০৯:৫৭ পি.এম
রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তের দাবি উত্থাপন করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। সংগঠনটির নেতারা পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং বিভিন্ন বক্তব্যের মধ্যে অসংগতির বিষয়গুলো তুলে ধরে বলেছেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের পাশাপাশি প্রকৃত অপরাধী, পরিকল্পনাকারী ও হুকুমদাতাদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে রংপুর প্রেস ক্লাব চত্বরে জেলা ও মহানগর সুজন কর্তৃক আয়োজিত মানববন্ধনে এই দাবি জানানো হয়। কর্মসূচিতে সুজনের নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও অংশগ্রহণ করে। ফোর্ব জেলা ফোরাম ও ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গারের নেতৃবৃন্দ, সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবীরাও এতে সংহতি জানান।
আরও পড়ুন: গোপালগঞ্জে শ্রেণিকক্ষে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, ৯ শিক্ষার্থীকে টিসি
মানববন্ধনে সুজন রংপুর জেলা সভাপতি খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু বলেন, রংপুরে পুলিশের বিভিন্ন থানা ও ইউনিট বৃদ্ধি পেলেও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা কাটেনি।
জনগণের সঙ্গে পুলিশের কাঙ্ক্ষিত সেতুবন্ধনও গড়ে উঠেনি। রাষ্ট্র ও নাগরিকরা পুলিশের কাছ থেকে সেবা ও নিরাপত্তা প্রত্যাশা করে।
তিনি বলেন, ‘এক-দুজন মাদকাসক্ত যুবক চারজন মানুষকে এভাবে হত্যা করতে পারে না। শুধু ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ার কারণে এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে একটি পরিবারকে নিঃশেষ করে দেওয়ার দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।
আরও পড়ুন: ৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবসের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন
’ প্রকৃত ঘটনা বা কারণ আড়াল হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো অজুহাতে প্রকৃত অপরাধী, পরিকল্পনাকারী ও হুকুমদাতাদের আড়াল করা হচ্ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
পুলিশের আইজিপি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন খন্দকার ফখরুল আনাম। তিনি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সুজন রংপুর মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট জোবায়দুল ইসলাম বুলেট বলেন, গ্রেপ্তার আসামিদের আরো ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন ছিল। তাদের পেছনে কোনো চক্রান্ত বা অন্য কারো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা বের করা জরুরি।
আরও পড়ুন: চাঁদপুরের কচুয়া-গৌরীপুর সড়কে ডাকাতি প্রতিরোধে ঝোপঝাড় পরিষ্কারে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
আসামিদের ডোপ টেস্ট করা হয়নি বলেও প্রশ্ন তোলেন তিনি। একই সঙ্গে ঘটনার আগাম তথ্য যিনি দিয়েছিলেন, তিনি কিভাবে সেই তথ্য জানলেন, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান।
তিনি আরো বলেন, ঘটনার সময় বাসার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল কেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। পুলিশের প্রেস ব্রিফিংয়ের পর জনমনে যেসব প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সেগুলোর উত্তর বের করা দায়িত্বশীল পুলিশিংয়ের অংশ। কিন্তু এখনো তা দৃশ্যমান নয়।
দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কি না, সে আশঙ্কাও প্রকাশ করেন অ্যাডভোকেট বুলেট। দুর্বল তদন্তের সুযোগে আসামিরা আইনের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। ওই এলাকার মাদক ব্যবসায়ীরা ঘটনার পর আত্মগোপনে চলে গেলেও তাঁদের এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। নগরীর প্রতিটি এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম আরো জোরদারের দাবি জানান তিনি।
আরও পড়ুন: নারায়ণ জেলার গার্মেন্টস সেক্টরে আন্দোলনের শিথিল রাখার অঙ্গীকার জেলা প্রশাসক
সুজনের উপদেষ্টা সদস্য ও নারীনেত্রী মঞ্জুশ্রী সাহা বলেন, গণমাধ্যমে উঠে আসা ধর্ষণের আলামত নিয়ে মর্গের ডোম ও ময়নাতদন্তকারী ফরেনসিক চিকিৎসকের বক্তব্যে গরমিল রয়েছে। ধর্ষণের বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, নিহত তরুণীর সঙ্গে তাঁর বান্ধবীর কথোপকথনে হত্যার হুমকি ও জিডি করার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। ঘটনার দিন ভোরে বিদ্যুৎ না থাকা নিয়ে বান্ধবীর সঙ্গে তাঁর চ্যাটিংয়ের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা উচিত। বাসার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং আশপাশের সিসিটিভি অচল থাকার বিষয়েও তদন্ত প্রয়োজন। এসব কারণে মানুষের মনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ঘটনাটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ কি না, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তা বেরিয়ে আসা উচিত বলে দাবি করেন তিনি।
মানববন্ধনে সুজন মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন স্বাধীন, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহে আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন, ফোর্ব জেলা ফোরামের সদস্য জাকিয়া সুলতানা মলি, আফরোজা রাধন, ভারতী রানী এবং ইয়ুথ লিডার রাকিবুল ইসলাম, লাবিবসহ অন্যান্য বক্তারা রংপুর নগরীর সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবমুক্ত তদন্ত এবং প্রকৃত দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে রংপুর নগরীর কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকার নিজ বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) ও ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
আরও পড়ুন: দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবিলায় তরুণদের নেতৃত্বকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে: চসিক প্রশাসক
পরদিন রবিবার ভোরে একই এলাকা থেকে মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাসকে (১৯) আটক করা হয়। ওই দিন নিহতদের ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর দখিগঞ্জ শ্মশানে তাঁদের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন