ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস নয় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান


দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস নয় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই, এটি পরিষ্কারভাবে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘দেশ আমাদের সবার। এক ইঞ্চি জায়গা কেন, একটি বালুর ওপরও কাউকে পা রাখতে দেব না।’

শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে নেত্রকোনা জেলা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেন, ‘এ বিষয়ে সংসদে আলোচনার জন্য নোটিশ দেওয়া হলেও সরকার তা গ্রহণ করেনি। সীমান্ত ইস্যুতে সংসদ থেকে একটি ঐক্যবদ্ধ বার্তা বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছানো প্রয়োজন, যাতে স্পষ্ট হয়—দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে পুরো জাতি ঐক্যবদ্ধ।’

আরও পড়ুন: পিরোজপুরে লাশ দাফনে বাধা, নাহিদ ইসলামের নিন্দা ও ইনসাফের আহ্বান

তিনি আরও বলেন, ‘প্রয়োজনে সীমান্তে বিজিবির পাশাপাশি সাধারণ মানুষও বুকভরা দেশপ্রেম নিয়ে দাঁড়াবে। বিজিবির হাতে থাকবে অস্ত্র, আর জনগণের হাতে থাকবে দেশপ্রেম। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস হবে না।’

প্রতিবেশী দেশের প্রতি ইঙ্গিত করে জামায়াত আমির বলেন, ‘বন্ধুত্বের দাবি করে কোনো দেশ অন্য দেশের মানুষের ওপর নিপীড়ন চালাতে পারে না। প্রকৃত বন্ধুত্ব পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও দায়িত্বশীল আচরণের ওপর প্রতিষ্ঠিত। কেউ সেই দায়িত্ব পালন না করলে দেশের স্বার্থ রক্ষায় জনগণও নীরব থাকবে না।’

নদী ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান মন্তব্য করেন, ‘বর্ষা মৌসুমে নদী খননের কাজ করায় সরকারি অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হয় না। এতে নদী ভরাট হচ্ছে, বর্ষাকালে বালুচর সৃষ্টি হচ্ছে এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট দেখা দিচ্ছে।’ এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দেশের অর্থবছর জুলাই-জুনের পরিবর্তে জানুয়ারি-ডিসেম্বর করার প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, ‘অর্থবছরের প্রথম ৯ মাস উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি ধীরগতির থাকে। অথচ শেষ দেড় থেকে দুই মাসে তাড়াহুড়ো করে অধিকাংশ অর্থ ব্যয় করা হয়। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নের গুণগত মান ও জবাবদিহি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’

আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগ আখ্যা দিয়ে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সিপিবি কার্যালয়ে হামলা

নেত্রকোনার শিল্প সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান জানান, ‘প্রবাল, সিলিকা বালু, কৃষিভিত্তিক পণ্য ও মৎস্যসম্পদকে কেন্দ্র করে এ জেলায় শিল্পায়নের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। তবে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে দুর্নীতি, ঘুষ, কমিশন বাণিজ্য, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও লাল ফিতার দৌরাত্ম্য দূর করতে হবে। তাহলেই দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন এবং উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।’

নেত্রকোনা জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ছাদেক আহমেদ হারিছের সভাপতিত্বে এবং জেলা প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক জহিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় মতবিনিময়সভায় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং জেলা জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহীতে দৌড়প্রেমীদের অংশগ্রহণে মিনি ম্যারাথন অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৫৭ পি.এম


রাজশাহীতে দৌড়প্রেমীদের অংশগ্রহণে মিনি ম্যারাথন অনুষ্ঠিত

নদীর পানির ন্যায্য বন্টন, বর্জ্য ও প্লাস্টিকদূষণ রোধ, দখলদার উচ্ছেদ, জীববৈচিত্র রক্ষা এবং নদী রক্ষায় কমিশন গঠনের দাবিতে রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে মিনি ম্যারাথন।

শুক্রবার ‘রান ফর পদ্মা’র ব্যানারে সাড়ে সাত কিলোমিটারের এই দৌড়ে অংশ নেয় তিন শতাধিক দৌড়প্রেমী।

 

 

শুক্রবার ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই রাজশাহীর লালনশাহ মুক্তমঞ্চে জড়ো হন নানা বয়সী নারী-পুরুষ। তাদের লক্ষ্য, নদীর প্রাণ ফিরিয়ে আনা। তাই অধিকার আদায়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জনমত তৈরিতে তারা দৌড়ান হাফ ম্যারাথন।

 

 

দৌড়টি মুক্তমঞ্চ থেকে শুরু হয়ে ফুড অফিস মোড় ঘুরে পুনরায় একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। এর আগে   সাড়ে ৭ কিলোমিটারের এই মিনি ম্যারাথনের উদ্বোধন করেন সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন।

 

 

সংশ্লিষ্টরা জানান, ভারত ফারাক্কার উজানে একতরফা পানি প্রত্যাহার করছে। আবার নদীতে ফেলা হচ্ছে বর্জ্য। সেই সাথে প্লাস্টিকের দূষণ। নদীর পাড় দখল হচ্ছে। সবমিলিয়ে নাব্যতা হারাচ্ছে প্রমত্তা পদ্মা। দীর্ঘদিন ধরে নদীতে পানির প্রবাহ কম থাকায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে বরেন্দ্রর ভূগর্ভস্থ পানির স্তর। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাওয়ায় এ অঞ্চলে বাড়ছে মরুকরণের ঝুঁকি। নদী বাঁচাতে দখলদার উচ্ছেদ, জীববৈচিত্র রক্ষা এবং নদী রক্ষায় কমিশন গঠনের দাবিতে এই দৌড়।

 

 

‘রান ফর পদ্ম ‘র  আহ্বায়ক জুলফিকার আলী হায়দার জানান, নদী বাঁচাতে এবং আন্তর্জাতিক নদীগুলোর ওপর আমাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। সেই দাবির পক্ষ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জনমত গড়ে তুলতেই এই ম্যারাথনের আয়োজন করা হয়।

 

 

এ আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ, ট্রাফিক বিভাগ, সিভিল সার্জন কার্যালয় এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। তারা ম্যারাথনে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা, চিকিৎসা সহায়তা, রুট ব্যবস্থাপনা ও পানি সরবরাহ নিশ্চিত করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উদ্বোধনের আগে হাসপাতাল থেকে অর্ধকোটি টাকার যন্ত্রপাতি উধাও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:০০ পি.এম


উদ্বোধনের আগে হাসপাতাল থেকে অর্ধকোটি টাকার যন্ত্রপাতি উধাও

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় একটি আধুনিক ৫০ শয্যার হাসপাতালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই দফায় দফায় চুরির ঘটনা ঘটছে। এতে সরকারি মালামাল ও মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জামের ক্ষতি হয়েছে, যা প্রায় অর্ধকোটি টাকার।

হাসপাতালটি দীর্ঘদিন অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে এবং এটি সংঘবদ্ধ চক্রের অতর্কিত চুরির শিকার হয়েছে, এ বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে। তবে, সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষ এই ক্ষতির দায় নিতে রাজি নয় বলে জানা গেছে।

শরীয়তপুরের নড়িয়া পৌরসভার বৈশাখীপাড়া এলাকায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের অধীনে ২০২০-২১ অর্থবছরে হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শুরু হয়, যার বাজেট ছিল প্রায় ৫১ কোটি টাকা। সম্প্রতি হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষের তালা ভেঙে জেনারেটরের কয়েল, এসি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশসহ প্রায় ৩৪ থেকে ৩৫ লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়ে যায়।

এছাড়া, এর আগেও কয়েক দফা চুরির ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। ফলে, আজ অবধি ক্ষতির পরিমাণ প্রায় অর্ধকোটি টাকায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

চারতলা মূল ভবন, চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য পৃথক আবাসন এবং আরও পাঁচটি ভবন নির্মিত হয়েছে। হাসপাতালটিতে আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা এবং পাঁচ শয্যার একটি আইসিইউ ইউনিটও রয়েছে। তবে স্থানীয় একটি ব্যক্তির দায়ের করা স্থানান্তরসংক্রান্ত মামলার কারণে হাসপাতালটির ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত উদ্বোধন স্থগিত হয়। এরপর থেকে হাসপাতালটি কার্যত বন্ধ রয়েছে।

হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভবনটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর না হওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ হয়নি। জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে সেখানে অস্থায়ী সেনা ক্যাম্প স্থাপনের পর, সেনা সদস্যরা চলে যাওয়ার পর হাসপাতালটি আবারও অরক্ষিত হয়ে পড়ে এবং সেই সুযোগে সংঘবদ্ধ চক্রের চুরি ঘটে।

এ ঘটনার ফলে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হাসপাতালটি দীর্ঘদিন চালু না হওয়ার কারণে সরকারি সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। তারা দ্রুত হাসপাতালটি চালু করার পাশাপাশি চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

চুরির ঘটনায় দায়িত্ব সম্পর্কে ধোঁয়াশা দেখা দিয়েছে। জেলা সিভিল সার্জনের দাবি, ভবনটি এখনও তাদের কাছে আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর করা হয়নি। অন্যদিকে, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের দায়িত্ব ছিল নির্মাণকাজ শেষ করা।

শরীয়তপুর স্বাস্থ্য বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব জানিয়েছেন, প্রধান প্রকৌশলীর নির্দেশনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং এই কমিটি চুরি যাওয়া মালামালের তালিকা প্রস্তুত করেছে। এছাড়া, এ ঘটনায় একটি মামলা করা হয়েছে।

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া জানাচ্ছেন, ‘চুরির ঘটনার পর একটি মামলা করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আধুনিক এই হাসপাতালটি প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্মিত হয়েছিল। কিন্তু উদ্বোধনের আগেই বারবার চুরির ঘটনা ঘটায় একদিকে বিপুল পরিমাণ সরকারি সম্পদের ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে এলাকাবাসী তাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবার অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লঘুচাপ রূপ নিতে পারে নিম্নচাপে, বন্দরে ৩ নম্বর সতর্কতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:০০ পি.এম


লঘুচাপ রূপ নিতে পারে নিম্নচাপে, বন্দরে ৩ নম্বর সতর্কতা

ভারী বৃষ্টির আসন্ন আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর বিভিন্ন একটি অঞ্চলে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশে বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি, বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানায় আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আজ শুক্রবার সকালের পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন উত্তর ওডিশা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপটি একই এলাকায় বিরাজমান রয়েছে। এটি ঘনীভূত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে স্থানীয় ৩ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে, সাগর উত্তাল থাকায় উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিয়মিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি ঘটতে পারে।

এছাড়া, রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে বলে অধিদপ্তর জানিয়েছে।

২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাব্যতা সংকট আর দখলের কবলে হারিয়ে যাচ্ছে মিরকাদিম নদীবন্দর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:০৩ পি.এম


নাব্যতা সংকট আর দখলের কবলে হারিয়ে যাচ্ছে মিরকাদিম নদীবন্দর

এক সময় ধান-চাল, ডাল, তেলসহ বিভিন্ন পণ্যের পাইকারি বেচাকেনায় মিরকাদিম বন্দর ছিল প্রচুর সরগরম। দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই নৌ-বাণিজ্য কেন্দ্র বর্তমানে কোথায় যেন নাব্য সংকট, অভ্যন্তরীণ খাল দখল ও দূষণ এবং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনায় তার জৌলুশ হারিয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।

মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিম এলাকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, নাব্য সংকটের কারণে ভরা বর্ষা মৌসুমে মিরকাদিম লঞ্চঘাটে লঞ্চ চলাচল করছে না। নিয়মিত নৌযান চলাচল বিঘ্নিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বন্দরের সংযুক্ত অভ্যন্তরীণ খালগুলোর এই দখল ও দূষণের কথা উল্লেখযোগ্য। ফলস্বরূপ, কার্যত খালগুলো অচল হয়ে পড়েছে। জলপথে পণ্য পরিবহন হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি স্থলপথেও সরু ও ভাঙাচোরা সড়কের কারণে ভারী যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।

এসব সমস্যার প্রভাবে মিরকাদিমের ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এক সময় তিন শতাধিক ধানের চাতাল ও চালের আড়ত এখন অধিকাংশই বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি ডাল, তেল, আটা-ময়দাসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানা ও পাইকারি ব্যবসাও সংকুচিত হয়েছে। এদিকে, মাছের আড়তের সরবরাহও আগের তুলনায় অনেকটা কমে গেছে। এক সময়ের কর্মচাঞ্চল্যে মুখর ঘাট এখন অনেকটাই নিঃসঙ্গভাবে দাঁড়িয়ে আছে।

ব্যবসায়িক কার্যক্রমের এই হ্রাসের কারণে এলাকার চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শাখাগুলোও কমলাঘাট এলাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষায়, এক সময় ‘দ্বিতীয় কলকাতা’ নামে পরিচিত মিরকাদিম বর্তমানে তার ঐতিহ্য ধরে রাখতে লড়াই করছে।

এদিকে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জানিয়েছে, ২০০৫ সালের রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) রিকাবীবাজার থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে মিরকাদিমের কাঠপট্টি এলাকায় লঞ্চঘাট স্থানান্তরের পর থেকে নাব্য সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে ঘাটটি ধলেশ্বরী নদীর মূল চ্যানেল থেকে দূরে থাকার কারণে বারবার ড্রেজিং করেও পর্যাপ্ত নাব্য ধরে রাখতে সক্ষম হচ্ছেনা। এর ফলে নিয়মিত লঞ্চ চালানো সম্ভব হচ্ছে না এবং সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকেও বঞ্চনা হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন, দ্রুত নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনা, খালগুলো উদ্ধার করা এবং নৌচলাচল সচল রাখতে হবে। তাদের অভিমত হলো, এসব সমস্যার সমাধান না হলে প্রাচীন এই নদীবন্দরের অর্থনৈতিক গুরুত্ব আরও কমে যাবে।

মিরকাদিম পৌরসভার প্রশাসক ও মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা জানিয়েছেন, ‘মিরকাদিম বন্দরের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া হবে। ইতোমধ্যে নয়নের খাল উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পরবর্তীতে অন্যান্য সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে।’

মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন বলেছেন, ‘মিরকাদিমের ঐতিহাসিক গুরুত্ব পুনরুদ্ধারে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। নৌপথ, খাল ও সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়নের মাধ্যমে বন্দরের ব্যবসায়িক কার্যক্রম সচল করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিন ধরে চলা নাব্য সংকট দূর করা, খালগুলোর পুনরুদ্ধার এবং আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে প্রাচীন নদীবন্দর মিরকাদিম আবারও দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে তার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%