বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:৩২ পি.এম
ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধ কখন শেষ হবে
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন যে, দীর্ঘ ছয় মাস ধরে চলমান ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আগামী নভেম্বরে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরই শেষ হবে। তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার হুমকিও দিয়েছেন।
বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, তেহরান নভেম্বরের নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। ওই নির্বাচনের মাধ্যমে মার্কিন কংগ্রেসে রিপাবলিকান পার্টির নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে কি না, তা নির্ধারিত হবে।
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘নির্বাচনের পরই যুদ্ধ শেষ হবে, কারণ ইরান আর বেশিদিন টিকে থাকতে পারবে না।’
যদিও এর আগে ট্রাম্প যুদ্ধ শেষ করার জন্য একাধিক সময়সীমা নির্ধারণ করেছিলেন।
তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ হোয়াইট হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে ব্যক্তিগতভাবে সতর্ক করেছেন যে, তার প্রেসিডেন্টের মেয়াদের শেষ পর্যন্তও এই যুদ্ধ চলতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার হুমকি
এদিকে, ট্রাম্প ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের কাছে ভূগর্ভস্থ দুটি সুড়ঙ্গ কমপ্লেক্স থাকা শক্তিশালী স্থাপনা ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে’ হামলার হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেন, সেখানে ‘সামান্য তৎপরতা’ দেখা যাচ্ছে এবং ইরানকে সতর্ক থাকতে হবে।
অন্যদিকে, ইরান জানিয়েছে, বুধবার তারা গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজের কাছে ১০টি জাহাজে হামলা চালিয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র পাঁচটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার ডুবিয়ে দেয়। পাল্টাপাল্টি এসব হামলায় হরমুজ প্রণালির নৌ চলাচল আরও ব্যাহত হয়েছে।
একই সময়ে, ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাতও তীব্র হয়েছে। ইয়েমেনের সরকারি সামরিক সূত্রের দাবি, হুতিরা লোহিত সাগরের উপকূলীয় শহর মোকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এবং কৌশলগত হানিশ দ্বীপপুঞ্জে হামলা চালাচ্ছে। তারা বাব এল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণে আরও প্রভাব বিস্তারের দিকে এগোচ্ছে।
জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের কারণে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে রয়েছে। সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খামিস মুশাইত শহরে ২৪ ঘণ্টায় চতুর্থবারের মতো জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে হুতিদের হামলায় সৌদির চারটি দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরে অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন।
ইরান যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়িয়েছে লোহিত সাগরও
ইয়েমেনে সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত হুতিদের মধ্যে গত কয়েক দিনে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর নতুন করে তৈরি হয়েছে ঝুঁকি। ইয়েমেনের কয়েকটি সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, হুতিরা লোহিত সাগর উপকূলের শহর মোকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। একই সঙ্গে কৌশলগত হানিশ দ্বীপপুঞ্জে হামলা চালাচ্ছে তারা।
অন্যদিকে, ইয়েমেন সরকারের বাহিনী ও তাদের মিত্ররা বাব এল-মান্দেব প্রণালির কাছাকাছি দক্ষিণে ধুবাব এলাকায় সরে যাচ্ছে। প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ নিতে ধুবাব ও এর বিপরীতে অবস্থিত পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা জনসেবা এবং কর্মক্ষেত্রে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রশিক্ষণার্থীদের অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা তাদের নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান এবং দেশের কল্যাণে অবদান রাখতে হবে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট (নিমকো)-এর সেমিনার কক্ষে দশম গ্রেড কর্মকর্তাদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ পাঠ্যধারার সমাপন ও সনদ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে তথ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সময়ে প্রশাসন ও কর্মক্ষেত্রে দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন যে, তাদের অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রতিষ্ঠান ও দেশের কল্যাণে অবদান রাখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করেন প্রতিমন্ত্রী। এর আগে, প্রশিক্ষণের বিভিন্ন বিষয়ে সেরা প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে স্মারক (ক্রেস্ট) তুলে দেন তিনি।
সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের (বিসিটিআই) প্রধান নির্বাহী আবুল কালাম মোহাম্মদ শামসুদ্দিন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
এতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মুহম্মদ হিরুজ্জামান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এসআরবির সঙ্গে র্যাবের কোনো সম্পর্ক নেই। নতুন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠন করা হচ্ছে র্যাব বিলুপ্ত হওয়ার পর। তিনি জানান, রাষ্ট্রীয় সম্পদ অপচয় না করে নতুন সংস্থায় সেগুলো হস্তান্তর করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ নিয়ে আলোচনা চলাকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব মন্তব্য করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
মন্ত্রী বলেন, র্যাব বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রতিশ্রুতির অংশ। বিভিন্ন পক্ষের দাবির প্রেক্ষিতে র্যাব বিলুপ্ত করা হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, "এই বিল যতই বিলম্বিত হবে, র্যাব কিন্তু অস্তিত্ব ঠিকই রয়ে যাবে। এখন বিরোধীদলীয় সদস্যরা কি তা-ই চান?"
বিরোধী দলের বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, বিলটি নিয়ে পর্যাপ্ত আলোচনা ও পরামর্শ হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে খসড়া প্রকাশের পর সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, সংসদে বিলটি উত্থাপনের পর চার-পাঁচ কার্যদিবস আলোচনা হয়েছে। স্থায়ী কমিটিতেও আলোচনা হয়েছে এবং বাইরের বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়া হয়েছে। এসব মতামত বিবেচনায় নিয়েই বিলটি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
তিনি জানান, স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদনে বিরোধী সদস্যদের প্রস্তাব অনুযায়ী সংশোধনী গ্রহণ করা হয়েছে।
এসআরবির সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে কিভাবে নিষ্পত্তি হবে—এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিলের ধারা ২৪-এ অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। তবে এটি বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য।
মন্ত্রী বলেন, অপরাধে জড়িত হলে সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ধারা ২১-এও এ বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কর্তব্যরত অবস্থায় মাতাল বা নেশাগ্রস্ত থাকা, দায়িত্ব পালনে অনুপস্থিত থাকা, পেট্রোল ডিউটিতে না যাওয়া, আইনসংগত দায়িত্ব পালনে অস্বীকৃতি জানানো কিংবা কোনো সদস্যকে আঘাত করার মতো বিষয়গুলো শৃঙ্খলাভঙ্গের আওতায় পড়বে। এসব ক্ষেত্রে বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যদিও কোনো সদস্য অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
গ্রেপ্তারের পর আসামিকে কোথায় নেওয়া হবে—বিরোধী দলের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গ্রেপ্তারের পর আসামিকে অবিলম্বে নিকটস্থ থানায় হস্তান্তর করা হবে।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি ও জব্দ করা আলামত অনতিবিলম্বে নিকটস্থ থানা কর্তৃপক্ষের হেফাজতে সোপর্দ বা হস্তান্তর করতে হবে এবং এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে দিতে হবে।
র্যাব বিলুপ্তির পর এসআরবি গঠন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নতুন একটি ব্যাটালিয়ন গঠন করা হবে, যার নাম হবে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন। এর সঙ্গে র্যাবের কোনো সম্পর্ক থাকবে না।
তিনি উল্লেখ করেন, র্যাবের অস্ত্র, সরঞ্জাম, গোয়েন্দা সরঞ্জামসহ রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট বা নিলাম করে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এসব সম্পদ নতুন সংস্থা কিংবা প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানে হস্তান্তর করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, "এত অস্ত্রশস্ত্র, এত ইকুইপমেন্ট, এত ইন্টেলিজেন্স ইকুইপমেন্ট, এত সম্পদ—এগুলো কোথায় যাবে? কোথাও না কোথাও তো যাবে। রাষ্ট্রের সম্পদ।"
তিনি রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় না করার কথা উল্লেখ করে বলেন, নতুন বাহিনী গঠনের সময় বিদ্যমান সম্পদ ব্যবহার করা হবে। প্রয়োজনে সেগুলো আরো উন্নত করা হবে। এতে নতুন করে একই ধরনের সরঞ্জাম কিনে অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হবে না।
দেশে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে সাইবার স্পেসের সম্পৃক্ততা বাড়ছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাইবার অপরাধ মোকাবেলায় নতুন একটি ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্টে সংশোধনী আনার প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি পুলিশের অধীনে ‘সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট’ নামে একটি নতুন ইউনিট গঠন করা হবে।
র্যাবের আইনগত ভিত্তি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০০৩ বা ২০০৪ সালে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইনের একটি ধারার অধীনে র্যাব গঠন করা হয়েছিল। তার দাবি, ওই আইনে র্যাবের জন্য পূর্ণাঙ্গ আইনগত কাঠামো ছিল না এবং দীর্ঘদিন অ্যাডহক ভিত্তিতে বাহিনীটি পরিচালিত হয়েছে।
এ কারণে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন থেকে র্যাবকে বাদ দিয়ে তা বিলুপ্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ১৯৭৯ সালের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অর্ডিন্যান্সটি ইংরেজিতে ছিল এবং এতে কিছু অস্পষ্টতা রয়েছে। সেটি বাংলায় অনুবাদ করে নতুন আইন হিসেবে আনা হচ্ছে। একই সঙ্গে পুরোনো অর্ডিন্যান্সটি রহিত করা হবে।
তিনি বলেন, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইনে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের অংশটি বাদ দেওয়া হয়েছে। কারণ র্যাব বিলুপ্তির সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনও সংশোধন করা জরুরি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, র্যাব বিলুপ্ত করা ছিল সরকারের প্রতিশ্রুতি। তবে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সময়ের চাহিদা বিবেচনায় নতুন একটি বাহিনী গঠনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। সেই প্রয়োজন থেকেই এসআরবি গঠন করা হচ্ছে।
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:০৩
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়ার সময় কোস্টগার্ড কর্তৃক তিন ট্রাক ইউরিয়া সারসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া ঘাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়।
বৃহস্পতিবার, কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এই তথ্য প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১০ সেপ্টেম্বর রাত ১টার দিকে সীতাকুণ্ড থানার বাঁশবাড়িয়া ঘাটসংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায় কোস্ট গার্ড স্টেশন ভাটিয়ারী। এই অভিযানের সময় মিয়ানমারে অবৈধভাবে পাচারের উদ্দেশ্যে ট্রাক থেকে কার্গো বোটে সার স্থানান্তরের সময় দুইজনকে আটক করা হয়।
অভিযানে প্রায় ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ৭০০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়েছে। এসব বস্তায় মোট ৩৫ হাজার কেজি সার ছিল। একই সঙ্গে পাচারকাজে ব্যবহৃত তিনটি ট্রাকও জব্দ করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ড জানায়, জব্দ করা সার, তিনটি ট্রাক এবং আটক দুইজনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন আরও জানান, চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ডের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার ৪১৬ বছর উদযাপনের অংশ হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে শিল্পকলা একাডেমিতে চলছে নয়দিনব্যাপী "ঢাকা নাট্যোৎসব"।
বৃহস্পতিবার এই উৎসবের পঞ্চম দিন ছিল। সন্ধ্যায় একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে মঞ্চায়ন করা হয় আরণ্যক নাট্যদল প্রযোজিত নাটক "কম্পানি"।
নাটকটি রচনা করেছেন নাট্যজন মামুনুর রশীদ, যা ১৭৪৪ সাল থেকে ১৭৫৭ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশদের রাজনৈতিক শোষণ ও শ্লেষাত্মক গল্প নিয়ে নির্মিত।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির উত্থান ঘটে ইংল্যান্ডের ইয়র্কশায়ারে, এবং সেখান থেকেই নাটকের কাহিনির সূচনা হয়। নাটকটি বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে ভারতবর্ষে এসে কোম্পানির ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক শক্তি থেকে রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হওয়ার গল্প তুলে ধরে।
অন্যদিকে, কোম্পানির পক্ষে রবার্ট ক্লাইভ কূটনীতি, ষড়যন্ত্র ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহযোগিতা কাজে লাগিয়ে ক্ষমতা দখলের পথ তৈরি করেন। নাটকের কাহিনিতে মীর জাফর ও জগৎশেঠকে ঘিরে ষড়যন্ত্র, নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং পলাশীর যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলার স্বাধীন নবাবের পতনের ঘটনাও স্থান পেয়েছে।
বাণিজ্যের আড়ালে ক্ষমতা দখল, ষড়যন্ত্র, পলাশীর যুদ্ধ ও বাংলার স্বাধীনতা হারানোর ইতিহাসের পাশাপাশি বর্তমানের অর্থনৈতিক শোষণ ও সম্পদ লুণ্ঠনের বিষয়বস্তু নিয়ে একটি রাজনৈতিক-ঐতিহাসিক নাট্যভাষ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান হলেও নাটকের গল্পে অর্থনৈতিক শোষণ, লুটপাট, ক্ষমতার সঙ্গে ব্যবসার যোগসূত্র এবং দেশের সম্পদ বিদেশে পাচারের সংস্কৃতির চিত্রও ফুটে উঠেছে। দলের নিয়মিত শিল্পীরা বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
উৎসবের নিয়মিত আয়োজনের অংশ হিসেবে এর আগে বিকাল চারটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনের বাইরের উন্মুক্ত মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ১৪ সেপ্টেম্বর শেষ হবে নয়দিনের এই নাট্যোৎসব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ