প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের চার দেশের জোট কোয়াডকে চীনবিরোধী কোনো সংগঠন হিসেবে দেখা উচিত নয়, এমন মন্তব্য করেছেন মার্কো রুবিও, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেছেন, কোয়াড কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গঠিত হয়নি। বরং এই জোটের মূল লক্ষ্য হচ্ছে আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং অভিন্ন স্বার্থকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) আটলান্টায় অনুষ্ঠিত জি-২০ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনের সময় এক সংবাদ সম্মেলনে রুবিও এই বক্তব্য দেন। কোয়াডের সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা, যাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া অন্তর্ভুক্ত, ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
রুবিও আরও বলেন, কোয়াডকে চীনবিরোধী বা অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে গঠিত জোট হিসেবে দেখা উচিত নয়। এই চার দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের অভিন্ন স্বার্থ রক্ষায় কাজ করাই কোয়াডের উদ্দেশ্য।
আগামী নভেম্বরে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় কোয়াডের চার দেশের নেতাদের শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এটি হবে জোটটির দুই বছরের বেশি সময় পর প্রথম শীর্ষ সম্মেলন। সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য বৈঠকের আগেই আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কোয়াডের সাম্প্রতিক যৌথ বিবৃতিতে সরাসরি চীনের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অতিরিক্ত উৎপাদন, রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ, বাজারবহির্ভূত বাণিজ্যিক চর্চা এবং সরবরাহব্যবস্থার ঝুঁকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব বিষয় চীনের অর্থনৈতিক নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত।
এদিকে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিউ চাং এক বিবৃতিতে বলেছেন, বেইজিং একচেটিয়া গোষ্ঠী গঠন ও জোটভিত্তিক সংঘাতের বিরুদ্ধে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, কোনো আঞ্চলিক উদ্যোগ যেন তৃতীয় কোনো পক্ষকে লক্ষ্য করে গড়ে না ওঠে।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়ার অঙ্গরাজ্যের উইলমিংটনে সর্বশেষ কোয়াড শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। গত বছর ভারতের সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও তা পিছিয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে শুল্ক, বাণিজ্য এবং অন্যান্য বিষয়ে টানাপোড়েনের কারণে সম্মেলনের প্রস্তুতি বিলম্বিত হয়েছিল, এমন তথ্য পাওয়া গেছে। চলতি বছর জোটটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে অস্ট্রেলিয়া।
কোয়াডের সদস্য দেশগুলো সাম্প্রতিক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহব্যবস্থা জোরদারসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। গত মে মাসে চার দেশ ২০ বিলিয়ন ডলারের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উদ্যোগের কাঠামো ঘোষণা করেছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হচ্ছে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় নির্ভরতা কমানো এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ নিশ্চিত করা।
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক নীতিতেও সাম্প্রতিক সময়ে কিছু পরিবর্তন দেখা গেছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এসব পদক্ষেপের মধ্যেও কোয়াডের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য বৈঠকের আগে কোয়াড সম্মেলন আয়োজন যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক কূটনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করার একটি উদ্যোগ।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত এডগার কাগানের মতে, ট্রাম্প-শি বৈঠকের আগে কোয়াড নেতাদের সম্মেলন আয়োজন তাৎপর্যপূর্ণ। তবে এর মূল লক্ষ্য চীনকে সরাসরি বার্তা দেওয়া নয়; বরং আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে শক্তিশালী করা। তথ্যসূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন