বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৪:০৮ এম
কোটি টাকার সেতু খালের ওপর নির্মাণ করা হয়েছে। তবে সেতুতে ওঠার জন্য কোনো সংযোগ সড়ক নেই। এ অবস্থায় পথচারীদের বাধ্য হয়ে বাঁশ ও কাঠের তৈরি সাঁকো দিয়ে সেতুতে উঠতে হচ্ছে। এর ফলে বাড়াইকান্দি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ চরম ভোগান্তির মুখোমুখি হয়েছেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের বড়াইকান্দি খালের ওপর সেতু নির্মাণের কাজ করা হয়। এ কাজটি পরিচালনা করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ অধিদপ্তর। সেতুটির দৈর্ঘ্য ৫০ ফুট এবং প্রস্থ ১৪ ফুট, এবং এর ব্যয় প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ টাকা ধরা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রামিম এন্টারপ্রাইজ এই নির্মাণকাজের দায়িত্ব পায়। জানুয়ারী মাসে কাজ শুরু হয়ে জুনের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হয়। তবে চুক্তি অনুযায়ী, সেতুর উভয় পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণের প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করেই পুরো বিল উত্তোলন করেছে। যদিও প্রায় তিন মাস আগে কাজ শেষ হয়েছে, এখন পর্যন্ত সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়াইকান্দি গ্রামের খালের ওপর নির্মিত সেতুটির দুই প্রান্তে সংযোগ সড়ক না থাকায় কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। সেতুর দুই পাশে গভীর গর্ত ও অসমতল অংশ থাকায় স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে একটি অস্থায়ী সাঁকো তৈরি করেছেন। সময়ের প্রবাহে সেটিও নড়বড়ে হয়ে গেছে। এর ফলে, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা বা অন্য কোনো ছোট-বড় যানবাহন তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটেও পারাপার হওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অত্র অঞ্চলের বয়স্ক ও শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনযাত্রা ধারন করে এই পথ ব্যবহার করা হচ্ছে এবং তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিত্যদিনের কার্যকলাপ করে চলেছে। বর্ষা মৌসুমে বাঁশের সাঁকো পিচ্ছিল হয়ে ওঠা কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়েছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের নকশা ও চুক্তি অনুযায়ী সেতুর উভয় পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণের ব্যবস্থা থাকার কথা হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেই কাজ সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলন করেছে। প্রায় তিন মাস আগে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও, এখন পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এই বিষয়টি পিআইওকে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রায় ২০ হাজার মানুষের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে সেতুটি ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে এবং এতে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা দাবি করছে, দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটিকে চলাচলের উপযোগী করা হোক। সেই সঙ্গে, চুক্তি অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন না করেই বিল পরিশোধ করা হয়েছে, এই বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, "কোটি টাকার সেতু হয়েছে, কিন্তু সেতুতে ওঠার রাস্তা নেই। বাধ্য হয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে। ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যায়। দুশ্চিন্তা হয়, কখন পানিতে পড়ে যায়।"
কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, "এ পথ দিয়ে বাজারে যেতে হয়। কৃষিপণ্য কখনো ঘাড়ে, কখনো মাথায় করে সেতু পারাপার হতে হয়। সংযোগ সড়ক থাকলে ভ্যান বা সাইকেলে করে নেওয়া সহজ হতো।"
কলেজ শিক্ষার্থী আরিফুর রহমান বলেন, "বর্ষা এলেই ভয় আরও বেড়ে যায়। সাঁকো পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। যে কোন সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সেতু নির্মাণ করা হলেও কোনো উপকারই আমরা পাচ্ছি না।" তিনি দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে জানার জন্য মেসার্স রামিম এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদার জিয়াউর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এদিকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মশিউর রহমানকে অফিসে গিয়েও দেখা পাওয়া যায়নি। এমনকি তাঁর ব্যবহৃত সরকারি ফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, "খালে পানি থাকায় সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। ঠিকাদারকে দ্রুত বাকি কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর যতটুকু কাজ সম্পন্ন হয়েছে, ততটুকুর বিপরীতেই বিল পরিশোধ করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীতে অটোরিকশা চালক দিদারুল ইসলামকে অজ্ঞান করে হত্যা ও অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অজ্ঞান পার্টি চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ওয়ারী থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন মো. দেলোয়ার হোসেন ওরফে হৃদয় (৪০), মো. মানিক সরদার (৫২) এবং মো. লিটন (৫০)।
বুধবার (৮ জুলাই) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য জানিয়েছেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে পৃথক অভিযান চালিয়ে গাজীপুরের শ্রীপুর, ঢাকার কেরানীগঞ্জ এবং ডিএমপির লালবাগ এলাকায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানকালে গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাই হওয়া একটি অটোরিকশা, ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশা এবং তিনটি মোবাইল ফোন।
নিয়াজ মেহেদী বলেন, গত ২৮ জুন রাত আনুমানিক ৯টার দিকে খিলগাঁও এলাকা থেকে অটোরিকশা নিয়ে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়ে যান চালক দিদারুল। পরদিন ২৯ জুন ভোর ৪টার দিকে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ওয়ারী থানার নবাবপুর রোড এলাকা থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
তিনি জানান, দিদারুল ইসলামকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২ জুলাই রাত ১০টার দিকে তিনি মারা যান। ঘটনার পর ওয়ারী থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়।
মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে ওয়ারী থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণ করে। তদন্তে জড়িতদের শনাক্ত করার পর অভিযান চালিয়ে চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস আইআরজিসি দাবি করেছে যে, দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ ৯ রিপার ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে।
বুধবার, আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মহবি বলেন, বুশেহর শহরের আকাশসীমা লঙ্ঘনের পর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোনটিকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে ভূপাতিত করে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, ভূপাতিত হওয়া ড্রোনটির মূল্য প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৩২ কোটি টাকা।
এমকিউ ৯ রিপার যুক্তরাষ্ট্রের বহুল ব্যবহৃত একটি অত্যাধুনিক সশস্ত্র ড্রোন। এর মৌলিক কাঠামোর উৎপাদন ব্যয় প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার হয়ে থাকে। কিন্তু এতে মাল্টি স্পেক্ট্রাল টার্গেটিং সিস্টেম, থার্মাল ক্যামেরা, উন্নত রাডার, স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্রসহ অন্যান্য বিভিন্ন আধুনিক সরঞ্জাম যুক্ত হলে একটি পূর্ণাঙ্গ ড্রোনের দাম ৩ কোটি থেকে ৩ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারে পৌঁছায়।
বিশেষায়িত নজরদারি প্রযুক্তি ও অতিরিক্ত সক্ষমতা যুক্ত সংস্করণের মূল্য ৫ কোটি থেকে ৬ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তবে ইরানের এ দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া স্বাধীনভাবেও এ দাবি যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ৬০ ফিট সড়কে অবস্থিত কলাপাতা নামের একটি রেস্টুরেন্টের পেছনের অংশে গ্যাস বিস্ফোরণের ফলে অগ্নিকাণ্ডের একটি ঘটনা ঘটেছে। এরপর আগুন পাশের একটি ভবনেও ছড়িয়ে পড়ে।
এটি বুধবার (৮ জুন) রাত ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। প্রায় ৩৫ মিনিটের চেষ্টায় রাত ১০টা ২০ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার রাশেদ বিন খালিদ জানান, তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলমান রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরও ২০২৭ সালের ফরাসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ার সুযোগ ফিরে পেলেন কট্টর ডানপন্থী নেতা, মেরিন লে পেন। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) প্যারিসের আপিল আদালত ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অর্থ অপব্যবহারের মামলায় তার দণ্ড বহাল রাখলেও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ওপর আরোপিত অযোগ্যতার মেয়াদ কমিয়ে দিয়েছেন।
ফলে, আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আইনি বাধা আর থাকছে না ফ্রান্সের ন্যাশনাল র্যালি দলের এই নেত্রীর সামনে।
তবে আদালতের রায় সম্পূর্ণভাবে লে পেনের জন্য স্বস্তির নয়। অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগে তার দণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। তাকে কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক বছরের জন্য ইলেকট্রনিক নজরদারির শর্ত দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে, নির্বাচনে অযোগ্যতার মেয়াদ কমিয়ে দেওয়ার ফলে তিনি ২০২৭ সালের নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
ফরাসি গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আপিল আদালতের এই সিদ্ধান্ত মেরিন লে পেনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে আবারও ফ্রান্সের ক্ষমতার লড়াইয়ের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। এর আগে নিম্ন আদালতের রায়ে তাকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছিল, যার কারণে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। নতুন রায়ে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে।
মেরিন লে পেন ও তার দল, ন্যাশনাল র্যালির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অর্থ দলীয় কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থে নিয়োজিত কিছু সংসদীয় সহকারী প্রকৃতপক্ষে ফ্রান্সে দলের সাংগঠনিক কাজে যুক্ত ছিলেন। এই মামলায় বিপুল পরিমাণ অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।
লে পেন শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তার দাবি, তাকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার জন্য এই মামলা করা হয়েছে।
আদালতের রায়ের পরও তিনি তার রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অবস্থান জানিয়েছেন। তার সমর্থকরা বলছেন, এই মামলা তাকে থামাতে পারেনি, বরং তিনি এখন আরো শক্তিশালী অবস্থানে ফিরে এসেছেন।
আদালতের এই সিদ্ধান্ত ফ্রান্সের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। কারণ, মেরিন লে পেন শুধু একটি দলের প্রধান নন, গত এক দশকে তিনি দেশটির সবচেয়ে প্রভাবশালী বিরোধী নেতাদের একজন হয়ে উঠেছেন। ২০১৭ ও ২০২২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও তিনি দ্বিতীয় দফার ভোটে পৌঁছেছিলেন। দুইবারই বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর কাছে পরাজিত হলেও তার ভোটের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সাংবিধানিক কারণে আগামী ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ম্যাক্রোঁ অংশ নিতে পারবেন না। ফলে নতুন নেতৃত্বের লড়াইয়ে মেরিন লে পেন অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে থাকবেন। তার দল ন্যাশনাল র্যালি বর্তমানে ফ্রান্সের অন্যতম শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
লে পেনের রাজনৈতিক উত্থানের মূল ভিত্তি হলো অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা, জাতীয় পরিচয় এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ। তার দল দীর্ঘদিন ধরে কঠোর অভিবাসন নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে।
সমর্থকদের মতে, তিনি সাধারণ মানুষের বাস্তব সমস্যা রাজনীতির কেন্দ্রে এনেছেন। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, তার রাজনীতি ফরাসি সমাজে বিভাজন বাড়াচ্ছে।
ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ অভিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্যও এই রাজনৈতিক পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ন্যাশনাল র্যালি ক্ষমতায় এলে অভিবাসন আইন, নাগরিকত্ব, বিদেশিদের অধিকার এবং মুসলিম সম্প্রদায়কে ঘিরে নীতিতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।
মেরিন লে পেনের মামলা বর্তমানে ফ্রান্সে একটি বড় প্রশ্ন সামনে এনেছে, জনপ্রিয় কোনো রাজনীতিক আদালতে দণ্ডিত হওয়ার পরও কি জনগণের ভোটে দেশের সর্বোচ্চ পদে যাওয়ার সুযোগ পাবেন?
লে পেনের সমর্থকরা বলছেন, শেষ সিদ্ধান্ত জনগণের।
অন্যদিকে বিরোধীরা মনে করছেন, দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত একজন নেত্রীর প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ফরাসি রাজনীতিতে নতুন নৈতিক সংকট তৈরি করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ