মানুষ মাছ চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে তার এ স্বীকৃতি দীঘিনালার মৎস্য খাতের জন্যও গর্বের বিষয়। যদি ভবিষ্যতে তার মতো উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা যায়, তাহলে মৎস্য উৎপাদন আরও বাড়বে।
শাহাজাহানের এ অর্জনে দীঘিনালার মৎস্যচাষি ও স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর মতে, জাতীয় পর্যায়ে এ স্বীকৃতি শুধু দীঘিনালার সুনামই বাড়াবে না, বরং বেকার যুবকদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতেও উৎসাহিত করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের মনসুরাবাদ ওয়াপদা কলোনির একটি বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার হওয়া নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ১৫ নেতাকর্মীর মধ্যে পাঁচ নারী আইনজীবীর জামিন মঞ্জুর করেছে আদালত। অন্যদিকে, অপর ১০ আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠিয়ে দেয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রবিবার, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলমগীর হোসেনের আদালত শুনানি শেষে জামিন পাওয়া পাঁচ নারী আইনজীবী হলেন—চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য অ্যাডভোকেট উম্মে হাবিবা, দক্ষিণ জেলা যুব মহিলা লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কামেলা খানম, নগর মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্য সুজলা অন্তরা, নগর বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাবেক মহিলাবিষয়ক সম্পাদক শারমিনা ইয়াসমিন নিশু ও আয়েশা হেভেন।
এর আগে, শনিবার (১৫ আগস্ট) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডবলমুরিং থানার মনসুরাবাদ ওয়াপদা কলোনির একটি বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ১৫ আগস্ট পালন করার জন্য ওই বাসায় জড়ো হয়েছিলেন। এই ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার পর, আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে পাঁচ নারী আইনজীবীর জামিন মঞ্জুর করেন এবং অপর ১০ আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ