১০:৩৮ এম
যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগসহ ডাকা কর্মবিরতিতে পণ্য খালাস কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
কিন্তু, বন্দর থেকে পণ্য খালাস বন্ধ থাকলেও দুই দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহন কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।
রোববার (১৪ জুন) সকাল ৮টা থেকে কর্মবিরতি শুরু হয়। শ্রমিকরা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এটি চলবে।
আরও পড়ুন: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বিএসআরএমের নম্বরবিহীন কন্টেইনার লরির অবাধ চলাচল, প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা
শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে বেনাপোলে আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এতে বন্দরে পণ্যজট সৃষ্টি হয়েছে এবং সরকারের রাজস্ব আহরণেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত শুক্রবার (১২ জুন) বেনাপোল বন্দরের শ্রমিক প্রতিনিধিরা বন্দরের পরিচালকের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দেন। তারা এ আবেদনটি দিয়ে কর্মবিরতির বিষয়টি অবহিত করেন। আবেদনে শ্রমিকদের দাবি তুলে ধরে দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানানো হয়েছিল। যথাযথ উদ্যোগ না নেয়ায় শ্রমিক নেতারা কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেন।
বেনাপোল বন্দর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শহীদ আলী জানান, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়োগকৃত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে কোনও চুক্তি করেনি। সঙ্গে শ্রমিকদের সঙ্গে সমন্বয় ও কার্যকর যোগাযোগও বজায় রাখা হয়নি। ঝুঁকিপণ্য খালাসে নিরাপদ সামগ্রী সরবরাহও করা হচ্ছে না। বিষয়টি একাধিকবার মৌখিক ও লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, কিন্তু কোনও সমাধান হয়নি। এই কারণে বাধ্য হয়েই তাঁরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, নিরাপদ পণ্য খালাসের সরঞ্জাম হাতে পাওয়া এবং ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
আরও পড়ুন: গাইবান্ধার চরাঞ্চলে ৮,৫০০ পরিবার পাবে ৬০ হাজার টাকার শর্তহীন অনুদান: জিইউকে ও গিভডিরেক্টলির মহতী উদ্যোগ
এদিকে, শ্রমিকদের কর্মবিরতির ঘোষণায় বন্দরের ব্যবসায়ী, আমদানিকারক ও রফতানিকারকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। যদি দ্রুত সমাধান না হয়, তবে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে ব্যাঘাত ঘটতে পারে এবং শিল্পকারখানার কাঁচামাল সরবরাহেও প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সহসভাপতি উজ্বল বিশ্বাস জানান, এই কর্মবিরতির কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়বে পচনশীল জাতীয় কাঁচামালের ব্যবসায়ীরা। বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সরকারও বড় অংকের রাজস্ব বঞ্চিত হতে পারে।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের দফতর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম জানান, পণ্য খালাস না হলে আমদানি-রফতানি চালু থেকে ব্যবসায়ীদের সেভাবে লাভ হবে না। কাস্টমস, বন্দর সর্বত্র অচলাবস্থা বিরাজ করছে। শ্রমিকদের দাবি বিবেচনা করে পণ্য খালাস কার্যক্রম চালুর জন্য বন্দর ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহবান জানান তিনি।
বেনাপোল সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার জহীর রায়হান জানান, বেনাপোল বন্দর থেকে বড় অংকের রাজস্ব আহরণ করে ব্যাংক, যা দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে বড় ভূমিকা রাখে। যদি এই কর্মবিরতি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তা রাজস্ব আয়ে বিরূপ প্রভাব ফেলবে।
আরও পড়ুন: কাউখালীতে নবযোগদানকৃত সহকারী শিক্ষকদের বরণ: শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান
বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন বলেন, শ্রমিকদের দাবি-সংবলিত আবেদনটি ইতিমধ্যে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি আশা করছেন, দ্রুত একটি সিদ্ধান্ত আসবে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন