প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশের সক্ষমতা সম্প্রতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি।
তিনি জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সক্ষম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছে।
বর্তমানে ৪ নম্বর বিপদ সংকেত জারির সময়েও কার্যকরভাবে উদ্ধার ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করার সক্ষমতা দেশের রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ১২টি উপকূলীয় জেলার কাছে দুর্যোগকালীন উদ্ধার কাজে ব্যবহারের জন্য স্পিডবোট হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘দুর্যোগকালীন উদ্ধার সক্ষমতা আরো বাড়াতে জাইকার অর্থায়নে দেশের ১২টি উপকূলীয় জেলায় আধুনিক স্পিডবোট প্রদান করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও ২৫টি জেলায় এসব উদ্ধারযান সরবরাহ করা হবে, যাতে বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ের সময় দুর্গম এলাকায় দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়।’
বিতরণ করা স্পিডবোটগুলো ডাবল ইঞ্জিনবিশিষ্ট হওয়ায় সমুদ্রে চার নম্বর বিপদ সংকেত চলাকালেও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হবে, বলে জানান মন্ত্রী।
দুর্যোগ মোকাবেলায় সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামে ব্যাপক অতিবৃষ্টির কারণে বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়েছিল। জাইকার অর্থায়নে পাওয়া বোর্ড থেকে একটি বোর্ড আমরা তাৎক্ষণিকভাবে চট্টগ্রামে পাঠিয়েছিলাম উদ্ধার কাজ সম্পন্ন করার জন্য।’
তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানকারীদের শুকনা ও রান্না করা খাবার সরবরাহ করা হয়েছে এবং বর্তমানে অধিকাংশ মানুষ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য সরকার নতুন ঘর নির্মাণ করছে এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কৃষকদের বীজ বিতরণ করছে।
ভূমিকম্প প্রস্তুতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘সিলেট, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রংপুর ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এক লাখ ভলান্টিয়ারের মধ্যে ইতিমধ্যে প্রায় ৭০ হাজার ভলান্টিয়ার চিহ্নিত করে ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে, শিগ্গিরই তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।’
তিনি আরো জানান, ঢাকা মহানগরে বড় ধরনের দুর্যোগ হলে লোকজনকে জমায়েত করার জন্য ৪৪৫টি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে এবং বেসরকারি হাসপাতাল ও হেলিকপ্টারের তালিকাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বক্তব্যের শেষে মন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭০ সালের জলোচ্ছ্বাসে প্রায় ১০ লাখ এবং ৯১ সালে প্রায় ১ লক্ষ মানুষ মৃত্যুবরণ করেছিল। কিন্তু এখন সক্ষমতা ও সচেতনতা বৃদ্ধির কারণে মৃত্যুর সংখ্যা অনেকখানি কমে গেছে। বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপ্রবণ এলাকা, তাই আমাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করাই সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন