০১:২৬ পি.এম
৬৮ বছর বয়সী একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনলাইন ডেটিং প্ল্যাটফর্মে পরিচিত হওয়া ১৪ জন নারীকে মাদক খাইয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। জার্মান রাষ্ট্রের প্রসিকিউটররা আরো অভিযোগ করেছেন যে, ধর্ষণের ভিডিওও ধারণ করেছেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।
বার্লিনের পাবলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে ১৪ জন নারীকে নিয়ে ২২টি গুরুতর ধর্ষণের অভিযোগ করা হয়েছে; তবে তিনি মোট ৫৮ জন নারীকে ধর্ষণের অভিযোগের মধ্যে রয়েছেন। কর্মকর্তাদের মতে, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে এক গোপন তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তের সময় আগে থেকেই নজরদারিতে থাকা আরেকজন ব্যক্তির চ্যাট লগে ৬৮ বছর বয়সী ওই সন্দেহভাজনের নাম উঠে আসে এবং এই অন্য ব্যক্তি ইতিমধ্যে মারা গেছেন।
পথে গত বছর অভিযুক্তের বাড়িতে পুলিশ একটি তল্লাশি চালায়। পরবর্তীতে জব্দ করা মোবাইল ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস পরীক্ষা করে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা এমন কিছু ভিডিও উদ্ধার করেন, যা থেকে একাধিক যৌন অপরাধের তথ্য বেরিয়ে আসে। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তিটি ২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকে বিচারপূর্ব আটকাবস্থায় রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। তারা আরো জানান, বর্তমানে বার্লিনের আদালতই সিদ্ধান্ত নেবে যে মামলাটি বিচারের দিকে এগোবে কি না।
আরও পড়ুন: প্রযুক্তি জায়ান্টদের ইউক্রেনীয়দের রক্তের বিনিময়ে ব্যবসার অভিযোগ
অভিযোগ উঠেছে বলে জানা গেছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি অনলাইনে নারীদের সাথে পরিচিত হওয়ার পর তাদের ঘুমের ওষুধ ও অ্যালকোহলের মিশ্রণ খাইয়ে ধর্ষণ করতেন। যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে কেউই ধর্ষণের শিকার হওয়ার কথা মনে করতে পারেননি এবং তদন্তকারীদের উদ্ধার করা ভিডিও দেখানোর পরই তারা বিষয়টি জানতে পারেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভিডিওগুলিতে থাকা ৫৮ জন নারীর মধ্যে ৩০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং আরো ১০ জনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। এর আগে ধর্ষণের দায়ে ৩২ বছর বয়সী এক চীনা বংশোদ্ভূত ডাক্তারকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছিল, এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এই মামলাটি সামনে আসে।
বার্লিনের আঞ্চলিক আদালত জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি এমন একটি চ্যাট গ্রুপের অংশ ছিলেন, যেখানে চেতনানাশক প্রয়োগ করা নারীদের ধর্ষণের বিষয়ে তথ্য আদান-প্রদান করার প্রমাণ মেলেছে। ৩২ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি গ্রুপের অন্য সদস্যদের বারবার পরামর্শ দিয়েছেন। বিচারক বলেছেন, 'যৌন অপরাধ এখন আর নীরবে ও গোপনে সংঘটিত হয় না, বরং ইন্টারনেটে প্রকাশ্যে শেয়ার করা হয়।'
সর্বশেষ এই মামলায় প্রসিকিউটররা বলছেন, পাঁচ বছরের সময়সীমার কারণে ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে ৬৮ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা ৩৬টি ধর্ষণের অভিযোগগুলো তাদের প্রত্যাহার করতে হতে হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে আনা গুরুতর ধর্ষণের ২২টি অভিযোগের ক্ষেত্রে বিচারের জন্য ২০ বছরের সময়সীমা প্রযোজ্য। যদিও জার্মানিতে বর্তমানে ধর্ষণের অনেক মামলার বিচারের সর্বোচ্চ সীমা পাঁচ বছর। গত মাসে আইনমন্ত্রী স্টেফানি হুবিগ বলেছেন, তিনি মনে করেন এই সময়সীমা বাড়িয়ে ২০ বছর করা উচিত। আইনমন্ত্রী আইনে পরিবর্তন আনারও প্রস্তাব করেছেন, যেখানে ধর্ষণ বা ডাকাতির উদ্দেশ্যে তথাকথিত 'ডেট-রেপ ড্রাগস' ব্যবহারের জন্য দোষী সাব্যস্ত যেকোনো ব্যক্তির ন্যূনতম পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হবে।
দুই বছর আগে জার্মানির সর্বোচ্চ আদালত রায় দিয়েছিল যে, পানীয়ের সঙ্গে মেশানো 'ডেট-রেপ ড্রাগস' যৌন নিপীড়নের ক্ষেত্রে 'বিপজ্জনক সামগ্রী' হিসেবে গণ্য হবে না। আইনমন্ত্রী বলেছেন, এর মানে হলো বাস্তবে ন্যূনতম সাজা হবে তিন বছর। এখন তার খসড়া সংশোধনীতে সরকার বলছে, ভবিষ্যতে যৌন অপরাধ বা ডাকাতি সংঘটনের সময় ব্যবহৃত সব বিপজ্জনক সামগ্রী ও পদার্থ, অন্যান্য যেকোনো অস্ত্র বা বিপজ্জনক সরঞ্জামের পাশাপাশি তালিকাভুক্ত করা হবে।
আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক ই-কমার্সে রিমার্কের শক্ত অবস্থান, বিশ্ববাজারে যাচ্ছে হাজারো পণ্য
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন