রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৩৮ পি.এম
ভারতের মধ্যপ্রদেশের সাগর জেলার একটি ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে যেখানে কথিত ভেজাল ও বিষাক্ত মদ পান করার ফলে অন্তত ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় প্রশাসনের সূত্র অনুযায়ী, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী ওই মদ পান করার পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। খবরটি ইন্ডিয়া টুডে প্রকাশ করেছে।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে, ঘুঘর, নওরাজ ও বারাজসহ আশপাশের এলাকায় শনিবার রাতে একাধিক ব্যক্তি মদ পান করেন। কিছুক্ষণের মধ্যে তাদের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে এবং তাদের স্বজনেরা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ জনের মৃত্যু ঘটে।
পুলিশ এবং স্বাস্থ্য বিভাগ সন্দেহ করছে যে বিষাক্ত বা ভেজাল মদের কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং রাসায়নিক পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল আসার পরই মৃত্যুর সঠিক কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। ইতোমধ্যে ব্যবহৃত মদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে এবং এটি কোথায় তৈরি বা সরবরাহ করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে যে কোনো অবৈধ বিষাক্ত মদ সরবরাহকারী চক্র এর পেছনে সক্রিয় কি না এবং এই মৃত্যুর পেছনে কোনো সুনির্দিষ্ট মেলবন্ধন রয়েছে কি না। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন আশঙ্কা করছে যে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এদিকে, এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর পাওয়ার পর মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দুর্ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছানোর নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত পরিচালনা করা হবে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকার কোনোভাবেই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সহ্য করবে না।
রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী জগদীশ দেবড়াও ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছ থেকে সার্বক্ষণিক তথ্য নেওয়া হচ্ছে এবং আবগারি বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও সরেজমিনে তদন্তের জন্য ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে রওনা হয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকলকে তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দূষণমুক্ত নদী এবং পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য পরিবেশ রেখে দেওয়া সম্ভব হয়।
তিনি রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একটি পর্যালোচনা সভায় এ আহ্বান জানান।
এই পর্যালোচনা সভায় রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদ-নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য অপসারণ, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা, নাব্যতা নিশ্চিতকরণ এবং বৃত্তাকার নৌপথের উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, ধলেশ্বরী, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদী এবং সংশ্লিষ্ট খাল ও ড্রেনের দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য অপসারণ, নদ-নদীর নাব্যতা ও পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিতকরণ এবং ঢাকার চারপাশে বিদ্যমান বৃত্তাকার নৌপথের উন্নয়ন সংক্রান্ত কার্যক্রমের সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী গৃহীত পরিকল্পনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দেন। তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাগুলোর মধ্যে যথাযথ সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, "নিজেদের পাশাপাশি পরবর্তী প্রজন্মের জন্যও দূষণমুক্ত নদী ও একটি বাসযোগ্য পরিবেশ রেখে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। এজন্য শুধু সরকারি নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করলে হবে না, ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ থেকেও কাজ করতে হবে।"
সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কমান্ডার ঢাকা নৌ অঞ্চল রিয়ার অ্যাডমিরাল আব্দুল্লাহ-আল-মাকসুসসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম সেরা পেসার হিসেবে পরিচিত মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে যে কোনো পারফরম্যাটে নিজেকে অটোচয়েজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আজ তার ৩১তম জন্মদিন। ১৯৯৫ সালের এইদিনে সাতক্ষীরায় তার জন্ম হয়।
বামহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান ২০১২ সালে ফাস্ট-বোলারদের ক্যাম্পে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে ঢাকায় আসেন। সাতক্ষীরায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৭ প্রতিযোগিতায় তিনি চমকপ্রদ ক্রীড়ানৈপুণ্য প্রদর্শন করেন। এরপর তাকে বিসিবি’র পেস ফাউন্ডেশনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
২০১৩-১৪ মৌসুমে খুলনার পক্ষে প্রথম-শ্রেণির ক্রিকেটে তার অভিষেক ঘটে। এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে আট উইকেট লাভ করেন। এর ফলে তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজে বাংলাদেশ এ দলের সফরের অন্যতম সদস্য মনোনীত হন।
ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের কারণে ২০১৫ সালের ২৪ এপ্রিল সফরকারী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একমাত্র টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে দলে ডাক পান তিনি।
মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে দুর্দান্ত বোলিং করে শহীদ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ হাফিজের উইকেট তুলে নেন। বাংলাদেশ দল প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকে ৭ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে।
এর দুই মাস পর ১৯ জুন সফরকারী ভারতের বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিকে মোস্তাফিজের অভিষেক ঘটে। অভিষেক ম্যাচেই তিনি ৫ উইকেট লাভ করেন এবং ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন। এরপর ২১ জুনও ভারতের বিপক্ষে ৪৩ রানের বিনিময়ে ৬ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হন।
জীবনের প্রথম দুই ম্যাচে ১১ উইকেট নিয়ে তিনি বিশ্বরেকর্ড গড়েন। ব্রায়ান ভিটোরি’র পর দ্বিতীয় বোলার হিসেবে প্রথম দুইটি ওডিআইয়ে পাঁচ-উইকেট লাভের বিরল কীর্তি রচনা করেন মোস্তাফিজুর।
প্রথম দুইটি ওডিআইয়ে মোস্তাফিজের বোলিং ফিগার ছিল ৫/৫০ ও ৬/৪৩। ২০১১ সালে জিম্বাবুয়ের ব্রায়ান ভিটোরি’র বাংলাদেশের বিপক্ষে ৫/৩০ ও ৫/২০ ম্লান করে দেন তিনি। ভারতকে তিনি তৃতীয়বার ২০০ বা তার নিচে রান তুলতে বাধ্য করেন। এরফলে বাংলাদেশ পঞ্চমবারের মতো ভারতের বিপক্ষে জয় পায়। এ জয়ে বাংলাদেশ আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে ৯৩ পয়েন্ট নিয়ে ৭ম স্থানে উত্তরণ ঘটায়।
দ্বিতীয় ওডিআইয়ে মুস্তাফিজুরের ৬/৪৩ বোলিং পরিসংখ্যান বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে তৃতীয় সেরা। তার পূর্বে মাশরাফি বিন মর্তুজা ৬/২৬ (ব কেনিয়া, ২০০৬) ও রুবেল হোসেন ৬/২৬ (ব নিউজিল্যান্ড, ২০১৩) রয়েছেন।
২০১৯ সালের এপ্রিলে তিনি ২০১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশ দলে অন্তর্ভুক্ত হন। বাংলাদেশের সপ্তম ম্যাচে তিনি ভারতের বিপক্ষে পাঁচ উইকেট শিকার করেন। এর ফলে সাকিব আল হাসানের পর তিনি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব গড়েন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশের হয়ে বিশ্বকাপের এক আসরে সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়ার রেকর্ড গড়েন।
৫ জুলাই তিনি পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে বিশ্বের চতুর্থ দ্রুততম এবং বাংলাদেশের দ্রুততম বোলার হিসেবে (৫৪ ম্যাচে) ১০০ উইকেট শিকার করেন। এছাড়া তিনি বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় পাঁচ উইকেট শিকার করেন। তিনি আট ম্যাচে ২০ উইকেট নিয়ে মিচেল স্টার্কের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী হিসেবে বিশ্বকাপ সমাপ্ত করেন।
বয়স ৩১ হলেও এখনও দেশের জার্সিতে দাপট দেখাচ্ছেন মোস্তাফিজ। এ ছাড়াও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে তার চাহিদা রয়েছে ব্যাপক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযান চলাকালে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫১৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ৩৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আজ ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রেফতারকৃত ৫১৭ জনের মধ্যে রমনা বিভাগ থেকে ৩৩ জন, লালবাগ বিভাগ থেকে ৩৮ জন, ওয়ারী বিভাগ থেকে ৪০ জন, মতিঝিল বিভাগ থেকে ৪৫ জন, তেজগাঁও বিভাগ থেকে ৮৩ জন, মিরপুর বিভাগ থেকে ১৬০ জন, গুলশান বিভাগ থেকে ৪৮ জন, উত্তরা বিভাগ থেকে ৬৬ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগ থেকে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অভিযানের সময় ১২ হাজার ২২৮ পিস ইয়াবা, ৬১০ গ্রাম গাঁজা, ১০টি মোবাইল ফোন, ৭০ লিটার ডিজেল তেল, ৭টি তেলের ড্রাম এবং একটি সিটি গোল্ডের কানের দুল উদ্ধার করা হয়। এর পাশাপাশি ছয়জন ভিকটিমকেও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করতে ইইউ প্রধান উরসুলা ভন ডার লেয়েন রোববার সেখানে দুই দিনের সফরে যাচ্ছেন।
সফরের প্রথম দিন সোমবার তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে একটি যৌথ ঘোষণা স্বাক্ষর করবেন।
এ বিষয়ে খবর প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
রয়্যাল ড্যানিশ ডিফেন্স কলেজের গবেষক মার্ক ইয়াকবসেন এএফপিকে বলেছেন, ‘গ্রিনল্যান্ড ইইউর কাছে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, কারণ এটি আর্কটিক অঞ্চলে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ পথ এবং এর ভূরাজনৈতিক অবস্থান, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ ও আর্কটিক নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখে।’
চলতি বছরের শুরুতে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছিলেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বিশাল এই আর্কটিক দ্বীপটির ওপর ওয়াশিংটনের নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। তবে পরে তিনি সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে গ্রিনল্যান্ড দখলের সম্ভাবনা নাকচ করে দেন।
এরপর ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের একটি যৌথ কর্মগোষ্ঠী ভবিষ্যতে সহযোগিতার বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে নিয়মিত বৈঠক করে আসছে।
ট্রাম্পের হুমকির পর ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ব্যাপকভাবে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পাশে দাঁড়ায়। জানুয়ারিতে ভন ডার লেয়েন আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারে গ্রিনল্যান্ডে ‘বিপুল’ ইইউ বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেন।
গ্রিনল্যান্ড ইইউর সদস্য নয়, তবে ডেনমার্ক ইইউর সদস্য।
এদিকে ২০২৮-২০৩৪ মেয়াদের পরবর্তী বাজেটে গ্রিনল্যান্ডের জন্য সরাসরি ইইউ সহায়তা দ্বিগুণ করে ৫৩০ মিলিয়ন ইউরো (৬১৬ মিলিয়ন ডলার) করার প্রস্তাব দিয়েছে ব্রাসেলস।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভন ডার লেয়েন রোববার ও সোমবারের সফরে গ্রিনল্যান্ডের জন্য আরও ২০০ মিলিয়ন ইউরো সহায়তার প্রস্তাব দিতে পারেন।
তার সফরের সময়ই শুরু হচ্ছে ন্যাটোর ‘আর্কটিক শিল্ড’ সামরিক মহড়া, যাতে ১০টি দেশের সেনারা অংশ নিচ্ছে।
কুইবেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূরাজনীতি গবেষক মিকায়া ব্লুজোঁ-মেরে এই মহড়াকে ‘একেবারেই গুরুত্বহীন কাকতালীয় ঘটনা নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন।
ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে ডেনমার্কের বিরুদ্ধে গ্রিনল্যান্ড ও আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তাকে অবহেলার অভিযোগ করে আসছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে কোপেনহেগেন ওই অঞ্চলে নতুন করে বিনিয়োগ করেছে। ন্যাটোও একইভাবে আর্কটিক অঞ্চলে সক্রিয়তা বাড়িয়েছে এবং বছরের শুরুতে ‘আর্কটিক সেন্ট্রি’ অভিযান শুরু করেছে।
ইয়াকবসেন বলেন, ‘ন্যাটো যেভাবে গ্রিনল্যান্ডকে সামরিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে, ইইউ সেভাবে পারে না। তবে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি বার্তা দিতে পারে—গ্রিনল্যান্ড একা নয়।’
যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের ওপর চাপ অব্যাহত রাখায় এই বার্তাটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে মে মাসে ট্রাম্পের বিশেষ দূত জেফ ল্যান্ড্রি গ্রিনল্যান্ড সফরের পর এ বিষয়ে ট্রাম্পকে তুলনামূলকভাবে কম সরব হতে দেখা গেছে।
ব্লুজোঁ-মেরে বলেন, ‘প্রতি মাসেই আমরা ট্রাম্প বা তার ঘনিষ্ঠদের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ‘পোস্টকার্ড’ পাচ্ছি। এতে বোঝা যায়, তারা বিষয়টি ভুলে যাননি।’
মে মাসে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এমন একটি ছবি পোস্ট করেন। ছবিতে তাকে গ্রিনল্যান্ডের ওপর দিয়ে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায় এবং শিরোনাম ছিল— ‘হ্যালো, গ্রিনল্যান্ড!’
আগস্টে গ্রিনল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকায় একটি মার্কিন তেল কোম্পানির প্রস্তুতিমূলক কর্মকাণ্ডের খবর প্রকাশিত হলে দ্বীপটিতে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দেয়।
টেক্সাসভিত্তিক একটি কোম্পানি এই প্রকল্প পরিচালনা করছে। ২০২১ সালে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির আগে প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজনীয় লাইসেন্স পেয়েছিল। তবে প্রকল্পটি স্থানীয় বাসিন্দা ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
অনুসন্ধানমূলক খননকাজ শুরু করতে কোম্পানিটিকে এখনো অনুমোদন দেয়নি কর্তৃপক্ষ। এর কারণ হিসেবে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে।
গ্রিনল্যান্ড তার খনিজ শিল্পও গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। এই শিল্পের উন্নয়ন হলে ডেনমার্কের কাছ থেকে ভবিষ্যতে স্বাধীন হওয়ার অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী হতে পারে।
ইয়াকবসেন বলেন, এ ক্ষেত্রে গ্রিনল্যান্ড ও ইউরোপের স্বার্থ অনেকটাই পরস্পরসম্পূরক।
তিনি বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ডের খনিজসম্পদ খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বিনিয়োগ, অবকাঠামো ও বাজার প্রয়োজন। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের আরও নিরাপদ ও বৈচিত্র্যময় উৎস নিশ্চিত করতে চাইছে।’
তবে গ্রিনল্যান্ডের ভূতাত্ত্বিক সম্ভাবনাকে বাস্তবে কাজে লাগানো প্রত্যাশার চেয়ে কঠিন হয়ে উঠছে।
৬০টির বেশি কোম্পানির হাতে প্রায় ১৩৫টি খনন অনুমতিপত্র থাকলেও বর্তমানে মাত্র দুটি খনি চালু রয়েছে।
ইয়াকবসেন বলেন, ‘প্রশ্ন হলো, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির গতি শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারবে কি না।’
ব্লুজোঁ-মেরে বলেন, দুই বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বার ভন ডার লেয়েনের গ্রিনল্যান্ড সফর ইউরোপীয় বিনিয়োগ যে দীর্ঘমেয়াদি, তার একটি শক্তিশালী বার্তা দিচ্ছে।
সফরে ভন ডার লেয়েন গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইয়েন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন, ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন ও ডেনমার্কের অপর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল ফারো দ্বীপপুঞ্জের সরকার প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ