শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:০৪ পি.এম
পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে একটি অজ্ঞাত বস্তু দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
এ তথ্যটি সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনসের (ইউকেএমটিও) সূত্রে নিশ্চিত করেছে।
একটি বিবৃতিতে ইউকেএমটিও জানায়, অজ্ঞাত বস্তুটির আঘাতের ফলে ট্যাংকারটিতে আগুন লেগে যায়। পরবর্তীতে আগুনটি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
জাহাজটির সকল ক্রু নিরাপদে রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে, এই ঘটনার ফলে পরিবেশের ওপর কোনো প্রভাব পড়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার তদন্ত চলমান থাকায় ইউকেএমটিও হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী সকল জাহাজকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে পরামর্শ দিয়েছে। একই সাথে, কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ লক্ষ্য করলে তা ইউকেএমটিওকে জানানোর জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জয়পুরহাট, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জয়পুরহাট ৪০০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নে সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আশিক আহম্মেদ জেবাল (বাপ্পী)।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে জয়পুরহাট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই আহ্বান জানান।
সভায় ডা. আশিক আহম্মেদ জেবাল মন্তব্য করেন, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু কনটেন্ট ক্রিয়েটর সোশ্যাল মিডিয়ায় হাসপাতাল সম্পর্কে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা তথ্য প্রচার করছেন।
এ ধরনের অপতথ্য হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়ন ও স্বাভাবিক কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। একইসাথে, চিকিৎসক ও রোগীদের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত দূরত্ব তৈরি করছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, একমাত্র বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমেই এই অপতথ্য প্রতিরোধ করা সম্ভব। চিকিৎসক ও জনগণের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না হওয়ার জন্য তিনি সাংবাদিকদের প্রতি গুরুত্বের সাথে বিষয়টি দেখার অনুরোধ জানান।
জয়পুরহাট প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবু বকর সিদ্দিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন—প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি তানভিরুল ইসলাম রিগান, সাধারণ সম্পাদক শামিম কাদির, সাংবাদিক ইসমাইল হোসেন, আব্দুল আলিম, আলমগীর চৌধুরী, মোমেন মুনি, খ. ম আব্দুর রহমান রনি, মাশরেকুল আলম, রবিউল ইসলাম রুবেল, রাশেদুজ্জামান রাশেদ, শহিদুল ইসলাম সবুজ, সুজন কুমার মন্ডল, সালেহুর রহমান সজীব এবং আরাফাত হোসেন মুনসহ জেলায় কর্মরত অন্যান্য সাংবাদিকবৃন্দ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘স্বপ্নের শুরু এখান থেকেই’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে রাজধানীর উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের শিশু-কিশোরদের জন্য তিন মাসব্যাপী ফুটবল প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টর পার্কে এই প্রশিক্ষণের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টর ওয়েলফেয়ার সোসাইটির উদ্যোগে এবং ইউনিমার্টের সার্বিক সহযোগিতায় এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রায় ১৫০ জন শিশু-কিশোর অংশগ্রহণ করেন।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টর ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সভাপতি শরীফ সান্টু ও সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন। তারা উভয়েই উদ্বোধন করেন।
সোসাইটির ক্রীড়া ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মনজুর হোসেন খান প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সার্বক্ষণিক আয়োজন ও তদারকি করছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সদস্য মোঃ ওয়াহিদ খান, উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টর ওয়েলফেয়ার সোসাইটির স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক খালেদুর রহমান, নির্বাহী সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা কবিরুজ্জামান, সেক্টরের বাসিন্দা এবং শিশু-কিশোরদের অভিভাবকরা।
উদ্বোধনী বক্তব্যে সোসাইটির সভাপতি শরীফ সান্টু বলেন, ‘বর্তমান সময়ে শিশু-কিশোরদের একটি বড় অংশ মোবাইল ফোন, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইসে অতিরিক্ত সময় কাটাচ্ছে। এতে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই শিশুদের মাঠমুখী করতে নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।’
তিনি আরও জানান, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাধুলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিশুদের শরীরচর্চা হবে, শারীরিক সক্ষমতা বাড়বে এবং দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা তৈরি হবে। একই সঙ্গে সকালে মাঠে খেলাধুলা করলে তারা পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো ও ভিটামিন ডি পাওয়ার সুযোগ পাবে।
সাধারণ সম্পাদক দেলওয়ার হোসেন বলেন, ‘শিশু-কিশোরদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে শুধু পড়াশোনা নয়, খেলাধুলারও প্রয়োজন রয়েছে।’ তিনি এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তিনি আরও জানান, শিশুদের মোবাইল ও অন্যান্য ডিভাইসের আসক্তি থেকে দূরে রেখে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে পরিবার ও সমাজের সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে। সেক্টরের শিশু-কিশোরদের জন্য ফুটবল প্রশিক্ষণের এ আয়োজন তাদের প্রতিভা বিকাশে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
ক্রীড়া ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মনজুর হোসেন খান বলেন, ‘শিশু-কিশোরদের মাঠে ফিরিয়ে আনাই এ প্রশিক্ষণের অন্যতম লক্ষ্য। নিয়মিত খেলাধুলার মাধ্যমে তারা শারীরিকভাবে সুস্থ থাকার পাশাপাশি শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও দলগত সহযোগিতার মতো গুণাবলি অর্জন করতে পারবে।’
উল্লেখ্য, তিন মাসব্যাপী ফুটবল প্রশিক্ষণে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের শিশু-কিশোররা অংশ নিচ্ছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়বে এবং ভবিষ্যতে প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরির পথ সুগম হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যশোরের শার্শা থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মরত উজ্জ্বল হোসেন নামের এক যুবকের মরদেহ দেশে ফিরেছে মৃত্যুর ১৭ দিন পর। শনিবার দিবাগত রাতের একটি ফ্লাইটে তার কফিনবন্দি মরদেহ ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছালে পরিবারের সদস্যরা তা গ্রহণ করেন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮ টার দিকে কফিনে করে তার মরদেহ উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে পৌঁছায়। উজ্জ্বল হোসেন ওই গ্রামের লিয়াকত আলীর সন্তান।
পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে জীবিকার সন্ধানে মালয়েশিয়া পাড়ি জমান উজ্জ্বল হোসেন। তিনি পরিবারের অভাব-অনটন দূর করতে এবং প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফোটাতে সেখানে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথ শেষ হলো নিথর দেহ হয়ে, মাটির টানে ফিরলেন তিনি, তবে জীবিত নয়, কফিনবন্দি হয়ে।
দীর্ঘ আট বছর প্রবাসজীবন কাটিয়ে ২০২৩ সালে দেশে ফিরে বিয়ে করেন তিনি। নতুন সংসারের স্বপ্নে তখন জীবন রঙিন হয়ে ওঠে। কিন্তু সেই সুখ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। বিয়ের মাত্র তিন মাস পর আবারও মালয়েশিয়ায় ফিরে যেতে হয় উজ্জ্বলকে। প্রিয়তমা স্ত্রীর কাছে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, ফিরে এসে তাদের সংসার সাজাবেন এবং স্বপ্ন পূরণ করবেন। কিন্তু নিয়তি যেন অন্য গল্প লিখে রেখেছিল।
মালয়েশিয়ায় যাওয়ার প্রায় তিন বছর পর, গত ১৫ দিন আগে হঠাৎ জ্বরে আক্রান্ত হন উজ্জ্বল। সহকর্মীরা তাকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মালয়েশিয়ার সুলতানা আমিনা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১ সেপ্টেম্বর তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর পর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগে।
স্বজনরা জানান, দূতাবাসের সহায়তায় তারা তার মরদেহ দেশে আনতে সক্ষম হয়েছেন। আজ সকাল ১১ টায় স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্বজন, প্রতিবেশীসহ স্থানীয় লোকজন অংশ নেন। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়।
যে মানুষটি একদিন পরিবারের স্বপ্ন পূরণ করতে বিদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন, আজ সেই মানুষটিই ফিরেছেন কফিনবন্দি হয়ে। তার মৃত্যুতে গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দল থেকে বহিষ্কারের দুই মাস পর, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী মো. নজরুল ইসলাম নিজেকে এখনও এমপি হিসেবে দাবি করেছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের। অন্যদিকে, জামায়াতের দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, তিনি বহিষ্কারের পর আর জামায়াতের সদস্য নন।
৭৫ বছর বয়সী এই সংসদ সদস্য, যিনি সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত, গণমাধ্যমের কাছে বলেন, "আমাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে সদস্যপদ আল্লাহর রহমতে এখনো আছে। খাতা-কলমে সব জায়গায় আমি জামায়াতের সদস্য হিসেবেই আছি।" তিনি আরও জানান, দল তার বিষয়ে কী বলেছে, তা তার জানা নেই।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য এবং সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. ইজ্জতুল্লাহ জানান, "বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশনে (ইসি) লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।"
এছাড়া, দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, "আমরা তাকে দল থেকে বহিষ্কার করার পর স্পিকার ও ইলেকশন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় চিঠি পাঠিয়ে দিয়েছি।"
গাজী মো. নজরুল ইসলামকে গত ২২ জুলাই নৈতিক স্খলনের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামী দল থেকে বহিষ্কার করে, যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার একটি ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। পরে, তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেওয়া হয়।
দল থেকে বহিষ্কারের পর, জাতীয় সংসদে তার সদস্যপদ বহাল থাকবে কিনা অথবা তিনি স্বতন্ত্র সদস্য হিসেবে গণ্য হবেন কিনা, এই বিষয়টি এখন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তবে জামায়াতের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে, স্পিকার কিংবা নির্বাচন কমিশন থেকে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ