শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৩০ পি.এম
ভূমধ্যসাগরে কয়েক মাইলজুড়ে ‘মাইক্রোঅ্যালগি’ বা অণুশৈবালের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এর ফলে ইসরায়েলের বেশ কয়েকটি প্রধান লবণাক্ত পানি পরিশোধন কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।
এতে দেশটির পানীয় জলের প্রধান উৎস নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
মাইক্রোঅ্যালগি হলো খুব ছোট জলজ জীব, যেগুলো খালি চোখে দেখা যায় না। সূর্যের আলো, কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং পানিতে থাকা পুষ্টি উপাদান ব্যবহার করে এগুলো দ্রুত বেড়ে উঠতে পারে।
ইসরায়েলের জাতীয় পানি সংস্থা মেকোরোটের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ছয়টি উপকূলীয় লবণাক্ত পানি পরিশোধন কেন্দ্রের মধ্যে পাঁচটি রবিবার বন্ধ হয়ে যায়।
এসব কেন্দ্রে সমুদ্রের পানি পরিশোধন করে পানযোগ্য করা হয়। পরে কয়েকটি কেন্দ্র আংশিকভাবে চালু হলেও বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মাত্র একটি কেন্দ্র পুরো সক্ষমতায় চলছিল। ৭৮ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম দেশটি সুপেয় পানির সংকটে পড়েছে।
মেকোরোটের মুখপাত্র লিওন গুটম্যান জানান, ইসরায়েলে এর আগে এত বড় আকারে এমন ঘটনা দেখা যায়নি।
তবে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের প্রায় ৯৯ শতাংশ এলাকায় পানীয় জলের সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল। ইসরায়েলের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, দেশটি পানীয় জলের জন্য সমুদ্রের পানি পরিশোধনের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। ইসরায়েল একটি শুষ্ক দেশ, যেখানে বড় নদী নেই এবং বৃষ্টিপাতও তুলনামূলক কম। বর্তমানে দেশটির পানীয় জলের অন্তত ৬৫ শতাংশ সমুদ্রের লবণাক্ত পানি পরিশোধনের মাধ্যমে আসে।
ইসরায়েলের বেন-গুরিয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পানি গবেষণার সহযোগী অধ্যাপক এদো বার-জিভ বলেন, সপ্তাহের শুরুতে দেশটির উপকূলজুড়ে বিপুল পরিমাণ ভাসমান পদার্থ দেখা যায়। পরে বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে নিশ্চিত হন, এর বড় অংশ মাইক্রোঅ্যালগি।
বার-জিভের ধারণা, শৈবালের এই বিস্তার অন্তত এক ডজন মাইল এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এটি নীল নদের বদ্বীপ এলাকা থেকে শুরু হয়ে সমুদ্রের স্রোতের সঙ্গে উত্তর দিকে ইসরায়েলের উপকূলে পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত ২০ বছর ধরে উপকূলের পানির মান পরীক্ষা করছেন বার-জিভ। তিনি বলেন, এত বড় আকারের শৈবালের বিস্তার তিনি আগে কখনো দেখেননি। ইসরায়েলের বেশিরভাগ লবণাক্ত পানি পরিশোধন কেন্দ্রে ‘রিভার্স অসমোসিস’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এই পদ্ধতিতে প্রথমে পানির বড় কণা ও দূষিত পদার্থ সরানো হয়। এরপর বিশেষ ঝিল্লির মধ্য দিয়ে পানি প্রবাহিত করা হয়। ওই ঝিল্লি লবণ, ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য ক্ষুদ্র কণা আটকে দিয়ে পরিষ্কার পানি তৈরি করে।
তবে পানিতে শৈবাল ও এর তৈরি বিভিন্ন পদার্থের পরিমাণ বেড়ে গেলে এসব ঝিল্লি দ্রুত নষ্ট বা অকার্যকর হয়ে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ইউটার মিডল ইস্ট সেন্টারের পরিচালক মাইকেল ক্রিস্টোফার লো বলেন, পানিতে ভাসমান পদার্থের পরিমাণ বেশি হলে পরিশোধন ব্যবস্থা তা সামাল দিতে পারে না।
এ ধরনের ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। ২০০৮ ও ২০০৯ সালে ওমান উপসাগরে বড় ধরনের ক্ষতিকর শৈবাল বৃদ্ধির কারণে ওই অঞ্চলের কয়েকটি লবণাক্ত পানি পরিশোধন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরিশোধন কেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পানির ঘাটতি পূরণে সরকার বিকল্প ব্যবস্থা নিয়েছে। মেকোরোটের গুটম্যান জানান, গ্যালিলি সাগর থেকে পানি সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে, ভূগর্ভস্থ পানির কূপ চালু করা হয়েছে এবং জাতীয় পানি মজুদ ব্যবহার করা হয়েছে।
কয়েকটি শহরে সাময়িকভাবে কিছু বিধিনিষেধও দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বাগানে পানি দেওয়া ও সুইমিং পুলে পানি ভরার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন কৃষকেরা। বিশেষ করে যারা সেচের কাজে পানযোগ্য মানের পানি ব্যবহার করেন। পুনর্ব্যবহৃত পানি ব্যবহারকারী কৃষকেরা তুলনামূলকভাবে কম সমস্যায় পড়েছেন।
গুটম্যান বলেন, ঘটনাটি গ্রীষ্মকালে হওয়ায় পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়েছে। কারণ এ সময় ইসরায়েলে পানির চাহিদা বছরের অন্য সময়ের তুলনায় সবচেয়ে বেশি থাকে। ইসরায়েল ওশানোগ্রাফিক অ্যান্ড লিমনোলজিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সামুদ্রিক বাস্তুবিদ তামার গাই-হাইম বলেন, পানিতে থাকা পুষ্টি, তাপমাত্রা, আলো, স্রোত ও পানির মিশ্রণের মতো পরিবেশগত বিষয়গুলো যখন শৈবালের দ্রুত বৃদ্ধির জন্য উপযোগী হয়ে ওঠে, তখন তাকে ‘ব্লুম’ বলা হয়।
মেকোরোটের মতে, এবারের শৈবাল বৃদ্ধির পেছনে বেশ কিছু অস্বাভাবিক পরিস্থিতি একসঙ্গে কাজ করেছে। এর মধ্যে ছিল একটি সামুদ্রিক ঝড়। ঝড়ের কারণে পানিতে ভাসমান পদার্থের পরিমাণ বেড়ে যায়। একই সময়ে সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তারও বেশি হয়ে যায়।
বার-জিভ বলেন, শৈবাল বা জেলিফিশের কারণে এর আগে পরিশোধন কেন্দ্র বন্ধ করতে হয়েছে। তবে উপকূলের বড় একটি অংশজুড়ে একই সময়ে একাধিক কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। তার মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও ঘন ঘন ঘটতে পারে।
জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে সমুদ্রেও। সমুদ্রের তাপমাত্রা বাড়ার পাশাপাশি স্রোতের গতিপথ পরিবর্তন হচ্ছে। শক্তিশালী ঝড়ের কারণে পয়ঃবর্জ্য ও সারসহ বিভিন্ন দূষিত পদার্থও সমুদ্রে মিশছে। এসব কারণে বড় আকারে শৈবাল বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের ঘটনা শুধু একটি সাময়িক সমস্যা নয়, এটি পানি নিরাপত্তা নিয়ে বড় একটি প্রশ্নও সামনে এনেছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তীব্র তাপপ্রবাহ ও খরা বাড়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সমুদ্রের পানি পরিশোধনের ওপর বেশি নির্ভর করছে। তবে একটি কেন্দ্রীয় ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা নতুন ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।
লো বলেন, এবারের ঘটনা দেখিয়েছে, বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় এ ধরনের ব্যবস্থা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগকে ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন না। সামরিক হামলা ও সাইবার হামলার আশঙ্কাও রয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে এর আগে লবণাক্ত পানি পরিশোধন কেন্দ্র হামলার শিকার হয়েছে। বিভিন্ন দেশে হ্যাকাররাও পানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাও বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বার-জিভ বলেন, ‘লবণাক্ত পানি পরিশোধন কেন্দ্রের আশপাশে তেল ছড়িয়ে পড়বে কি না, সেটি নয় বরং প্রশ্ন হলো, কখন এমন ঘটনা ঘটবে। তেল ছড়িয়ে পড়লে শৈবালের প্রাদুর্ভাবের তুলনায় এসব পরিশোধন কেন্দ্র দীর্ঘ সময় বন্ধ রাখতে হতে পারে। কারণ তেল পানির পরিশোধন ব্যবস্থার জন্য বড় ও দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা তৈরি করতে পারে।
সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:১৫
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম মন্তব্য করেন, স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোরভাবে মাদক নির্মূল করতে হবে। তিনি বলেন, "আমাদের অভিভাবকরা ভাল নেই। যেখানেই মাদক কারবারী ও মাদকসেবীদের পাওয়া যাবে তাদের ধরে ধরে ১ থেকে ২ বছরের জেল দিয়ে দিবেন।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান তারেক রহমানের সরকার মাদক থেকে তরুণ সমাজকে ফিরিয়ে আনার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে তরুণদের অংশগ্রহণের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তরুণদের কর্মমূখী করার জন্য সারাদেশে এআই ও ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আজ বিকেলে মধুপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ‘বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা (পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্যতীত)’ কর্মসূচির আওতায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, বিদ্যালয়ে আসা যাওয়ার জন্য সাইকেল প্রদান ও আয়বর্ধক কাজের জন্য সেলাইমেশিন প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী আরো বলেন, বাংলা ভাষার পাশাপাশি তরুণ যুবকদের ইংরেজী, চাইনিজ ও জাপানী ভাষা শিখতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, "জাপান ও চীনে ক্ষুদ্র নৃতাত্বিক জনগোষ্ঠির কর্মীর চাহিদা ব্যাপক।" তাদের ভাষা শিখার জন্য এবং সংস্কৃতি চর্চা আরো গতিশীল করার উদ্দেশ্যে কালচারাল সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হবে। তিনি জানান, কয়েক মাসের মধ্যেই এআই ও ফ্রিল্যান্সিং শিক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে, যাতে করে মধুপুরের মানুষ কর্মক্ষম ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সাইফুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশন এর চেয়ারম্যান এড. মোঃ শামসুজ্জামান সুরুজ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার, ধনবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ আজিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মোঃ নাসির উদ্দিন, মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ এ কে এম ফজলুল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদ, পৌর বিএনপির সভাপতি খুররম খান ইউসুফজাই প্রিন্স, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোতালিব হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ পান্না, উপজেলা বিএনপি'র সিনিয়র সহ সভাপতি এম রতন হায়দার, সহ সভাপতি লিলি সরকার।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিসহ সুশীল সমাজের ব্যক্তিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলায় আজ জাতীয়তাবাদী যুবদলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ শুরু হয়েছে।
আজ শনিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার পাশের সড়কে এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ও বানিজ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সভাপতি প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।
এ সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জহিরুল হক খোকন, সাবেক পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, জেলা যুবদলের সভাপতি শামীম মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মাহমুদ, যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ তৈমুর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে বাসাবাড়ির প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করেছেন হাজারো নাগরিক। পরিচ্ছন্ন নগর গঠন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিকদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রায় সহায়তার লক্ষ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে ‘বর্জ্যের বিনিময়ে বাজার’ কর্মসূচিতে এ আয়োজন করা হয়।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের আশরাফাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অস্থায়ী এ বাজার বসে। এতে এলাকার বাসিন্দারা তাদের বাসাবাড়ির প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিসপত্র সংগ্রহ করেন। কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। ‘বর্জ্যের বিনিময়ে বাজার’ নাগরিকদের সেই অংশগ্রহণে উৎসাহিত করার একটি কার্যকর মডেল। তিনি উল্লেখ করেন, ড্রেন ও নালা-নর্দমায় প্লাস্টিকসহ অন্যান্য বর্জ্য ফেলার কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য জমা দিলে জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষাও নিশ্চিত হবে।
এই উদ্যোগ পুরো নগরীতে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রশাসক বলেন, শিগগিরই ডিএসসিসির উদ্যোগে গুলিস্তানে একটি স্থায়ী স্টল স্থাপন করা হবে। পর্যায়ক্রমে ডিএসসিসির প্রতিটি ওয়ার্ডেও এ কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে। এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের (এসটিএস) সুবিধাজনক স্থানে পথশিশুদের শিক্ষার সুযোগ তৈরিতে চেয়ার-টেবিল ও বইসহ ‘বই পড়ার বিনিময়ে খাবার’ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। বক্তব্যের শেষে কামরাঙ্গীরচরবাসীকে বুড়িগঙ্গা নদী রক্ষা, নদী দখলমুক্ত রাখা এবং যত্রতত্র বর্জ্য না ফেলার আহ্বান জানান প্রশাসক।
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জামাল উদ্দিন বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে শুধু সহায়তা না দিয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অংশীদার করা হচ্ছে। গত দুই বছরে সংগৃহীত প্লাস্টিক বর্জ্য বিক্রি করে প্রায় ১ কোটি টাকা আয় হয়েছে। এ অর্থ দিয়ে প্রায় ৪ লাখ মানুষকে আহার করানো সম্ভব হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় আগামী এক বছরে ১০০টি ভ্রাম্যমাণ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহবুবুর রহমান তালুকদার, সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ