০৯:৫৯ এম
হাইডেনহাইমের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের ৬৬তম মিনিটে হঠাৎ করেই বল ছাড়াই মাঠের মধ্যে ঢলে পড়েন জামাল মুসিয়ালা। সঙ্গে সঙ্গেই বায়ার্ন মিউনিখের মেডিকেল টিম ছুটে আসেন, আর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা নিয়ে সতীর্থকে ঘিরে ধরেন গোটা একাদশের ফুটবলাররা।
অবশেষে চিকিৎসকদের প্রাথমিক পরিচর্যার পর মুসিয়ালা উঠে দাঁড়ান, এবং এরপরই মাঠ ত্যাগ করেন। দেখে তিনি কিছুটা হতবিহ্বল মনে হলেও শারীরিক দিক থেকে তিনি স্বাভাবিকই ছিলেন। পরপর দুই ম্যাচে সুস্থ এক ফুটবলারের এভাবে মাঠে পড়ে যাওয়া স্বাভাবিক নয় হওয়ায় বিষয়টির মূল কারণ খুঁজে বের করতে মাঠে নামে বায়ার্নের মেডিকেল টিম।
পরপর দুই ম্যাচে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত অভিজ্ঞতার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত বার্তা দিয়েছেন জামাল মুসিয়ালা। ভক্তদের আশ্বস্ত করে এই জার্মান তরুণ লিখেছেন, “প্রথম কথা হলো—আমি একদম ভালো আছি! বিশেষ করে আপনাদের অজস্র বার্তা এবং ভালোবাসার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আমি বুঝতে পারছি যে আপনারা অনেকেই আমাকে নিয়ে ভীষণ উদ্বিগ্ন। আজকের দিনটিতে আমি যে উদ্বেগ কিছুটা দূর করতে চাই এবং একটি বিষয় স্পষ্ট করতে চাই, আমার একটি সাময়িক, স্বল্পস্থায়ী এবং চিকিৎসায় নিরাময়যোগ্য ‘অ্যাবসেন্স সিজার’ (এক ধরনের খিঁচুনি) ধরা পড়েছে, যা স্নায়ুগত সমস্যার (নিউরোলজিক্যাল ডিসফাংশন) কারণে ঘটে থাকে। এবং এ কারণেই লাইপজিগ কিংবা হাইডেনহাইমের বিপক্ষে সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে এমন ঘটনা ঘটেছে।
আরও পড়ুন: টেকনাফে মানবপাচারকারীদের গুলিতে আহত সেনাসদস্য মো. তিতাস শেখের মৃত্যু
পরিস্থিতি ভয়ংকর মনে হলেও নিজের আত্মবিশ্বাসের ব্যাপারটি জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘আমি জানি প্রথম দর্শনে এটি বেশ ভীতিকর মনে হয়—তবে আমার জন্য এটি আপাতত দৈনন্দিন জীবনেরই অংশ। আমি অত্যন্ত মানসম্মত চিকিৎসা পাচ্ছি এবং এ নিয়ে আমি খুব আশাবাদী। বায়ার্ন মিউনিখ, আমার পরিবার এবং বন্ধুরা এই যাত্রায় সবসময় আমার পাশে রয়েছে ও সাহস জোগাচ্ছে।’
নিজের খেলার সিদ্ধান্ত ও ঝুঁকির বিষয়ের বিষয়ে পরিষ্কার করে মুসিয়ালা যোগ করেন, ‘সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এতে বড় ধরনের স্বাস্থ্যগত কোনো ঝুঁকি নেই। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সাথে নিবিড় পরামর্শের পরেই এই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়া আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ছিল। নিউরোলজিস্টদের কাছ থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই আমি আবার ফুটবল খেলায় মন দিতে পেরেছি, যা আমার দ্রুত সেরে ওঠার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করছে। সামগ্রিকভাবে আমি বেশ ইতিবাচক বোধ করছি এবং একদম সঠিক পথেই আছি।’
বার্তার শেষাংশে সমর্থকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে এই বায়ার্ন তারকা লেখেন, ‘এই পথে আমাকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করছে আমার দলের হয়ে আবারও ট্রফি জয়ের লড়াইয়ে নামা এবং আপনাদের অভাবনীয় সমর্থন। আশা করি আপনারা আমাকে এখন আরও ভালোভাবে বুঝতে পারছেন। একই সঙ্গে আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি—এই বিষয়টি যেন আমার নিকটাত্মীয়, ক্লাব এবং চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত গণ্ডির মধ্যেই রাখতে দেওয়া হয়। সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।’
আরও পড়ুন: ইব্রাহিমের গোলে ভুটানকে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু করলো বাংলাদেশ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন