ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে: তথ্য উপদেষ্টা


সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে: তথ্য উপদেষ্টা

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান মন্তব্য করেন যে, ডিপফেক, ভুয়া তথ্য (ডিসইনফরমেশন), মিথ্যাচার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, এসব অপরাধের বিরুদ্ধের ব্যবস্থা নিয়ে দ্রুত ও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বিশেষ আইনজীবী প্যানেল গঠনের সব প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারির অপেক্ষা, যা আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে প্রকাশিত হবে। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, নাগরিকদের বিরুদ্ধে পরিচালিত ডিপফেক, মিথ্যাচার এবং সাইবার বুলিং কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।

আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এসব বিষয় নিয়ে তিনি কথোপকথন করেন।

আরও পড়ুন: মিষ্টির আসনে উপনির্বাচনের জন্য এমপিদের স্বাক্ষরের তালিকা চায় ইসি

ডা. জাহেদ বলেন, সরকার শুরু থেকেই তথ্যের অপব্যবহার, বিশেষ করে ডিসইনফরমেশন এবং সাইবার বুলিংকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যাপক বিস্তারের কারণে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে পড়া, মানুষের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো, ছবি ও ভিডিও বিকৃত করে প্রচার করা এবং ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব কার্যকলাপ শুধু ব্যক্তির সম্মানহানি করছেনা, বরং সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি এবং মানুষের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠছে। তথ্য উপদেষ্টা জানান, বিশেষভাবে নারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন সবচেয়ে বেশি। শুধুমাত্র নারী হওয়ার কারণে অনেককে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপমান, হুমকি, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং মিথ্যা প্রচারের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, এই আইনজীবী প্যানেল শুধুমাত্র অভিযোগ পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেবে না, প্রয়োজনে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে হলেও আইনগত পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবে। সরকার যেসব ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে, সেসব ক্ষেত্রেও প্যানেলটি সক্রিয়ভাবে কাজ করবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, সাধারণ নাগরিকদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ভুক্তভোগীদের দ্রুত সহায়তা প্রদান করা।

তথ্য উপদেষ্টা নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান যে, যদি কেউ সাইবার বুলিং, ডিপফেক, মিথ্যা তথ্য বা অনলাইন হয়রানির শিকার হন, তাহলে যেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের স্বাধীনতা যেমন রয়েছে, তেমনি এর দায়িত্বশীল ব্যবহারও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ডা. জাহেদ বলেন, মূলধারার গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের আগে সম্পাদকীয় যাচাই-বাছাইয়ের একটি প্রক্রিয়া থাকে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ব্যবস্থা নেই। ফলে যে কেউ যেকোনো তথ্য মুহূর্তেই ছড়িয়ে দিতে পারেন। এই কারণে ব্যবহারকারীদেরকে আরও সচেতন হতে হবে এবং কোনো তথ্য বা ছবি যাচাই ছাড়া শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

আরও পড়ুন: রূপপুর পারমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পৌঁছেছে ইউরেনিয়ামের তৃতীয় চালান

তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্র যেমন নাগরিকদের সচেতন করার দায়িত্ব পালন করবে, তেমনই নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।

সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক কার্যক্রমও তুলে ধরেন জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২০ জুলাই পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৭ হাজার ২১৮ জন, যেখানে ২০২৬ সালের একই সময়ে আক্রান্ত হয়েছেন ১০ হাজার ৮৫৭ জন। মৃত্যুর সংখ্যাও একইভাবে কমেছে। গত বছর একই সময়ে ডেঙ্গুতে ৬২ জনের মৃত্যু ঘটলেও এবার মৃত্যু হয়েছে ৩৭ জনের। যদিও প্রতিটি মৃত্যু দুঃখজনক, তারপরও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জ্বালানি খাতের অগ্রগতির বিষয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক পদ্ধতিতে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানির জন্য ৪০টি প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনার মধ্যে ইতোমধ্যে ২৯টি কূপ খনন করা হয়েছে। এসব কূপ থেকে প্রায় ২৭০ দশমিক ৮ মিলিয়ন এমএমসিএফটি গ্যাস উৎপাদন নিশ্চিত করা হয়েছে এবং এর মধ্যে ১২৫ দশমিক ৩ এমএমসিএফটি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বাকি কূপগুলো খনন করে আরও প্রায় ১,৪৯১ এমএমসিএফটি গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, দেশে গ্যাসের সম্ভাব্য মজুদ যথাযথভাবে অনুসন্ধান করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তিনি জানান, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার ‘নিরাপদ খাদ্য প্রবিধানমালা-২০২৬’ জারি করেছে। নতুন এই বিধিমালার আওতায় খাদ্য উৎপাদন, আমদানি, প্রক্রিয়াকরণ, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিপণনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধনের আওতায় আসতে হবে। একইসঙ্গে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং বাজার তদারকি অব্যাহত রয়েছে। খাদ্য মজুদও দেশের ইতিহাসে সর্বাধিক পর্যায়ে আছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন: ইরানে অক্টোবরেই হামলার পরিকল্পনা নেতানিয়াহুর, সায় নেই ট্রাম্পের

ব্রিফিংয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, আগামী আগস্টের মাঝামাঝি পরীক্ষামূলকভাবে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু করা হবে। প্রথম পর্যায়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মাধ্যমে এই ডেবিট কার্ড বিতরণ করা হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ হাজার এবং আগামী বছরের জুনের মধ্যে দুই লাখ প্রবাসীর হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। পরবর্তী সময় প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে এর কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা অন্তত ১০ ধরনের সেবা সহজে পাবেন বলে জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, পরিবেশ রক্ষায় সরকার পলিথিনের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব পাটজাত ব্যাগ ব্যবহারে গুরুত্ব দিচ্ছে। ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন বাজারে স্বল্পমূল্যে পাটের ব্যাগ বিতরণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পরিবেশ দূষণকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা আদায় এবং আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে।

শিল্প খাত প্রসঙ্গে তিনি জানান, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন ২৫টি মিলের মধ্যে ১৬টি মিল পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়বে, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং সরকারি ভর্তুকির চাপ কমবে বলে সরকার আশা করছে। এছাড়া বিদ্যমান কর্মসংস্থানও সুরক্ষিত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার বিভিন্ন খাতে সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ করা, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্য, জ্বালানি, খাদ্য, শিল্প, পরিবেশ ও প্রবাসী কল্যাণসহ বিভিন্ন খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

আরও পড়ুন: বিজয়া দশমীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি শুভেচ্ছা রাষ্ট্রপতির

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে প্রযুক্তির অপব্যবহার থেকে নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া। সবাইকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, একটি সচেতন সমাজ গড়ে তুলতে সরকার যেমন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, তেমন নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। ডিপফেক, মিথ্যাচার ও সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর এবং নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বেলজিয়ামের কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন রুডি গার্সিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৫৩ পি.এম


বেলজিয়ামের কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন রুডি গার্সিয়া

জাতীয় ফুটবল দলের কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন রুডি গার্সিয়া। তিনি বেলজিয়ামের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং এখন পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

৬২ বছর বয়সী গার্সিয়া ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ডোমেনিকো টেডেস্কোর স্থলাভিষিক্ত হয়ে আসেন। তার নেতৃত্বে রেড ডেভিলসরা ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার জন্য যোগ্যতা অর্জন করে।

বর্তমান বিশ্বকাপে বেলজিয়াম কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছায় কিন্তু স্পেনের কাছে পরাজিত হয়ে তারা শেষ আট থেকে বিদায় নেয়। গার্সিয়া, যিনি রোমা, মার্সেই ও নাপোলির সাবেক কোচ, আগামী ৩১ জুলাই তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পদ ছাড়বেন।

বেলজিয়ান ফুটবল এসোসিয়েশনের (আরবিএফএ) ওয়েবসাইটে গার্সিয়া এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আরবিএফএ’র সাথে আলোচনা করার পর আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি গত ১৮ মাসের যাত্রা আর দীর্ঘায়িত করবো না। আমি বেলজিয়ামকে নেশন্স লিগের এ-লিগে এবং বিশ্বের শীর্ষ আট দলের মধ্যে রেখে যাচ্ছি। অসাধারণ প্রতিভাবান কিছু খেলোয়াড়, স্পোর্টস ডিরেক্টর ভিনসেন্ট মানায়ার্ত এবং পুরো বিশ্বকাপ জুড়ে যেসব সমর্থক আমাদের অব্যাহত সমর্থন দিয়েছেন, তাদের সবাইকে আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই।

আমি কামনা করি বেলজিয়াম তাদের প্রজন্মান্তরের রূপান্তর সফলভাবে এগিয়ে নিয়ে যাক। এই রূপান্তরের সূচনা করতে পেরে আমি গর্বিত।"

মানায়ার্ত বলেন, ‘রুডি গার্সিয়া নিঃসন্দেহে বেলজিয়ামের রেড ডেভিলস দলকে পুনরুজ্জীবিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি এমন সময়ে জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব নিয়েছিলেন, যখন দলটি ক্রীড়া ও আর্থিক দুদিক থেকেই কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন ছিল। বিশেষ করে তার নিষ্ঠা ও অভিজ্ঞতার কারণে দলের মাঝে আবারও ঐক্য ফিরে আসে এবং সর্বশেষ বিশ্বকাপে দলটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়। ফেডারেশনের পক্ষ থেকে গত ১৮ মাসে রুডি এবং তার সহকারী কোচদের অবদানের জন্য আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আমি ও আমার দল এখন একটি নতুন অধ্যায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছি, যার অংশ হিসেবে জাতীয় দলের নতুন কোচ নিয়োগ দেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রয়োজনে দিল্লি গিয়ে ককরোচদের আন্দোলনে যোগ দেব: মমতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৫৭ পি.এম


প্রয়োজনে দিল্লি গিয়ে ককরোচদের আন্দোলনে যোগ দেব: মমতা

সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) কর্তৃক ঘোষিত ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচির কারণে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে এক উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই কর্মসূচি চলাকালে দিল্লি পুলিশের সাথে সিজেপি কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়। বিভিন্ন মহলে অভিযোগ ওঠে যে, এই ঘটনার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সংসদ ভবন ছাড়তে হয়েছিল।

এছাড়াও, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে তিনিও দিল্লিতে গিয়ে ককরোচ পার্টির আন্দোলনে অংশগ্রহণ করবেন।

‘একুশে জুলাই’ শহীদ দিবস উপলক্ষে কলকাতার বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের কাছে আয়োজিত এক সমাবেশে মমতা বলেন, ‘যদি প্রয়োজন হয়, আমি দিল্লি যাব এবং ককরোচদের আন্দোলনে যোগ দেব। কারণ আমাদের সমর্থন প্রথম থেকেই ছিল, আছে এবং থাকবে।’

তিনি আরো উল্লেখ করেন, ‘বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র এক ছাতার নিচে আসার সময় হয়েছে। গোটা দেশের, এমনকি পশ্চিমবঙ্গের সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আমি এ আহ্বান জানাচ্ছি।’

মমতা মোদিকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘মানুষ এখন বিজেপির অত্যাচার বুঝতে পারছে। এই অত্যাচার স্ট্যালিন ও হিটলারকেও ছাড়িয়ে গেছে।’

সমাবেশে তৃণমূল ত্যাগীদের কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ‘নকল বেড়াল তপস্বী না হয়ে, বিজেপির পাশবালিশ না হয়ে সরাসরি বিজেপিতে যান। আমরা বেঁচে গেছি। চোরগুলো বিজেপিতে চলে গেছে। তাদের আমরা আর ফিরিয়ে নেব না। আমাদের লড়াই শুরু হয়েছে। এই লড়াই সেই সময়ই থামবে, যখন দেখব আপদগুলো বিদায় নিয়েছে।’

এছাড়াও তিনি বলেন, তৃণমূলের প্রতীক ‘ঘাসফুল’ প্রসঙ্গে, ‘আমার দলের প্রতীক কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। দরকার হলে শীর্ষ আদালত পর্যন্ত যাব। আমি দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। আইনত আমাদের প্রতীক কেড়ে নেওয়ার সুযোগ নেই। মানুষ হৃদয় থেকে যেটাকে গ্রহণ করে, সেটাই দলের প্রকৃত প্রতীক, ঐতিহ্য ও ইতিহাস।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উয়েফা প্রধান বিশ্বকাপ ফাইনাল বয়কট করেছেন, ঘটনা কী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৫৯ পি.এম


উয়েফা প্রধান বিশ্বকাপ ফাইনাল বয়কট করেছেন, ঘটনা কী

আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফাইনালে নিউইয়র্কের ভিআইপি গ্যালারিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঙ্গনের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু সেখানে উয়েফা সভাপতি অ্যালেক্সান্ডার সেফেরিনকে পাওয়া যায়নি। 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ফিফার সাম্প্রতিক একাধিক সিদ্ধান্তের প্রতি অসন্তোষের কারণে বিশ্বকাপ ফাইনাল বয়কট করেছেন ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান।

এটি নিয়ে আলোচনা চলছে, বিশেষ করে বেলজিয়ামের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড বাতিলের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে। অভিযোগ রয়েছে যে, ফিফা এর ওপর কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি।

বিশ্বস্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধ করার পর ইনফান্তিনো ঘটনাটি পুনর্বিবেচনা করে এবং বালোগানের লাল কার্ড স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেন।

উয়েফা এর অসন্তোষের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে যে, ইনফান্তিনো স্বাগতিকদের রাজনৈতিক চাপের কাছে মাথা নত করেছেন। ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটির সিদ্ধান্তকে তারা ‘অভূতপূর্ব, অবোধ্য ও অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়েছে এবং একে ‘সীমা লংঘন’ হিসেবে অভিহিত করেছে।  

এছাড়া, সোমালি রেফারি ওমর আর্তানকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনাতে ফিফার নীরবতা ভালোভাবে নেয়নি উয়েফা। প্রতিবাদ হিসেবে তারা আর্তানকে আগামী মাসের সুপার কাপ ফাইনাল পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ চলাকালীন ইরানের সঙ্গে আয়োজকদের যা ‘অন্যায়’ মনে হয়েছে, তাও ইউরোপের শীর্ষ ফুটবল সংস্থাকে অসন্তুষ্ট করেছে। বিশ্বকাপে ফিফার কিছু নিয়ম-কানুনের বিরোধিতাও তারা করেছে।

যেমন, হাইড্রেশন ব্রেক, ভিএআর প্রটোকলের ভুল পরিচয়, যার ফলে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের ব্রিল এম্বোলো লাল কার্ড দেখেছেন এবং মুখ ঢেকে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের সঙ্গে কথা বলার জন্যও লাল কার্ড!

একই সাথে, টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ৪৮ দলের অন্তর্ভুক্তি নিয়েও সেফেরিন সমালোচনা করেছেন। টিকিটের অত্যধিক দামে এবং অন্যান্য বিষয় নিয়েও জনসম্মুখে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। যদিও, ১১ জুন মেক্সিকো সিটিতে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে তিনি স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গালিবাফ খেলছেন আসল খেলা?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:০০ পি.এম


গালিবাফ খেলছেন আসল খেলা?

ইরানের রাজনীতির চরম নাটকীয় মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান শান্তি আলোচনার প্রধান মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ।

চিরপরিচিত রক্ষণশীল ভাবমূর্তি এবং ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সাবেক এই কমান্ডার এখন নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষার মুখোমুখি।

ওয়াশিংটনের সাথে দীর্ঘদিনের সংঘাতময় সম্পর্ককে কূটনৈতিক টেবিলে এনে সমাধানের চেষ্টা করছেন তিনি, যা তাকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে তার নিজ রক্ষণশীল শিবিরের কট্টরপন্থীদের।

খবরে বলা হয়েছে, গালিবাফ বস্তুত একজন রক্ষণশীল বাস্তববাদী। তিনি পশ্চিমাদের সাথে সম্পর্ক মেরামতের পাশাপাশি চীনের সাথে কৌশলগত অংশীদারিত্ব বজায় রাখার নীতিতে বিশ্বাসী।

তার বৈদেশিক নীতির সুর অনেকটাই সাবেক মধ্যপন্থী প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির মতো হলেও রুহানির মতো তিনি নিজের রক্ষণশীল সমর্থক গোষ্ঠীকে পুরোপুরি চটাতে চান না।

দেশের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সাথে গালিবাফের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্কই মূলত তাকে এই কূটনৈতিক উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার সাহস জোগাচ্ছে।

ইসলামাবাদে মার্কিন প্রতিনিধিদের সাথে প্রথম দফার আলোচনার পর কট্টরপন্থীরা মোজতবা খামেনির কাছে গালিবাফের বিরুদ্ধে লালরেখা অতিক্রমের অভিযোগ তুলেছিলেন।

কিন্তু নতুন সর্বোচ্চ নেতা তাদের সেই দাবি নাকচ করে দিয়ে গালিবাফের প্রতি পূর্ণ আস্থা বজায় রাখেন এবং পরবর্তীতে তাকে চীনের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবেও নিয়োগ দেন।

আইআরজিসি-র একজন তরুণ যোদ্ধা থেকে ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অন্যতম স্তম্ভে পরিণত হয়েছিলেন গালিবাফ।

ইরান-ইরাক যুদ্ধে ভাই হারানোর স্মৃতি এবং সম্মুখ সমরের অভিজ্ঞতা তাকে দ্রুত সামরিক পদোন্নতির শীর্ষে নিয়ে যায়।

নব্বইয়ের দশকে তিনি আইআরজিসি বিমান বাহিনীর প্রধান হন। ১৯৯৯ সালের জুলাইয়ে ছাত্র বিক্ষোভ দমনের সময় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামিকে সতর্ক করে যে ২৪ জন সিনিয়র আইআরজিসি কমান্ডার চিঠি দিয়েছিলেন, গালিবাফ ও প্রয়াত কাসেম সোলেইমানি ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।

পরবর্তীতে মাত্র ৩৯ বছর বয়সে তিনি জাতীয় পুলিশের প্রধান হন এবং পরবর্তীতে তিনবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেন।

রাজনীতির ময়দানে তিনি নিজেকে বারবার নতুন রূপ দিয়েছেন; কখনও একাডেমিক ও অভিজ্ঞ পাইলট হিসেবে, আবার কখনও কর্মঠ বিপ্লবী শাসক হিসেবে।

২০০৫ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হারের পর তিনি টানা ১২ বছর তেহরানের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যা নগরটির ইতিহাসে দীর্ঘতম।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) পৌঁছানোর প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে কট্টরপন্থীদের তোপের মুখে পড়েছেন গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

তেহরান ও মাশহাদের রাজপথে তাদের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়েছে।

অন্যদিকে, কট্টরপন্থী পায়দারি ফ্রন্ট এবং 'কায়হান' পত্রিকার মতো কঠোর অবস্থানকারী মাধ্যমগুলো অভিযোগ তুলেছে যে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা দেশের সবচেয়ে বড় কৌশলগত সুবিধা বিসর্জন দিয়েছেন।

তবে রাজনীতির সবচেয়ে বড় বিস্ময় হয়ে দাঁড়িয়েছে সংস্কারবাদীদের অবস্থান। একসময় গালিবাফের কঠোর সমালোচক থাকা সংস্কারবাদী গোষ্ঠী ও সংবাদমাধ্যমগুলো এখন প্রকাশ্যে তাকে সমর্থন জানাচ্ছে।

তাদের মতে, দেশের টিকে থাকা এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি চুক্তি করা অত্যন্ত জরুরি।

ফলে যে সেনানায়ক একসময় সংস্কারবাদীদের আন্দোলন দমনে মূল ভূমিকায় ছিলেন, আজ দেশের স্বার্থে কূটনীতির পথ বেছে নিয়ে সেই সংস্কারবাদীদেরই সমর্থন পাচ্ছেন, যা ইরানের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য ও জটিল অধ্যায়ের জন্ম দিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%