ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সময়সূচি জানালেন অর্থমন্ত্রী


নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সময়সূচি জানালেন অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল বা বেতন কাঠামো এ বছরের মধ্যেই বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে।

এ কথাটি ভাইরাল আরটিভি নিউজের মাধ্যমে জানিয়েছেন তিনি, যখন সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন, ২০২৫’-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, কমিশনের অনেকগুলো দিক আছে এবং আমরা সবগুলো দিককে বিবেচনা করছি। আজ অনেক আলোচনা হয়েছে, যা দীর্ঘ ছিল।

আরও পড়ুন: মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় হানিফসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে আজ রায়

তবে তিনি আরও বলেছেন, অধিকতর আলোচনার প্রয়োজন আছে এবং এ কারণে পরে আমরা আবার বসবো।

অর্থমন্ত্রীর মতে, যখন ফাইনাল সিদ্ধান্ত আসবে, তখন সকল কিছু আপনাদের সামনে উপস্থাপন করা হবে।

নবম পে-স্কেল এ বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন হবে কি না, সেই প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, এটি এ বছরের মধ্যেই হবে, নিশ্চিতভাবে।

তবে, এক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে আরও আলোচনা প্রয়োজন বলেও জানান।

আরও পড়ুন: ১২৫তম প্রাইজবন্ডের ড্র রোববার, প্রথম পুরস্কার ৬ লাখ টাকা

তিনি বলেন, অধিকতর আলোচনা হবে, কারণ বিভিন্ন বিষয় আলোচনার প্রেক্ষিতে আলোচনা সাপেক্ষে দরকার।

জুডিশিয়ারি সংক্রান্ত সভার আলোচনা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেছেন, প্রধান বিষয় পে-কমিশনের হলেও এর সঙ্গে আরও কিছু বিষয় যুক্ত থাকবে।

এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে, যা বললেন মন্ত্রী, তা হলো, পে-কমিশনের সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের ওপর চাপ পড়তে পারে কি না, এর উত্তর ছিল, ‘একটু একটু।’

আরও পড়ুন: ডিসেম্বরে খুলছে পঞ্চবটি-মুক্তারপুর দ্বিতল সড়ক, টোল নির্ধারণ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাঙামাটিতে পুলিশের বিশেষ অভিযান: মাদকসেবী ও ওয়ারেন্টভুক্তসহ গ্রেপ্তার ১৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

‎মোঃ সোহেল রানা, রাঙামাটি প্রতিনিধি

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৪৩ পি.এম


রাঙামাটিতে পুলিশের বিশেষ অভিযান: মাদকসেবী ও ওয়ারেন্টভুক্তসহ গ্রেপ্তার ১৬

রাঙামাটিতে কোতয়ালী থানার পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদকসেবী, মাদকের সঙ্গে আটক ব্যক্তি এবং সিআর ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামিসহ মোট ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম-এর নির্দেশনায় কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জসীম উদ্দীনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি আভিযানিক দল শহরের রিজার্ভ বাজার, শহীদ মিনার, মাঝের বস্তি ও তবলছড়ি এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

পুলিশ জানাচ্ছে, অভিযানে ১১ জনকে মাদক সেবনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া তিনজনকে মাদক সেবনের সময় মাদকসহ আটক করা হয়েছে। অপর দুজনকে সিআর ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মাদক সেবনের অভিযোগে যে ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তারা হলেন—মোর্শেদ আলম, নুর হোসেন, এনামুল কবির, জয় চন্দ্র, নাহিদ হাসান সজিব প্রধান, সোহেল ওরফে কালা, মোমিন উদ্দিন ওরফে মুন্না, ওমর ফারুক, সাইদুল ইসলাম, মেহেদী ও সাগর।

এদিকে, মাদক সেবন ও মাদকসহ গ্রেপ্তার হয়েছেন মোঃ সালাম, অর্নব ত্রিপুরা ও অজয় ত্রিপুরা। অন্যদিকে সিআর ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার হয়েছেন মোঃ আমজাদ হোসেন ও শ্যামলা দাশ।

কোতয়ালী থানার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পর বিধি মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

পুলিশের এই বিশেষ অভিযান শহরে মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নোয়াখালীতে হেযবুত তওহীদের সংবাদ সম্মেলন, হেফাজতের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও হুমকির অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নোয়াখালী প্রতিনিধি

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৪৪ পি.এম


নোয়াখালীতে হেযবুত তওহীদের সংবাদ সম্মেলন, হেফাজতের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও হুমকির অভিযোগ

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, মিথ্যাচার, গুজব ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলেছেন হেযবুত তওহীদের শীর্ষ নেতা ইমাম হোসাইন মোহম্মদ সেলিম।

তিনি সোমবার (১৭ আগষ্ট) দুপুরে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর শহীদি জামে মসজিদ কনফারেন্স হলে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এই অভিযোগ করেন।

এ সময়ে হেযবুত তওহীদের এই শীর্ষ নেতা বলেন, হেফাজতে ইসলামের ব্যানারে সম্প্রতি নোয়াখালী জেলা স্কুলের মাঠে একটি ধর্মীয় সমাবেশের আয়োজন করা হয়। উক্ত সমাবেশে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক মিথ্যাচার, হুমকি, উসকানি, গালাগালি ও বেআইনি বক্তব্য রাখেন বক্তারা। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘সারা দেশে হেযবুত তওহীদের কবর রচনা করা হবে’, ‘সরকার হেযবুত তওহীদকে নিষিদ্ধ না করলে সারাদেশ অচল করে দেয়া হবে’, ‘হেযবুত তওহীদের আস্তানা গুড়িয়ে দেয়া হবে’—এরকম বহু বক্তব্য সেখানে রাখা হয়, যেগুলো সম্পূর্ণরূপে দেশের আইন ও সংবিধানপরিপন্থী।

ইমাম সেলিম আরো অভিযোগ করেন, কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক এই গোষ্ঠীটি দেশের বিভিন্ন জায়গায় হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। তারা মিথ্যা হ্যান্ডবিল রচনা করে এবং তা হাটে-বাজারে, মসজিদে-মাদ্রাসায় বিতরণ করছে, জনগণকে বিভ্রান্ত করে যাচ্ছে। তারা সভা-সমাবেশে, মসজিদের মিম্বারে, শুক্রবার খুতবার বয়ানে এবং ওয়াজের মঞ্চে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে মুসল্লিদেরকে ক্ষিপ্ত করে তোলার চেষ্টা করছে। এই অবস্থায় সংগঠনের নেতা-কর্মীদের জান-মাল, বাড়িঘর, সংগঠনের কার্যালয়, স্থাপনা ও উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের উপর যে কোনো সময় হামলা হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

এ সময়ে সংগঠনের মতাদর্শ প্রচার ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার স্বাধীনতা, হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ, নেতা-কর্মীদের জানমাল ও স্থাপনার নিরাপত্তাসহ বেশ কিছু দাবি তুলে ধরেন ইমাম হোসাইন মোহম্মদ সেলিম। মতবিনিময় সভায় নোয়াখালী জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক ও মাল্টিমিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ নিয়ে জাতিসংঘের সতর্কতা, যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৪৬ পি.এম


বাংলাদেশ নিয়ে জাতিসংঘের সতর্কতা, যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

 

জাতিসংঘ সম্প্রতি বাংলাদেশে ক্রমশ আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ সংগঠন আল-কায়েদা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে বলে সতর্ক করেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ‘অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যংশনস মনিটরিং টিম’-এর এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন, ২০২৫’-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "আমরা এগুলো আমলে নিচ্ছি না, রিপোর্টও এখনও পড়িনি। সেখানে হয়তো কিছু অবজারভেশন থাকতে পারে। আমি না দেখে বলতে পারবো না।"

এ বিষয় নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, "আমি যতটুকু শুনেছি পত্রিকার অন্তরে, সেখানে বলা হয়েছে যে, তারা একটা এজাম্পশন করেছে। অনুমান করেছে যে এরকম হতে পারে। তো অনুমাননির্ভর রিপোর্টের ওপর আমরা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছি না।"

এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তার দপ্তর পরিবর্তনের গুঞ্জনের বিষয়ে জানতে চান সাংবাদিকরা। জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, "আমিও গুঞ্জন শুনতেছি।"

উল্লেখ্য, সম্প্রতি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশে আল-কায়েদার তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল-কায়েদা বাংলাদেশে নিজেদের স্থায়ী ঘাঁটি ও গোপন সেল গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।

জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আফগানিস্তানে আল-কায়েদার অবস্থান ও সক্ষমতা এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে। সংগঠনটির ভারতীয় উপমহাদেশীয় শাখা ‘আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট’ (একিউআইএস)ও খণ্ডিত একটি গোষ্ঠী থেকে ধীরে ধীরে আঞ্চলিক সংগঠনে রূপ নিয়েছে। তারা এখন বড় ইউনিটের পরিবর্তে ছোট ও বিচ্ছিন্ন সেল গঠন করে রসদ সরবরাহ এবং আর্থিক নেটওয়ার্ক বিস্তারের চেষ্টা করছে।

প্রতিবেদনে আল-কায়েদা ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (একিউআইএস)-এর কর্মকাণ্ডের একটি উদাহরণ হিসেবে দিল্লির লাল কেল্লায় হামলার কথা বলা হয়েছে। গত বছরের নভেম্বরের ওই হামলার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে সংগঠনটিকে দায়ী করা হয়।

এ প্রসঙ্গে বর্ণনার এক পর্যায়ে বাংলাদেশেও একিউআইএস-এর সেল বা ছোট সাংগঠনিক ইউনিট প্রতিষ্ঠার চেষ্টা নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংগঠনটি বাংলাদেশকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউএনওর সরেজমিন তদন্তে ভাণ্ডারিয়ার প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতা ও অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ, গঠন হলো তদন্ত কমিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৫৪ পি.এম


ইউএনওর সরেজমিন তদন্তে ভাণ্ডারিয়ার প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতা ও অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ, গঠন হলো তদন্ত কমিটি

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া থানা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

মনে হচ্ছে, নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে মনগড়া রেজোলিউশন তৈরি, আর্থিক অনিয়ম, শিক্ষকদের মানসিকভাবে হয়রানি এবং নারী শিক্ষকের পোশাক নিয়ে প্রকাশ্যে কটূক্তির মতো একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে। এসব অভিযোগের পর ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. হাসিবুল হাসান তদন্ত করেছেন।

রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে ইউএনও বিদ্যালয়ে যান। সেখানে তিনি অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগী শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেন। অভিযোগের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করেন। ইউএনও তদন্তকালে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং মানসিক হয়রানি তুলে ধরেন শিক্ষকেরা।

বিদ্যালয়ের নারী শিক্ষক সেলিনা আক্তার অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক প্রকাশ্যে তার পোশাক নিয়ে কটূক্তি করেছেন। পাশাপাশি তার অভ্যন্তরীণ বেতন বন্ধ রাখার অভিযোগও করেছেন। এইসব কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক কষ্টে রয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

শিক্ষকদের অভিযোগ রয়েছে যে বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের সঠিক হিসাব সংরক্ষণ করা হয় না। তারা জানান, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত রশিদ ও যথাযথ ভাউচার ছাড়াই বিদ্যালয়ের বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। ওই অর্থের ব্যয় ও হিসাবের যথাযথ উপস্থাপন করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন শিক্ষকরা।

অন্যদিকে, সহকারী শিক্ষকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন ভাউচারে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। কিছু শিক্ষক স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক কাজে বাধার অভিযোগে অভিযুক্ত করা এবং সামাজিকভাবে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগে আরও উল্লেখিত হয়েছে যে, নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে মনগড়া রেজোলিউশন ও বিভিন্ন নথিপত্র তৈরি করে শিক্ষকদের হয়রানি করা হয়েছে। শিক্ষক শ্যামল কৃষ্ণ হাওলাদারের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হলেও তা ফেরত দেওয়া হয়নি। একইভাবে সহকারী প্রধান শিক্ষক হামিদা বেগমের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারীরা দাবি করেন, পরে বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মো. শাহ আলমের স্বাক্ষর জাল করে সহকারী প্রধান শিক্ষক হামিদা বেগমের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। ওই মামলার পর তার সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তখন থেকে তিনি প্রায় পাঁচ মাস ধরে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম থেকে দূরে রয়েছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয় যে, ফারজানা আক্তার নিপা নামের একজনকে নিয়মবহির্ভূতভাবে প্যারা-টিচার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের প্রাইভেট ও কোচিং পড়তে বাধ্য করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, ওই কোচিং থেকে প্রধান শিক্ষক কমিশন হিসেবে অর্থ গ্রহণ করতেন।

এদিকে, ২০২৩ সালে বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি লিয়াকত আলী তালুকদারের করা মামলায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের তদন্তভার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ওপর দেওয়া হয়েছিল। তবে অভিযোগকারী শিক্ষকরা দাবি করেন, তদন্ত শেষে অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে।

শিক্ষকদের অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের টিউশন ফি ও অন্যান্য তহবিলের অর্থ নিয়ে। তারা দাবি করেন, প্রতিদিন শিক্ষার্থী ও অন্যান্য উৎস থেকে জমা হওয়া অর্থ প্রধান শিক্ষক নিজ বাসায় নিয়ে যান এবং স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানালে অভ্যন্তরীণ বেতন বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া বিদ্যালয়ের স্থায়ী ব্যাংক অ্যাকাউন্ট না খুলে প্রধান শিক্ষক নিজে একক নামে অ্যাকাউন্ট খুলে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীরা দাবি করেন, ওই অ্যাকাউন্টে বিদ্যালয়ের অর্থ জমা ও উত্তোলনের বিষয় সম্পর্কে তথ্য জানানো হয়নি।

শিক্ষার্থীদের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময়ও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের টিসি বা ছাড়পত্রের জন্যও অর্থ আদায় করার অভিযোগ রয়েছে।

বিদ্যালয়ের সংস্কার ও অন্যান্য কাজের কথা বলেও শিক্ষকদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব অর্থের যথাযথ হিসাব বা ব্যবহার দেখানো হয়নি।

শিক্ষকদের অভিযোগ, এসব অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারী কর্মকাণ্ডের কারণে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। উল্লেখযোগ্য যে, প্রধান শিক্ষক মো. মজিবুর রহমান তদন্তে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র উপস্থাপন করতে পারেননি। তিনি জানান, অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্যতা প্রশাসনিক তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. হাসিবুল হাসান জানিয়েছেন, অভিযোগগুলি পর্যালোচনা করে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি আরও অধিকতর তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি জানান, তদন্ত কমিটি আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%