০৪:৩২ পি.এম
মিরপুরে ৩০ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণের দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে মিশে অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার চেষ্টার অভিযোগে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ১১ নেতাকর্মীকে আটক করেছে, যারা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সদস্য।
রোববার (১ নভেম্বর) ডিবি মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রাকিব খাঁন আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, গার্মেন্টস শ্রমিকরা কয়েকদিন ধরে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। তবে শনিবার থেকে তাদের আচরণ সহিংস হয়ে ওঠে। আজ পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পাশাপাশি পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। মূলত সাধারণ শ্রমিকদের ব্যবহার করে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নাশকতার চেষ্টা চালাচ্ছে। আন্দোলনের মধ্যে থেকে ১১ জনকে আটক করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: জানাজা থেকে ফেরার পথে গ্রেপ্তার ইউপি চেয়ারম্যান, অসন্তোষ জানালেন প্রতিমন্ত্রী
মোহাম্মদ রাকিব খাঁন আরও বলেন, মিরপুর ১০ ও এর আশপাশের এলাকায় অভিযানে আটককৃতরা বরিশাল, পটুয়াখালী, কক্সবাজার, গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন জেলার তৃনমূল নেতা। মিরপুরের পলাতক সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার ভাগ্নে আলিফ মোল্লা মূলত এই নাশকতার সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছেন। আলিফই ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে এসব নেতাকর্মীকে ঢাকায় এনেছেন। প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী এখানে উপস্থিত ছিলেন এবং তাদের শনাক্ত করে আটক অভিযান চলমান।
এদিন বেলা ১১টার দিকে মিরপুর ১১ নম্বরে আন্দোলনকারীরা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেন। এর আগে সড়ক থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালালে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ সময় সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালালে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।
দুপুরে আন্দোলনকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আন্দোলনকারী শ্রমিকদের সঙ্গে সরকারবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো চক্র যুক্ত হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছে।
আরও পড়ুন: মিয়ানমারে পাচারের সময় ৪৯২ বস্তা সারসহ ৮ পাচারকারী আটক
তিনি আরও জানান, পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তাদের নিয়ে সড়ক পরিষ্কার করা হয়েছে। জনভোগান্তি কমাতে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করা হয়েছে। এ সময় সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছে। তবে কোনো লাঠিপেটা করা হয়নি এবং কাউকে আটকও করা হয়নি। পুলিশের কোনো সদস্য আহত হননি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন