১০:০৩ এম
কানাডার পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশগুলো থেকে অন্টারিও পর্যন্ত নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়ার ফলে এযাবৎকালের সবচেয়ে কঠিন দাবানল মৌসুমের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে দেশটি। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি সাম্প্রতিক এই দুর্যোগকে ইতিহাসের অন্যতম কঠিন পরিস্থিতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
গত সপ্তাহে প্রায় ৩৪ হাজার বজ্রপাতের ঘটনায় ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে একের পর এক দাবানলের সৃষ্টি হচ্ছে। সেখানে বর্তমানে ৯০টি সক্রিয় দাবানল জ্বলছে এবং বাসিন্দাদের নিরাপদে সরে যেতে ২৫টি জরুরি নির্দেশ জারি করা হয়েছে। ভ্যাঙ্কুভারের কাছে কিম্বার্লির দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করা ইনসিডেন্ট কমান্ডার হিউ মারডক জানান, চরম শুষ্ক ও উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে আগুন দ্রুত ছড়াচ্ছে এবং নিকট ভবিষ্যতে বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।
প্রচণ্ড তাপদাহ ও বজ্রপাতে সৃষ্ট এই দাবানলের বিষাক্ত ধোঁয়া সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূল ও মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান শহরগুলোতেও পৌঁছে গেছে।
আরও পড়ুন: মহেশখালীতে তিনটি নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের
এই প্রেক্ষাপটে আলবার্টার ব্যানফ ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে বায়ুদূষণের উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে পরিবেশ সংস্থা এনভায়রনমেন্ট কানাডার পক্ষ থেকে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশাল উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে কানাডা সরকার। আগুন নেভাতে ৫,৩০০ জনেরও বেশি দক্ষ দমকলকর্মী এবং প্রায় ৩০০টি ওয়াটার বোম্বার বিমান ও হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সহায়তার অংশ হিসেবে মেক্সিকো থেকে আরও ২০০ জন দমকলকর্মী আগামী সপ্তাহে কানাডায় পৌঁছাবেন।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৯.৫ লক্ষ হেক্টর বনভূমি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, যা গত এক দশকের গড় ক্ষয়ক্ষতিকে ছাড়িয়ে গেছে। ইতিমধ্যে আদিবাসী গোষ্ঠীসহ হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ কুইবেকে আন্তর্জাতিক সহায়তা ও আবহাওয়ার সামান্য উন্নতিতে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান যে শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকলে যেকোনো সময় আগুন আবার ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ২০২৯ সালের নির্বাচনে মোদির পতন হবে : অভিজিৎ দীপকে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন