০১:৫৬ পি.এম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ইতিহাস এবং নব্বইয়ের দশকের বিভিন্ন ঘটনার উপর ভিত্তি করে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘চিরকুট’ আগামী অক্টোবরে মুক্তি পেতে চলেছে। নির্মাতা মুনতাসীর আকিব জানিয়েছেন, চলচ্চিত্রটির নির্মাণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ শিক্ষার্থী বিভিন্নভাবে অংশগ্রহণ করেছেন।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ কলা ভবনের সামনে চলচ্চিত্রটির প্রদর্শন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
নির্মাতা মুনতাসীর আকিব বলেন, "চিরকুট চলচ্চিত্রটি তৈরি করতে আমাদের প্রায় তিন বছর সময় লেগেছে। সিনেমাটিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী কাজ করেছেন। বাইরের অনেক পরিচিত শিল্পীও এতে অভিনয় করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শ্যামল মাওলা, নওশাদ আহমেদ ও সুমন পাটোয়ারী। চলচ্চিত্রটির প্রধান নারী চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আজিজুল মীম।"
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
মুক্তির ব্যাপারে তিনি জানান, দুর্গাপূজার ষষ্ঠীতে চলচ্চিত্রটির শুভমুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া ও ভারতসহ বিশ্বের সাতটি দেশে এটি মুক্তি পাবে।
চলচ্চিত্রটির বাজেট সম্পর্কে নির্মাতা বলেন, "চলচ্চিত্রটির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানও আমরা নিজেরাই। শুরুতে ভেবেছিলাম খুব কম বাজেটে সিনেমাটি শেষ করতে পারব। কিন্তু বাস্তবে তা সম্ভব হয়নি। সিনেমাটি শেষ করতে আমাদের প্রায় এক কোটি টাকা খরচ হয়েছে।"
তিনি আরও জানান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য দেশের যেকোনো সিনেপ্লেক্সে ‘চিরকুট’-এর টিকিটের মূল্য অর্ধেক রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
রাজশাহীতে চলচ্চিত্রশিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে নির্মাতা আকিব মন্তব্য করেন, "রাজশাহী একটা আলাদা ইন্ডাস্ট্রি হতে পারে। রাজশাহীর মানুষজন খুবই সহযোগিতাপরায়ণ। এখানে কাজ করতে গিয়ে অসম্ভব সাপোর্ট পেয়েছি।"
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম
চলচ্চিত্রটির প্রধান অভিনেত্রী ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী আজিজুল মীম বলেন, "এটা আমার গল্প, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গল্প এবং সর্বোপরি রাজশাহীর গল্প। আপনারা রাজশাহীর গল্প ভেবেই চলচ্চিত্রটাকে গ্রহণ করবেন। সিনেমা হলে গিয়ে চলচ্চিত্রটি দেখবেন। গল্পটি আপনাদের ভালো লাগবে বলে আশা করছি।"
ক্যাম্পাস-সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নব্বইয়ের দশকের রাবি যারা দেখেছেন, তাদের কাছে ‘চিরকুট’ হয়ে উঠতে পারে হারিয়ে যাওয়া দিনের স্মৃতির আয়না। নতুন প্রজন্মের দর্শকদের সামনে খুলে দিতে পারে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের এক ভিন্ন সময়ের গল্প।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন