০২:০০ পি.এম
আজারবাইজানের ফুটবল ইতিহাসে একটি নতুন রূপকথার অধ্যায় সৃষ্টি হলো। ৯ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত একটি ‘পুঁচকে’ ক্লাব একটি মহাকাব্য রচনা করল।
ইসরায়েলের শীর্ষ ক্লাব হাপোয়েল বিয়ের শেভাকে ৫-২ গোলে পরাজিত করে ইতিহাস গড়েছে সাবাহ এফকে। এই অসাধারণ জয়ের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ইউরোপের সেরা ক্লাব প্রতিযোগিতা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মূল পর্ব (লিগ ফেজ)-এর টিকিট অর্জন করল দেশের এই তরুণ ক্লাবটি।
প্রথম লেগের ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত হয়ে কিছুটা পিছিয়ে ছিল সাবাহ। তাই ঘরের মাঠে দ্বিতীয় লেগের ফিরতি ম্যাচটি তাদের জন্য ছিল জীবন-মরণের লড়াই।
আরও পড়ুন: জাতিসংঘে মানবাধিকারভিত্তিক অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের আহ্বান বাংলাদেশ
সাধারণত ১৩ হাজার ধারণক্ষমতার মাসাজিরের ‘ব্যাংক রিপাবলিকা অ্যারেনা’য় খেলে সাবাহ। কিন্তু এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ম্যাচের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল বাকুর ৩০ হাজার ধারণক্ষমতার তৌফিক বাহরামোভ রিপাবলিকান স্টেডিয়াম। গ্যালারিতে ভরা দর্শকের গর্জন যেন প্রতিপক্ষের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল।
তবে ম্যাচের শুরুটা সাবাহর জন্য ভালো ছিল না।
ম্যাচের মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় স্লাটানোভিচের গোলে সফরকারীরা এগিয়ে যায়। কিন্তু প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে নোয়াচুকুরের গোলে সমতা ফেরায় স্বাগতিকরা। বিরতির পর ৬১ মিনিটে মিজরাহির গোলে আবারও এগিয়ে যায় ইসরায়েলের ক্লাবটি।
কিন্তু আজারবাইজানের ক্লাবটি হার মানেনি। ৭৪ মিনিটে রাখমোনালিয়েভ গোল করে সাবাহকে সমতায় ফিরিয়ে আনে।
আরও পড়ুন: এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপে আজ মুখোমুখি হচ্ছে কে-কার
তবে ম্যাচে সমতা ফিরে এলেও দুই লেগ মিলিয়ে এগিয়ে ছিল ইসরায়েলি ক্লাবটি।
এরপরই নাটকের আসল অধ্যায় শুরু হয়! নির্ধারিত নব্বই মিনিটের খেলা যখন শেষ পর্যায়ে, ঠিক তখন মুতাল্লিমোভের সেই অবিশ্বাস্য গোল! এই এক গোলে দুই লেগ মিলিয়ে স্কোর সমতায় আসায় ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়।
অতিরিক্ত সময়ে দুই লাল কার্ডের কারণে ভেঙে পড়ে ইসরায়েলি দলের প্রতিরোধ। সেই সুযোগে প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেনি সাবাহর আক্রমণভাগ। এমবিনা ও মিকেলসের পরপর দুই দুর্দান্ত গোলে ৫-২ ব্যবধানের একটি অবিস্মরণীয় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিক দল।
২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত সাবাহ এফকের এই উত্থান কোনো সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। দেশটির দ্বিতীয় বিভাগ থেকে যাত্রা শুরু করে দ্রুতই প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে বাকুর এই দলটি। ২০১৫-২৬ মৌসুমে দেশের ঘরোয়া লিগ শিরোপা জয়ের পাশাপাশি টানা দুইবার আজারবাইজান কাপও জিতেছে তারা। বছরের পর বছর ধরে আজারবাইজানের ফুটবলে ছড়ি ঘোরানো ক্লাব ‘কারাবাগ’-এর একচ্ছত্র আধিপত্য থামিয়ে দিয়ে ঘরোয়া ফুটবলে নতুন রাজত্বের সূচনা করেছে এই ক্লাব।
আরও পড়ুন: জামায়াত নেতাদের ভারতীয় গোয়েন্দাদের সঙ্গে বৈঠকের দাবি, রাশেদকে চ্যালেঞ্জ
উয়েফা কনফারেন্স লিগে খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও, ইউরোপের শীর্ষ লিগে খেলার যোগ্যতা এবারই প্রথম অর্জন করল তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন