১২:৩৬ এম
সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় হাতিশুঁড় ও কলাই ঘাসের মাধ্যমে মাটির লবণাক্ততা দূরীকরণ এবং বাঁশের তৈরি উলম্ব কাঠামোয় ফসল চাষের জন্য উদ্ভাবনী প্রযুক্তি নিয়ে 'জেনারেশন আনলিমিটেড' (Generation Unlimited)-এর ‘ইমেজেন ভেঞ্চারস ২০২৪-২৫ গ্লোবাল চ্যালেঞ্জ’-এ বাজিমাত করতে পেরেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণদের দল ‘উর্বর’। বিশ্বের ৪০ হাজারের বেশি তরুণ উদ্ভাবকের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি দল 'উর্বর' বিশ্বসেরা ১০টি বিজয়ী দলের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে।
বাংলাদেশে ‘জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট’ (JAAGO Foundation Trust) দ্বারা আয়োজিত এই উদ্যোগ ইউনিসেফ (UNICEF) ও জেনারেটর আনলিমিটেডের সহযোগিতায় সম্পন্ন হয়।
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে মাটির লবণাক্ততা কাটিয়ে কৃষক ও উপকূলীয় মানুষের জীবনযাত্রা সুরক্ষার জন্য এক বিশেষ দ্বিমুখী কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি ভিন্ন ডিসিপ্লিনের চারজন শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত 'টিম উর্বর'।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: বিশ্ববাসী একদিন বাংলাদেশের উদাহরণ দেবে
উক্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছেন মাইনুল ইসলাম লাবিব (ইসিই–১৯), সাদিয়া আফরিন (এমসিজে–১৯), শাহরিয়ার মাহমুদ (প্রিন্টমেকিং–১৯) এবং ঋতু দে (এমসিজে–১৯)।
জানা গেছে, প্রথম ধাপে অত্যন্ত লবণাক্ত মাটিতে হাতিশুঁড় ও কলাই ঘাসের মতো লবণ-শোষক দেশীয় 'হ্যালোফাইট' (Halophyte) উদ্ভিদ রূপায়িত করা হয়। হ্যালোফাইট উদ্ভিদের মূল বৈশিষ্ট্য হল— এরা মাটি থেকে ক্ষতিকারক অতিরিক্ত লবণ নিজের ভেতর শোষণ করে। ফলে কিছুদিনের মধ্যেই আক্রান্ত মাটির উপরিভাগ লবণমুক্ত ও চাষোপযোগী হয়ে যায়।
দ্বিতীয় ধাপে, মাটি শোধিত হওয়ার পর বাঁশ দিয়ে নির্মিত বিশেষ একটি উলম্ব কাঠামোর বিভিন্ন স্তরে সেই লবণমুক্ত মাটি স্থাপন করা হয়। এরপর ঐ শোধিত মাটিতে সফলভাবে বিভিন্ন ধরনের ফসলের চাষাবাদ শুরু করা হয়েছে। বাঁশের তৈরি এই কাঠামো সহজলভ্য ও স্থানান্তরযোগ্য হওয়ায় ভূমিহীন কৃষক ও মহিলারা কম জায়গায় ও সীমিত খরচে অধিক ফলন নিশ্চিত করতে পারেন।
উপকূলীয় অঞ্চলে কৃষিকাজ শুরু করার পূর্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত মোবাইল অ্যাপ 'উর্বর অ্যানালিটিক্স'-এর সাহায্যে সংশ্লিষ্ট এলাকার মাটির লবণাক্ততার সুনির্দিষ্ট মাত্রা বিশ্লেষণ ও শনাক্ত করা হয়। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মাটির উপাদান ও পরিবেশগত ডেটা বিশ্লেষণ করে চাষাবাদের জন্য মাটি কতটা প্রস্তুত, এবং কী পরিমাণ শোধন প্রয়োজন, তা সহজে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়।
আরও পড়ুন: শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ধারণায় অর্থায়ন করবে সরকার: মাহদী আমিন
সাতক্ষীরা অঞ্চলে পরীক্ষামূলক প্রয়োগে এই প্রযুক্তির দারুণ সাফল্য দেখা গেছে। সেখানে কৃষকদের চাষাবাদের খরচ প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে এবং একই সঙ্গে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে ২৫ শতাংশ।
আন্তর্জাতিক এই জয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ উর্বর টিমের হাতে ৯০০০ মার্কিন ডলারের প্রতীকী সিড গ্রান্ট তুলে দেন বাংলাদেশে ইউনিসেফের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ।
অনুষ্ঠানে জাগো ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা করভী রাখসান্দসহ (Korvi Rakshand) সংস্থার ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈশ্বিক এই প্রতিযোগিতায় ইউনিসেফ, জেনইউ (GenU) এবং অ্যাকসেঞ্চারের (Accenture) পক্ষ থেকে উর্বর টিমকে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও কারিগরি পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: জামায়াত আমিরের দাবি, মেজর আখতারুজ্জামানের ছেলের ওপর হামলায় জড়িত মাদক কারবারিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন