ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাজধানীতে তৎপর পেশাদার খুনি ও চুক্তিভিত্তিক কিলার গ্রুপ


রাজধানীতে তৎপর পেশাদার খুনি ও চুক্তিভিত্তিক কিলার গ্রুপ

রাজধানীতে তৎপরতা চালাচ্ছে পেশাদার খুনি এবং চুক্তিভিত্তিক কিলার গ্রুপগুলো। এই কারণে খুনোখুনি বাড়ছে। চলতি বছরের গত ৬ মাসে রাজধানীতে ১২২টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ হত্যাকাণ্ডই চুক্তিভিত্তিক শুটারদের মাধ্যমে প্রকাশ্য ও চোরাগুপ্তা হামলায় সংঘটিত হয়েছে। বর্তমানে রাজধানীর অপরাধ জগৎ কয়েকটি কিলার গ্রুপের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হওয়া কিংবা বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসীরা আড়ালে থেকে কিলারদের নির্দেশনা দিচ্ছে। মূলত এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, ফুটপাত ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের চাঁদাবাজি, মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রণ এবং আসন্ন সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। রাজধানীতে এখন অর্ধশতাধিক পেশাদার কিলার গ্রুপ হত্যাকাণ্ডগুলোর সাথে যুক্ত রয়েছে। এই তথ্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বর্তমানে ঢাকার অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রণ একটি ভয়াবহ পরিস্থিতিতে অবস্থান করছে। পেশাদার খুনি এবং চুক্তিভিত্তিক কিলার গ্রুপগুলো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এতে সন্ত্রাসীরা নিজেদের খুনের শিকারও হচ্ছে। রাজধানীর মিরপুর, পল্লবী, ভাসানটেক, কাফরুল, বাড্ডা, সবুজবাগ এবং মোহাম্মদপুর এলাকায় কিলারদের সক্রিয়তা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। পেশাদার কিলারদের কাছে অত্যাধুনিক বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রের দুটি ধরনের অস্ত্র রয়েছে। মালবাহী পরিবহনের মাধ্যমে সীমান্ত দিয়ে ঢাকায় প্রবেশ করছে এসব ছোট অস্ত্রগুলো। চলতি বছরের মে মাস থেকে শুরু হওয়া পুলিশ এবং যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে ৭৬টি পিস্তল, ৩০টি শুটার গান, ৩৩টি এলজি এবং অন্যান্য ভারী আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, শীর্ষ সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন দেশে বসে ঢাকার ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাদের ফোনে হুমকি দিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করছে। চাঁদা না দিলেই পেশাদার কিলারদের দিয়ে তাদের উপর আচরণ করা হচ্ছে। পেশাদার অপরাধীদের হাতে জুলাই আন্দোলনকালে বিভিন্ন থানা থেকে লুণ্ঠিত অস্ত্রের একটি বড় অংশ এখনও আছে। পুলিশের লুণ্ঠিত অস্ত্রের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৩৭৫টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ২ লাখ ৫৭ হাজার ৮৪৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। অস্ত্র ও গুলির ব্যবহার চুক্তিভিত্তিক কিলিং মিশনে বাড়ছে। সীমান্ত গলে ঢাকায় অপরাধে ব্যবহৃত অস্ত্রের প্রায় ৮০ শতাংশ প্রবেশ করছে। আন্তর্জাতিক অস্ত্র কারবারিরা দেশের ১৭ থেকে ৩০টি প্রধান রুটের মাধ্যমে অস্ত্র পাচার করছে। কিলারদের কাছে থাকা ছোট আগ্নেয়াস্ত্র মূলত যশোরের বেনাপোল, শার্শা, চৌগাছা এবং দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ঢাকায় প্রবেশ করে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের অরক্ষিত সীমান্তপথও অস্ত্র চোরাচালানের প্রধান ট্রানজিট। রাজশাহী ও নওগাঁ হয়ে সেগুলো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। মিয়ানমার ও ভারতের মিজোরাম সীমান্তের মাধ্যমে ভারী অস্ত্র, সাব-মেশিনগান এবং হ্যান্ড গ্রেনেড টেকনাফ এবং উখিয়া রুট দিয়ে দেশে প্রবেশ করছে।

আরও পড়ুন: এনসিপির কমিটিতে ৩০ বছরের নিচে কাউকে রাখা হবে না

এদিকে সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় নেই। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে গিয়ে কঠোরভাবে তাদের দমন করা জরুরি। সেক্ষেত্রে, শুধু নিয়মিত মামলার পরিসংখ্যান দিয়ে ঢাকার এই গভীর অপরাধ চক্রকে আড়াল করা যাবে না। বরং ভাড়াটে শুটারদের নতুন তৎপরতা ঠেকাতে ঢাকার প্রবেশমুখগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধি এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান জোরদার করা জরুরি।

অন্যদিকে গোয়েন্দা পুলিশ প্রধান শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই। পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ মিরপুর-১৩ এলাকায় যুবদল কর্মী ইউসুফ আলীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) চুক্তিভিত্তিক হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ পেয়েছে। প্রতিপক্ষ এক রাজনৈতিক নেতাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ২৫ লাখ টাকার চুক্তি (সুপারি) করা হয়েছিল। সফল মিশনের জন্য ঝিনাইদহ ও মাগুরা অঞ্চল থেকে ৪ জন পেশাদার শুটারকে ঢাকায় ভাড়া করে আনা হয়েছিল। হামলায় মূল টার্গেট অক্ষত থাকলেও গুলিতে প্রাণ হারান একজন। ওই ঘটনায় জড়িত শুটারসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব ধরনের আলোকসজ্জা বন্ধ করার নির্দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৪৭ এম


সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব ধরনের আলোকসজ্জা বন্ধ করার নির্দেশ

সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব ধরনের আলোকিত বিলবোর্ড বন্ধ করতে হবে এবং আলোকসজ্জা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বয়-২ শাখা থেকে জারি করা এক স্মারকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ১২ আগস্ট থেকেই বিভিন্ন শপিংমল, মার্কেট ও দোকান সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে।

এর আগের নির্দেশনা অনুযায়ী, যা ১১ জুন জারি করা হয়েছিল, শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত কার্যকর ছিল। নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে এই সময়সীমা এক ঘণ্টা কমিয়ে রাত ৮টা নির্ধারণ করা হলো।

স্মারকে আরো বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান ও অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মেলা, বাণিজ্য মেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও এই সময়সীমা প্রযোজ্য হবে। এসব আয়োজন রাত ৮টার মধ্যে শেষ করতে হবে।

তবে খাবারের দোকান, হাসপাতাল, ওষুধের দোকানসহ জরুরি সেবাগুলোর জন্য এই নির্দেশনার আওতামুক্ত থাকবে।

বিদ্যুৎ বিভাগের উপসচিব মো. মামুন ভূঁইয়ার সই করা স্মারকে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।

সরকারের নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, শপিংমল, মার্কেট ও দোকান সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা, সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব ধরনের আলোকিত বিলবোর্ড বন্ধ করা, আলোকসজ্জা বন্ধ রাখা এবং মেলা, বাণিজ্য মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রাত ৮টার মধ্যে শেষ করার ব্যবস্থা নিতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে সম্মত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৫৯ এম


যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে সম্মত

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে দুই দেশ সম্মত হয়েছে, এই তথ্যটি পাকিস্তানের সরকারি সূত্র থেকে জানা গেছে।

পাকিস্তান সরকারের সূত্রগুলো বুধবার (১২ আগস্ট) আনাদোলু এজেন্সিকে জানিয়েছে, বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ১৭ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বলেছে, ‘মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে দুই পক্ষই মধ্যস্থতাকারীদের কাছে সম্মতি জানিয়েছে।’ তবে কত দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হবে সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নিজেদের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করছে বলেও তিনি জানান।

এপ্রিল মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। পরে ১৭ জুন দুই দেশ একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে এবং চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা শুরু করে।

নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুটটি হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে মতবিরোধের কারণে আলোচনা পরবর্তী সময়ে স্থবির হয়ে পড়ে। এর জেরে ৮ থেকে ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার ঘটনা ঘটে।

ওই সময় ওয়াশিংটন ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। জবাবে তেহরান জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতসহ কয়েকটি আরব দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জাম লক্ষ্য করে হামলা চালায়।

তথ্যসূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মালয়েশিয়ায় দুই দিনের অভিযানে ৪৬০ বাংলাদেশিসহ সহস্রাধিক অভিবাসী আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:০২ এম


মালয়েশিয়ায় দুই দিনের অভিযানে ৪৬০ বাংলাদেশিসহ সহস্রাধিক অভিবাসী আটক

মালয়েশিয়ায় আবাসিক এলাকা এবং বিদেশিদের বসবাসের প্রধান হটস্পটগুলোতে দুই দিনের বিশেষ অভিযানে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১ হাজার ৪৩ জন বিদেশিকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। আটকদের মধ্যে সাড়ে চারশ জনেরও বেশি বাংলাদেশি প্রবাসী আছেন।

স্থানীয় সময় বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, ১০ ও ১১ আগস্ট দেশজুড়ে পরিচালিত অভিযানে মোট ৩ হাজার ৩০৭ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ ও নথিপত্র যাচাই করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে ৮৮০ জন পুরুষ এবং ১৬৩ জন নারী। তাদের বয়স ১৭ থেকে ৫৯ বছরের মধ্যে নির্ধারিত।

দ্য স্ট্রেইট টাইমসের প্রতিবেদনে জানানো হয়, আটকদের মধ্যে মোট ৪৬০ জন বাংলাদেশি। বাংলাদেশিদের মধ্যে ৩৬৯ জন পুরুষ এবং ৯১ জন নারী রয়েছেন। এ ছাড়া ৩২৮ জন ইন্দোনেশীয়, ১৮৬ জন মিয়ানমারের নাগরিক, ৫৫ জন ভারতীয় পুরুষ, ২২ জন নেপালি পুরুষ এবং অন্যান্য দেশের ১৪৩ জন নাগরিককে আটক করা হয়েছে।

জাকারিয়া শাবান বলেন, জনগণের অভিযোগ, ইমিগ্রেশন বিভাগের কাছে প্রাপ্ত তথ্য এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আবাসিক এলাকাগুলোকে অভিযানের মূল লক্ষ্য হিসেবে নির্বচিত করা হয়েছে।

মালয়েশিয়ায় কিছু এলাকায় বিদেশিদের অনিয়ন্ত্রিত উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগের কারণে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

জাকারিয়া আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশ এবং সাধারণ মানুষের উদ্বেগের পর দেশজুড়ে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। প্রতিদিন পাঁচটিরও বেশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। আটকদের নথিপত্র যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জাকারিয়া জানিয়েছেন।

অভিযানে কয়েকটি শিশুকেও তাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে পাওয়া গেছে। চিহ্নিত অপরাধের মধ্যে বৈধ পরিচয়পত্র না থাকা, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করা, পাসের শর্ত লঙ্ঘন এবং স্বীকৃত নয়—এমন কার্ড বহন করা অন্তর্ভুক্ত।

এ ছাড়া অভিযানের সময় ৪৫ জন মালয়েশীয় নাগরিককে সাক্ষী হিসেবে হাজির হওয়ার নোটিশ দেয়া হয়েছে। নথিপত্রহীন বিদেশিদের আশ্রয় দেয়ার অভিযোগে বাড়ি বা সম্পত্তির মালিকদের বিরুদ্ধেও তদন্ত করা হবে।

নথিপত্রহীন বিদেশিদের চলমান মাইগ্র্যান্ট রিপ্যাট্রিয়েশন প্রোগ্রামের সুবিধা নেয়ার আহ্বান জানান জাকারিয়া। এই কর্মসূচির আওতায় তারা স্বেচ্ছায় ইমিগ্রেশন বিভাগের কাছে আত্মসমর্পণ করে ৫০০ মালয়েশীয় রিঙ্গিত জরিমানা দিয়ে নিজেদের দেশে ফিরতে পারবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুক্তিযোদ্ধা, বীরাঙ্গনা ও শহীদদের নির্ভুল তালিকা প্রণয়নের উদ্যোগ সরকারের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:০৬ এম


মুক্তিযোদ্ধা, বীরাঙ্গনা ও শহীদদের নির্ভুল তালিকা প্রণয়নের উদ্যোগ সরকারের

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে প্রামাণ্য, তথ্যনির্ভর ও নির্মোহ ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্দেশ্যে শহিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের প্রকৃত এবং নির্ভুল তালিকা প্রণয়নের কৌশল ও করণীয় নির্ধারণ করার লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এই সভা বুধবার (১২ আগস্ট) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বিচ্ছিন্ন তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তালিকা না করতে এবং বহুমুখী যাচাই-বাছাই ও গবেষণালব্ধ উপাত্তের সমন্বয়ে একটি নির্ভরযোগ্য জাতীয় তথ্যভান্ডার গড়ে তোলার ওপর বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

সভায় আলোচকরা বলেন যে, মুক্তিযুদ্ধের পরে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার কারণে দ্রুত প্রত্যক্ষদর্শী ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সাক্ষ্য সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। এর জন্য প্রশাসন, গবেষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করে মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।

রণাঙ্গনের সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের হাতে নিহত সাধারণ মানুষ, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী এবং নারীদের তথ্যও যথাযথভাবে যাচাই ও সংরক্ষণের তাগিদ দেন তারা। তালিকাভুক্ত প্রতিটি নামের পেছনের দলিল ও তথ্যের উৎস সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের গবেষণায় তা নির্ভরযোগ্য ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, দীর্ঘকাল ধরে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অনিয়ম এবং অমুক্তিযোদ্ধাদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ রয়েছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বিষয়। স্বাধীনতার পরপরই প্রশাসনিক কাঠামো স্বাভাবিক না থাকায় কোনো তথ্য-উপাত্ত ছাড়াই অনুমাননির্ভর শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা ঘোষণা করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, বিগত কয়েক দশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারীরা লক্ষাধিক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তৈরি করে স্বাধীনতার ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে এই অবস্থার অবসান ঘটিয়ে শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের সঠিক তালিকা প্রস্তুত করতে মন্ত্রণালয় অঙ্গীকারবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, সঠিকভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা, শহীদদের তালিকা ও বীরাঙ্গনাদের তালিকা উপস্থাপন করতে পারলেই ইতিহাসবিদদের কাছে ইতিহাস রচনার জন্য প্রামাণ্য তথ্য তুলে দেওয়া সম্ভব হবে; নইলে আমরাই ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে যাব।

সভায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির ক্ষেত্রে কোনো অস্পষ্টতা বা বিভ্রান্তির অবকাশ থাকা উচিত নয়। প্রকৃত বীরদের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করতে তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের কাজটি সর্বোচ্চ সতর্কতা, নিরপেক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সম্পন্ন করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব আশরাফুল ইসলাম, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আব্দুল হাই শিকদার এবং বাংলাভিশনের প্রধান সম্পাদক আবদুল হাই সিদ্দিক।

এ ছাড়া আলোচনায় অংশ নেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুল আলম বীর প্রতীক, মেজর জেনারেল (অব.) জামিল ডি আহসান বীর প্রতীক, মেজর জেনারেল (অব.) আজিজুর রহমান বীর উত্তম, সিপিবির সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান খান, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক আহমেদ খান ও নইম জাহাঙ্গীরসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%