০৮:৩০ পি.এম
ইরান ও ওমানের সম্ভাব্য ফি আরোপে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইউরোপের কয়েকটি প্রভাবশালী দেশ এখন কার্যত অনিবার্যভাবে মেনে নিতে শুরু করেছে। তবে এই দেশে তারা জোর দিয়ে বলছে যে, যদি কোনো ফি আরোপ করা হয়, তাহলে তা যেন সব দেশের জাহাজের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য হয় এবং জাতীয়তার ভিত্তিতে বৈষম্য করা না হয়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এতে আলোচনা সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয় যে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের সাম্প্রতিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালিতে কোনো সেবা-ভিত্তিক ফি চালু হওয়ার সম্ভাবনাকে ইউরোপীয় দেশগুলো এখন বাস্তবতা হিসেবে বিবেচনা করছে।
তবে সম্ভাব্য ফি কী ধরনের হবে, কত অর্থ নেওয়া হবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় তা আদায় বা সংগ্রহ করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি।
আরও পড়ুন: ‘ডিসেম্বর মাসে ‘আপা’ আসার সুযোগ নেই, প্রস্তুত ফাঁসির মঞ্চ’
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ অন্য কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ তেহরান ও মাসকাটকে সম্মত করেছে যে যদি নতুন কোনো ফি ব্যবস্থা চালু করা হয়, তাহলে তা অবশ্যই বৈষম্যহীন হতে হবে। কোনো নির্দিষ্ট দেশের জাহাজকে আলাদা করে বেশি সুবিধা দেওয়া হবে না বা কম সুবিধা দেওয়া যাবে না।
একই সঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলো হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণ ও নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক জোট গঠনেরও প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে এ উদ্যোগের বাস্তবায়ন অনেকটাই নির্ভর করবে ইরানকে ঘিরে চলমান শান্তি আলোচনার অগ্রগতির ওপর।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এবং উপসাগরীয় কয়েকটি আরব দেশ এখনও মনে করে যে, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন অনুযায়ী ইরান ও ওমানের হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর বাধ্যতামূলক ফি আরোপের আইনি অধিকার নেই। তাদের আশঙ্কা, যদি এমন নজির তৈরি হয় তাহলে বিশ্বের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথেও একই ধরনের দাবি উঠতে পারে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) একটি বড় অংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। সেই কারণে, এই নৌপথে যেকোনো নতুন নীতিমালা বা বিধিনিষেধের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়তে পারে।
আরও পড়ুন: দিল্লিতে বায়ুদূষণে শীর্ষে, আতশবাজিতে পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন