প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এর বৈশ্বিক মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি করতে শিক্ষকদের আন্তর্জাতিক মানের গবেষণায় আরো মনোযোগী হতে আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষাবিদরা। তাঁরা একই সঙ্গে বলেছেন যে, শুধুমাত্র সরকারি বরাদ্দের ওপর নির্ভর না করে গবেষণার জন্য আন্তর্জাতিক তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজন এবং শ্রেণিকক্ষে রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থেকে পাঠদানের ওপর জোর দেন।
বুধবার (১২ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী এক অ্যাকাডেমিক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। এই কর্মশালাটির শীর্ষক ছিল ‘দ্য মডার্ন সোশ্যাল সায়েন্টিস্টস : ন্যাভিগেটিং রিসার্চ, টিচিং অ্যান্ড অ্যাকাডেমিক গ্রোথ’। মিলনায়তনে এই কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপকরা অংশগ্রহণ করেন।
উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশ্বিক র্যাঙ্কিংয়ে ভালো গবেষণার সরাসরি প্রভাব রয়েছে। সুতরাং, তরুণ শিক্ষকদের জন্য গবেষণার সাইটেশন বাড়ানোর দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, গবেষণার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সরকারী বরাদ্দের ওপর নির্ভর না করে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও তহবিল সংগ্রহ উপর গুরুত্বারোপ করতে হবে।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক আবদুল্লাহ্-আল-মামুন, যিনি বলেন, সরকার বর্তমানে জ্ঞান ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে।
অ্যাকাডেমিয়া ও শিল্পখাতের মধ্যে কার্যকর সংযোগ গড়ে তুলতে বিজ্ঞানী, নীতিনির্ধারক ও শিল্প উদ্যোক্তাদের যৌথ উদ্যোগের প্রয়োজন, যার মাধ্যমে দৃশ্যমান ফলাফল তৈরি হবে।
স্বাগত বক্তব্যে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থানের কারণে অ্যাকাডেমিয়া নতুনভাবে রূপান্তরিত হচ্ছে। আধুনিক গবেষকদের উচিত আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হয়ে উচ্চ-প্রভাবসম্পন্ন পিয়ার-রিভিউড জার্নালে নিজেদের গবেষণা প্রকাশ করা এবং প্রিডেটরি বা ভুয়া পাবলিশিংয়ের ফাঁদ থেকে সতর্ক থাকা।
দিনব্যাপী কর্মশালার সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাবির সাবেক উপাচার্য ও ইমেরিটাস অধ্যাপক আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী। তিনি শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সব দলের ছাত্র আছে। শিক্ষকের রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতে পারে, তবে ক্লাসে গিয়ে সেই মতাদর্শ প্রচার করা ঠিক নয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান মান নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে এর উন্নয়নে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। সমাপনী অধিবেশনে সভাপতির বক্তব্যে ঢাবির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রিলস বা ভিডিও দেখে সময় নষ্ট না করে শিক্ষকদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
শুধু নিজ বিষয়ের বই নয়, অন্যান্য বিষয়ের বইও পড়তে হবে। বর্তমান যুগে এককভাবে গবেষণা করা কঠিন উল্লেখ করে তিনি আন্তঃবিষয়ক (ইন্টারডিসিপ্লিনারি) গবেষণায় মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন। কর্মশালায় আধুনিক সামাজিক বিজ্ঞানীদের পেশাগত ও অ্যাকাডেমিক বিকাশের ওপর তিনটি পৃথক সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এসব সেশনে প্রবন্ধ উপস্থাপন ও আলোচনা করেন অধ্যাপক সেলিম রায়হান, অধ্যাপক শামীম রেজা, অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, অধ্যাপক এম এ কাউসার, অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ও অধ্যাপক সামিনা লুৎফা। সমাপনী অধিবেশনটি সঞ্চালনা করেন কবি জসীমউদ্দীন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আরিফ মাহমুদ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন