প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
উচ্ছেদ অভিযান সম্পন্ন হওয়ার পর মিরপুর ১০ ও ১ নম্বর সড়কে স্বস্তি ফিরে এসেছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) শাহ আলী কাঁচাবাজারের পাশে হকারদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা করছে।
প্রধান সড়কে হকারদের বসতে দেওয়া হবে না বলে সতর্ক করেছেন সংস্থাটির প্রশাসক। তিনি ট্রাফিক বিভাগকে সড়কে অটোরিকশা ও লেগুনার জটলা দূর করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
শাহ আলী মাজার থেকে মিরপুর ১ নম্বর পর্যন্ত সড়কের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হকারদের দখলে ছিল। ফুটপাত ছাড়িয়ে সড়কেও বসত বাজার গড়ে উঠেছিল, যা পথচারীদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়ে প্রতিদিনই যানজট সৃষ্টি হতো, ফলে জনদুর্ভোগ বাড়ছিল।
তবে উচ্ছেদ অভিযানের পর ফুটপাত ফিরে পেয়েছেন পথচারীরা। সড়কের কোলাহল কমেছে এবং যানবাহন চলাচলেও গতি ফিরেছে। তবে প্রধান সড়কের কিছু অংশে এখনও অটোরিকশা ও লেগুনার জটলা দেখা যাচ্ছে, ফলে যানজটের সমস্যা পুরোপুরি সমাধান হয়নি।
সাধারণ মানুষ ও পথচারীরা জানাচ্ছেন, আগে ফুটপাত দিয়ে হাঁটার সুযোগ ছিল না। রাস্তার অর্ধেক দখল করে রেখেছিলেন হকাররা। মিরপুরে প্রায় ১১ বছর ধরে বসবাসকারী একজন জানান, আগে কখনো জায়গাটি এতটা ফাঁকা দেখেননি। এখন মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারছেন এবং পরিবেশও অনেক খোলামেলা মনে হচ্ছে।
তবে হকার উচ্ছেদের পর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে রিকশা নিয়ন্ত্রণের ওপরও জোর দিতে হবে। পথচারীদের মতে, বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো যানজট। তাই এই পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখার পাশাপাশি এলাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্যও উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। ফুটপাতের পাশে সারিবদ্ধভাবে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানোর কাজ চলছে।
মিরপুরের হকারদের পুনর্বাসনের জন্য প্রাথমিকভাবে শাহ আলী কাঁচাবাজারের পাশে আড়তসংলগ্ন একটি জায়গা বিবেচনা করছে ডিএনসিসি। আগামী সপ্তাহে জায়গাটি পরিদর্শন করে সেখানে ৩০০ থেকে ৫০০ হকারকে পুনর্বাসনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রশাসকের পরিকল্পনা রয়েছে হকারদের তালিকা হালনাগাদ করে নির্দিষ্ট সময় ও নিয়ম মেনে ব্যবসার সুযোগ দেওয়া।
ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন জানিয়েছেন, মিরপুর ১ নম্বরের হকারদের পুনর্বাসনের জন্য আড়তের পাশে কাঁচাবাজারসংলগ্ন একটি বড় জায়গা রয়েছে। সেখানে ৩০০ থেকে ৫০০ জনকে জায়গা দেওয়া সম্ভব হতে পারে। যদি সেখানে সবাইকে পুনর্বাসন করা না যায়, তবে দিয়াবাড়ির একটি জায়গাও বিবেচনায় নেওয়া হবে। জায়গাটি পরিদর্শন করে হকারদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে।
নির্ধারিত স্থানে হলিডে মার্কেট চালুর পরিকল্পনাও করছে ডিএনসিসি। তবে প্রশাসক আবারও সতর্ক করেছেন, প্রধান সড়কে কোনোভাবেই হকার বসতে দেওয়া হবে না।
সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ অভিযানের পর মিরপুরের সড়কে অনেকটাই স্বস্তি ফিরেছে। আগের তুলনায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। সড়ক ও ফুটপাতের সৌন্দর্য বাড়াতে গাছ লাগানোর কাজ চলছে। তবে এই পরিবর্তন ধরে রাখতে নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন