০৪:১৪ পি.এম
ভূমধ্যসাগরে মাল্টার উপকূলের কাছে ইউরোপগামী অভিবাসীদের একটি নৌকা ডুবে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু ঘটেছে।
ইতালীয় কোস্টগার্ড জানিয়েছে যে, নৌকাটি লিবিয়ার উপকূল থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। এতে প্রায় ৬০ জন আরোহী ছিলেন।
এক বিবৃতিতে ইতালির কোস্টগার্ড জানায়, নৌকাটি যখন উল্টে যায়, তখন মাল্টা কর্তৃপক্ষ অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে সহায়তা চাইলে ইতালীয় টহলজাহাজ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে।
আরও পড়ুন: আটলান্টিকে নৌকা ডুবে ইউরোপে যাওয়ার পথে নিহত ২১
কোস্টগার্ডের তথ্যমতে, রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উদ্ধারকারীরা ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। একই সঙ্গে নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দুর্ঘটনার সময় নৌকাটির অনেক যাত্রী সাগরে ছিটকে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে, ঘটনাস্থলের কাছাকাছি অবস্থানরত একটি মাছ ধরার জাহাজ প্রায় ৪৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করার সফলতা দেখিয়েছে। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে নারী ও শিশুও থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও তাদের পরিচয় ও জাতীয়তা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
লিবিয়া ও উত্তর আফ্রিকার অন্যান্য অঞ্চল থেকে ইতালি ও মাল্টার উদ্দেশে যাত্রা করা মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় (সেন্ট্রাল মেডিটেরেনিয়ান) রুটকে বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক অভিবাসন পথগুলোর একটি হিসেবে ধরা হয়। যুদ্ধ, দারিদ্র্য, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মানবাধিকার সংকট থেকে বাঁচতে প্রতি বছর হাজার হাজার ব্যক্তি এই পথ ধরে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তবে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই, অনিরাপদ নৌযান এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর তথ্যানুসারে, চলতি বছরের রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় রুট পাড়ি দিতে গিয়ে অন্তত ৮২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
আরও পড়ুন: জার্মান পার্লামেন্টের সামনে জাতীয় পতাকা সরিয়ে ফিলিস্তিনি পতাকা উত্তোলন
সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এই রুটে এক হাজার ৩৩০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল, যা ইউরোপমুখী অভিবাসন সংকটের ভয়াবহতাকেই উপস্থাপন করে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই ভূমধ্যসাগরে উদ্ধার তৎপরতা জোরদার এবং অভিবাসীদের জন্য নিরাপদ ও বৈধ পথ তৈরির প্রশ্নে আহ্বান জানিয়ে আসছে। সর্বশেষ এই দুর্ঘটনা আবারও ইউরোপমুখী অভিবাসন সংকট এবং সমুদ্রপথে মানবপাচারের ঝুঁকি নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সূত্র: বিবিসি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন