০৫:১৭ পি.এম
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) প্রণীত ‘গবেষণা অর্থায়ন পরিচালনা নির্দেশনা-২০২৬’ প্রত্যাখ্যান ও পুনর্বিবেচনার দাবিতে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) মানববন্ধন করেছেন সাধারণ শিক্ষকরা।
মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয় সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে। মানববন্ধনের পর শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মো. শামীমের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
বক্তারা মানববন্ধনে বলেন, গবেষণা অনুদান এবং গবেষণার মান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ইউজিসির উদ্যোগকে তাঁরা স্বাগত জানান। তবে তাঁরা উল্লেখ করেন যে, গবেষণা প্রকল্পে প্রধান গবেষক (প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর-পিআই) হিসেবে প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপকদের আবেদনের সুযোগ না রাখা এবং পিএইচডিবিহীন অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকদের সুযোগ সীমিত বা বাতিল করার বিধান পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: ঢাকা ও ময়মনসিংহ বোর্ডের এসএসসি বৃত্তিপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ
পাবিপ্রবির ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহকারী অধ্যাপক আশিকুর রহমান অভি বলেন, ‘শুধু পদমর্যাদা বা নির্দিষ্ট ডিগ্রির ভিত্তিতে বৈষম্য সৃষ্টি না করে গবেষণার সক্ষমতা, অভিজ্ঞতা ও গবেষণা প্রস্তাবনার মানের ভিত্তিতে যোগ্য গবেষকদের পিআই হিসেবে প্রতিযোগিতার সুযোগ দেওয়া উচিত।’
তিনি আরও বলেন, শিক্ষকের পদমর্যাদা তাঁর একাডেমিক অবস্থান নির্দেশ করলেও গবেষণা প্রকল্পে নেতৃত্ব দেওয়ার সামগ্রিক সক্ষমতা নির্ধারণ করে না। গবেষণার প্রকাশনা, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা, গবেষণাপদ্ধতির জ্ঞান, পূর্ববর্তী প্রকল্পে অংশগ্রহণ, দল পরিচালনা ও বাজেট ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
শিক্ষকরা জানান, পাবিপ্রবির প্রায় ২১৩ জন শিক্ষকের মধ্যে প্রায় ৭৫ দশমিক ৫৯ শতাংশের পিএইচডি ডিগ্রি নেই। পিআই হিসেবে আবেদনের জন্য পিএইচডি বাধ্যতামূলক করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক যোগ্য শিক্ষক স্বাধীনভাবে গবেষণা প্রকল্পে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন। এতে পাবিপ্রবিসহ বিকাশমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ গবেষণা নেতৃত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতে পারে।
তাদের মতে, পিআই হিসেবে আবেদনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষক হওয়া, প্রাসঙ্গিক একাডেমিক যোগ্যতা, গবেষণা অভিজ্ঞতা, মানসম্পন্ন প্রকাশনা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে। অতিরিক্ত যোগ্যতা হিসেবে পিএইচডি, উচ্চমানের আন্তর্জাতিক প্রকাশনা, সাইটেশন, পূর্ববর্তী অনুদান ও প্রকল্প পরিচালনার অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, পেটেন্ট, উদ্ভাবন এবং গবেষণার সামাজিক বা নীতিগত প্রভাব বিবেচনা করা যেতে পারে।
আরও পড়ুন: শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা নিয়ে ঢাবিতে সেমিনার ২২ নভেম্বর
মানববন্ধনে শিক্ষকরা পিআই হিসেবে প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপকসহ সব শিক্ষকের জন্য সমান আবেদনের সুযোগ, পিএইচডিবিহীন অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে অযোগ্য না করা এবং পদমর্যাদার পরিবর্তে গবেষণার যোগ্যতা ও প্রস্তাবনার মানকে প্রাধান্য দিয়ে স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন কাঠামো তৈরির দাবি জানান।
এ ছাড়া নবীন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নীতিমালা পুনর্মূল্যায়ন, নীতিমালা প্রণয়ন বা সংশোধনের আগে শিক্ষক-গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় এবং ইউজিসির সঙ্গে শিক্ষক-গবেষকদের মতবিনিময়সভা আয়োজনের দাবি জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, প্রথমবার পিআই হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া যোগ্য তরুণ গবেষকের প্রকল্পে অভিজ্ঞ অধ্যাপক বা সহযোগী অধ্যাপককে কো-পিআই হিসেবে যুক্ত করা যেতে পারে। এতে তরুণ গবেষকদের নেতৃত্বের সুযোগের পাশাপাশি গবেষণার মান ও জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আরিফুল ইসলাম, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান মো. আশিকুর রহমান অভি, একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এস. এম. শাহেদুল আলম, সমাজকর্ম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোছা. ফাতেমা বেগম এবং অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারজানা ইয়াসমিন।
আরও পড়ুন: চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসনে তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ
এ ছাড়া ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ড. মো. কামরুজ্জামান, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ড. মো. খাইরুল ইসলাম, রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবিরসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকরা দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন