০৭:৩৭ পি.এম
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, অর্থায়ন সংকটের কারণে পরিবেশ বিষয়ক নতুন কোনো সরকারি প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে না। তিনি উল্লেখ করেছেন, পূর্ববর্তী প্রকল্পগুলোর মধ্যে যেগুলোর কাজ ৫০ শতাংশের বেশি সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলো কার্যকর রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন: টেকনাফে মানবপাচারকারীদের গুলিতে আহত সেনাসদস্য মো. তিতাস শেখের মৃত্যু
অন্যদিকে, যেসব প্রকল্পের অগ্রগতি ৩০ শতাংশের কম, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কর্তৃক আয়োজিত ‘বায়ু-শব্দ-দৃষ্টি-পলিথিন ও প্লাস্টিক দূষণ : প্রতিকার কত দূর?’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব মন্তব্য করেন। সেমিনারে বাপার সভাপতি অধ্যাপক ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার সভাপতিত্ব করেন এবং বিশেষজ্ঞরা বায়ু, শব্দ, দৃষ্টি ও পলিথিন দূষণ রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার সবার সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে চাচ্ছে।
আরও পড়ুন: টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গুলি বিনিময়ে সেনাসদস্য আহত
তিনি উল্লেখ করেন, "কারণ আমাদের ফান্ডিংয়ের সমস্যা আছে। আমাদের সক্ষমতার ক্ষেত্রেও মারাত্মক সমস্যা।" তবে পরিবেশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং ২৫ কোটি গাছ লাগানোর প্রকল্প চলমান রয়েছে।
এ বছর ইতোমধ্যে ৩ কোটি ৫ লাখের বেশি গাছ লাগানো হয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।
পরিবেশ সুরক্ষায় সরকার কোনো দুর্বৃত্তায়নকে প্রশ্রয় দিচ্ছে না বলেও জানান শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, দূষণের উৎসগুলো চিহ্নিত করে কাজ শুরু হয়েছে এবং পলিথিন ও প্লাস্টিকের বিকল্প তৈরির কাজ চলছে।
আরও পড়ুন: মাদকচক্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় আখতারুজ্জামানের ছেলের ওপর হামলা
তিনি আরও বলেন, "দৃষ্টিদূষণ কমাতে রাত ১২টার পর দেশের সব বিলবোর্ড বন্ধ করতে হবে।"
এতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি দৃষ্টিদূষণ কমবে এবং প্রাণ-প্রকৃতির ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বাপার সহসভাপতি অধ্যাপক এম. ফিরোজ আহমেদ ও নির্বাহী সদস্য আহসান রনি পলিথিন ও প্লাস্টিক দূষণ বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তারা জানান, দেশে প্রতিদিন প্রায় ২৫ হাজার টন কঠিন বর্জ্য উৎপাদিত হয়, যার মধ্যে ঢাকায় উৎপাদিত হয় প্রায় ৭ হাজার ৫০০ টন। দেশে বছরে প্রায় ৮ লাখ টন প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয়। মোট বর্জ্যের ৫৫ শতাংশ অপরিকল্পিতভাবে উন্মুক্ত স্থানে ফেলা হয়। শহরাঞ্চলে মাথাপিছু প্লাস্টিকের ব্যবহার ২০০৫ সালে ৩ কেজি থেকে বেড়ে প্রায় ৯ কেজিতে দাঁড়িয়েছে। ঢাকায় এ হার ২২ দশমিক ২৫ কেজি। পলিথিন ও প্লাস্টিকের কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্লাস্টিক দূষণ রোধে আইন, বিধিমালা ও কর্মপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।
আরও পড়ুন: বাকৃবির শাহজালাল হলে ‘শাহী ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২.০’-এর উদ্বোধন
বাপার যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক ড. আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার বায়ু ও শব্দদূষণ বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বায়ুদূষণ বাংলাদেশের পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির বড় বাধা। বায়ুদূষণের কারণে বাংলাদেশিদের গড় আয়ু প্রায় ৫ দশমিক ৫ বছর কমছে। শীতকালে ঢাকার বায়ুমান সূচক প্রায়ই ২০০ থেকে ৩০০ ছাড়িয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান উৎসের মধ্যে রয়েছে নির্মাণকাজ ও রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, ইটভাটা ও শিল্পকারখানা, যানবাহন, আন্তদেশীয় দূষণ, গৃহস্থালি চুলার ধোঁয়া ও বর্জ্য পোড়ানো।
তিনি জানান, ঢাকার ৮২ শতাংশ স্থানে শব্দের মাত্রা ৬০ ডেসিবেলের বেশি। ফার্মগেট, শাহবাগ ও গাবতলীর মতো এলাকায় তা ৮০ থেকে ১১০ ডেসিবেলে পৌঁছায়। এতে শ্রবণশক্তি হ্রাস, ঘুমের ব্যাঘাত, মানসিক চাপ ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম বলেন, পরিবেশ দূষণ রোধে দেশে বিদ্যমান আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে দূষণ নিয়ন্ত্রণ করেছে, সেসব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। বাড়িঘর নির্মাণেও পরিবেশগত বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে।
বাপার সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির ফিটনেসবিহীন ও কালো ধোঁয়ার যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট, শিক্ষাক্রমে বায়ুমান অন্তর্ভুক্তি, অবৈধ ইটভাটা বন্ধ, সরকারি কাজে ব্লক ইট বাধ্যতামূলক করা, শিল্পকারখানায় অনলাইন বায়ুমান পর্যবেক্ষণ, শব্দদূষণ বিধিমালা-২০২৫ কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং যানবাহনের নিয়মিত শব্দ পরীক্ষা করাসহ ১০ দফা সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় শ্রম আন্দোলনের নামে হামলায় শ্রমিক মো. সেলিম গুরুতর আহত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন