প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাদারীপুরের শিবচরে একই পরিবারের ১১ সদস্য রহস্যজনকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এ ঘটনায় অসুস্থ ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জনকে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। لیکن শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাদের মধ্যে রোববার (১৬ আগস্ট) চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, খাবারে বিষক্রিয়ার কারণে তারা অসুস্থ হয়ে থাকতে পারে। কিন্তু প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া অসুস্থতার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয় বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
সিদ্ধান্তটি শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের মগড়া গ্রামে ঘটেছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, শুক্রবার সকালে বাড়িতে রান্না শেষে পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে খাবার খেতে বসেন। খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে একে একে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে কয়েকজন জ্ঞান হারিয়ে ঘরের মধ্যে পড়ে যান। কারও শরীরে নড়াচড়ার শক্তি ছিল না, আবার কেউ ঠিকমতো কথাও বলতে পারছিলেন না।
ঘটনার সময় পরিবারের কর্তা নয়ন শেখ (৫৫) কাজের কারণে ঢাকায় ছিলেন। বাড়িতে ফোন করে বিভিন্নবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে আশপাশের লোকজনকে বিষয়টি জানিয়ে পরিবারটির সদস্যদের খোঁজ নিতে বলেন।
বিকেল ৪টার দিকে এক প্রতিবেশী বাড়িতে গিয়ে পরিবারটির অসুস্থ ও অচেতন সদস্যদের দেখতে পান। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। খবর পাওয়ার সাথে সাথেই নয়ন শেখও ঢাকা থেকে বাড়িতে ফিরে আসেন।
তবে রাতে বাড়িতে থাকা আরও কিছু সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদেরও হাসপাতালে নেওয়া হয়। এইভাবে, একই পরিবারের মোট ১১ সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
অসুস্থদের মধ্যে রয়েছেন নয়ন শেখের মেয়ে মনিকা আক্তার (২৭), তার স্বামী শহিদুল শিকদার, অন্যদিকে সাগরিকা আক্তার (২৫), ইতি আক্তার (২০), সুমাইয়া আক্তার (২২), তার স্বামী আসাদ মোড়ল, নয়ন শেখের ছোট মেয়ে নুসরাত জাহান (১৪), নয়ন শেখ (৫৫) ও আমেনা বেগম (৫০)। পরিবারের অন্যান্য দুই সদস্যের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
অসুস্থ সাগরিকা আক্তার বলেন, সকালে রান্না করে পরিবারের সবাই একসঙ্গে খাবার খেতে বসেছিলেন। খাওয়ার একপর্যায়ে কয়েকজন জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। শরীরে এমন দুর্বলতা দেখা দেয় যে নড়াচড়া করা কিংবা ঠিকমতো কথা বলাও সম্ভব ছিল না।
তিনি বলেন, খবর পেয়ে তার বাবা নয়ন শেখ ঢাকা থেকে বাড়িতে ফিরে আসেন। পরে ঘরে থাকা সব খাবার ফেলে দেওয়া হয়। রাতে তার ফুপু নতুন করে রান্না করেন। কিন্তু ওই খাবার খাওয়ার পর তার বাবা ও ফুপুও একইভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
মনিকা আক্তার সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, খাবার বা পানিতে কেউ কিছু মিশিয়ে দিতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ওয়াসিফ বলেন, অসুস্থ অবস্থায় পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য হাসপাতালে আসেন। প্রাথমিকভাবে খাবারে বিষক্রিয়ায় সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরেই অসুস্থতার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ ঘটনায় পরিবারের রান্না করা খাবার ও পানির বিষয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে এর তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন পরিবারটির সদস্যরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন