প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অভিযোগ আছে মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ফেনীর দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম নোমান। আদালত তার প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশনা আসার পর এবার তার বিরুদ্ধে সংগৃহীত অভিযোগের তদন্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পূর্বনির্ধারিত সময়ের মধ্যে, অর্থাৎ আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তারা প্রতিবেদন দাখিল করবেন।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাতে ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে ৯ আগস্ট ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এন এম মোরশেদ খান দাগনভূঞা থানার ওসিকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে, পৃথক দুটি ঘটনায় মামলা নিতে অস্বীকৃতির অভিযোগ তদন্তের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এই নির্দেশনার প্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন পুলিশ সুপার।
ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মু. সাইফুল ইসলামকে প্রধান করা হয়েছে সেই তদন্ত কমিটিতে। এছাড়া ডিআইও-১ মুহাম্মদ রশীদ ও পুলিশ সুপার কার্যালয়ের পরিদর্শক (ক্রাইম) হায়দারকে সদস্য করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির প্রধান মু. সাইফুল ইসলাম বলেন, “গত বৃহস্পতিবার তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।” রবিবার থেকে এই তদন্ত কাজ শুরু হয়েছে।
তবে তদন্তের প্রয়োজনে তাদের সময় আরো বাড়তে পারে, এমন আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার কালের কণ্ঠকে বলেছেন, “এখন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে। কিছু বিষয় একান্তই ডিপার্টমেন্টাল বিষয়, যা মিডিয়ায় আসার মতো নয়। কিভাবে তদন্ত হচ্ছে বা হচ্ছে না, সেটিও আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়।”
তদন্তে কোন বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে, প্রশ্ন করার পর পুলিশ সুপার জানালেন, “আদালত যে বিষয়গুলো নির্দেশ দিয়েছে, সেগুলোই তদন্ত হবে।”
ওসিকে প্রত্যাহার করার আদালতের নির্দেশের পর তদন্ত কমিটি গঠন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা যেটিই করি, তা দাপ্তরিক বিধি অনুসারে করা হয়। আদালতের আদেশ আমাদের ডিপার্টমেন্টের আলোকেই সম্পন্ন হবে।”
এ বিষয়ে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সাহাব উদ্দিন আহমেদ কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, “গত ৯ আগস্ট আদালত দাগনভূঞা থানার ওসিকে প্রত্যাহার ও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর ১২ আগস্ট ওই কর্মকর্তা আদালতে হাজির হতে গিয়ে বিচারকের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। বিচারক তাকে জানান, ‘আমার সঙ্গে আপনার কোনো কাজ নেই।’”
পিপি আরো জানান, “আসলে আদালত এই কর্মকর্তার দায়িত্বহীনতার বিষয়টি তার দপ্তরকে বিস্তারিত জানিয়ে দিয়েছে। আদালতের নির্দেশনামত পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করবে এবং পুলিশ সুপার তদন্ত সাপেক্ষে যে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন, সে বিষয়ে আদালতকে অবহিত করবে।”
এদিকে আদালতের নির্দেশনার পরেও তদন্ত কমিটি গঠন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দীন খাঁন কালের কণ্ঠকে বলেছেন, “আদালতের নির্দেশে যদি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকে, তাহলে তদন্ত কমিটি গঠন করা সঠিক।”
দাগনভূঞা থানার ওসিকে প্রত্যাহারের আদেশের বিষয়ে তিনি বলেন, “আদালতের ‘ব্যবস্থা’ শব্দের অর্থ আইনি ব্যবস্থা। আইনি ব্যবস্থার পূর্বশর্ত অনুসন্ধান ও তদন্ত। অনুসন্ধান ও তদন্ত ছাড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ।”
এর আগে, গত ৯ আগস্ট আদালতের আদেশে বলা হয়, দাগনভূঞার মমারিজপুর এলাকার বিবি মারজাহান (২৪) তার স্বামী রাকিব হাসান হৃদয়সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে মারধর ও গুরুতর আঘাতের অভিযোগ করেন। এই অভিযোগে মামলার জন্য থানায় গেলেও তাকে ব্যর্থতা গ্রস্থ হয়ে আদালতে অভিযোগ করতে হয়।
সেই অভিযোগকারীকে পরীক্ষা, তার জবানবন্দি এবং উপস্থাপন করা কাগজপত্র পর্যালোচনা করে আদালত অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে তদন্তের প্রয়োজনীয়তা দেখেন। পরে অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে তদন্তের জন্য পিবিআইকে দায়িত্ব দেওয়ার ব্যবস্থা করতে দাগনভূঞা থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
ওই আদেশে আরও বলা হয়েছে, গৃহবধূ মারজাহানের চিকিৎসার কাগজপত্রে মাথায় আঘাতসহ শারীরিক আঘাতের কথা উল্লেখ রয়েছে। গুরুতর আহত একজন নারীকে পুলিশ উদ্ধারের পরও তার অভিযোগে কেন মামলা হিসেবে নেওয়া হয়নি, সেটি বোধগম্য নয় বলে আদালত মন্তব্য করেন।
শুনানির দিন আইনজীবীরা একই থানায় আরেক গৃহবধূ তানিয়া আক্তার (২২)কে যৌতুকের দাবিতে হত্যার অভিযোগের মামলা গ্রহণ না করার বিষয়েও আদালতের নজরে আনেন। ওই মামলায় গৃহবধূকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ করা হলেও থানায় মামলা গ্রহণ করা হয়নি বলে তারা অভিযোগ করেন।
আদালত আদেশে উল্লেখ করেন, পৃথক দুটি ঘটনার অভিযোগ মামলা হিসেবে গ্রহণে অস্বীকৃতির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অভিযোগ, আইনজীবীদের বক্তব্য ও সংযুক্ত কাগজপত্র পর্যালোচনায় গুরুতর ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এতে ওই কর্মকর্তার থানায় দায়িত্ব পালনের অযোগ্যতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে পড়ে।
এ পরিস্থিতিতে দাগনভূঞা থানার ওসিকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পৃথক দুটি ঘটনায় মামলা নিতে অস্বীকৃতির বিষয়টিকে তদন্ত এবং তার বিরুদ্ধে যথাযথ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন আদালত।
কালের কণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউ
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন