সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৩৮ পি.এম
বরেণ্য ইতিহাসবিদ ও অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুনের সহধর্মিণী ফাতেমা মামুনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তিনি দৈনিক প্রথম আলোর ফিচার বিভাগের সাংবাদিক রয়া মুনতাসীরের মা এবং অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার ছিলেন।
আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বাদ জোহর চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গুলবাহার প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার পর স্থানীয় আত্মীয়-স্বজন ও সর্বস্তরের মানুষের অশ্রুসিক্ত ভালোবাসায় গুলবাহার গ্রামের পারিবারিক গোরস্থানে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, তাঁর পুত্র-কন্যা, পরিবারের নিকটাত্মীয়সহ এলাকার বহু গণ্যমান্য ব্যক্তি ও শত শত সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। ফাতেমা মামুনের অকালপ্রয়াণে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উপস্থিত সবাই মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুর সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একক প্রার্থী নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেল ৪টায় চাঁদপুর জেলা বিএনপি কার্যালয়ে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভার আয়োজন করা হয় চাঁদপুর -৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিকের নির্দেশনায়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মো. শাহজালাল মিশন এবং সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী ঢালী সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন। নির্বাচনকেন্দ্রিক কৌশল নির্ধারণ এবং একক প্রার্থী চূড়ান্ত করার বিষয়ে সভায় বিশদ আলোচনা হয়।
এ সভায় চাঁদপুর সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ‘সুপার ফাইভ’ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তৃণমূলের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে কীভাবে প্রতিটি ইউনিয়নে যোগ্য ও একক প্রার্থী নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে নেতৃবৃন্দ নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। দলের ঐক্য বজায় রেখে আগামী নির্বাচনে সাফল্য অর্জনে সবাই একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করাই নয়, নৈতিকতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং মানবিক গুণাবলিতে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক যুগ্ম-মহাসচিব লায়ন মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী এফসিএ। তিনি উল্লেখ করেছেন, "জ্ঞান ও নৈতিকতার সমন্বয়েই গড়ে উঠবে এমন একটি প্রজন্ম, যারা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।"
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট কে এম হাইস্কুল প্রাঙ্গণে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.), কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আসলাম চৌধুরী আরও বলেন, "বিদ্যালয় কেবল পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জনের প্রতিষ্ঠান নয়, শিক্ষার্থীর চরিত্র, চিন্তা ও ভবিষ্যৎ জীবন গঠনেরও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা।" তিনি জানান, তাই পড়াশোনার পাশাপাশি সততা, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে হবে। নৈতিক শিক্ষায় সমৃদ্ধ একজন শিক্ষার্থী শুধুমাত্র নিজের ভবিষ্যৎই গড়ে না, বরং সমাজের জন্যও সম্পদ হয়ে ওঠে।
কৃতি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ভালো ফলাফল অর্জন সাফল্যের একটি ধাপ মাত্র। এই সাফল্য ধরে রাখতে তাদের আরও অধ্যবসায়ী হতে হবে। তিনি যারা প্রত্যাশিত ফল করতে পারেননি, তাদের হতাশ হওয়ার কারণ নেই বলেও উল্লেখ করেন। "পরিশ্রম, নিয়মিত পড়াশোনা ও শিক্ষকদের পরামর্শ অনুসরণ করলে তারাও সামনে এগিয়ে যেতে পারবে।"
শিক্ষার্থীদের সাফল্যে পরিবার ও বিদ্যালয়ের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসলাম চৌধুরী বলেন, "সন্তানদের শুধু পরীক্ষার ফলাফলের দিকে নজর দিলে হবে না। তাদের আচার-আচরণ, বন্ধুত্ব, দৈনন্দিন অভ্যাস ও প্রযুক্তি ব্যবহারের দিকেও অভিভাবকদের খেয়াল রাখতে হবে।" শিক্ষকদেরও পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে ভূমিকা রাখতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ঈদে মিলাদুন্নবীর শিক্ষা ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর আদর্শের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, "মহানবীর জীবন থেকে সততা, সহনশীলতা, মানবিকতা ও ন্যায়বোধের শিক্ষা পাওয়া যায়।" এসব মূল্যবোধ শিক্ষার্থীদের জীবনে ধারণ করতে পারলে তারা বিপথগামী হওয়া থেকে নিজেদের দূরে রাখতে সক্ষম হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে। তবে প্রযুক্তির সুফল গ্রহণের পাশাপাশি এর অপব্যবহার ও নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কেও সতর্ক থাকতে হবে। আসলাম চৌধুরী জানান, আধুনিক জ্ঞানের সঙ্গে নৈতিকতার সমন্বয় ঘটানোই হওয়া উচিত শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য।
নিজের প্রাক্তন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রসঙ্গে আসলাম চৌধুরী বলেন, সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে ফৌজদারহাট কে এম হাইস্কুলের প্রতি তাঁর আলাদা দায়বদ্ধতা রয়েছে। বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে তাঁর সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও চট্টগ্রাম চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি আমজাদ হোসেন চৌধুরী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোহাম্মদ মোরসালিন, যুগ্ম আহ্বায়ক সালামত উল্ল্যাহ, বিএনপি নেতা সাইফুল হুদা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, খম নাজিম উদ্দিন, আবুল হাশেম, জাহেদুল হাছান, আশরাফ আলী মেম্বার ও তারেক হোসেন।
পরে বিদ্যালয়ের কৃতি শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের মেধার স্বীকৃতির পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধে সমৃদ্ধ হয়ে ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের কল্যাণে ভূমিকা রাখার আহ্বানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন ও মৌলিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের সার্ভে ও স্টাডিজ সংক্রান্ত ফলাফল শেয়ারিং ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বাগমারা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উদ্যোগে আয়োজিত কর্মশালায় বাগমারা উপজেলার মাস্টার প্ল্যান রিভিউ ও আপডেট কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
কর্মশালায় বাগমারা উপজেলার বর্তমান অবস্থা, সড়ক যোগাযোগ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পানি নিষ্কাশন, বাজার ও বাণিজ্যিক এলাকা, আবাসিক এলাকা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন মৌলিক অবকাঠামোর ওপর পরিচালিত সার্ভে ও স্টাডিজের ফলাফল উপস্থাপন করা হয়।
এ সময় বাগমারা উপজেলাকে পরিকল্পিত, আধুনিক ও জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় বাস্তবতা, জনগণের প্রয়োজন এবং বিদ্যমান অবকাঠামোর বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
কর্মশালায় উপস্থাপিত সার্ভে ও স্টাডিজের ফলাফল এবং অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে বাগমারা উপজেলার মাস্টার প্ল্যান রিভিউ ও আপডেট করে ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এতে পরিকল্পিত নগরায়ণ ও টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে বাগমারা উপজেলার সার্বিক উন্নয়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
কর্মশালায় বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) রিজু তামান্না, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান, উপজেলা প্রকৌশলী মনসুর রহমান, শেলটেক কনসালট্যান্টন্স প্রাইভেট লিমিটেড এর নির্বাহী পরিচালক ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, ইউটিএমআইডিপি/ইউএমপিআর-১ এর ডেপুটি টিম লিডার জামাল উদ্দিন, ইউটিএমআইডিপি/ইউএমপিআর-১ এর সিনিয়র কনসালটেন্ট সারোয়ার হোসেন খান, পিডিআরসির সিনিয়র নগর পরিকল্পনাবিদ মবিন রহমান, ইউটিএমআইডিপি/ইউএমপিআর-১ এর জুনিয়র কনসালটেন্ট (পরিকল্পনা) রুবাইয়াত শাহরিয়ার রুপম সহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি ও স্থানীয় অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন। তারা বাগমারা উপজেলার উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন মতামত ও পরামর্শ দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
"নদী, জীবন ও জীবিকার অধিকার, মানুষের কণ্ঠে টেকসই আগামীর অঙ্গীকার" এই মূল প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজশাহীর বারনই নদীপাড়ে "নদীপাড়ের মানুষের মুখে নদী কথা: জীবন-জীবিকা ও ভবিষ্যৎ রক্ষায় অভিজ্ঞতা, প্রত্যাশা এবং করণীয়" শীর্ষক একটি কমিউনিটি নীতি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় নওহাটা বাজারসংলগ্ন বারনই নদীপাড়ে নওহাটা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি, বারসিক, গ্রিন কোয়ালিশন ও বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরাম যৌথভাবে এই সংলাপের আয়োজন করে। সংলাপের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল নদীপাড়ের মানুষের অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় জ্ঞানকে ভিত্তি করে নদী ব্যবস্থাপনায় নীতিগত অগ্রাধিকার, নির্দিষ্ট দাবি এবং বাস্তবায়নযোগ্য করণীয় নির্ধারণ করা।
কমিউনিটি নদী সংলাপের মাধ্যমে নদীর অধিকার ও নদীনির্ভর মানুষের অধিকারকে একই কাঠামোয় আনার পাশাপাশি স্থানীয় নারী ও জনগণের অংশগ্রহণকে প্রাতিষ্ঠানিক করার আহ্বান জানানো হয়। নদী রক্ষায় প্রকল্পকেন্দ্রিকতার পরিবর্তে সমন্বিত নদী শাসনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। নওহাটা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি সচীন হালদারের সভাপতিত্বে বক্তারা বলেন, "নদী বাংলাদেশের পরিবেশ, কৃষি, মৎস্য, খাদ্যনিরাপত্তা এবং মানুষের জীবন-জীবিকার অন্যতম ভিত্তি। নদীর পরিবর্তন শুধু পানি বা নাব্যতার পরিবর্তন নয়; এর সঙ্গে মানুষের পেশা, আয়, খাদ্য, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা সরাসরি যুক্ত। নদীপাড়ের মানুষ নদীর প্রবাহ, মাছ, নৌচলাচল, পানি, নদীতীর, জলাভূমি ও জীবিকার দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ সাক্ষী। তাই বৈজ্ঞানিক তথ্যের পাশাপাশি তাদের অভিজ্ঞতা, অধিকার ও প্রত্যাশাকে নদী নীতির অংশ করা জরুরি।"
নদীপাড়ের চিত্তরঞ্জন হালদার বলেন, "এই পানি দিয়ে আগে আমরা ভাত, ডাল রান্না করে খেয়েছি।" তিনি তার হাতের ঘা দেখিয়ে বলেন, "এখন এই পানি গায়ে লাগলেই চুলকানি শুরু হয়ে যায় এবং ঘা হয়ে যায়।" নুজু হালদার বলেন, "প্রতিবছর আশ্বিন-কার্তিক মাসে শহরের দূষিত পানি নদীতে ছাড়া হয় আর তখনই নদীর মাছ মরে ভেসে উঠে। এবছরও এখানে পানি ছাড়ার পর বারনই নদীতে মাছ মরা শুরু হয়েছিল।"
পরিবেশ আন্দোলনকর্মী ও বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি মো. আতিকুর রহমান বলেন, "নদীকে শুধু পানি প্রবাহের পথ হিসেবে নয়, একটি জীবন্ত প্রতিবেশ ও মানুষের জীবন-জীবিকার ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। বিশেষ করে বরেন্দ্র অঞ্চলের নদীগুলোর জন্য সমন্বিত নদী পুনরুদ্ধার কর্মসূচি গ্রহণ এবং নদী ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। নদীর ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে নদীর তীরে বসবাসকারী মানুষের অভিজ্ঞতা, বৈজ্ঞানিক তথ্য এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির ভিত্তিতে।"
নৃবিজ্ঞানী ও পরিবেশ আইন গবেষক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, "নদী ব্যবস্থাপনায় নদীনির্ভর মানুষের স্থানীয় জ্ঞান ও প্রথাগত অধিকারকে স্বীকৃতি না দিলে কার্যকর নদী শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয়। নদী দখল, দূষণ ও উন্নয়ন কার্যক্রমের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন ও নীতির কার্যকর প্রয়োগের পাশাপাশি তথ্যের স্বচ্ছতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।"
সামাজিক ও কৃষক আন্দোলনের নেতা মাহমুদ জামাল কাদেরী বলেন, "নদী রক্ষায় বিচ্ছিন্ন প্রকল্প নয়, নদীর প্রবাহ, জলাভূমি, প্রাণবৈচিত্র্য ও নদীনির্ভর মানুষের অধিকারকে সমন্বিত করে দীর্ঘমেয়াদি নীতি প্রয়োজন। নদী রক্ষার ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিদ্যমান আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো থাকলেও মূল প্রয়োজন হলো সমন্বিত বাস্তবায়ন। নদী সুরক্ষাকে জনঅংশগ্রহণ, জীবিকা সুরক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির সমন্বিত বিষয় হিসেবে দেখতে হবে।"
গ্রিন কোয়ালিশন, পবা উপজেলার সভাপতি রহিমা খাতুন বলেন, "নদীর সংকট শুধু নদীর পাড়ের মানুষের সমস্যা নয়; এর প্রভাব কৃষি, খাদ্য, আয় ও স্থানীয় জীবনের ওপর পড়ে। নদী রক্ষার পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারী, কৃষক, মৎস্যজীবী ও তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। জনগণকে শুধু নদী রক্ষার কর্মসূচির অংশগ্রহণকারী নয়, নদী ব্যবস্থাপনার অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে।"
সংলাপ থেকে ১০ দফা নীতিগত দাবি উপস্থাপন করা হয়। সংলাপে বারনই নদী ও সংযুক্ত জলপ্রবাহের পাশাপাশি পদ্মা/গঙ্গাসহ বরেন্দ্র অঞ্চলের নদীগুলোর জন্য ১০ দফা নীতিগত দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো- বারনই ও সংযুক্ত নদীগুলোর সমন্বিত মানচিত্র তৈরি করতে হবে; নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও সংযোগ সুরক্ষায় বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন করতে হবে; দূষণের উৎস চিহ্নিত করে উৎসেই দূষণ বন্ধ করতে হবে; নদী ও তীরের অবৈধ দখল শনাক্ত করে সময়বদ্ধ ব্যবস্থা নিতে হবে; নদী পুনরুদ্ধারকে শুধু খনন নয়, পূর্ণাঙ্গ ইকোলজিকাল রিস্টোরেশন হিসেবে বাস্তবায়ন করতে হবে; নদী প্রকল্পের আগে পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে; নদীনির্ভর মানুষের জীবন ও জীবিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে; স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণকে পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণের অংশ করতে হবে; বারনই ও সংযুক্ত নদীগুলোর জন্য কমিউনিটি নদী পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাপনা চালু করতে হবে; নদী-সংক্রান্ত তথ্য জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে; সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে; নিয়মিত কমিউনিটি নদী সংলাপ/গণশুনানীর ও সময়বদ্ধ নদী কর্মপরিকল্পনা এর মাধ্যমে অগ্রগতি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ