শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৫০ পি.এম
ঢাকা, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান মন্তব্য করেছেন যে, সংকট-দুঃসময়ে দেশের জনগণের পাশে সবসময় বিএনপি দাঁড়িয়ে থাকে এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে জবাই করেছে, বিএনপি গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে।’
আজ শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, ১৯৭৫ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশে সকল রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। ‘বাকশাল’ নামক একটি দল গঠন করে বাকি সব রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সেই বাকশালী শাসন থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
তিনি আরও বলেন, ১৯৮২ সালে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে এরশাদ সামরিক স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই শাসনকে স্থায়ী করতে কয়েকটি রাজনৈতিক দল তাকে সহযোগিতা করেছিল।
আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীসহ কিছু দল ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও বিএনপি জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেনি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য আপসহীন লড়াই চালিয়ে গেছে। এর ফলস্বরূপ ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে এবং বিএনপি বহুদলীয় ও সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু করেছে।
নজরুল ইসলাম খান মন্তব্য করেন, এক-এগারোর সরকার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে বিকৃত ও ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে এবং ষড়যন্ত্র করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনা হয়েছে। ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগ স্বৈরাচারী শাসন চালিয়েছে এবং ফ্যাসিবাদে পরিণত হয়েছে। এই শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এবং তাঁর অনুপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে অব্যাহত লড়াই চলেছে।
তিনি দাবি করেন, বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের যত নেতাকর্মী এই লড়াইয়ে শহীদ, গুম, নির্যাতিত ও জুলুমের শিকার হয়েছেন, বাংলাদেশের অন্য সব রাজনৈতিক দল মিলেও তত মানুষ গুম-খুনের শিকার কিংবা অত্যাচার-নিপীড়নের শিকার হয়নি।
তিনি আরও বলেন, গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ আবার বিএনপির প্রতি আস্থা রেখে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় দলটিকে নির্বাচিত করেছে। বর্তমানে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে। ‘এটা ক্ষমতা নয়, এটা দায়িত্ব।’
নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিএনপি কখনোই ক্ষমতাকে ক্ষমতা মনে করে না, বরং ক্ষমতাকে দায়িত্ব মনে করে। সেই দায়িত্ব পালনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, শুধু গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার নয়, বাংলাদেশের অর্থনীতি যখনই বিপন্ন ও বিপর্যস্ত হয়েছে, সেই অর্থনীতিকে পুনরায় জনগণের কল্যাণে উন্নত করার দায়িত্বও বিএনপিকে পালন করতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশে জাতীয় সংসদ ও মন্ত্রিসভা ছিল না এবং সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সমাজে বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছিল।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দায়িত্ব নিয়ে দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করেছিলেন এবং বাংলাদেশ ‘ইমার্জিং টাইগার’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিল।
তিনি বলেন, এবার তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের অর্থনীতির অবস্থা ছিল সংকটাপন্ন। ঋণের বোঝা, অর্থ অপচয়, দুর্নীতি ও বিদেশে অর্থ পাচারের কারণে দেশ নিঃস্ব হয়ে পড়েছিল। এ অবস্থায় দায়িত্ব নিয়ে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেশের কল্যাণে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। উন্নয়নকাজ ব্যাহত হলে সাধারণ মানুষ, শ্রমজীবী ও কর্মজীবী মানুষের কষ্ট হবে। বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের কোনো কথা বা কাজে যেন পতিত স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের সুবিধা না হয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দিয়েছে এবং এ কার্ডের আওতায় পরিবারের প্রধান নারী সদস্যকে মাসে আড়াই হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে। কৃষকদের ন্যায্য মূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশক দেওয়ার জন্য ‘কৃষক কার্ড’ তৈরি করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের বিরোধিতা না করে এর চেয়ে ভালো পরিকল্পনা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, বিএনপির দুঃসময়ে দায়িত্ব নেওয়ার এবং দায়িত্ব নিয়ে সফল হওয়ার দৃষ্টান্ত রয়েছে। তারা দুঃসময়ে দায়িত্ব নিয়ে সফল হয়েছে, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে এবং জনগণের কল্যাণে নিজেদের উৎসর্গ করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশের বৈদেশিক খাতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে, যা প্রবাসী আয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উন্নতি এবং সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যের উদ্বৃত্তের তিনটি সূচকের মাধ্যমে প্রতিফলিত হচ্ছে।
গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে (ব্যালান্স অব পেমেন্টস) উদ্বৃত্ত প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। একই সময়ে প্রবাসী আয় ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেও এই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে উদ্বৃত্তের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৬১ কোটি ডলার। আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই উদ্বৃত্ত ছিল ৩৩৯ কোটি ডলার।
চলতি অর্থবছরের শুরুতে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। আগস্ট মাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ২৯৭ কোটি ডলার। গত বছরের একই মাসে এই আয় ছিল ২৪২ কোটি ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ২২ দশমিক ৫ শতাংশ। জুলাই মাসের ২৮৬ কোটি ডলারের তুলনায় আগস্টে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশ।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে প্রায় ৫৮৩ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি।
এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ওই অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরে এই আয় ছিল ৩ হাজার ৩৩ কোটি ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বাসসকে বলেন, "প্রবাসী আয়ের অব্যাহত প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক খাতের জন্য ইতিবাচক। আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রবাসীদের আস্থা বাড়ারও প্রতিফলন এটি।"
তিনি আরও বলেন, "প্রবাসী আয় পাঠানোর আনুষ্ঠানিক মাধ্যমকে আরও সহজ ও আকর্ষণীয় করতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করছে। একই সঙ্গে অবৈধ হুন্ডি লেনদেন নিরুৎসাহিত করারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।"
চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট এই ছয় মাসে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ সময়ে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ১ হাজার ৮৯৪ কোটি ডলার, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের ১ হাজার ৬৭৪ কোটি ডলারের তুলনায় ১৩ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।
প্রবাসী আয় বৃদ্ধি ও বৈদেশিক খাতের সামগ্রিক অবস্থার উন্নতির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বাড়ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টের শেষে দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭৩৫ কোটি ডলার। জুলাইয়ের শেষে এই রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ৬৪২ কোটি ডলার। আর ২০২৫ সালের আগস্টের শেষে রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ১১৭ কোটি ডলার।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভের পরিমাণ আগস্টের শেষে ছিল ৩ হাজার ২৪৪ কোটি ডলার। জুলাইয়ের শেষে তা ছিল ৩ হাজার ১৫৮ কোটি ডলার। এক বছর আগে এ পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৬১৭ কোটি ডলার।
এভাবে এক বছরে মোট রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ৬১৯ কোটি ডলার বা প্রায় ২০ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক প্রবাহ রিজার্ভ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এদিকে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারেও তুলনামূলক স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের লেনদেনভিত্তিক রেফারেন্স রেট অনুযায়ী, গত ২৩ সেপ্টেম্বর প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২৩ টাকা ১৭ পয়সা। আগস্টের শেষে এ হার ছিল প্রায় ১২৩ টাকা ২১ পয়সা।
বিনিময় হারের এই স্থিতিশীলতা আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয় বাড়ানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক বাজারে ডলারের বিনিময় হারের ব্যবধান কম থাকলে প্রবাসীরা বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে বেশি উৎসাহিত হন।
বৈদেশিক খাতের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলো সার্বিক লেনদেন ভারসাম্য। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে ৬৬১ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের ৩৩৯ কোটি ডলারের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
দেশের বাণিজ্য ঘাটতি ও চলতি হিসাবের কিছু ঘাটতি বাড়লেও সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে উন্নতি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের আর্থিক হিসাবে প্রায় ৭৯০ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত ছিল, যা সার্বিক বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় বড় ভূমিকা রেখেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বাণিজ্য ঘাটতি বাড়লেও প্রবাসী আয়ের শক্তিশালী প্রবাহের কারণে বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে।
বৈদেশিক খাতের এই উন্নতির পাশাপাশি আমদানি কার্যক্রমেও গতি ফিরেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আমদানি বেড়েছে ১০ দশমিক ৭ শতাংশ। আগের অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
বিশেষ করে মধ্যবর্তী পণ্য আমদানি বেড়েছে ১৫ দশমিক ১৯ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, এসব পণ্যের আমদানি বৃদ্ধি আগামী মাসগুলোতে উৎপাদন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।
এ ছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আমদানির ঋণপত্র বা এলসি খোলার পরিমাণ বেড়েছে ৬ দশমিক ৬০ শতাংশ। তবে এলসি নিষ্পত্তি বেড়েছে সামান্য।
এ বিষয়ে এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া বলেন, "আমদানি বৃদ্ধির ধরন দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে এর প্রভাব নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পের কাঁচামাল, মূলধনি যন্ত্রপাতি ও উৎপাদনশীল অন্যান্য উপকরণ আমদানি হলে তা অর্থনীতির জন্য সহায়ক হবে।"
তিনি বলেন, "বৈদেশিক খাতের শক্তিশালী অবস্থান আমদানি ব্যয় ও বৈদেশিক দায় মেটানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে বাড়তি সক্ষমতা দিচ্ছে।"
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত, মুদ্রানীতির বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থার কারণে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা এসেছে।
বৈদেশিক মুদ্রাবাজারকে আরও শক্তিশালী করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। গত আগস্টে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ ও আন্তব্যাংক লেনদেন পরিচালনার জন্য ফরেন এক্সচেঞ্জ মার্কেট (এফএক্সএম) মডিউলের সরাসরি কার্যক্রম চালু করা হয়।
এরপর অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট ও বিশেষায়িত বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সুবিধাসহ আরও কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান আলী হোসেন প্রধানিয়া বলেন, "প্রবাসী আয় ও রিজার্ভের উন্নতি বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য বাড়াতে সহায়তা করছে। একই সঙ্গে আমদানি ব্যয়ের জন্য ব্যাংকগুলোর ডলার সংগ্রহের চাপও কমছে।"
তিনি বলেন, "এ প্রবণতা ধরে রাখতে প্রতিযোগিতামূলক ও তুলনামূলক স্থিতিশীল বিনিময় হার বজায় রাখা, আনুষ্ঠানিক মাধ্যমে প্রবাসী আয় পাঠানোর সেবা উন্নত করা এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর গুলিস্তানে অবস্থিত জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রধান কার্যালয় থেকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) বিপুলসংখ্যক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে আটক করেছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে জাসদ কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, আটককৃতরা জাসদ কার্যালয়ে গোপন বৈঠক করছিল।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি মিডিয়া) ও মুখপাত্র মো. আকতার হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সন্দেহে গুলিস্তান থেকে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আটক করা হয়েছে এবং তাদের যাচাই বাছাই চলছে।
এর আগে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ধানমণ্ডি ২৭ নম্বর রোডের মীনা বাজারের সামনে পর পর দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। পরে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ চারজনকে আটক করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এশিয়ান গেমসে স্কোয়াশের নারীদের একক বিভাগে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে অনাহত সিং ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। শনিবার, তিনি জাপানের বিশ্ব র্যাংকিংয়ের ৬ নম্বর খেলোয়াড় সাতোমি ওয়াতানাবেকে ৩-২ গেমে পরাজিত করে এই অসাধারণ কৃতিত্ব অর্জন করেন। এর ফলে স্কোয়াশে মহিলাদের সিঙ্গলসে ভারতের জন্য অন্তত রুপোর পদক নিশ্চিত হলো। অনাহত এই সাফল্যের মাধ্যমে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লেখালেন। তিনি এশিয়ান গেমসে স্কোয়াশের একক ফাইনালে ওঠা প্রথম ভারতীয় নারী হিসেবে পরিচিতি লাভ করলেন।
প্রথম দুই গেম হারিয়ে ০-২ পিছিয়ে পড়েও অনাহত দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেন। শেষ পর্যন্ত ৯-১১, ১১-১৩, ১২-১০, ১১-৬, ১১-৩ ব্যবধানে ম্যাচটি জিতে নেন। এই জয় তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
জাপানের সাতোমি ওয়াতানাবে বিশ্ব র্যাংকিংয়ে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন। তাই শুরু থেকেই অনাহত কঠিন প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হন। প্রথম গেমে ৯-১১ এবং দ্বিতীয় গেমে ১১-১৩ ব্যবধানে তিনি পরাজিত হন। এই সময় একটি অস্বস্তিকর ঘটনা ঘটে, যখন একটি শট ফেরানোর চেষ্টা করতে গিয়ে ওয়াতানাবের কাঁধে অনাহতের মাথা ধাক্কা লাগে। ম্যাচ কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ রাখা হয়, তবে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে অনাহত আবারও মাঠে ফিরে আসেন।
এরপর ম্যাচের পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করে। তৃতীয় গেমে ১২-১০ জিতে লড়াইয়ে ফিরে আসেন অনাহত। চতুর্থ গেমে আরও দাপট দেখিয়ে ১১-৬ ব্যবধানে জয়লাভ করেন এবং ম্যাচটি নির্ণায়ক পঞ্চম গেমে নিয়ে যান। সেখানে ভারতীয় তারকা ওয়াতানাবেকে আর ম্যাচে ফেরার সুযোগ দেননি। ১১-৩ ব্যবধানে পঞ্চম গেম জিতে তিনি ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তাইওয়ানে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ে পড়ার জন্য আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ‘চুং হুয়া রোটারি এডুকেশনাল ফাউন্ডেশন স্কলারশিপ ২০২৭’-এর জন্য আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষে তাইওয়ানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীরা এই বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদন করার শেষ সময় নির্ধারিত হয়েছে ২০ অক্টোবর ২০২৬।
রোটারি ইন্টারন্যাশনাল তাইওয়ান ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে এই বৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। মেধাবী ও আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় সহায়তা করাই এই বৃত্তির প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক বিনিময়, সেবা ও শান্তির চেতনা গড়ে তোলাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
বৃত্তিতে যা থাকছে
বৃত্তির আওতায় টিউশন ফি ও গবেষণার খরচে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। ডিগ্রির স্তর অনুযায়ী বছরে ১ লাখ ৩৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার নিউ তাইওয়ান ডলার পর্যন্ত বৃত্তি প্রদান করা হবে।
এছাড়া টিউশন, বই, আবাসন ও দৈনন্দিন জীবনযাপনের খরচও এই বৃত্তির আওতায় থাকবে। প্রত্যেক বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর জন্য একটি রোটারি ক্লাব ও একজন পরামর্শক নির্ধারণ করা হবে। তারা প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন।
বৃত্তিপ্রাপ্তরা রোটারির বিভিন্ন অনুষ্ঠান, আলোচনা এবং সাবেক শিক্ষার্থীদের কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। বৃত্তির মেয়াদে অন্তত একটি আলোচনা বা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা বাধ্যতামূলক। ২০২৭ সালের মে মাসের শেষ নাগাদ পড়াশোনা ও তাইওয়ানে অবস্থানের অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
আবেদনকারীর যোগ্যতা
আবেদনকারীকে তাইওয়ানের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি পর্যায়ে ভর্তি থাকতে হবে।
আবেদনের সময় বয়স ৩৫ বছরের কম হতে হবে।
আবেদনকারী রোটারিয়ান, কোনো রোটারিয়ানের সরাসরি বংশধর বা রোটার্যাক্টর হতে পারবেন না।
বৃত্তির মেয়াদে অন্য কোনো বৃত্তি গ্রহণ করা যাবে না।
ভালো একাডেমিক ফলাফল, নেতৃত্বের সম্ভাবনা এবং সামাজিক বা স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
যেসব কাগজপত্র লাগবে
আবেদনের সঙ্গে অনলাইনে পূরণ করা আবেদনপত্রের দুই কপি, হালনাগাদ জীবনবৃত্তান্ত এবং বৈধ পাসপোর্ট বা জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি জমা দিতে হবে। এছাড়া আত্মজীবনী, পড়াশোনার উদ্দেশ্য এবং বিভিন্ন কার্যক্রম বা স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত প্রবন্ধ জমা দিতে হবে।
আরো প্রয়োজন হবে—
শিক্ষকের বা তত্ত্বাবধায়কের সুপারিশপত্র
একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট
ভর্তি বা অধ্যয়নরত থাকার প্রমাণপত্র
পাসপোর্ট ও এলিয়েন রেসিডেন্ট সার্টিফিকেটের (এআরসি) কপি
গত এক বছরের মধ্যে তোলা দুই কপি সাম্প্রতিক পাসপোর্ট আকারের ছবি
সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের স্বাক্ষরসহ গবেষণা প্রস্তাব
বৃত্তির অর্থ কিভাবে ব্যয় করা হবে, তার বাজেট পরিকল্পনা
যেভাবে আবেদন করবেন
প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের হার্ড কপি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরাসরি সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বিষয়ক দপ্তরের আন্তর্জাতিক ভর্তি বিভাগে জমা দিতে হবে। আবেদনকারীদের নথিপত্র যাচাইয়ের পর প্রাথমিকভাবে নির্বাচিতদের সাক্ষাৎকারের জন্য ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করা হবে। নির্বাচিত না হলে আলাদাভাবে জানানো হবে না। বৃত্তিটি এনডিএইচইউ অ্যাওয়ার্ড, এনডিএইচইউ সাউথবাউন্ড স্কলারশিপ, এনডিএইচইউ এলিট স্কলারশিপ, এনডিএইচইউ এক্সিলেন্ট পিএইচডি স্কলারশিপ, এমওই এলিট স্কলারশিপ, এমওই তাইওয়ান স্কলারশিপ এবং এমওএফএ তাইওয়ান স্কলারশিপের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। এখানে ক্লিক করে বিস্তারিত দেখে আবেদন করা যাবে।
আবেদনের শেষ সময় : ২০ অক্টোবর ২০২৬।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ