ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং
আল-জাজিরার বিশ্লেষণ

কংগ্রেসের উভয় কক্ষে হেরে কি সত্যিই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন ট্রাম্প?


কংগ্রেসের উভয় কক্ষে হেরে কি সত্যিই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন ট্রাম্প?

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলে মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট এবং নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস—উভয় সভার নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি হারিয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের এই বিশাল জয়ের পর আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে—প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কি তার মেয়াদের শেষ দুই বছরের জন্য এখন শুধুই এক ক্ষমতারসমর্পণকারী বা ‘লেইম ডাক’ নেতা হয়ে পড়েছেন?

নির্বাচনের ফলাফলের পর ট্রাম্প মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। একদিকে তিনি ফলাফলের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের নীতি ও ক্ষমতা রক্ষার হুঙ্কারও দিয়েছেন। ট্রাম্পের মতে, ব্যালেটে তার নাম সরাসরি না থাকায় এই পরাজয় ঘটেছে; অন্যথায় রিপাবলিকানরা বিপুল ভোটে জয়ী হতো। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পার্লামেন্টে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর ফলে আইন প্রণয়ন ও নিজস্ব নীতি বাস্তবায়নে ট্রাম্পকে চরম প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হবে।

মার্কিন রাজনীতিতে সাধারণত বিদায়ী প্রেসিডেন্ট যখন নতুন আইন পাসের প্রভাব হারান, তখন তাকে ‘লেইম ডাক’ বলা হয়। তবে ইতিহাস বলে, কংগ্রেসে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েও মার্কিন প্রেসিডেন্টরা সম্পূর্ণভাবে ক্ষমতাচ্যুত বা নিষ্ক্রিয় হয়ে যান না। আইন প্রণয়নের সুযোগ কমে গেলেও রাষ্ট্রপতির হাতে যে শক্তিশালী ‘নির্বাহী ক্ষমতা’ থাকে, ট্রাম্প তা পুরোদমে ব্যবহার করতে পারেন।

আরও পড়ুন: মিসিসিপির সিনেট নির্বাচনে উত্তেজনা এখনও বাকি

পূর্ব অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, ট্রাম্প ইতোমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ডেমোক্র্যাটদের পাস করা যেকোনো ‘অযৌক্তিক’ বিলে তিনি সরাসরি ‘ভিটো’ ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। রাষ্ট্রপতির দেওয়া এই ভিটো বাতিল করতে কংগ্রেসে দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটির প্রয়োজন হয়, যা ডেমোক্র্যাটদের একার পক্ষে অর্জন করা প্রায় অসম্ভব। এছাড়া জরুরি অবস্থা জারি বা বিশেষ নির্বাহী আদেশ জারি করে পার্লামেন্টকে পাশ কাটিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিজ্ঞতা ট্রাম্পের আগেও রয়েছে।

বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, অভ্যন্তরীণ নীতিতে কংগ্রেসে বাধা পেলেও ট্রাম্প এখন তার দৃষ্টি দিতে পারেন বৈদেশিক নীতির দিকে। মার্কিন সংবিধানে পররাষ্ট্রনীতির সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টকে ব্যাপক স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হয়েছে। এর আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং বিল ক্লিনটনও তাদের মেয়াদের শেষ সময়ে কংগ্রেসে বিরোধী শক্তির মুখোমুখি হয়ে পররাষ্ট্রনীতি ও বৈশ্বিক কূটনীতিতে বেশি মনোযোগী হয়েছিলেন।

এভাবে, উভয় কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের জয় ট্রাম্পকে রাজনৈতিকভাবে কিছুটা কোণঠাসা করলেও তাকে পুরোপুরি প্রভাবহীন বা নিষ্ক্রিয় প্রেসিডেন্ট বলা ভুল হবে। বরং ভিটো প্রয়োগের তীব্র প্রতিযোগিতা এবং নির্বাহী ক্ষমতার কৌশলী ব্যবহার নিয়ে ওয়াশিংটন এখন আগামী দুই বছরের জন্য এক নতুন রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও লড়াইয়ের মুখে পড়তে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: তুরস্কের আফিয়নকারাহিসারে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৮, আহত ১

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজকের নামাজের সময়সূচি: ৫ নভেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৭ এম


আজকের নামাজের সময়সূচি: ৫ নভেম্বর ২০২৬

নামাজ ইসলামের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত হয়। ইমানের পর নামাজই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবে গণ্য হয়। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পাশাপাশি ইসলামের নফল সালাতেরও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

হাদিসের আলোকে, নামাজ মুমিন ও অমুসলিমের মধ্যে প্রধান পার্থক্য নির্দেশ করে। এটি মানুষকে সকল প্রকার পাপ ও অন্যায় থেকে বিরত রাখে এবং আত্মিকভাবে পরিশুদ্ধ করে। তাই, দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততার মধ্যেও যথাসময়ে নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলিমের জন্য একটি অপরিহার্য দায়িত্ব।

আজ বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬ ইংরেজি, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বাংলা, ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি। ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ:

ফজর- ভোর ৪: ৫০ মিনিট

জোহর- দুপুর ১১: ৪৫ মিনিট

আসর- দুপুর ৩: ৪২ মিনিট

মাগরিব- সন্ধ্যা ৫: ২০ মিনিট

এশা- রাত ৬: ৩৭ মিনিট

নামাজ আমাদের জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি আমাদের দৈহিক পবিত্রতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে। আজকের এই নামাজের সময়সূচি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—জীবনের ব্যস্ততা যতই থাকুক না কেন, আল্লাহর জন্য সময় বের করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেধাবীদের দেশত্যাগ রোধে শায়খ আহমাদুল্লাহর গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৮ এম


মেধাবীদের দেশত্যাগ রোধে শায়খ আহমাদুল্লাহর গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা

স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়ার পর এক তরুণের বাঁধভাঙা উল্লাস ও আনন্দ-চিৎকার দেখে বিশিষ্ট আলেম ও দাঈ শায়খ আহমাদুল্লাহ ভিন্ন এক ভাবনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি তার ফেসবুক পেজে এক পোস্টে জানিয়েছেন, তরুণের সেই উল্লাস তাকে নতুন এক সমাজ-জিজ্ঞাসার সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

শায়খ আহমাদুল্লাহ লিখেছেন, "এটি কি জ্ঞান-পিপাসু হিসেবে উচ্চতর গবেষণার মাধ্যমে দেশ, জাতি ও উম্মাহকে সমৃদ্ধ করার সুযোগ পাওয়ার আনন্দ নাকি উন্নত জীবনের মোহনীয় হাতছানি এবং আজীবন সেখানে স্থায়ী হওয়ার দুয়ার খুলে যাওয়ার আনন্দ?" এই প্রশ্নটি তাকে ভাবিয়ে তুলেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, প্রতি বছর হাজার হাজার মেধাবী তরুণ উচ্চশিক্ষার জন্য উন্নত বিশ্বে পা রাখে এবং সেখানে ক্যারিয়ার গড়ে। উন্নত দেশগুলো বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে বেশি ভিসা দেয় স্টুডেন্ট ক্যাটাগরিতে। পর্যটন ভিসার তুলনায় স্টুডেন্ট ভিসা ইস্যুর হার প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি। কিছু দেশের স্টুডেন্ট ভিসা ইস্যুর হার ৯৫%-এরও বেশি!

শিক্ষা ও গবেষণার প্রতি ভালোবাসা থেকে তারা স্টুডেন্ট ভিসাকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে, তবে এর পেছনে একটি গভীর সমীকরণ রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। ধর্মীয় মূল্যবোধকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাবার কারণে অনেক উন্নত দেশের জনসংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। কমতে থাকা জন্মের হার রীতিমতো জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। প্রণোদনা দিয়েও তারা জন্মহার বাড়াতে পারছে না।

শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, "তাদের প্রয়োজন আমাদের মতো গরিব দেশের মেধাবী তরুণদের, যারা ছাত্র ভিসায় বিদেশে গিয়ে সেখানকার দক্ষ কর্মী হিসেবে গড়ে উঠবে।" এজন্য তারা গরিব দেশের মেধাবী তরুণদের ওয়েলকাম জানাতে মুখিয়ে থাকে। অফার করে নানা রকম সুযোগ সুবিধার। অনেক দেশে পড়াশোনার পর পোস্ট স্টাডি ওয়ার্ক পারমিট বা পারমানেন্ট রেসিডেন্ট-এর পথ খুলে দেয়।

তিনি আরো লিখেছেন, "জ্ঞান-গবেষণার জন্য দূর দেশে পাড়ি জমানো খারাপ কোনো বিষয় নয়। কিন্তু দেশের আলো-হাওয়ায় বড় হয়ে, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পড়াশোনার ভিত গড়ার পর নিছক একটু ভালো থাকার জন্য উন্নত ও অমুসলিম-প্রধান দেশকে সার্ভ করা নিশ্চয়ই একজন মুসলিম তরুণের কাম্য বিষয় হতে পারে না।"

বাবা-মা যতদিন বেঁচে থাকেন, ততদিন দেশের সাথে এই শ্রেণির মানুষের নিভু নিভু সম্পর্কটা হারিকেনের সলতের মতো টিকে থাকে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বাবা-মার মৃত্যুর পর অনেকে দেশের সমুদয় সম্পদ বিক্রি করে সেই টাকা বৈদেশিক সুখে বিনিয়োগ করে। দেশে তাদের শেষ স্মৃতিচিহ্নটুকুও আর অবশিষ্ট থাকে না।

শিক্ষার্থীদের মাঝে কেন দেশত্যাগের মিছিল চলছে? এর জন্য কি শুধুই তরুণদের ভোগবাদী মানসিকতা দায়ী? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে গিয়ে তিনি বলেন, "শিক্ষার্থীদের কাঠগড়ায় তুলবার আগে সবার প্রথমে নিজেদের ব্যর্থতার দিকে দৃষ্টিপাত করা প্রয়োজন।" স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পরেও আমরা দুর্নীতিমুক্ত, অপরাধহীন, স্থিতিশীল, বাসযোগ্য ও যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজের সুযোগ পাওয়ার মতো একটি দেশ গড়ে তুলতে পারিনি, যে দেশ নিয়ে একজন মেধাবী তরুণ স্বপ্নের বীজ বুনবে।

শায়খ আহমাদুল্লাহ লিখেছেন, "এখানে মেধার মূল্য নেই, ঘুস ও রেফারেন্স ছাড়া চাকরি হয় না, জীবন সর্বক্ষণ ঝুঁকিপূর্ণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নৈতিক অবক্ষয় ও অস্থিরতার ছড়াছড়ি, দুর্নীতিতে সয়লাব প্রতিটি প্রতিষ্ঠান, তরুণদের নিয়ে সর্বদা আতঙ্কে থাকতে হয় পরিবারকে।" এতসব অনিশ্চয়তার মাঝে মেধাবী শিক্ষার্থীকে যেখানে ওয়েলকাম করতে উন্নত দেশগুলো অ্যাম্বাসি খুলে বসে আছে, তার জন্য দেশ নিয়ে স্বপ্ন দেখা কঠিন ব্যাপারই।

এরপরও তারুণ্যকে তিনি এই কঠিনেরে ভালোবাসার আহ্বান জানিয়েছেন। "কেউ দেশটাকে প্রস্তুত করে দেয়নি বলে আমি কি পরিবর্তনের জন্য সংগ্রাম করব না?" নিরুপদ্রব জীবনের জন্য সবাই যদি বিদেশকেই ঠিকানা বানায়, তবে চেইঞ্জ মেকার হবে কে?-এই প্রশ্নটি তিনি তরুণদের কাছে রেখেছেন।

প্রকৃতপক্ষে তরুণদের সামনে কোনো ভিশন বা আদর্শ নেই, যার জন্য সে নিজের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করবে বলে তিনি মনে করেন। অধিকাংশ পরিবার, এমনকি খোদ রাষ্ট্রও তরুণদের আদর্শবাদী মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সচেষ্ট নয়; বরং ধর্মবিযুক্তির মাধ্যমে তাদেরকে নিছক ভোগবাদী এবং স্বার্থপর করে গড়ে তোলা হচ্ছে।

তাই, মেধাবী তরুণদের বিদেশে স্থায়ী হওয়ার মিছিল থামানোর জন্য মেধার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। সেই সাথে প্রাথমিক শিক্ষা থেকেই ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিতে হবে, যেন আগামী প্রজন্ম আদর্শবাদী এবং শেকড়মুখী মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে। সর্বোপরি তরুণদের ভোগবাদী জীবনের পরিবর্তে চ্যালেঞ্জের জীবন বেছে নেয়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ, ভোগে নয়, ত্যাগের মাঝেই রয়েছে প্রকৃত সুখের ঠিকানা।

একটি দেশ উন্নত হয় মূলত তরুণদের মেধার ওপর ভর করে। সেই মেধা যদি বাইরে চলে যায় এবং বাইরের উন্নয়নে তা ব্যয় হয়, তবে সেই দেশ কোনোভাবেই সাফল্যের স্বর্ণচূড়ায় উঠতে পারে না। তাই মেধা পাচার রোধে আমাদের প্রত্যেককেই নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে বলে শায়েখ আহমাদুল্লাহ তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকার শ্রমিকদের কল্যাণে বাস্তব উদ্যোগ গ্রহণ করছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০৬ এম


সরকার শ্রমিকদের কল্যাণে বাস্তব উদ্যোগ গ্রহণ করছে

শ্রমিকদের কল্যাণে সরকার শুধুমাত্র আশ্বাস প্রদান করছে না, বরং বাস্তব উদ্যোগও গ্রহণ করছে।

আরিফুল হক চৌধুরী

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রযুক্তির ব্যবস্থাপনায় স্মার্ট গরুর খামার গড়ে উঠছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০৭ এম


প্রযুক্তির ব্যবস্থাপনায় স্মার্ট গরুর খামার গড়ে উঠছে

গত শতকের আশির দশকের প্রথম দিকে গ্রামাঞ্চলে কাজ করার সময় দেখা গেছে, কৃষকরা সাধারণত নিজেদের বাড়িতে একটি-দুটি গরু-গাভি পালন করতেন। দেশি গাভির মাধ্যমে দিনে সর্বোচ্চ দেড়-দুই লিটার দুধ পাওয়া যেত। কৃষকরা এই দুধ নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি গ্রামের বাজারে বিক্রি করতেন। ধানের খড় ও মাঠের ঘাস খাইয়ে দু-একটি গরু লালন-পালনে খুব বেশি খরচ হত না। পরে বিদেশি জাতের উন্নত গাভি লালনের জন্য কৃষকদের উৎসাহিত করা হয়। বেশি দুধ পাওয়ার আশায় কৃষকরা সেই গাভি পালন শুরু করেন। কিন্তু উন্নত জাতের গাভির খাবারের খরচ বেশি হওয়ায়, নিজের পরিবারের খাবার জোগাতে হিমশিম খেতে হয় কৃষকদের। গাভির খাবার জোগাতে যখন তারা কষ্ট পেতে শুরু করেন, তখন ১৫ থেকে ২০ লিটার দুধ নিয়ে বাজারে গিয়ে ন্যায্য দাম না পেয়ে অভিমানে কৃষকরা দুধ ফেলে দেন। এর ফলে দেশের দুগ্ধ খাত প্রত্যাশিতভাবে বিকশিত হয়নি। তবে উন্নত বিশ্বের অনেক দেশ সুপরিকল্পিতভাবে দুগ্ধ খাতে সফলতা অর্জন করেছে।

২০১৫ সালে নেদারল্যান্ডসের ডো মার্কে গরুর খামারে গিয়ে আমি অত্যন্ত অবাক হয়েছিলাম। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে মনে হয়েছিল, আমি গরুর খামার নয়, বরং কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠানে এসেছি। ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) কৃষিতে যে বৈপ্লবিক রূপান্তর আনছে, তা ছিল স্মার্ট প্রযুক্তির উদাহরণ। বর্তমান সময়ে স্মার্ট মানে হলো ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত থাকা। মুহূর্তে সব তথ্য হাতের মুঠোয়। চলতি শতাব্দীতে আমরা স্মার্ট যুগে প্রবেশ করেছি। নেদারল্যান্ডসের গরুর খামারটিও ছিল একটি স্মার্ট খামার। গরুর খাদ্য দেওয়া থেকে শুরু করে দুধ সংগ্রহ পর্যন্ত সবকিছু যান্ত্রিকভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। ডো মার্কের দুধ দোয়ানোর আধুনিক পদ্ধতি চমকপ্রদ। সেখানে গাভি যখন উপলব্ধি করে যে তার দুধ দেওয়ার সময় হয়েছে, তখন সে লাইন ধরে দুধ দোয়ানোর কেন্দ্রে উপস্থিত হয়। গাভির উপলব্ধি দিয়ে যন্ত্র সন্তুষ্ট হয় না, যন্ত্র যখন তার হিসাব দিয়ে বুঝতে পারে যে গাভি প্রস্তুত—তখনই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে দুধ দোয়ানো শুরু করে।

১০০ গরুর মাঝে কোনো নির্দিষ্ট গরুকে চেহারা দেখে আলাদা করা সম্ভব নয়। আমাদের কাছে সব গরুই দেখতে একই রকম। চোখে দেখে শুধু রং ও আকারের পার্থক্য করা যায়। কিন্তু আধুনিক যন্ত্র মুখে ক্যামেরা ধরে গরুর নম্বর, শারীরিক অবস্থা এবং খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ জানাতে পারে। বিশেষ করে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) এবং আইওটি উৎপাদন ব্যবস্থাকে নিয়ে যাচ্ছে অবিশ্বাস্য এক প্রান্তে, যা কিছুদিন আগেও বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি ছিল, আজ তা বাস্তব। একজনের পক্ষে একটি বিশাল খামার পরিচালনা করা কঠিন কাজ নয়।

২০১৮ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার চুংনাম প্রদেশের থম্বক গ্রামের খামারি কিমের খামারে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। কিম একাই দুই শতাধিক গরুর একটি খামার পরিচালনা করছিলেন। অফিসকক্ষে বসে কম্পিউটারে সব নিয়ন্ত্রণ করছিলেন। গরুর খাবার দেওয়া থেকে শুরু করে দুধ দোয়ানো ও দুধ প্রক্রিয়াকরণ হচ্ছিল অটোমেটিক যন্ত্রের সাহায্যে। চলতি বছর এপ্রিলে নেদারল্যান্ডসের ফ্রেইডোপিল এলাকায় আরেকটি ডেইরি ফার্ম দেখার সুযোগ হয়েছিল। এক হাজার ১০০ হেক্টর জমির ওপর বিশাল এক খামার। খামারে দুই হাজার ৬০০টি গাভি রয়েছে। প্রতিটি গাভি বছরে ১১ হাজার লিটার দুধ দেয়। অথচ খামারটিতে মাত্র দুজন কর্মী রয়েছে। গাভির গোসল, খাবার দেওয়া, দুধ দোয়ানো সবই করছে যন্ত্র। উৎপাদিত দুধ চিলিং হয়ে অটোমেটিক প্যাকেটজাত হয়ে যাচ্ছে। দেখে বিস্মিত হতে হয়!

আমাদের দেশে স্মার্ট গরুর খামার গড়ে উঠতে শুরু করেছে। নারায়ণগঞ্জের কাঞ্চনে ব্যবসায়ী এম এ সবুর তাঁর খামারটি স্মার্ট গরুর খামার ব্যবস্থাপনায় নিয়ে এসেছেন। এই ব্যবস্থাপনায় প্রতিটি গরুর জন্য একটি করে চিপ থাকে। চিপটি গলার কলারে বা কানে যুক্ত থাকে, যা গরুর শারীরিক ও পারিপার্শ্বিক সব তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম। যেমন—গরুর দেহের তাপমাত্রা, রক্ত সঞ্চালন, জাবর কাটা এবং প্রজনন সময়ের নির্ভুল তথ্য দেয়। মাতৃ গরুর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তথ্য দিয়ে অসময়ে গর্ভপাত রোধ করতে সাহায্য করে। গরুর কী ধরনের পুষ্টির প্রয়োজন, কী পরিমাণ আলো-বাতাস লাগবে, এমনকি গাভির দুধ দেওয়ার সময় সম্পর্কে তথ্য ইন্টারনেটের মাধ্যমে যুক্ত বেইস স্টেশন থেকে সরাসরি খামারির মোবাইল ফোনে চলে আসে। জানি না কী কারণে গ্রামীণ ফোনের ডিজি কাউ আর অগ্রসর হতে পারেননি। তবে আদর্শ প্রাণিসেবা লিমিটেডের ফিদা হক তাঁর বোলাস কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। কদিন আগে আশুলিয়ায় একটি খামারে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার দেখেছি। ডাচ ডেইরি বা আমেরিকান ডেইরির কথা অনেকে হয়তো জানেন। তারা আধুনিক প্রযুক্তির বিশাল খামার গড়ে তুলেছে।

বাণিজ্যিক কৃষি মানে প্রযুক্তির কৃষি। আর প্রযুক্তির কৃষি মানে বড় বিনিয়োগের কৃষি। একজন ক্ষুদ্র কৃষকের পক্ষে এককভাবে বাণিজ্যিক কৃষিতে বিনিয়োগ করা সম্ভব নয়। তবে সম্মিলিতভাবে বিনিয়োগ করা কঠিন কিছু নয়। অনেক শিল্পোদ্যোক্তা বাণিজ্যিক কৃষিতে অগ্রসর হচ্ছেন। আগেই বলেছি, আমাদের দেশে দুগ্ধ খাতে বাজার রয়েছে। বাজার ব্যবস্থাপনা ঠিক করে সুপরিকল্পিত নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে এখনই আগামীর পথে হাঁটার সময়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%